সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

বরিশালে ১৫ লক্ষাধিক টন শীতকালীন সবজি উৎপাদন

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:৪০ পিএম | 63 বার পড়া হয়েছে
বরিশালে ১৫ লক্ষাধিক টন শীতকালীন সবজি উৎপাদন

চলতি মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে ১৫ লক্ষাধিক টন শীতকালীন সবজী উৎপাদনে কৃষকের সাফল্য রচিত হয়েছে। বরিশাল কৃষি অঞ্চলে আবাদ বিলম্বিত হবার সাথে মধ্যসত্ত্বভোগীদর নানা কারসাজীতে বাজারে শীতকালীন শাক-সবজির দাম অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় দ্বিগুনেরও বেশী। কিন্তু যে কৃষক এ সবজি উৎপাদনে মাথার ঘাম পায়ে ফেলছেন তারা দাম না পাওয়ায় তাদের ভাগ্যের তেমন পরিবর্তন হচ্ছে না। চলতি রবি মৌসুমেও দেশে উৎপাদিত প্রায় দেড় কোটি টন শীতকালীন সবজির প্রায় ১৫ লাখ টনই উৎপাদন হচ্ছে বরিশাল অঞ্চলে। নিকট অতীতেও দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের সবজির ওপর যে নির্ভরতা ছিল বরিশাল অঞ্চলের, তা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেকটা হ্রাস পেলেও এবার অক্টোবর ও নভেম্বরে বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসা দুটি ঘূর্ণিঝড়ের বয়ে আনা অকাল বর্ষণে শীতকালীন শাক-সবজি সহ রবি ফসলের আবাদ যথেষ্ঠ বিলম্বিত হওয়ায় এ অঞ্চলের সবজির প্রাপ্যতা বিলম্বিত হচ্ছে।
ফলে পশ্চিমাঞ্চলের সবজি বরিশালের বাজারে যোগান দিতে পরিবহন ব্যায়ের সাথে কয়েক দফার হাত বদলে দাম আকাশ চুম্বি। এখনো বরিশালের বাজারে ফুলকপির কেজি ৪৫-৫০টাকা, বাঁধাকপি’ও প্রায় একই দামে বিক্রী হচ্ছে। বেগুনের কেজি ৮০ টাকার ওপরে। অন্যন্য সবজীও আকাশ ছোয়া। অথচ গত বছর এ সময়ে এসব সবজির কেজি ২০-২৫ টাকার বেশী ছিল না। গত দু দশকে বরিশাল অঞ্চলে সবজির আবাদ ও উৎপাদন তিনগুনেরও বেশী বাড়লেও তা সম্পূর্ণভাবেই প্রকৃতি নির্ভর। তবে কৃষিবীদদের মতে, ‘বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউট-বারি’ উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ও উন্নত মানের সবজী বীজ সহ আবাদ প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের কাছে পৌছলে উৎপাদন প্রায় দ্বিগুনে পৌছান সম্ভব হবে। চলতি রবি মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে প্রায় ৭৫ হাজার হেক্টরে শীতকালীন সবজির আবাদ হচ্ছে। উৎপাদন লক্ষ্য রয়েছে প্রায় ১৫ লাখ টন। ভাটি এলাকার পাশাপাশি এবার অগ্রহায়নের অকাল বর্ষণে এঅঞ্চলে এখনো শীতকালীন সবজির আবাদ হচ্ছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন বাড়ীঘরের আঙিনায়ও বিপুল পরিমান সবজির আবাদ হচ্ছে। ডিএই’র মতে, বিগত অগ্রহায়নের শেষভাগে অকাল বর্ষনে এ অঞ্চলে শতাধীক কোটি টাকার ফসল বিনষ্ট হওয়ায় কৃষকরা মারাত্মক ধাক্কা খেলেও সে ধকল অনেকটাই সামাল দিয়ে উঠতে সহায়ক হবে শীতকালীন সবজি সহ রবি ফসল। ইতোমধ্যে মাঠে মাঠে সবজির অবাদ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ফলে উৎপাদন ১৫ লাখ টনে পৌছবে বলেও আশাবাদি কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর-ডিএই।
এব্যাপারে ডিএই’র বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক জানান, অগ্রহায়নের অকাল বর্ষণ আমনের উৎপাদন কিছুটা ব্যহত করার পাশাপাশি শীতকালীন শাক-সবজি সহ রবি ফসল আবাদও বিলম্বিত করেছে। তবে তার পরেও কৃষকগন সব কিছু সামলে নিয়ে শীতকালীন সবজি সহ রবি ফসল আবাদে যথেষ্ঠ মনযোগী বলেও জানান তিনি।
ইতোমধ্যে বরিশাল অঞ্চলে উৎপাদিত লালশাক, পালংশাক, শালগম, গাজর, ও মুলা সহ বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজী বাজারে আসতে শুরু করেছে। অঅগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরো নতুন সবজি আসবে। তবে এর বাইরে এখন লাউ সহ বেশ কিছু সবজী বার মাসই আবাদ ও উৎপাদন হচ্ছে। যা বাজারে রয়েছে। তবে এবার অগ্রহায়নের অকাল বর্ষণের রেশ ধরে আবাদ বিলম্বিত হবার বিষয়টি পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে মধ্যসত্তভোগিরা শীতকালীন কৃষি পণ্য নিয়ে ভোক্তাদের জিম্মী করে ফেলেছে। এমনকি বাজারে সব ধরনের সবজির দাম গত কয়েক বছরের তুলনায় বেশী হলেও কৃষকরা সে তুলনায় দাম পাচ্ছে না।
বরিশালের কৃষকগন শীতকালীন সবজী ছাড়াও বোরো ধান, গম ও ভুট্টা সহ বিভিন্ন দানাদার খাদ্য ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যেও মাঠে রয়েছেন। চলতি রবি মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ১২ লাখ হেক্টরেরও বেশী বিভিন্ন ধরনের ফসল আবাদ হচ্ছে। এরমধ্যে শুধু সাড়ে ৩ লাখ ৮২ হাজার হেক্টরে বোরো ধান আবাদের মাধ্যমে প্রায় ১৮ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।
ডিএই’র দায়িত্বশীল সূত্রের মতে, চলতি রবি মৌসুমে দেশে প্রায় দেড় কোটি টনের টনের মত শীতকালীন সবজী উৎপাদনের সম্ভবনা রয়েছে। এমনকি ‘অভ্যন্তরীন পূর্ণ চাহিদা মিটিয়েও বিদেশে রপ্তানী বাজার ক্রমে সম্প্রসারিত হচ্ছে’ বলে আশা করছে কৃষি মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র। ডিএই’র মতে ‘বিশ্বের শতাধিক দেশে বর্তমানে বাংলাদেশের কৃষি পণ্য রপ্তানী হচ্ছে। এরমধ্যে শীতকালীন সবজীই অন্যতম। এ বাজার আরো সম্প্রসারনে সরকার দেশে সবজী আবাদ সম্প্রসারনে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে’ বলেও জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রনালয়েল একটি সূত্র।
আমাদের ‘বারী’ মাঠ পর্যায়ে গবেষনা কার্যক্রমের মাধ্যমে অন্যসব ফসলের মত বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজীর উচ্চ ফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছে। ফলে কম জমিতে অধীক ফসল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। এতেকরে কৃষকগন লাভবান হবার কথা থাকলেও বরিশালে মাঠ পর্যায়ে তার কাঙ্খিত সম্প্রসারন ঘটছে না। অথচ বারি উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল বীজ ও আবাদ প্রযুক্তি এ অঞ্চলের কৃষকের কাছে পৌছে দিতে পারলে, সবজির আবাদ ও উৎপাদনে নিরব বিপ্লব ঘটে যেতে পারে বলেও মনে করছেন মাঠ পর্যায়ের কৃষিবীদগন।

ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদত্যাগ

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৭ পিএম
ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদত্যাগ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির উত্তরাঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তৌহিদ মো. সিয়াম পদত্যাগ করেছেন। আজ সোমবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ কথা জানান।

ফেসবুক পোস্টে সিয়াম লিখেছেন, ‘গত ২৮ মার্চ আমি জাতীয় ছাত্রশক্তি থেকে পদত্যাগ করেছি। এই পথচলায় যারা আমার সহযোদ্ধা ছিলেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। জাতীয় ছাত্রশক্তি ও এনসিপির নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রয়াস সফল হোক এই কামনা করি।’

আবু তৌহিদ মো. সিয়াম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখার সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর তিনি বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। বাগছাসের নাম পরিবর্তন ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে গত ২৩ অক্টোবর আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় ছাত্রশক্তি।

এরপর ৩১ অক্টোবর সংগঠনটির চার সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক (উত্তরাঞ্চল) পদে দায়িত্ব পেয়েছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু তৌহিদ মো. সিয়াম।

মোঃ সাকিব মুন্সী

মদনে বিএনপি নেতাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

মোঃ সাকিব মুন্সী প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
মদনে বিএনপি নেতাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বিএনপি নেতাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান আকন্দ শফিক, তিনি মদন উপজেলা বিএনপির সহ-সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মদন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানা সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার নিজ বাড়ির সামনে বিলে ঘাস কাটতে গেলে জমির মালিকানা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে একই গ্রামের মো. সোহেল (৩৫), তার ভাই মো. কায়েস (২৮), কাউসার (৩০) ও মো. সাগর (২২) মিলে তাকে মারধর করে এবং পানিতে চুবিয়ে নির্যাতন করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ঘটনার প্রতিবাদে রোববার মদন পৌরশহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা, এতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযুক্ত সোহেল মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মেহেদী হাসান আমার চাষকৃত জমিতে ঘাস কাটছিল। আমি বাধা দিলে ধস্তাধস্তি হয়। তবে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয়।”
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান বলেন, “এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

জয়া আহসান এবং বিপাশা হায়াতকে নিয়ে বিতর্ক

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৩ পিএম
জয়া আহসান এবং বিপাশা হায়াতকে নিয়ে বিতর্ক

জয়া আহসান এবং বিপাশা হায়াতকে নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে নিউজফিডে অহেতুক একটা বিতর্ক দেখছি।
দুজনের বয়স কাছাকাছি, কিন্তু জয়া যেভাবে নিজেকে মেন্টেইন করেছেন, নিজের বয়সকে ধরে রেখেছেন, বিপাশা সেভাবে পারেননি,
তার শরীরে বয়সের ছাপ পড়েছে, চুল পেকেছে আরো কত কি।
সমস্যাটা আসলে কার চুল সাদা, কার ফিগার ছিপছিপে, কার মেকআপ কম সেটা না, সমস্যাটা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে।
একটা অদ্ভুত মানসিকতা ধীরে ধীরে সমাজে জায়গা করে নিয়েছে।
যেখানে একজন নারী বয়সকে যেভাবে গ্রহণ করবেন, সেটাকেই আদর্শ বানিয়ে অন্যদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বিপাশা হায়াত যদি নিজের সাদা চুল, স্বাভাবিক বয়স এসবকে গ্রহণ করেন, সেটা তার ব্যক্তিগত পছন্দ, তার স্বাচ্ছন্দ্য।
কিন্তু সেই পছন্দকে মাপকাঠি বানিয়ে অন্য নারীদের বিচার করা এটা আসলে প্রশংসা না, এটা নিয়ন্ত্রণের আরেক রূপ।
একইভাবে, জয়া আহসান যদি নিজেকে ফিট রাখেন, স্টাইলিশ থাকেন, কিংবা নিজের মতো করে ইয়াং অনুভব করতে চান, তাহলে সেটাও তার অধিকার।
বয়স বাড়লেই কেন একজন নারীকে নির্দিষ্ট ছাঁচে ঢুকে যেতে হবে?
কেন তার সাজ, পোশাক, এমনকি নিজের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি সবকিছু সমাজ ঠিক করে দেবে?
সবচেয়ে বড় সমস্যার বিষয় হলো এই তুলনাটা।
একজনকে তুলে ধরতে গিয়ে আরেকজনকে ছোট করা।
একজন স্বাভাবিক, কারণ তিনি বয়স মেনে নিয়েছেন,
আরেকজন অস্বাভাবিক, কারণ তিনি নিজেকে ধরে রাখতে চান।
এই বিভাজনটা আসলে কতটা যুক্তিযুক্ত?
সত্যি বলতে, এখানে প্রশংসার আড়ালে একটা সূক্ষ্ম চাপ কাজ করে, তুমি এমন হও, না হলে তুমি ভুল, তুমি খারাপ।
কেউ সাদা চুলে স্বাচ্ছন্দ,
কেউ রঙ করে ভালো লাগে।
কেউ মেকআপ ছাড়াই স্বস্তিতে,
কেউ সাজতে ভালোবাসে।
এই ভিন্নতাই স্বাভাবিক।
সমালোচনা যদি করতেই হয়, তাহলে এই দ্বিমুখী মানসিকতারই করা উচিত।
যেখানে একজন নারীর স্বাধীন পছন্দকে আরেকজনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়।
কারণ শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা খুব সহজ,
নারী কি নিজের মতো করে বাঁচতে পারবে?
নাকি তাকে সবসময় অন্যের পছন্দ অনুযায়ী বদলাতে হবে?

error: Content is protected !!