সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

অবাধ্য বান্দার প্রতি আল্লাহর দয়া

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক

এক দিন হযরত মূসা (আ:) দীর্ঘ সফরে বের হলেন।
তপ্ত মরুভূমির বুক চিরে পথ চলছিলেন হযরত মূসা (আ.)। হঠাৎ প্রকৃতির রূপ বদলে গেল। আকাশ কালো মেঘে ঢেকে গিয়ে শুরু হলো প্রবল বর্ষণ। চারপাশ অন্ধকার হয়ে এলো। আশ্রয়ের সন্ধানে মূসা (আ.) একটি বিশাল গাছের নিচে দাঁড়ালেন। বৃষ্টির বেগ ক্রমে বাড়ছিল।
১. আল্লাহর আদেশ ও একটি রহস্যময় কুটির
গাছের নিচে দাঁড়িয়ে যখন তিনি বৃষ্টির কমতি হওয়ার অপেক্ষা করছিলেন, তখনই আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি এক গায়েবি নির্দেশ এলো:
“হে মূসা! অদূরেই একটি ছোট কুটির দেখা যাচ্ছে। তুমি দ্রুত সেখানে যাও এবং সেই কুটিরের দরজাটি শক্ত করে বন্ধ করে দাও।”
আল্লাহর এই সুনির্দিষ্ট আদেশে মূসা (আ.) কিছুটা অবাক হলেন। তবুও তিনি বৃষ্টির মধ্যে ভিজে দ্রুত সেই ঝোপের আড়ালে থাকা জীর্ণ কুটিরটির কাছে পৌঁছালেন। তিনি দেখলেন, কুটিরের ভেতরে এক ব্যক্তি অঘোরে ঘুমিয়ে আছে। মূসা (আ.) অতি সন্তর্পণে, অত্যন্ত নিঃশব্দে কুটিরের খোলা দরজাটি টেনে বন্ধ করে দিলেন, যাতে বাইরের বৃষ্টির একটি ফোঁটাও লোকটির গায়ে না লাগে।
২. মূসা (আ.)-এর কৌতূহল
কাজটি শেষ করে তিনি আবার সেই গাছের নিচে ফিরে এলেন। তাঁর মনে এক গভীর কৌতূহল উঁকি দিল। তিনি বিনীত কণ্ঠে আল্লাহকে প্রশ্ন করলেন:
“হে আমার রব! এই ঘুমন্ত ব্যক্তিটি কি আপনার অনেক প্রিয় কোনো পরহেজগার বান্দা? সে কি আমার চেয়েও মহান কেউ, যার সামান্য ঘুমের ব্যাঘাত না ঘটাতে আপনি স্বয়ং আপনার নবীকে তার সেবায় পাঠালেন?”
আল্লাহ তা’আলা উত্তর দিলেন:
“না, হে মূসা! বরং সে আমার এক চরম অবাধ্য বান্দা। তার পাপে আমি তার ওপর অত্যন্ত অসন্তুষ্ট।”
৩. আল্লাহর দয়ার গভীর রহস্য
আল্লাহর এই উত্তরের পর মূসা (আ.) আরও বেশি বিস্মিত হলেন। তিনি জানতে চাইলেন:
“তবে হে আল্লাহ! আপনি কেন আমাকে তার কুটিরের দরজা বন্ধ করতে পাঠালেন? বৃষ্টির ছাঁট তার গায়ে পড়লে আপনার কী ক্ষতি হতো?”
তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে যে উত্তর এলো, তা শুনে মূসা (আ.) স্তব্ধ হয়ে গেলেন:
“হে মূসা! যদি বৃষ্টির একটি ফোঁটাও তার শরীরে পড়ত, তবে সে যন্ত্রণায় বা বিরক্তি নিয়ে হলেও একবার ‘আল্লাহ’ বলে আমাকে ডাকত। আর আমার নামের মর্যাদা আর সম্মান এত বেশি যে, আমার কোনো বান্দা ‘আল্লাহ’ বলে ডাকলে আমি তাকে খালি হাতে ফেরাতে পারি না। সে ডাকলে আমি তাকে তখনই ক্ষমা করে দিতাম। আমি আজ চাইনি যে, আমার এই চরম অবাধ্য বান্দাটি আমাকে ডাকার সুযোগ পাক এবং আমি তাকে ক্ষমা করে দেই।”
৪. অশ্রুসিক্ত নবী ও তকবীর
আল্লাহর এই মমতাময় রহমতের কথা শুনে মূসা (আ.)-এর দুচোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। তিনি অনুভব করলেন, আল্লাহ তাঁর বান্দাকে শাস্তি দেওয়ার চেয়ে ক্ষমা করার উসিলা খুঁজতেই বেশি পছন্দ করেন। তিনি কাঁপা কণ্ঠে বলে উঠলেন, “আল্লাহু আকবার!” (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ)।
গল্পের শিক্ষা:
আল্লাহর নামের মহিমা: আল্লাহর নাম এতটাই শক্তিশালী যে, অবাধ্য অবস্থায়ও কেউ তাঁকে ডাকলে তিনি সেই নামের সম্মানে বান্দাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন।
ক্রোধের ওপর দয়ার বিজয়: হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেছেন, “আমার দয়া আমার ক্রোধের ওপর প্রাধান্য পায়।” এই ঘটনাটি তার বাস্তব প্রমাণ।
তাওবার সুযোগ: আল্লাহ চান বান্দা তাঁর কাছে ফিরে আসুক। পাপিষ্ঠ বান্দার প্রতিও আল্লাহর সূক্ষ্ম দয়া থাকে।

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মোঃ আঃ হান্নান মিলন, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ রাজিবুল করিম রোমিও-এম, এস, এস (সমাজ কর্ম), নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসাইন, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুল আজিজ, সহ-ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আউয়াল ভাসানী, বার্তা সম্পাদকঃ মোঃ মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন