বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২

বেগম জিয়া আধুনিক বাজারভিত্তিক অর্থনীতির অন্যতম রূপকার

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৫৯ পিএম | 36 বার পড়া হয়েছে
বেগম জিয়া আধুনিক বাজারভিত্তিক অর্থনীতির অন্যতম রূপকার

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে একজন আপোসহীন ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি কেবল গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক নন, বরং বাংলাদেশের আধুনিক বাজারভিত্তিক অর্থনীতির অন্যতম রূপকার। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় তিনি এক স্থায়ী ছাপ রেখে গেছেন।

 

সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের গ্রান্ড বলরুমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিলে বক্তারা এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়াদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ভিত গড়েছিলেন। এক্ষেত্রে তার অবিচল নিষ্ঠা, দূরদর্শিতা আর যুগান্তকারী দিকনির্দেশনা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ব্যক্তিখাত ও প্রাইভেটখাতে যে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন, তা বেগম খালেদা জিয়া ধারণ করে নিয়েছিলেন। তিনি ধনী-দরিদ্র কারো কথা ভুলে যাননি। সবাইকে নিয়ে সকলের সামগ্রিক উন্নয়নের পথে দেশকে এগিয়ে নিয়েছেন।

বেগম খালেদা জিয়া প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসা দূরে রেখে সবাই মিলে ঐক্য ও ভালোবাসার মধ্যে দিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের বার্তা দিয়েছেন।

ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশ এবং ব্যবসায়ীদের আরও ১৭টি সংগঠন যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে অংশ নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি বেগম খালেদা জিয়া আমাদের কাছে সত্যিকার অর্থেই একজন আইকন। এই নেত্রীর মধ্যে সাধারণ মানুষগুলো বাংলাদেশকে খুঁজে পেয়েছিল। তাদের ভবিষ্যৎকে দেখতে পেয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বেগম খালেদা জিয়ার অবদানকে কখনোই অস্বীকার করা যাবে না। তিনি কষ্ট করেছেন, জেলে গেছেন। আমি তার কোনো তুলনা খুঁজে পাই না। কারণ তিনি একদিকে ছিলেন একজন রাজনৈতিক দলের নেত্রী। আবার একাধারে ছিলেন গোটা জাতির নেত্রী। তিনি কখনো সংকীর্ণতায় ভুগতেন না। এসময় ৫ আগষ্ট পরবর্তীতে দেশবাসির উদ্দেশ্যে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসা দূরে রেখে সবাই মিলে ঐক্য ও ভালোবাসার মধ্যে দিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের বার্তার কথাও তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আজ আর আমাদের মাঠে নেই। তিনি ফিরে আসবেন না। কিন্তু তার যে কাজ, তার যে রেখে যাওয়া স্বপ্ন, সেগুলোকে আমাদের বাস্তবায়িত করতে হবে। এসময় খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা কবি আল মাহমুদের কবিতা ‘তোমার মুখের দিকে চেয়ে আছে বাংলার ভোরের আকাশ’ আবৃতি করে শোনান। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া সত্যিকার অর্থেই একটি জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। আমরা আশা করি, তার এই চলে যাওয়া আমাদেরকে নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে। শোক শক্তিতে রূপান্তরিত করবে। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের এক নতুন ভবিষ্যৎ নির্মাণ করব।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া প্রাইভেট সেক্টর এবং পাবলিক সেক্টরের মধ্যে ‘ইউনিক কম্বিনেশন’ সৃষ্টি করেছিল। আমি আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে কথাটি বলছি। কারণে উনার সময় আমার কিছুদিন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের সুযোগ হয়েছিল। এবং তখন তার কাছ থেকে আমি যে নির্দেশগুলি পেতাম সেই প্রেক্ষিতে আমি কথাগুলি বলছি।
তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ধনী-দরিদ্র কারো কথা ভুলে যাননি। সবাইকে নিয়ে সকলের সামগ্রিক উন্নয়নের পথে দেশকে তিনি এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। আজকে বেগম খালেদা জিয়া আমাদের মধ্যে নেই। কিন্তু তিনি আপসহীন ও নীতির রাজনীতি সৃষ্টি করে গেছেন। তার উপর জুলুম, নির্যাতন ও অত্যাচার হয়েছে। কিন্তু তিনি কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জিয়াউর রহমান ব্যক্তিখাত ও প্রাইভেটখাতে যে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন, তা বেগম খালেদা জিয়া ধারণ করে নিয়েছিলেন। দেশের অর্থনীতিকে তারা এগিয়ে নিয়েছিলেন। শুধু গণতন্ত্রে নয় অর্থনীতিতে বেগম জিয়ার অবদান ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে তিনি এগিয়ে নিয়েছেন মাল্টিসেক্টরে। বেগম জিয়ার বৈদেশিক নীতি দেশকে নিয়ে গেছে সবার কাছে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মৃত্যুর ৮-৯ বছর আগে বেগম জিয়া দেশ সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। যখন কেউ সংস্কারের কথা মাথায় আনেনি, তখন বেগম জিয়া ভিশন ২০৩০ ঘোষণা করেছিলেন। তারপর তারেক রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ৩১ দফা দেয়া হয়েছিলো, যেখানে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে কিভাবে দাঁড় করানো যায় সে বিষয়ে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, যে বিষয়গুলো প্রাইভেট সেক্টরে দেওয়া প্রয়োজন, সেগুলো বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রাইভেট সেক্টরে দেওয়া হবে। শুধু মুক্ত বাজার অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই নয় সরকারি ও বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানকেই অর্থনৈতিকভাবে উন্নয়নের বিষয় গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

এর আগে স্বাগত বক্তব্যে আইসিসি-বি সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জটিল রাজনৈতিক উত্তরণের সেই সময়ে তাঁর ভূমিকা আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। ১৯৯০-এর দশক এবং ২০০০-এর শুরুর দিকে তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক উন্নয়ন এগিয়ে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে দারিদ্র্য হাসে সহায়তা করে।

অর্থনৈতিক সংস্কার ও বেসরকারি খাতের বিকাশে খালেদা জিয়ার অবদান তুলে ধরে মাহবুবুর রহমান বলেন, তিনি বেসরকারি খাতের উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের আরও সক্রিয় সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন নীতিমালা গ্রহণ করেন, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করে।

ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের এক আপোসহীন ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি কেবল গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক নন. বরং বাংলাদেশের আধুনিক বাজারভিত্তিক অর্থনীতির অন্যতম রূপকার। ১৯৯১ সালে দায়িত্ব গ্রহণকালে স্থবির ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধ অর্থনীতিকে সচল করতে তিনি মুক্ত বাজার, বেসরকারি খাত নির্ভর উন্নয়ন, উদ্যোক্তাবান্ধব নীতির গ্রহণ করেন। ভ্যাট আইন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, প্রাইভেটাইজেশন বোর্ড এবং সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন গঠনের মাধ্যমে তিনি রাজস্ব, আর্থিক খাত ও পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করেন। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তার অবদান ইতিহাসে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বিজিএমইএ’র জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন আপসীন নেত্রী এবং দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা তার অসামান্য অবদানের জন্য এদেশের মানুষ তাকে চিরকাল মনে রাখবে। তবে একজন ব্যবসায়ী নেতা হিসেবে আমি তাকে কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে তার অবিচল নিষ্ঠা দূরদর্শিতা আর যুগান্তকারী দিক নির্দেশনার জন্য। আজ বাংলাদেশের অর্থনীতির যে লাইফলাইন বা তৈরি পোশাক শিল্প, তার এই আজকের এই বিশালত্বের পেছনে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের শিল্পবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। আমরা বিজিএমর পরিবার তার সরকারের কাছে বিশেষভাবে ঋণী।

বিসিআই সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় এক স্থায়ী ছাপ রেখে গেছেন। সমগ্র রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংসদীয় গণতন্ত্র, প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের নীতিকে সমুন্নত রেখেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন- উদ্যোগ, বিনিয়োগ এবং কঠোর পরিশ্রমী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের মূল শক্তি।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতীক দেশনেত্রী আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পোশাক শিল্প পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা এবং জ্ঞাপন করছি। তিনি কথা বলতেন কম, শুনতেন বেশি। ওনার কাছে আমরা যতবারই গিয়েছি উনি সমস্যা শুনেছেন এবং পরবর্তীতে সেটা কার্যকর সমাধান দিয়েছেন। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের যে প্রসার সেটা তার দায়িত্বকালেই হয়েছিল।

ওষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি আবদুল মুক্তাদির বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৪ সালে ওষুধ শিল্পের জন্য যে সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তার ফলস্বরূপ আজ শিল্প এখানে এসে দাঁড়িয়েছে।

জয় ই মামুন

মানিকগঞ্জে অবৈধভাবে ইট উৎপাদনের দায়ে সাতটি ইটভাটাকে জরিমানা

জয় ই মামুন প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৫ পিএম
মানিকগঞ্জে অবৈধভাবে ইট উৎপাদনের দায়ে সাতটি ইটভাটাকে জরিমানা

সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কৃষিজমির উর্বর উপরিভাগের মাটি কেটে ইট তৈরির অভিযোগে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০১৯-এর ৫(১) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ১৫(১) ধারা অনুযায়ী এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অভিযানে যেসব ইটভাটাকে জরিমানা করা হয়েছে সেগুলো হলো- কে এফ সি ব্রিকস (বেরুন্ডি) ৪ লাখ টাকা, মেসার্স সোহানা ব্রিকস (খোলাপাড়া) ৪ লাখ টাকা, মেসার্স এ এ বি অ্যান্ড কোং (গাড়াদিয়া) ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মেসার্স জে বি সি ব্রিকস (গোবিন্দল) ২ লাখ টাকা, মেসার্স কে বি সি ব্রিকস-১ (রামকান্তপুর) ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা,
মেসার্স কে বি সি ব্রিকস-২ (রামকান্তপুর) ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং মেসার্স এম আর এম ব্রিকস (রামকান্তপুর) ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

অভিযানটি পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইংয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজ্জাদ জাহিদ রাতুল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সহকারী পরিচালক মো. মোজাফফর খান।

অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র‍্যাব-৪ ও জেলা পুলিশের সদস্যরা সহায়তা প্রদান করেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালিত হলে পরিবেশ ধ্বংস রোধে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিস্টরা।

সামিনুর ইসলাম নীলফামারী

জলঢাকায় শিক্ষার্থী হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

সামিনুর ইসলাম নীলফামারী প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৩ পিএম
জলঢাকায় শিক্ষার্থী হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বগুলাগাড়ী পৌর (৪নং ওয়ার্ড) ডাঙ্গপাড়া এলাকায় সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় মানববন্ধন করেছে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

নিহত মিমনুর রহমান ভ্যানচালক আলমগীর হোসেন (আল্লীর) প্রথম পুত্র এবং বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন শিক্ষার্থী ছিলেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ মার্চ তিনি ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হয়ে নিহত হন। এ ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উদ্বেগ, শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ মর্মান্তিক ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের উদ্যোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে ব্যানার হাতে নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা ন্যায়বিচারের দাবি জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষিকা মোছা: মনোয়ারা বেগম, সহকারী প্রধান শিক্ষক মহুবর রহমান, শিক্ষক আব্দুল হাই, মিজানুর রহমান, স্বপন কুমার রায়, ভগীরথ চন্দ্র রায় এবং সহকারী শিক্ষিকা সাজেদা সুলতানা ও শিলা রানী রায়সহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন নিরপরাধ শিক্ষার্থীর এমন নির্মম মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা অবিলম্বে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একইসঙ্গে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার করার আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।

এ বিষয়ে জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। খুব শিগগিরই জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

এদিকে, নিহতের পরিবার শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে এবং দ্রুত বিচার প্রত্যাশা করছে। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে, যাতে এমন ঘটনা আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে চারতলা ভবন

আধুনিক হচ্ছে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা

মেহেদী হাসান রিপন প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১১ পিএম
আধুনিক হচ্ছে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা

যশোরবাসীর পুলিশি সেবা আরও বেগবান ও আধুনিক করতে বড় ধরনের সংস্কার উদ্যোগে হাত দিয়েছে সরকার। শহরের জরাজীর্ণ কোতোয়ালি মডেল থানা ভবনটি ভেঙে সেখানে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক চারতলা ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ষাট দশকে নির্মিত বর্তমান থানা ভবনটি দীর্ঘ ব্যবহারের ফলে বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সরকারের দেশব্যাপী ১০৭টি থানা আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় এই সংস্কার কাজ শুরু হচ্ছে। যশোর গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।

যশোর গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই ভবনটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। ২৬ হাজার স্কয়ার ফিটের এই ভবনের মূল কাঠামো বা ফাউন্ডেশন হবে ছয়তলা পর্যন্ত, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে এটি চারতলা হিসেবে নির্মিত হবে। ঝিনাইদহের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন করার দায়িত্ব পেয়েছে। আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সেবাপ্রার্থী এবং পুলিশ সদস্যদের সুবিধার্থে ভবনের প্রতিটি তলা সুনিপুণভাবে সাজানো হয়েছে:
* প্রথম তলা: অভ্যর্থনা কেন্দ্র এবং দাপ্তরিক অফিস।
* দ্বিতীয় তলা: হাজতখানা ও প্রশাসনিক শাখা।
* তৃতীয় তলা: অফিস এবং নারী পুলিশ সদস্যদের জন্য ব্যারাক।
* চতুর্থ তলা: পুরুষ পুলিশ সদস্যদের জন্য আধুনিক ব্যারাক।

অস্থায়ীভাবে কার্যক্রম চলবে চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়িতে

নির্মাণ কাজ চলাকালীন জনসেবা যেন ব্যাহত না হয়, সেজন্য থানার যাবতীয় কার্যক্রম সাময়িকভাবে চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ি থেকে পরিচালিত হবে। আগামী ৫ এপ্রিলের মধ্যে বর্তমান ভবনটি খালি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে জনবল অনুযায়ী চাঁচড়া ফাঁড়িতে পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় পুলিশ সদস্যদের সাময়িকভাবে কিছুটা আবাসন সংকটে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খান বলেন, উন্নত ও আধুনিক পুলিশি সেবার স্বার্থে এই সাময়িক কষ্টটুকু মেনে নিতে হবে। নতুন ভবন নির্মিত হলে যশোরবাসীকে সেবা প্রদানের মান ও পুলিশের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

error: Content is protected !!