সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

অবাধ্য বান্দার প্রতি আল্লাহর দয়া

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:০৬ পিএম | 36 বার পড়া হয়েছে
অবাধ্য বান্দার প্রতি আল্লাহর দয়া

এক দিন হযরত মূসা (আ:) দীর্ঘ সফরে বের হলেন।
তপ্ত মরুভূমির বুক চিরে পথ চলছিলেন হযরত মূসা (আ.)। হঠাৎ প্রকৃতির রূপ বদলে গেল। আকাশ কালো মেঘে ঢেকে গিয়ে শুরু হলো প্রবল বর্ষণ। চারপাশ অন্ধকার হয়ে এলো। আশ্রয়ের সন্ধানে মূসা (আ.) একটি বিশাল গাছের নিচে দাঁড়ালেন। বৃষ্টির বেগ ক্রমে বাড়ছিল।
১. আল্লাহর আদেশ ও একটি রহস্যময় কুটির
গাছের নিচে দাঁড়িয়ে যখন তিনি বৃষ্টির কমতি হওয়ার অপেক্ষা করছিলেন, তখনই আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি এক গায়েবি নির্দেশ এলো:
“হে মূসা! অদূরেই একটি ছোট কুটির দেখা যাচ্ছে। তুমি দ্রুত সেখানে যাও এবং সেই কুটিরের দরজাটি শক্ত করে বন্ধ করে দাও।”
আল্লাহর এই সুনির্দিষ্ট আদেশে মূসা (আ.) কিছুটা অবাক হলেন। তবুও তিনি বৃষ্টির মধ্যে ভিজে দ্রুত সেই ঝোপের আড়ালে থাকা জীর্ণ কুটিরটির কাছে পৌঁছালেন। তিনি দেখলেন, কুটিরের ভেতরে এক ব্যক্তি অঘোরে ঘুমিয়ে আছে। মূসা (আ.) অতি সন্তর্পণে, অত্যন্ত নিঃশব্দে কুটিরের খোলা দরজাটি টেনে বন্ধ করে দিলেন, যাতে বাইরের বৃষ্টির একটি ফোঁটাও লোকটির গায়ে না লাগে।
২. মূসা (আ.)-এর কৌতূহল
কাজটি শেষ করে তিনি আবার সেই গাছের নিচে ফিরে এলেন। তাঁর মনে এক গভীর কৌতূহল উঁকি দিল। তিনি বিনীত কণ্ঠে আল্লাহকে প্রশ্ন করলেন:
“হে আমার রব! এই ঘুমন্ত ব্যক্তিটি কি আপনার অনেক প্রিয় কোনো পরহেজগার বান্দা? সে কি আমার চেয়েও মহান কেউ, যার সামান্য ঘুমের ব্যাঘাত না ঘটাতে আপনি স্বয়ং আপনার নবীকে তার সেবায় পাঠালেন?”
আল্লাহ তা’আলা উত্তর দিলেন:
“না, হে মূসা! বরং সে আমার এক চরম অবাধ্য বান্দা। তার পাপে আমি তার ওপর অত্যন্ত অসন্তুষ্ট।”
৩. আল্লাহর দয়ার গভীর রহস্য
আল্লাহর এই উত্তরের পর মূসা (আ.) আরও বেশি বিস্মিত হলেন। তিনি জানতে চাইলেন:
“তবে হে আল্লাহ! আপনি কেন আমাকে তার কুটিরের দরজা বন্ধ করতে পাঠালেন? বৃষ্টির ছাঁট তার গায়ে পড়লে আপনার কী ক্ষতি হতো?”
তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে যে উত্তর এলো, তা শুনে মূসা (আ.) স্তব্ধ হয়ে গেলেন:
“হে মূসা! যদি বৃষ্টির একটি ফোঁটাও তার শরীরে পড়ত, তবে সে যন্ত্রণায় বা বিরক্তি নিয়ে হলেও একবার ‘আল্লাহ’ বলে আমাকে ডাকত। আর আমার নামের মর্যাদা আর সম্মান এত বেশি যে, আমার কোনো বান্দা ‘আল্লাহ’ বলে ডাকলে আমি তাকে খালি হাতে ফেরাতে পারি না। সে ডাকলে আমি তাকে তখনই ক্ষমা করে দিতাম। আমি আজ চাইনি যে, আমার এই চরম অবাধ্য বান্দাটি আমাকে ডাকার সুযোগ পাক এবং আমি তাকে ক্ষমা করে দেই।”
৪. অশ্রুসিক্ত নবী ও তকবীর
আল্লাহর এই মমতাময় রহমতের কথা শুনে মূসা (আ.)-এর দুচোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। তিনি অনুভব করলেন, আল্লাহ তাঁর বান্দাকে শাস্তি দেওয়ার চেয়ে ক্ষমা করার উসিলা খুঁজতেই বেশি পছন্দ করেন। তিনি কাঁপা কণ্ঠে বলে উঠলেন, “আল্লাহু আকবার!” (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ)।
গল্পের শিক্ষা:
আল্লাহর নামের মহিমা: আল্লাহর নাম এতটাই শক্তিশালী যে, অবাধ্য অবস্থায়ও কেউ তাঁকে ডাকলে তিনি সেই নামের সম্মানে বান্দাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন।
ক্রোধের ওপর দয়ার বিজয়: হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেছেন, “আমার দয়া আমার ক্রোধের ওপর প্রাধান্য পায়।” এই ঘটনাটি তার বাস্তব প্রমাণ।
তাওবার সুযোগ: আল্লাহ চান বান্দা তাঁর কাছে ফিরে আসুক। পাপিষ্ঠ বান্দার প্রতিও আল্লাহর সূক্ষ্ম দয়া থাকে।

রুহুল আমিন রুকু, কুড়িগ্রাম

অসহায় শিশু আঁখির পাশে উপজেলা প্রশাসন

রুহুল আমিন রুকু, কুড়িগ্রাম প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৮ পিএম
অসহায় শিশু আঁখির পাশে উপজেলা প্রশাসন

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার তবকপুর মাটিয়াল আদর্শ বাজার এলাকার বাসিন্দা হৃদরোগে আক্রান্ত আঁখি আক্তারের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তার মানবিক সংকট নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরপরই প্রশাসনের এই উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর হৃদরোগে ভুগছেন শিশু আঁখি আক্তার -১০। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পেরে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল। বিষয়টি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়ে এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা সৃষ্টি হয়।
সংবাদটি নজরে আসার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহামুদুল হাসান দ্রুত পদক্ষেপ নেন। তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে ব্যক্তিগতভাবে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ান। ৩০ মার্চ ২০২৬ ইং সোমবার বিকেলে উলিপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে ইউএনও মাহামুদুল হাসান শিশু আঁখি আক্তারের চিকিৎসার জন্য তার মায়ের হাতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও প্রদান করেন।
এ বিষয়ে ইউএনও বলেন,
“মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসন সবসময় জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।”
উপজেলা প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগে আঁখি আক্তারের পরিবারে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করবে।

কুড়িগ্রামে জেলা পর্যায়ে বিকেএসপির খেলোয়াড় বাছাই অনুষ্টিত

রুহুল আমিন রুকু, কুড়িগ্রামঃ প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৬ পিএম
কুড়িগ্রামে জেলা পর্যায়ে বিকেএসপির খেলোয়াড় বাছাই অনুষ্টিত

কুড়িগ্রাম জেলায় বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা সংস্থা, (বিকেএসপি) তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ ও নিবিড় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম-২০২৬ অনুযায়ী জেলা পর্যায়ে খেলোয়াড় বাছাই কর্মসূচি ৩০ মার্চ ২০২৬ কুড়িগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম মাঠে আয়োজন করেছে।

মানসন্মত খেলোয়াড় বাছাই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)’র তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ ও নিবিড় প্রশিক্ষণ প্রদান কার্যক্রম ২০২৬’ এর আওতায় প্রতিভাবান খেলোয়াড় বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করেন- সিনিয়র কোচ (সাঁতার) মোশারফ হোসেন, ডিপার্টমেন্ট চিফ কোচ (জুডো) আবু বকর ছিদ্দিক, এ্যাথলেটিক্স কোচ মোবারক হোসেন, সিনিয়র কোচ (ফুটবল) শহিদুল ইসলাম লিটন, হকি কোচ আল মশিউর রহমান, বক্সিং কোচ লিটন মাহমুদ, বাস্কেটবল কোচ মোঃ সোহাগ, তাইকোয়ান্দো কোচ হায়াত-উল-আমিন, আর্চারি কোচ গোলাম সরোয়ার, কারাতে কোচ আরিফুল ইসলাম, ক্রীকেট কোচ গোলামুর রহমান ও ভলিবল কোচ মাহবুব হোসেন প্রমূখ।

খেলোয়াড় নির্বাচন এবং প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এ কার্যক্রমের অধীনে ২১টি ক্রীড়া বিভাগ, যথাক্রমে আর্চারি, এ্যাথলেটিক্স, বাস্কেটবল, ক্রিকেট, ফুটবল, হকি, জুডো, কারাতে, শ্যুটিং, তায়কোয়ানডো, টেবিল টেনিস, ভলিবল, উত্ত, স্কোয়াশ, কাবাডি, ভারোত্তোলন ও ব্যাডমিন্টন খেলায় ১০-১৩ বৎসর এবং বক্সিং, জিমন্যাস্টিক্স, সাঁতার ও টেনিস খেলায় অনূর্ধ্ব ৮-১৪ বৎসর বয়সী ছেলে এবং মেয়ে (বক্সিং ব্যতিত) খেলোয়াড় নির্বাচন করা হবে।

নির্বাচিত খেলোয়াড়দের বিকেএসপি ঢাকা এবং বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সমূহে প্রথমে ১ মাস মেয়াদের ১টি এবং পরবর্তীতে ২ মাস মেয়াদের ১টি প্রশিক্ষণ শিবিরের মাধ্যমে তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

এ ছাড়াও কমিটি খেলোয়াড়দের বয়স যাচাই, শারীরিক যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট খেলার পারদর্শিতার বিষয়ে বাছাই পরীক্ষা সম্পন্ন করবেন। প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষায় নির্বাচিত ১০০০ জন খেলোয়াড়কে বিকেএসপি ঢাকা এবং বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহে ১ মাস মেয়াদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী ১০০০ জন খেলোয়াড়ের মধ্য থেকে ৪০০ জনকে বাছাই করে পুনরায় ২য় পর্যায়ে বিকেএসপিতে (ঢাকা) এবং আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহে নিরবচ্ছিন্নভাবে ২ মাস ব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীদের বিকেএসপি কর্তৃক থাকা-খাওয়া, যাতায়াত ভাড়াসহ প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সাজ-সরঞ্জাম প্রদান করা হবে।প্রশিক্ষণে সকল খেলোয়াড়দের সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।

এ ব্যাপারে গ্রামীন ফুটবল বিপ্লবী জালাল হোসেন লাইজু জানান, বিকেএসপির প্রতিভা অন্বেষণে খেলোয়াড় বাছাই কার্যক্রম খুবই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আমরা আশা করছি এর মাধ্যমে কুড়িগ্রাম জেলায় তৃণমূল থেকে অনেক উন্নত মানের খেলোয়াড় উঠে আসবে।

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ

গোমস্তাপুরে দম্পতিসহ গ্রেফতার ২

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৪ পিএম
গোমস্তাপুরে দম্পতিসহ গ্রেফতার ২

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) এর অভিযানে স্বামী-স্ত্রীসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে ৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে জেলার গোমস্তাপুর থানাধীন বংপুর গ্রামে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— বংপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ তারেক রহমান (৪২) ও তার স্ত্রী মোসাঃ মর্জিনা খাতুন (৩৩)। তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

অভিযান পরিচালনাকারী সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি দল বংপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় আসামীদের কাছ থেকে ৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে তাদের আটক করা হয়।

এ ঘটনায় উপ-পরিদর্শক মামুনুর রশীদ বাদী হয়ে গোমস্তাপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

error: Content is protected !!