প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

রিযিকদাতার মহান শিক্ষা

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক

হযরত সুলাইমান (আ.) ছিলেন ইতিহাসের অন্যতম ক্ষমতাধর নবী, যাঁকে মহান আল্লাহ মানুষ, জিন, পশুপাখি এবং বাতাসের ওপর কর্তৃত্ব দান করেছিলেন। একদিন তাঁর হৃদয়ে এক মহান ইচ্ছা জাগল। তিনি ভাবলেন, “আল্লাহর অগণিত সৃষ্টিকে তো আল্লাহ একাই খাওয়ান; আমি যদি অন্তত একদিনের জন্য তাঁর সব সৃষ্টিকে পেটভরে খাওয়াতে পারতাম!”
১. দম্ভ নয়, বরং মেহমানদারির প্রবল ইচ্ছা
সুলাইমান (আ.) আল্লাহর দরবারে বিনতি করলেন, “হে আমার পালনকর্তা! আমাকে আপনার সৃষ্টির রিযিকের দায়িত্ব একদিনের জন্য দান করুন।” আল্লাহ তায়ালা বললেন, “সুলাইমান, তুমি সেই ভার বহন করতে পারবে না।” কিন্তু সুলাইমান (আ.) বারবার অনুরোধ করতে লাগলেন। প্রথমে এক বছর, তারপর সাত দিন এবং অবশেষে একদিনের জন্য হলেও অনুমতি চাইলেন। আল্লাহ তায়ালা তাঁর নবীকে রিযিকের রহস্য শেখানোর জন্য একদিনের অনুমতি দান করলেন।
২. পৃথিবীর বৃহত্তম আয়োজন
অনুমতি পেয়েই সুলাইমান (আ.) তাঁর বিশাল বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে দিলেন। মানুষ ও জিনের দল সারা পৃথিবী থেকে শস্য, ফলমূল আর মাংস একত্র করতে লাগল। বিশাল বিশাল পাত্রে রান্না শুরু হলো। বাতাসকে নির্দেশ দেওয়া হলো যেন সে অতি ধীরগতিতে বয়, যাতে খাবারের সুঘ্রাণ বজায় থাকে আর খাবার নষ্ট না হয়।
সমুদ্রের তীরে মাইলের পর মাইল জুড়ে দস্তরখানা বিছানো হলো। বলা হয়, সেই দস্তরখানার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে কয়েক মাস সময় লাগত। পাহাড়সম খাবারের স্তূপ দেখে মনে হচ্ছিল আজ বুঝি পৃথিবীর কেউ আর ক্ষুধার্ত থাকবে না।
৩. সমুদ্রের সেই বিশাল মেহমান
আয়োজন শেষ হলে আল্লাহ তায়ালা জিজ্ঞেস করলেন, “হে সুলাইমান! মেহমানদারি কাকে দিয়ে শুরু করবে?” সুলাইমান (আ.) বললেন, “হে আল্লাহ! আমি সমুদ্রের প্রাণীদের দিয়ে শুরু করতে চাই।”
তখন আল্লাহর হুকুমে বিশাল এক মাছ সমুদ্রের পানি চিরে মাথা তুলল। সে তীরে এসে একে একে সব পাত্রের খাবার সাবাড় করতে শুরু করল। চোখের পলকে পাহাড়সম খাবারের স্তূপ আর মাইলের পর মাইল দীর্ঘ সেই দস্তরখানা পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে গেল! কিন্তু বিস্ময়ের তখনও বাকি ছিল। মাছটি মুখ তুলে আর্তনাদ করে বলল—
“হে সুলাইমান! আমি বড় ক্ষুধার্ত, আমাকে আরও খাবার দিন!”
৪. সুলাইমান (আ.)-এর বিস্ময় ও সেজদা
সুলাইমান (আ.) হতবাক হয়ে বললেন, “তুমি একা এত খাবার খেয়েও তৃপ্ত হওনি?” মাছটি উত্তর দিল—
“হে আল্লাহর নবী! প্রতিদিন আমার রব আমাকে এর চেয়েও তিনগুণ বেশি খাবার দেন। আজ যখন আপনি আমার রিযিকের দায়িত্ব নিলেন, তখনই আমি প্রথমবার ক্ষুধার জ্বালা অনুভব করছি। আপনি আমাকে অর্ধেক পেটেও খাবার দিতে পারলেন না!”
এই কথা শুনে সুলাইমান (আ.)-এর চশম খুলে গেল। তিনি বুঝতে পারলেন, সৃষ্টির সব আয়োজন যেখানে শেষ হয়, স্রষ্টার কুদরত সেখান থেকে শুরু হয়। তিনি সাথে সাথে সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন এবং বললেন—
“পবিত্র তুমি হে মহান রব! তুমিই একমাত্র রিযিকদাতা এবং পালনকারী। কোনো সৃষ্টির পক্ষে অন্য সৃষ্টির রিযিকের দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব নয়।”
গল্পের শিক্ষা:
একমাত্র রিযিকদাতা: মানুষ কেবল উসিলা মাত্র, কিন্তু রিযিক আসে আকাশ থেকে আল্লাহর পক্ষ থেকে।
আল্লাহর ওপর ভরসা: দুনিয়ার সব আয়োজন মিলেও আমাদের এক বেলা খাবারের নিশ্চয়তা দিতে পারে না, যদি না আল্লাহ তা কবুল করেন।
বিনয়: নিজের সামর্থ্য নিয়ে কখনো দম্ভ করা উচিত নয়, কারণ আল্লাহর সৃষ্টির সংখ্যার তুলনায় আমাদের আয়োজন অতি তুচ্ছ।

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মোঃ আঃ হান্নান মিলন, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ রাজিবুল করিম রোমিও-এম, এস, এস (সমাজ কর্ম), নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসাইন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল আজিজ, সহ-ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আউয়াল ভাসানী, বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন