বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২
বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২

ইয়ূথ পাওয়ার ফাউন্ডেশন শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ড্রেস ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:১৭ পিএম | 142 বার পড়া হয়েছে
ইয়ূথ পাওয়ার ফাউন্ডেশন শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ড্রেস ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ

শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় উৎসাহিত করা এবং ঝরে পড়া রোধে মানবিক ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইয়ূথ পাওয়ার ফাউন্ডেশন। সংগঠনটির উদ্যোগে গাজীপুর মহানগর সদর থানা ২৯ নং ওয়ার্ডের ছোটদেওড়া অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ড্রেস ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি ২০২৫) বিকাল ৩টায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে মোট ৩০ জন শিক্ষার্থীর হাতে নতুন স্কুল ড্রেস ও বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়াবে এবং নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন
জনাব মোঃ সাজ্জাত হোসেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), গাজীপুর সদর।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন,
“শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। ইয়ূথ পাওয়ার ফাউন্ডেশনের মতো সামাজিক সংগঠনগুলো সমাজের পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এ ধরনের উদ্যোগ একটি শিক্ষিত ও মানবিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন
জনাব ফাতেমা হক রুনা, সভাপতি, ছোটদেওড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
তিনি বলেন,
“শিশুদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে শিক্ষা উপকরণ ও স্কুল ড্রেস বিতরণের মতো উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর। এতে করে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিশুরা নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস পায়।”
অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন
জনাব মোঃ শাহজাহান, সাধারণ সম্পাদক, ইয়ূথ পাওয়ার ফাউন্ডেশন।
তিনি বলেন,
“সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সামনে আরও বড় পরিসরে শিশুদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে একটি লাইব্রেরি স্থাপনের সিদ্ধান্তও আমরা গ্রহণ করেছি, যাতে শিশুরা জ্ঞানচর্চার আরও ভালো সুযোগ পায়।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং ইয়ূথ পাওয়ার ফাউন্ডেশনের সদস্যরা।
এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:
জনাব মোঃ হাসিবুল হাসান, উপজেলা কৃষি অফিসার, গাজীপুর সদর।
জনাব মোছাঃ আফরুজা খাতুন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, গাজীপুর সদর।
জনাব আখের আলী দেওয়ান, প্রধান শিক্ষক, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উচ্চ বিদ্যালয়।
জনাব মোঃ বেলায়েত হোসেন, প্রধান শিক্ষক, ব্রি প্রগতি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
প্রকৌঃ মুহঃ ফারুক হাসান, উপজেলা প্রকৌশলী, এলজিইডি, গাজীপুর সদর।
জনাব ইসরাত সুলতানা, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার, বিআরডিবি, গাজীপুর সদর।
জনাব শংকর চন্দ্র সরকার, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, ছোটদেওড়া অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয়।
জনাব জেসমিন আক্তার, প্রধান শিক্ষক, ছোটদেওড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
পুরো আয়োজনটি ছিল আনন্দঘন, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভরপুর। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে শিক্ষার প্রসার ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জয় ই মামুন

মানিকগঞ্জে অবৈধভাবে ইট উৎপাদনের দায়ে সাতটি ইটভাটাকে জরিমানা

জয় ই মামুন প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৫ পিএম
মানিকগঞ্জে অবৈধভাবে ইট উৎপাদনের দায়ে সাতটি ইটভাটাকে জরিমানা

সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কৃষিজমির উর্বর উপরিভাগের মাটি কেটে ইট তৈরির অভিযোগে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০১৯-এর ৫(১) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ১৫(১) ধারা অনুযায়ী এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অভিযানে যেসব ইটভাটাকে জরিমানা করা হয়েছে সেগুলো হলো- কে এফ সি ব্রিকস (বেরুন্ডি) ৪ লাখ টাকা, মেসার্স সোহানা ব্রিকস (খোলাপাড়া) ৪ লাখ টাকা, মেসার্স এ এ বি অ্যান্ড কোং (গাড়াদিয়া) ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মেসার্স জে বি সি ব্রিকস (গোবিন্দল) ২ লাখ টাকা, মেসার্স কে বি সি ব্রিকস-১ (রামকান্তপুর) ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা,
মেসার্স কে বি সি ব্রিকস-২ (রামকান্তপুর) ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং মেসার্স এম আর এম ব্রিকস (রামকান্তপুর) ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

অভিযানটি পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইংয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজ্জাদ জাহিদ রাতুল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সহকারী পরিচালক মো. মোজাফফর খান।

অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র‍্যাব-৪ ও জেলা পুলিশের সদস্যরা সহায়তা প্রদান করেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালিত হলে পরিবেশ ধ্বংস রোধে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিস্টরা।

সামিনুর ইসলাম নীলফামারী

জলঢাকায় শিক্ষার্থী হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

সামিনুর ইসলাম নীলফামারী প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৩ পিএম
জলঢাকায় শিক্ষার্থী হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বগুলাগাড়ী পৌর (৪নং ওয়ার্ড) ডাঙ্গপাড়া এলাকায় সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় মানববন্ধন করেছে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

নিহত মিমনুর রহমান ভ্যানচালক আলমগীর হোসেন (আল্লীর) প্রথম পুত্র এবং বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন শিক্ষার্থী ছিলেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ মার্চ তিনি ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হয়ে নিহত হন। এ ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উদ্বেগ, শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ মর্মান্তিক ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের উদ্যোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে ব্যানার হাতে নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা ন্যায়বিচারের দাবি জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষিকা মোছা: মনোয়ারা বেগম, সহকারী প্রধান শিক্ষক মহুবর রহমান, শিক্ষক আব্দুল হাই, মিজানুর রহমান, স্বপন কুমার রায়, ভগীরথ চন্দ্র রায় এবং সহকারী শিক্ষিকা সাজেদা সুলতানা ও শিলা রানী রায়সহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন নিরপরাধ শিক্ষার্থীর এমন নির্মম মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা অবিলম্বে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একইসঙ্গে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার করার আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।

এ বিষয়ে জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। খুব শিগগিরই জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

এদিকে, নিহতের পরিবার শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে এবং দ্রুত বিচার প্রত্যাশা করছে। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে, যাতে এমন ঘটনা আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে চারতলা ভবন

আধুনিক হচ্ছে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা

মেহেদী হাসান রিপন প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১১ পিএম
আধুনিক হচ্ছে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা

যশোরবাসীর পুলিশি সেবা আরও বেগবান ও আধুনিক করতে বড় ধরনের সংস্কার উদ্যোগে হাত দিয়েছে সরকার। শহরের জরাজীর্ণ কোতোয়ালি মডেল থানা ভবনটি ভেঙে সেখানে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক চারতলা ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ষাট দশকে নির্মিত বর্তমান থানা ভবনটি দীর্ঘ ব্যবহারের ফলে বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সরকারের দেশব্যাপী ১০৭টি থানা আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় এই সংস্কার কাজ শুরু হচ্ছে। যশোর গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।

যশোর গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই ভবনটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। ২৬ হাজার স্কয়ার ফিটের এই ভবনের মূল কাঠামো বা ফাউন্ডেশন হবে ছয়তলা পর্যন্ত, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে এটি চারতলা হিসেবে নির্মিত হবে। ঝিনাইদহের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন করার দায়িত্ব পেয়েছে। আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সেবাপ্রার্থী এবং পুলিশ সদস্যদের সুবিধার্থে ভবনের প্রতিটি তলা সুনিপুণভাবে সাজানো হয়েছে:
* প্রথম তলা: অভ্যর্থনা কেন্দ্র এবং দাপ্তরিক অফিস।
* দ্বিতীয় তলা: হাজতখানা ও প্রশাসনিক শাখা।
* তৃতীয় তলা: অফিস এবং নারী পুলিশ সদস্যদের জন্য ব্যারাক।
* চতুর্থ তলা: পুরুষ পুলিশ সদস্যদের জন্য আধুনিক ব্যারাক।

অস্থায়ীভাবে কার্যক্রম চলবে চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়িতে

নির্মাণ কাজ চলাকালীন জনসেবা যেন ব্যাহত না হয়, সেজন্য থানার যাবতীয় কার্যক্রম সাময়িকভাবে চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ি থেকে পরিচালিত হবে। আগামী ৫ এপ্রিলের মধ্যে বর্তমান ভবনটি খালি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে জনবল অনুযায়ী চাঁচড়া ফাঁড়িতে পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় পুলিশ সদস্যদের সাময়িকভাবে কিছুটা আবাসন সংকটে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খান বলেন, উন্নত ও আধুনিক পুলিশি সেবার স্বার্থে এই সাময়িক কষ্টটুকু মেনে নিতে হবে। নতুন ভবন নির্মিত হলে যশোরবাসীকে সেবা প্রদানের মান ও পুলিশের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

error: Content is protected !!