সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

রিযিকদাতার মহান শিক্ষা

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:০৮ পিএম | 93 বার পড়া হয়েছে
রিযিকদাতার মহান শিক্ষা

হযরত সুলাইমান (আ.) ছিলেন ইতিহাসের অন্যতম ক্ষমতাধর নবী, যাঁকে মহান আল্লাহ মানুষ, জিন, পশুপাখি এবং বাতাসের ওপর কর্তৃত্ব দান করেছিলেন। একদিন তাঁর হৃদয়ে এক মহান ইচ্ছা জাগল। তিনি ভাবলেন, “আল্লাহর অগণিত সৃষ্টিকে তো আল্লাহ একাই খাওয়ান; আমি যদি অন্তত একদিনের জন্য তাঁর সব সৃষ্টিকে পেটভরে খাওয়াতে পারতাম!”
১. দম্ভ নয়, বরং মেহমানদারির প্রবল ইচ্ছা
সুলাইমান (আ.) আল্লাহর দরবারে বিনতি করলেন, “হে আমার পালনকর্তা! আমাকে আপনার সৃষ্টির রিযিকের দায়িত্ব একদিনের জন্য দান করুন।” আল্লাহ তায়ালা বললেন, “সুলাইমান, তুমি সেই ভার বহন করতে পারবে না।” কিন্তু সুলাইমান (আ.) বারবার অনুরোধ করতে লাগলেন। প্রথমে এক বছর, তারপর সাত দিন এবং অবশেষে একদিনের জন্য হলেও অনুমতি চাইলেন। আল্লাহ তায়ালা তাঁর নবীকে রিযিকের রহস্য শেখানোর জন্য একদিনের অনুমতি দান করলেন।
২. পৃথিবীর বৃহত্তম আয়োজন
অনুমতি পেয়েই সুলাইমান (আ.) তাঁর বিশাল বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে দিলেন। মানুষ ও জিনের দল সারা পৃথিবী থেকে শস্য, ফলমূল আর মাংস একত্র করতে লাগল। বিশাল বিশাল পাত্রে রান্না শুরু হলো। বাতাসকে নির্দেশ দেওয়া হলো যেন সে অতি ধীরগতিতে বয়, যাতে খাবারের সুঘ্রাণ বজায় থাকে আর খাবার নষ্ট না হয়।
সমুদ্রের তীরে মাইলের পর মাইল জুড়ে দস্তরখানা বিছানো হলো। বলা হয়, সেই দস্তরখানার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে কয়েক মাস সময় লাগত। পাহাড়সম খাবারের স্তূপ দেখে মনে হচ্ছিল আজ বুঝি পৃথিবীর কেউ আর ক্ষুধার্ত থাকবে না।
৩. সমুদ্রের সেই বিশাল মেহমান
আয়োজন শেষ হলে আল্লাহ তায়ালা জিজ্ঞেস করলেন, “হে সুলাইমান! মেহমানদারি কাকে দিয়ে শুরু করবে?” সুলাইমান (আ.) বললেন, “হে আল্লাহ! আমি সমুদ্রের প্রাণীদের দিয়ে শুরু করতে চাই।”
তখন আল্লাহর হুকুমে বিশাল এক মাছ সমুদ্রের পানি চিরে মাথা তুলল। সে তীরে এসে একে একে সব পাত্রের খাবার সাবাড় করতে শুরু করল। চোখের পলকে পাহাড়সম খাবারের স্তূপ আর মাইলের পর মাইল দীর্ঘ সেই দস্তরখানা পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে গেল! কিন্তু বিস্ময়ের তখনও বাকি ছিল। মাছটি মুখ তুলে আর্তনাদ করে বলল—
“হে সুলাইমান! আমি বড় ক্ষুধার্ত, আমাকে আরও খাবার দিন!”
৪. সুলাইমান (আ.)-এর বিস্ময় ও সেজদা
সুলাইমান (আ.) হতবাক হয়ে বললেন, “তুমি একা এত খাবার খেয়েও তৃপ্ত হওনি?” মাছটি উত্তর দিল—
“হে আল্লাহর নবী! প্রতিদিন আমার রব আমাকে এর চেয়েও তিনগুণ বেশি খাবার দেন। আজ যখন আপনি আমার রিযিকের দায়িত্ব নিলেন, তখনই আমি প্রথমবার ক্ষুধার জ্বালা অনুভব করছি। আপনি আমাকে অর্ধেক পেটেও খাবার দিতে পারলেন না!”
এই কথা শুনে সুলাইমান (আ.)-এর চশম খুলে গেল। তিনি বুঝতে পারলেন, সৃষ্টির সব আয়োজন যেখানে শেষ হয়, স্রষ্টার কুদরত সেখান থেকে শুরু হয়। তিনি সাথে সাথে সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন এবং বললেন—
“পবিত্র তুমি হে মহান রব! তুমিই একমাত্র রিযিকদাতা এবং পালনকারী। কোনো সৃষ্টির পক্ষে অন্য সৃষ্টির রিযিকের দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব নয়।”
গল্পের শিক্ষা:
একমাত্র রিযিকদাতা: মানুষ কেবল উসিলা মাত্র, কিন্তু রিযিক আসে আকাশ থেকে আল্লাহর পক্ষ থেকে।
আল্লাহর ওপর ভরসা: দুনিয়ার সব আয়োজন মিলেও আমাদের এক বেলা খাবারের নিশ্চয়তা দিতে পারে না, যদি না আল্লাহ তা কবুল করেন।
বিনয়: নিজের সামর্থ্য নিয়ে কখনো দম্ভ করা উচিত নয়, কারণ আল্লাহর সৃষ্টির সংখ্যার তুলনায় আমাদের আয়োজন অতি তুচ্ছ।

রুহুল আমিন রুকু, কুড়িগ্রাম

অসহায় শিশু আঁখির পাশে উপজেলা প্রশাসন

রুহুল আমিন রুকু, কুড়িগ্রাম প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৮ পিএম
অসহায় শিশু আঁখির পাশে উপজেলা প্রশাসন

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার তবকপুর মাটিয়াল আদর্শ বাজার এলাকার বাসিন্দা হৃদরোগে আক্রান্ত আঁখি আক্তারের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তার মানবিক সংকট নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরপরই প্রশাসনের এই উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর হৃদরোগে ভুগছেন শিশু আঁখি আক্তার -১০। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পেরে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল। বিষয়টি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়ে এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা সৃষ্টি হয়।
সংবাদটি নজরে আসার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহামুদুল হাসান দ্রুত পদক্ষেপ নেন। তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে ব্যক্তিগতভাবে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ান। ৩০ মার্চ ২০২৬ ইং সোমবার বিকেলে উলিপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে ইউএনও মাহামুদুল হাসান শিশু আঁখি আক্তারের চিকিৎসার জন্য তার মায়ের হাতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও প্রদান করেন।
এ বিষয়ে ইউএনও বলেন,
“মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসন সবসময় জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।”
উপজেলা প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগে আঁখি আক্তারের পরিবারে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করবে।

কুড়িগ্রামে জেলা পর্যায়ে বিকেএসপির খেলোয়াড় বাছাই অনুষ্টিত

রুহুল আমিন রুকু, কুড়িগ্রামঃ প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৬ পিএম
কুড়িগ্রামে জেলা পর্যায়ে বিকেএসপির খেলোয়াড় বাছাই অনুষ্টিত

কুড়িগ্রাম জেলায় বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা সংস্থা, (বিকেএসপি) তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ ও নিবিড় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম-২০২৬ অনুযায়ী জেলা পর্যায়ে খেলোয়াড় বাছাই কর্মসূচি ৩০ মার্চ ২০২৬ কুড়িগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম মাঠে আয়োজন করেছে।

মানসন্মত খেলোয়াড় বাছাই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)’র তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ ও নিবিড় প্রশিক্ষণ প্রদান কার্যক্রম ২০২৬’ এর আওতায় প্রতিভাবান খেলোয়াড় বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করেন- সিনিয়র কোচ (সাঁতার) মোশারফ হোসেন, ডিপার্টমেন্ট চিফ কোচ (জুডো) আবু বকর ছিদ্দিক, এ্যাথলেটিক্স কোচ মোবারক হোসেন, সিনিয়র কোচ (ফুটবল) শহিদুল ইসলাম লিটন, হকি কোচ আল মশিউর রহমান, বক্সিং কোচ লিটন মাহমুদ, বাস্কেটবল কোচ মোঃ সোহাগ, তাইকোয়ান্দো কোচ হায়াত-উল-আমিন, আর্চারি কোচ গোলাম সরোয়ার, কারাতে কোচ আরিফুল ইসলাম, ক্রীকেট কোচ গোলামুর রহমান ও ভলিবল কোচ মাহবুব হোসেন প্রমূখ।

খেলোয়াড় নির্বাচন এবং প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এ কার্যক্রমের অধীনে ২১টি ক্রীড়া বিভাগ, যথাক্রমে আর্চারি, এ্যাথলেটিক্স, বাস্কেটবল, ক্রিকেট, ফুটবল, হকি, জুডো, কারাতে, শ্যুটিং, তায়কোয়ানডো, টেবিল টেনিস, ভলিবল, উত্ত, স্কোয়াশ, কাবাডি, ভারোত্তোলন ও ব্যাডমিন্টন খেলায় ১০-১৩ বৎসর এবং বক্সিং, জিমন্যাস্টিক্স, সাঁতার ও টেনিস খেলায় অনূর্ধ্ব ৮-১৪ বৎসর বয়সী ছেলে এবং মেয়ে (বক্সিং ব্যতিত) খেলোয়াড় নির্বাচন করা হবে।

নির্বাচিত খেলোয়াড়দের বিকেএসপি ঢাকা এবং বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সমূহে প্রথমে ১ মাস মেয়াদের ১টি এবং পরবর্তীতে ২ মাস মেয়াদের ১টি প্রশিক্ষণ শিবিরের মাধ্যমে তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

এ ছাড়াও কমিটি খেলোয়াড়দের বয়স যাচাই, শারীরিক যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট খেলার পারদর্শিতার বিষয়ে বাছাই পরীক্ষা সম্পন্ন করবেন। প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষায় নির্বাচিত ১০০০ জন খেলোয়াড়কে বিকেএসপি ঢাকা এবং বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহে ১ মাস মেয়াদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী ১০০০ জন খেলোয়াড়ের মধ্য থেকে ৪০০ জনকে বাছাই করে পুনরায় ২য় পর্যায়ে বিকেএসপিতে (ঢাকা) এবং আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহে নিরবচ্ছিন্নভাবে ২ মাস ব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীদের বিকেএসপি কর্তৃক থাকা-খাওয়া, যাতায়াত ভাড়াসহ প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সাজ-সরঞ্জাম প্রদান করা হবে।প্রশিক্ষণে সকল খেলোয়াড়দের সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।

এ ব্যাপারে গ্রামীন ফুটবল বিপ্লবী জালাল হোসেন লাইজু জানান, বিকেএসপির প্রতিভা অন্বেষণে খেলোয়াড় বাছাই কার্যক্রম খুবই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আমরা আশা করছি এর মাধ্যমে কুড়িগ্রাম জেলায় তৃণমূল থেকে অনেক উন্নত মানের খেলোয়াড় উঠে আসবে।

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ

গোমস্তাপুরে দম্পতিসহ গ্রেফতার ২

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৪ পিএম
গোমস্তাপুরে দম্পতিসহ গ্রেফতার ২

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) এর অভিযানে স্বামী-স্ত্রীসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে ৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে জেলার গোমস্তাপুর থানাধীন বংপুর গ্রামে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— বংপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ তারেক রহমান (৪২) ও তার স্ত্রী মোসাঃ মর্জিনা খাতুন (৩৩)। তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

অভিযান পরিচালনাকারী সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি দল বংপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় আসামীদের কাছ থেকে ৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে তাদের আটক করা হয়।

এ ঘটনায় উপ-পরিদর্শক মামুনুর রশীদ বাদী হয়ে গোমস্তাপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

error: Content is protected !!