সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

স্বাধীনতা পেয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না: মাহমুদুর রহমান

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৪, ৮:১৯ পিএম | 121 বার পড়া হয়েছে
স্বাধীনতা পেয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না: মাহমুদুর রহমান

অতি উৎসাহীদের বাড়াবাড়ি না করার আহ্বান জানিয়েছেন দৈনিক ‘আমার দেশ’ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেছেন বলেন, অতি ইসলামিকও হবেন না।

ফ্যাসিবাদের সময় আপনারা কিছু করতে পারেননি। এখন স্বাধীনতা পেয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না। এর কারণে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। যারা বাড়াবাড়ি করছেন আস্তিক আর নাস্তিক, হিন্দু ধর্ম নিয়ে; এতে ভারতীয় যে কৌশল তা আপনারা বাস্তবায়ন করবেন।

রোববার (৬ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মাহমুদুর রহমান এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে আসার পর যে পাঁচ দিন আমি কারাগারে ছিলাম। আমার জন্য যে পরিমাণ ভালোবাসা দেশের মানুষ ও দেশের বাইরে থেকে মানুষ দেখিয়েছেন, তার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। আমি এর যোগ্য নই। আমি বিশিষ্ট ব্যক্তি নই, রাজনৈতিক ব্যক্তি নই। এরকম কোনো আকাঙ্ক্ষাও আমার নেই। আমি এদেশের আম-জনতার বর্ষীয়ান একজন প্রতিনিধি মাত্র।

তিনি বলেন, আমার দেশ স্বাধীনতার কথা বলে, এই বার্তা আমরা পত্রিকা থেকে দিতাম। এই কথাটা ছিল আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও ভারতের আধিপত্যবাদের বিরোধী কথা বলার ক্ষেত্রে একটি মেসেজ। এটি তারা বুঝতে পেরেছিল। বাংলাদেশের অধিকাংশ মিডিয়া এখনো ভারতীয় ফ্যাসিবাদীরা দখল করে বসে আছে। এটিই সত্য। মিডিয়ার মালিক বা সম্পাদক, এদের বেশিরভাগই ভারতের এজেন্ট।

‘মৌলবাদ’ শব্দ ব্যবহার না করতে সরকারকে সতর্ক করে আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক বলেন, অতি ইসলামিক এবং মৌলবাদ ট্যাগ ব্যবহারকারীদের প্রতিহত করতে হবে। বাংলাদেশ সরকারের একটি সংস্কার কমিটির দায়িত্বে আছেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বললেন, দেশে নাকি ‘মৌলবাদের’ উত্থান হচ্ছে। সরকারে থেকে এ ধরনের ব্যক্তিগত কথা বলা যায় না। তার বক্তব্য সরকারের বক্তব্য হয়ে যায়। তিনি এই ‘মৌলবাদ’ কোথায় পেলেন। এই ‘মৌলবাদ’র কার্ড ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করেছে, এটি ব্যবহার করে আয়নাঘর হয়েছে, বিচারবহির্ভূত হত্যা হয়েছে, হাজার হাজার মানুষ হত্যা করেছে তারা। এখন ইফতেখারুজ্জামান আবার ‘মৌলবাদ’ কার্ড ব্যবহার করছেন, আপনার উদ্দেশ্য কী। নতুন কায়দায় ভারতীয় আধিপত্যবাদ বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করা আপনার উদ্দেশ্য। আপনি সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কথা বলেন, আমরা আপনার সঙ্গে আছি। ‘মৌলবাদ’ শব্দ ব্যবহার করবেন না। তাই সরকারকে এ বিষয়ে আমি সতর্ক করে দিতে চাই।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এতই পাওয়ারফুল যে তাকে এক এগারোর সরকারে নিতে আইন পরিবর্তন করতে হয়। বর্তমান সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আমেরিকায় সফরসঙ্গী হিসেবে অর্থ উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন আহমেদ যাননি, গেছেন দেবপ্রিয়। এই দেবপ্রিয় ২০০৫ সাল থেকে এক-এগারোর সরকারের সময় পর্যন্ত দেশে ইন্ডিয়ান করিডোর দিতে প্রতিদিন ক্যাম্পেইন করতেন। বিদেশের টাকা নিয়ে প্রতিদিন ক্যাম্পেইন করেছেন তিনি। তার বক্তব্য সেদিন ছিল যে, করিডর থেকে দেশ যে শুল্ক পাবে তা দিয়ে বাংলাদেশ সিঙ্গাপুর হয়ে যাবে। তার কাছে আমরা জানতে চাই, গত ১৬ বছরে ট্রানজিট থেকে কত ডলার বাংলাদেশ আয় করেছে। এখন পর্যন্ত কেউ সরকারকে এ প্রশ্ন করেননি। আমরা দেখেছি সংবাদ সম্মেলনে কী করা হতো। আমার দেশ থাকলে এই প্রশ্ন করা হতো। এই দেবপ্রিয়কে তার মানুষকে স্বপ্ন দেখানোর জন্য ক্ষমা চাইতে হবে।

মাহমুদুর রহমান আরও বলেন, যে দলই ক্ষমতায় আসুক, বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াত—যারাই আসুক; দিল্লির পক্ষে যারা কথা বলবে তাদের সঙ্গে আমাদের লড়াই চলবে। আমি যতদিন জীবিত আছি ততদিন আমার লড়াই চলবে। আমি সবাইকে কথা দিচ্ছি, জনগণের কাতারে থেকে জনগণের জন্য মৃত্যু পর্যন্ত লড়াই করবো।

সভায় মাহমুদুর রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সাত দফা দাবি তুলে ধরেন। এগুলো হলো
১. ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, অর্থ উপদেষ্টা, শিল্প ও গণপূর্ত উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার রাজনৈতিক সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করতে হবে;
২. বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে এক সপ্তাহের মধ্যে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করে নিষিদ্ধ করতে হবে;
৩. যমুনা সেতুকে শহীদ আবু সাইদের নামে নামকরণ করতে হবে, যাতে মানুষ সেখান দিয়ে পার হওয়ার সময় শতাব্দীর পর শতাব্দী আবু সাইদকে দেখতে পায়;
৪. ২০০৯ সালের পর থেকে ভারতের সঙ্গে যত চুক্তি হয়েছে তার প্রত্যেকটা ধারা-উপধারা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। ভারতের সঙ্গে কী কী চুক্তি হয়েছে তাজনগণকে জানাতে হবে। এগুলো পুনর্বিবেচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করতে হবে, যেখানে ভারতের ও ফ্যাসিবাদের দোসর থাকতে পারবে না;
৫. বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউকে শহীদ আবরারের নামে নামকরণ করতে হবে, কারণ শহীদ আবরার এই ফ্যাসিবাদ আন্দোলনের প্রথম শহীদ। মনে রাখতে হবে, শেখ মুজিব বাংলাদেশের প্রথম স্বৈরাচার নেতা। আর শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের আইকন হচ্ছে শেখ মুজিব;
৬. বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে ফ্যাসিস্ট হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের মনোনয়ন অনতিবিলম্বে বাতিল করতে হবে। কারণ এই পুতুলকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল জালিয়াতির মাধ্যমে;
৭. এবং আপিল বিভাগের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে কারাগারে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুর রহিম এবং বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন পিন্টুর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে হবে।

দিঘলিয়ায় উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা ও মাদক প্রতিরোধে প্রশাসনের কর্মসূচি

জাহিদ হোসেন, দিঘলিয়া প্রতিনিধি-খুলনা প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৯:১২ পিএম
দিঘলিয়ায় উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা ও মাদক প্রতিরোধে প্রশাসনের কর্মসূচি

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দিঘলিয়ায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও মাদক প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিনসহ আগে ও পরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মাদকদ্রব্য আমদানি ও কেনাবেচা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ঈদের দিন সকল সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং সূর্যাস্তের সাথে সাথে তা নামিয়ে ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ঈদের জামাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈদের ছুটিকালীন সময়ে বিভিন্ন ঘাটে নির্ধারিত টোলের বেশি আদায় করা যাবে না বলেও জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত টোল আদায়কে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।
এদিকে সড়কে খোলা ট্রাক বা পিকআপে মাইক বা সাউন্ড বক্স ব্যবহার করে উচ্চ শব্দে গান বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা এবং বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানো থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দিঘলিয়ার প্রতিটি খেয়াঘাটে নৌকাতে ১৫ জনের বেশি উঠানো যাবে না।

ঈদের জামাতে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও নাশকতা প্রতিরোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে। এ লক্ষ্যে দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দিঘলিয়া কন্টিনজেন্ট এবং দিঘলিয়া, আড়ংঘাটা ও খানজাহান আলী থানা পুলিশ সার্বিক দায়িত্ব পালন করবে।

মুক্তাগাছা সিংড়ার খাল পূর্ণ খনন প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করেন তথ্য সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী

মকবুল হোসেন, ময়মনসিংহ প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৯:১০ পিএম
মুক্তাগাছা সিংড়ার খাল পূর্ণ খনন প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করেন তথ্য সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী

ময়মনসিংহে জেলার মুক্তাগাছা থানার ৫নং বাঁশাটি ইউনিয়নে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় সিংড়ার খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন কার্যক্রমে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি।
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ জাকির হোসেন এমপি, সংসদ সদস্য ১৫০, ময়মনসিংহ-৫, মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ সদর এর এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান, ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান, মুক্তাগাছা উপজেলার নির্বাহী অফিসার কৃষ্ণচন্দ্র প্রমুখ।

ঈশ্বরদীর বেনারসী পল্লীতে নেই ব‍্যাস্ততা, অস্তিত্ব সংকটে শতবর্ষের তাঁত শিল্প

মোঃ ওমরফারুক(সানি), স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৯:০৯ পিএম
ঈশ্বরদীর বেনারসী পল্লীতে নেই ব‍্যাস্ততা, অস্তিত্ব সংকটে শতবর্ষের তাঁত শিল্প

ঈদের বাকি আর কয়েকদিন। কিন্তু সেই ব্যস্ততার ছিটেফোঁটাও নেই পাবনার ঈশ্বরদীর বেনারসী পল্লীতে। শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প যেন আজ অস্তিত্ব সংকটে। বাজার দখল করে নিয়েছে ভারতীয় শাড়ি, আর কাজ হারাচ্ছেন দেশীয় কারিগররা।

বেনারসী পল্লী ঘুরে জানা যায়, পাবনার ঈশ্বরদীর এই বেনারসী পল্লীর ইতিহাস শত বছরেরও বেশি পুরোনো। ব্রিটিশ আমলে ভারত থেকে আসা কারিগররা এখানে এসে বসতি স্থাপন করেন। দক্ষ হাতে কাতান ও বেনারসী শাড়ি বুননের মাধ্যমে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে সমৃদ্ধ এ তাঁত শিল্পের জনপদ।

২০০৪ সালে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড ফতেহ মোহাম্মদপুর এলাকায় সাড়ে পাঁচ একর জমির ওপর গড়ে তোলে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বেনারসী পল্লী। ২০ বছরে প্লটের কিস্তি পরিশোধের সুবিধার্থে ৯০ জন তাঁতিকে ৯০টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৭০টি তিন শতাংশের এবং ২০টি পাঁচ শতাংশের প্লট।

তবে বাস্তবতা ভিন্ন। ৯০টি প্লটের মধ্যে মাত্র সাতটিতে কারখানা স্থাপন করা হয়েছে, আর বর্তমানে চালু রয়েছে হাতে গোনা কয়েকটি। এক সময় এই এলাকা মুখরিত থাকতো তাঁতের খটখট শব্দে। কয়েক হাজার কারিগর ও শতাধিক কারখানায় দিনরাত চলতো শাড়ি তৈরির কাজ। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে আজ সেই ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার পথে।

ঈদ সামনে থাকলেও আগের মতো নেই কর্মচাঞ্চল্য। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে কয়েকটি কারখানা, অধিকাংশই বন্ধ হয়ে গেছে।
ব্যবসায়ী ও কারিগরদের অভিযোগ, ভারতীয় স্বয়ংক্রিয় মেশিনে তৈরি কম দামের শাড়ি বাজার দখল করে নেওয়ায় দেশীয় হাতে বোনা বেনারসী শাড়ির চাহিদা কমে গেছে। এতে করে এক সময়ের জমজমাট তাঁত শিল্প এখন ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে।

বেনারসী পল্লীর কারখানা মালিক ও কারিগররা জানান, সরকারি উদ্যোগে এই পল্লী গড়ে উঠলেও এখানে পর্যাপ্ত তাঁত বসেনি। ফলে এটি ধ্বংসের মুখে পড়েছে। একসময় এখানে প্রায় এক হাজার তাঁত ছিল, যা কমতে কমতে এখন ৪০ থেকে ৫০টিতে নেমে এসেছে। নতুন প্রজন্মও এই পেশায় আসতে আগ্রহী নয়।

তাঁত শাড়ি ব্যবসায়ী মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, আমার বাবা বেনারস থেকে এখানে এসে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। কিন্তু ভারতীয় শাড়ি বাজারে ঢোকার কারণে আমরা আগের মতো তাঁত টিকিয়ে রাখতে পারছি না। শাড়ি তৈরিতে কারিগরের খরচ বেশি হওয়ায় ব্যবসা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরেক ব্যবসায়ী মমিনুল ইসলাম বলেন, ভারতীয় শাড়ির দাম কম হওয়ায় আমাদের শাড়ি বেশি দামে বিক্রি করা যায় না। সেখানে মেশিনে এক দিনে দশটি শাড়ি তৈরি হয়, আর আমরা হাতে তৈরি করতে দশ দিন লাগে একটি শাড়ি। এ কারণে আমরা পিছিয়ে পড়ছি।

শতবর্ষের এই ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প টিকিয়ে রাখতে আধুনিক প্রযুক্তি, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং বাজার সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন বেনারসী পল্লীর কারিগর ও ব্যবসায়ীরা।

error: Content is protected !!