সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

বরকতময় হাড়ি

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:০৭ পিএম | 80 বার পড়া হয়েছে
বরকতময় হাড়ি

মদিনার উপকণ্ঠে তখন পরিখা খননের কাজ চলছে। সাহাবীদের পেটে প্রচণ্ড ক্ষুধা, শরীরে ক্লান্তি। দয়ার নবী ﷺ নিজেও ক্ষুধার্ত অবস্থায় পরিখা খনন করছেন। হযরত জাবির (রা.) নবীজিকে কাছ থেকে দেখে শিউরে উঠলেন। নবীজির ক্ষুধার্ত চেহারা দেখে তাঁর কলিজা ফেটে যাচ্ছিল। তিনি দ্রুত পা চালিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরলেন।
১. জাবিরের (রা.) ক্ষুদ্র আয়োজন
জাবির (রা.) তাঁর স্ত্রীকে গিয়ে বললেন, “আজ আমি নবীজিকে বড় করুণ ও ক্ষুধার্ত অবস্থায় দেখে এসেছি। ঘরে কিছু আছে কি?” স্ত্রী জানালেন, ঘরে মাত্র এক সা’ (আড়াই কেজির মতো) যব আর একটি ছোট পালিত বকরি আছে। জাবির (রা.) দেরি না করে বকরিটি যবেহ করলেন এবং তাঁর স্ত্রী যব পিষে আটা তৈরি করলেন। উনুনে মাংসের ডেকচি চড়িয়ে জাবির (রা.) যখন বের হচ্ছিলেন, স্ত্রী বারবার করে মনে করিয়ে দিলেন:
“খবরদার! খাবার কিন্তু খুবই অল্প। নবীজিকে একা অথবা মাত্র দুই-তিনজন সাথী নিয়ে আসবেন। বেশি মানুষ এনে আমাকে সবার সামনে লজ্জিত করবেন না যেন!”
২. নবীজির ঘোষণা ও জাবিরের বিস্ময়
জাবির (রা.) পরিখায় গিয়ে নবীজি ﷺ-এর কানে কানে খুব নিচু স্বরে বললেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! ঘরে সামান্য খাবার তৈরি হয়েছে। আপনি আপনার সাথে মাত্র দুই-চারজন সাথী নিয়ে আমার গরিবখানায় চলুন।”
কিন্তু নবীজি ﷺ এক জান্নাতি মুচকি হাসি দিলেন। তিনি জাবিরের গোপন দাওয়াতকে আমজনতার দাওয়াতে পরিণত করে উচ্চস্বরে ঘোষণা দিলেন— “হে খন্দকবাসী! শোনো, আজ জাবির তোমাদের সবার জন্য খাবারের বিশাল আয়োজন করেছে। চলো, সবাই জাবিরের বাড়ি চলো!”
এক হাজার ক্ষুধার্ত সাহাবীর সেই বিশাল বহর দেখে জাবির (রা.)-এর অন্তরাত্মা কেঁপে উঠল। তিনি দৌড়ে বাড়ি গিয়ে স্ত্রীকে সব খুলে বললেন। স্ত্রী প্রথমে আতঙ্কিত হয়ে স্বামীকে তিরস্কার করলেন, কিন্তু যখন শুনলেন নবীজি নিজে এই ঘোষণা দিয়েছেন, তখন তিনি আল্লাহর ওপর ভরসা করে শান্ত হলেন।
৩. আল্লাহর রাসূলের বরকতময় স্পর্শ
রাসূলুল্লাহ ﷺ জাবিরের ঘরে প্রবেশ করলেন। তিনি আটার খামিরে এবং ফুটন্ত মাংসের ডেকচিতে নিজের পবিত্র লালা মিশিয়ে বরকতের দোয়া করলেন। স্ত্রীকে নির্দেশ দিলেন— “হাঁড়ি যেন চুলা থেকে না নামানো হয় এবং রুটি পেষার জন্য আরেকজন সাহায্যকারী ডাকো।”
শুরু হলো ইতিহাসের এক অবিশ্বাস্য ভোজ। সাহাবীরা দশজন দশজন করে ঘরে প্রবেশ করছেন, পেট ভরে তৃপ্ত হয়ে মাংস-রুটি খেয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। জাবির (রা.) অবাক হয়ে দেখলেন—ঝুড়ি থেকে রুটি নেওয়া হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু আটার খামির একটুও কমছে না। ডেকচি থেকে বড় বড় হাতা দিয়ে মাংস পরিবেশন করা হচ্ছে, অথচ ডেকচি তখনও আগের মতোই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ফুটছে।
৪. অলৌকিক ফলাফল
জাবির (রা.) বিস্ময়ভরা চোখে বর্ণনা করেন:
“আল্লাহর কসম! সেই এক হাজার মানুষ তৃপ্তিভরে খেল। সবাই খেয়ে চলে যাওয়ার পরও আমাদের ডেকচি সেই আগের মতোই টইটম্বুর ছিল এবং আমাদের আটার খামির থেকে তখনও রুটি বানানো যাচ্ছিল।”
সামান্য আড়াই কেজি যব আর একটি ছোট বকরি দিয়ে এক হাজার মানুষ খেলেন, আর তারপরও অনেক খাবার অবশিষ্ট রয়ে গেল। এটাই ছিল রহমাতুল্লিল আলামিন ﷺ-এর হাতের বরকত এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে এক মহান উপহার।
গল্পের শিক্ষা:
১. বরকতে বিশ্বাস: যেখানে মানুষের সাধ্য শেষ হয়, সেখান থেকেই আল্লাহর কুদরত শুরু হয়। ২. ধৈর্য ও মেহমানদারি: জাবির (রা.) ও তাঁর স্ত্রী অল্প খাবারেও নবীজির মেহমানদের হাসিমুখে আপ্যায়ন করেছিলেন। ৩. নবীর প্রতি ভালোবাসা: নিজের পেটে ক্ষুধা থাকা সত্ত্বেও নবীজির ক্ষুধার কথা ভেবে জাবির (রা.)-এর অস্থির হওয়া ছিল প্রকৃত ঈমানের লক্ষণ।
সূত্র: সহীহ বুখারী,মুসলিম

রুহুল আমিন রুকু, কুড়িগ্রাম

অসহায় শিশু আঁখির পাশে উপজেলা প্রশাসন

রুহুল আমিন রুকু, কুড়িগ্রাম প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৮ পিএম
অসহায় শিশু আঁখির পাশে উপজেলা প্রশাসন

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার তবকপুর মাটিয়াল আদর্শ বাজার এলাকার বাসিন্দা হৃদরোগে আক্রান্ত আঁখি আক্তারের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তার মানবিক সংকট নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরপরই প্রশাসনের এই উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর হৃদরোগে ভুগছেন শিশু আঁখি আক্তার -১০। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পেরে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল। বিষয়টি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়ে এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা সৃষ্টি হয়।
সংবাদটি নজরে আসার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহামুদুল হাসান দ্রুত পদক্ষেপ নেন। তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে ব্যক্তিগতভাবে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ান। ৩০ মার্চ ২০২৬ ইং সোমবার বিকেলে উলিপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে ইউএনও মাহামুদুল হাসান শিশু আঁখি আক্তারের চিকিৎসার জন্য তার মায়ের হাতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও প্রদান করেন।
এ বিষয়ে ইউএনও বলেন,
“মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসন সবসময় জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।”
উপজেলা প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগে আঁখি আক্তারের পরিবারে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করবে।

কুড়িগ্রামে জেলা পর্যায়ে বিকেএসপির খেলোয়াড় বাছাই অনুষ্টিত

রুহুল আমিন রুকু, কুড়িগ্রামঃ প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৬ পিএম
কুড়িগ্রামে জেলা পর্যায়ে বিকেএসপির খেলোয়াড় বাছাই অনুষ্টিত

কুড়িগ্রাম জেলায় বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা সংস্থা, (বিকেএসপি) তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ ও নিবিড় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম-২০২৬ অনুযায়ী জেলা পর্যায়ে খেলোয়াড় বাছাই কর্মসূচি ৩০ মার্চ ২০২৬ কুড়িগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম মাঠে আয়োজন করেছে।

মানসন্মত খেলোয়াড় বাছাই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)’র তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ ও নিবিড় প্রশিক্ষণ প্রদান কার্যক্রম ২০২৬’ এর আওতায় প্রতিভাবান খেলোয়াড় বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করেন- সিনিয়র কোচ (সাঁতার) মোশারফ হোসেন, ডিপার্টমেন্ট চিফ কোচ (জুডো) আবু বকর ছিদ্দিক, এ্যাথলেটিক্স কোচ মোবারক হোসেন, সিনিয়র কোচ (ফুটবল) শহিদুল ইসলাম লিটন, হকি কোচ আল মশিউর রহমান, বক্সিং কোচ লিটন মাহমুদ, বাস্কেটবল কোচ মোঃ সোহাগ, তাইকোয়ান্দো কোচ হায়াত-উল-আমিন, আর্চারি কোচ গোলাম সরোয়ার, কারাতে কোচ আরিফুল ইসলাম, ক্রীকেট কোচ গোলামুর রহমান ও ভলিবল কোচ মাহবুব হোসেন প্রমূখ।

খেলোয়াড় নির্বাচন এবং প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এ কার্যক্রমের অধীনে ২১টি ক্রীড়া বিভাগ, যথাক্রমে আর্চারি, এ্যাথলেটিক্স, বাস্কেটবল, ক্রিকেট, ফুটবল, হকি, জুডো, কারাতে, শ্যুটিং, তায়কোয়ানডো, টেবিল টেনিস, ভলিবল, উত্ত, স্কোয়াশ, কাবাডি, ভারোত্তোলন ও ব্যাডমিন্টন খেলায় ১০-১৩ বৎসর এবং বক্সিং, জিমন্যাস্টিক্স, সাঁতার ও টেনিস খেলায় অনূর্ধ্ব ৮-১৪ বৎসর বয়সী ছেলে এবং মেয়ে (বক্সিং ব্যতিত) খেলোয়াড় নির্বাচন করা হবে।

নির্বাচিত খেলোয়াড়দের বিকেএসপি ঢাকা এবং বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সমূহে প্রথমে ১ মাস মেয়াদের ১টি এবং পরবর্তীতে ২ মাস মেয়াদের ১টি প্রশিক্ষণ শিবিরের মাধ্যমে তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

এ ছাড়াও কমিটি খেলোয়াড়দের বয়স যাচাই, শারীরিক যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট খেলার পারদর্শিতার বিষয়ে বাছাই পরীক্ষা সম্পন্ন করবেন। প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষায় নির্বাচিত ১০০০ জন খেলোয়াড়কে বিকেএসপি ঢাকা এবং বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহে ১ মাস মেয়াদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী ১০০০ জন খেলোয়াড়ের মধ্য থেকে ৪০০ জনকে বাছাই করে পুনরায় ২য় পর্যায়ে বিকেএসপিতে (ঢাকা) এবং আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহে নিরবচ্ছিন্নভাবে ২ মাস ব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীদের বিকেএসপি কর্তৃক থাকা-খাওয়া, যাতায়াত ভাড়াসহ প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সাজ-সরঞ্জাম প্রদান করা হবে।প্রশিক্ষণে সকল খেলোয়াড়দের সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।

এ ব্যাপারে গ্রামীন ফুটবল বিপ্লবী জালাল হোসেন লাইজু জানান, বিকেএসপির প্রতিভা অন্বেষণে খেলোয়াড় বাছাই কার্যক্রম খুবই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আমরা আশা করছি এর মাধ্যমে কুড়িগ্রাম জেলায় তৃণমূল থেকে অনেক উন্নত মানের খেলোয়াড় উঠে আসবে।

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ

গোমস্তাপুরে দম্পতিসহ গ্রেফতার ২

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৪ পিএম
গোমস্তাপুরে দম্পতিসহ গ্রেফতার ২

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) এর অভিযানে স্বামী-স্ত্রীসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে ৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে জেলার গোমস্তাপুর থানাধীন বংপুর গ্রামে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— বংপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ তারেক রহমান (৪২) ও তার স্ত্রী মোসাঃ মর্জিনা খাতুন (৩৩)। তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

অভিযান পরিচালনাকারী সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি দল বংপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় আসামীদের কাছ থেকে ৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে তাদের আটক করা হয়।

এ ঘটনায় উপ-পরিদর্শক মামুনুর রশীদ বাদী হয়ে গোমস্তাপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

error: Content is protected !!