সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

রাজা লক্ষ্মণসেন: বীর যোদ্ধা না ইতিহাসে অবহেলিত রাজা?

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:০৬ এএম | 53 বার পড়া হয়েছে
রাজা লক্ষ্মণসেন: বীর যোদ্ধা না ইতিহাসে অবহেলিত রাজা?

১১৭৯ অব্দে লক্ষ্মণসেন পিতৃসিংহাসনে আরোহণ করেন। তাঁর রাজত্বকাল সম্পর্কে আমরা যে বিস্তৃত ধারণা পাই, তার প্রধান উৎস আটখানি তাম্রশাসন, সভাকবিদের রচিত প্রশস্তিমূলক শ্লোক, তাঁর পুত্রদের তাম্রশাসন এবং মুসলমান ঐতিহাসিক মিনহাজ-উদ্-দীন রচিত তবকাত-ই-নাসিরি। এই সকল সূত্র একত্রে বিচার করলে লক্ষ্মণসেনকে কেবল সেনবংশের শেষ শক্তিশালী শাসক হিসেবেই নয়, বরং মধ্যযুগীয় বাংলার অন্যতম সফল সামরিক সম্রাট হিসেবেও চিহ্নিত করা যায়।
শৈশবকাল থেকেই লক্ষ্মণসেন যুদ্ধক্ষেত্রে অভ্যস্ত ছিলেন। পিতা বিজয়সেন ও পিতামহ বল্লালসেনের সঙ্গে তিনি বহু যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং অল্প বয়সেই নিজের রণকুশলতার পরিচয় দেন। তাঁর তাম্রশাসন থেকে জানা যায়—কৈশোরে তিনি উদ্ধত গৌড়েশ্বরের শ্রীহরণ করেন, যৌবনে কলিঙ্গে অভিযান চালান, কাশির রাজাকে পরাজিত করেন এবং প্রাগজ্যোতিষের (কামরূপ) রাজাকে বশ্যতা স্বীকারে বাধ্য করেন। যদিও এই সব অভিযানের কিছু অংশ পিতা বা পিতামহের রাজত্বকালেই শুরু হয়েছিল, তথাপি গৌড় জয় যে সম্পূর্ণভাবে লক্ষ্মণসেনের হাতেই সম্পন্ন হয়েছিল, তা বহু ঐতিহাসিক প্রমাণে স্পষ্ট।
গৌড়ের রাজধানী ‘লক্ষ্মণাবতী’ নামটি যে তাঁর নামানুসারেই রাখা, এবং সেনরাজাদের মধ্যে তিনিই প্রথম ‘গৌড়েশ্বর’ উপাধি গ্রহণ করেন—এগুলি নিছক কাকতাল নয়। কলিঙ্গ ও কামরূপ জয়ও সম্ভবত পূর্বতন রাজাদের আমলে শুরু হলেও, পূর্ণ বিজয় নিশ্চিত করতে লক্ষ্মণসেনকে পুনরায় যুদ্ধ করতে হয়। তাঁর পুত্রদের তাম্রশাসনে উল্লেখিত সমুদ্রতীরে পুরুষোত্তম ক্ষেত্র (পুরী), কাশী ও প্রয়াগে ‘সমরজয়স্তম্ভ’ স্থাপন এই দীর্ঘ ও সফল সামরিক অভিযানেরই প্রমাণ।
পশ্চিম দিকে গাহড়বাল রাজাদের সঙ্গে লক্ষ্মণসেনের সংঘর্ষ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গাহড়বাল রাজারা মগধে দ্রুত আধিপত্য বিস্তার করছিলেন, যা সেনরাজ্যের পক্ষে গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এই পরিস্থিতিতে সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে ওঠে। যদিও যুদ্ধের বিশদ বিবরণ আমাদের কাছে নেই, তবু বোধগয়া ও গয়া জেলার লিপি থেকে প্রমাণ মেলে যে লক্ষ্মণসেন মগধের বিস্তীর্ণ অংশে রাজ্য স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। গাহড়বাল রাজা জয়চন্দ্রকে পরাজিত না করে গয়া অধিকার করা অসম্ভব—এই ঐতিহাসিক সত্য লক্ষ্মণসেনের সামরিক সাফল্যকে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে।
উত্তরে গৌড়, পূর্বে কামরূপ, দক্ষিণে কলিঙ্গ এবং পশ্চিমে মগধ—চার দিকেই সাফল্যের সঙ্গে যুদ্ধ করে লক্ষ্মণসেন পৈতৃক রাজ্যকে শুধু রক্ষা করেননি, বরং আরও বিস্তৃত ও সুদৃঢ় করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর বহু বছর পরেও মগধে রাজ্য গণনার ক্ষেত্রে ‘লক্ষ্মণসেনাব্দ’ ব্যবহৃত হওয়া তাঁর ক্ষমতার গভীর প্রভাবেরই পরিচায়ক।
তবে লক্ষ্মণসেন কেবল যুদ্ধবাজ রাজাই ছিলেন না। পিতার অসমাপ্ত গ্রন্থ অদ্ভুতসাগর তিনি নিজ হাতে সম্পূর্ণ করেন। তিনি নিজেও একজন কবি ছিলেন এবং তাঁর রাজসভা অলঙ্কৃত করতেন ধোয়ী, জয়দেব, গোবর্ধন, শরণ ও উমাপতিধরের মতো মহাকবি ও পণ্ডিতেরা। প্রধানমন্ত্রী হলায়ুধ ছিলেন ভারতখ্যাত বিদ্বান। জয়দেবের বৈষ্ণব পদাবলী আজও ভারতীয় সংস্কৃতির অমূল্য সম্পদ।
ধর্মীয় ক্ষেত্রেও লক্ষ্মণসেন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করেন। পিতা ও পিতামহ যেখানে ‘পরম-মাহেশ্বর’ উপাধি ধারণ করতেন, সেখানে লক্ষ্মণসেন গ্রহণ করেন ‘পরমবৈষ্ণব’ উপাধি। তাঁর তাম্রশাসনগুলি নারায়ণের বন্দনায় শুরু হয়। এতে স্পষ্ট যে তিনি শৈব ঐতিহ্য বজায় রেখেও বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিলেন।
প্রায় ষাট বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করে প্রায় কুড়ি বছর রাজত্ব করার পর, আশি ছুঁইছুঁই বৃদ্ধ লক্ষ্মণসেন নবদ্বীপে গমন করেন। এই সময়েই রাজ্যে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দেখা দেয় এবং একই সঙ্গে উত্তর ভারতে তুর্কি আক্রমণের ভয়াবহ ছায়া নেমে আসে। দুর্ভাগ্যবশত, এই সংকটময় সময়ের দেশীয় কোনো সমকালীন বিবরণ আমাদের হাতে নেই। অনেক পরে তুর্কি ঐতিহাসিকদের মুখে শোনা কাহিনির উপর নির্ভর করেই ইতিহাস লেখা হয়েছে।
এর ফলেই ‘১৭ জন তুর্কি অশ্বারোহী বঙ্গদেশ জয় করেছিল’—এই অবাস্তব ও হাস্যকর গল্প প্রচলিত হয়েছে, আর সেই গল্পের ভিত্তিতেই লক্ষ্মণসেনকে কাপুরুষ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। বাস্তবে যিনি সারাজীবন যুদ্ধ করে সাম্রাজ্য গড়েছেন, তাঁকে এইভাবে অবমূল্যায়ন করা ঐতিহাসিক অন্যায় ছাড়া কিছু নয়। তাই লক্ষ্মণসেনকে বুঝতে হলে কিংবদন্তি নয়, প্রমাণভিত্তিক ইতিহাসের আলোতেই তাঁকে পুনরায় বিচার করা একান্ত প্রয়োজন।

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের, নোয়াখালী

নোয়াখালীতে মাদক দ্বন্দ্বে তরুণকে কুপিয়ে হত্যা

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের, নোয়াখালী প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
নোয়াখালীতে মাদক দ্বন্দ্বে তরুণকে কুপিয়ে হত্যা

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় মাদক সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে মো. নিরব (২৬) নামে এক তরুণকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে আসামিদের নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে রোববার দুপুরে উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মাইজচরা গ্রামের বাংলাবাজারের উত্তর পাশে কালা দুলালের বাপের বাড়ির সামনে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় নিরবকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহত নিরব একই ওয়ার্ডের আব্দুল গনি বাড়ির আব্দুল গনির ছেলে। তিনি পেশায় একজন স’মিল শ্রমিক ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিরব কিছুদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। কয়েকদিন আগে মাদক সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক রুবেল মাঝির (২৮) ভাতিজার সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
ওই বিরোধের জেরে রোববার সকাল ১০টার দিকে নিরব তার তিন সহযোগীকে নিয়ে বাংলাবাজারের উত্তর পাশে রুবেল মাঝির ওপর হামলা চালায়। এ সময় ছুরিকাঘাতে রুবেল মাঝির ৩-৪ জন অনুসারী আহত হয়।

পরে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে দুপুর ১২টার দিকে নিরবের অনুসারীরা প্রতিপক্ষ রুবেল মাঝির বাড়ির সামনে চলে গেলে রুবেল মাঝির লোকজন ধাওয়া দিয়ে নিরবকে আটক করে। পরে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিরবকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের পিতা মো. জহির ওরফে আব্দুল গনি রোববার রাতে ২২ জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে রোববার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে পূর্ব মাইজচরা গ্রাম থেকে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

SIRAJUL KABIR BULBUL

উখিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় উখিয়া উপজেলা বিএনপির সহ সাধারণ সম্পাদক কারানির্যাতিত সাবেক, ছাত্রনেতা, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন

SIRAJUL KABIR BULBUL প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
উখিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় উখিয়া উপজেলা বিএনপির সহ সাধারণ  সম্পাদক কারানির্যাতিত সাবেক, ছাত্রনেতা, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন

SIRAJUL KABIR BULBUL

নিরাপত্তা ও বৈধতা নিয়েও শঙ্কা, সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি

সৌদি প্রবাসীদের জন্য সতর্কবার্তা

বিশেষ প্রতিনিধিঃ প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১০:২১ পিএম
সৌদি প্রবাসীদের জন্য সতর্কবার্তা

সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে জরুরি সতর্কবার্তা দিয়েছেন “সৌদি প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ১০১ টিম”-এর পরিচালক মো: সেলিম রানা। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে সকল প্রবাসীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

তার দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, “যারা সৌদি আরবে আছেন, তারা অপ্রয়োজনে বাইরে বের হবেন না। আকামার মেয়াদ ও কাগজপত্র বৈধ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদ ও আটক হওয়ার ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে উমরাহ বা হজের উদ্দেশ্যে চলাচলের সময়ও অনেক প্রবাসী সমস্যায় পড়ছেন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু ক্ষেত্রে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও প্রবাসীদের আটক করে জেল খাটিয়ে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে করে শত শত বাংলাদেশি প্রবাসী চরম দুর্ভোগে পড়ছেন এবং তাদের পরিবারগুলোও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছে।
১০১ টিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইতোমধ্যে অনেক প্রবাসী কান্না ও আহাজারির মধ্য দিয়ে দেশে ফেরত যেতে বাধ্য হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় হতাশা বাড়ছে প্রবাসীদের মধ্যে।
এ বিষয়ে ১০১ টিমের সদস্য ফয়সাল, জাহিদ ও নাঈম বলেন, “আমরা জানতে চাই—বৈধভাবে সৌদি আরবে থাকার পরও কেন আমরা নিরাপদ নই? আমাদের সমস্যা কে দেখবে?”
তারা আরও দাবি জানান, বাংলাদেশের সরকারকে দ্রুত এ বিষয়ে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে এবং প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হয় এবং ভিসা ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়। তাই প্রবাসীদের সবসময় নিজেদের কাগজপত্র হালনাগাদ রাখা, নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা এবং সন্দেহজনক পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপসংহার:
বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি প্রবাসীদের জন্য সচেতনতা ও সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপই পারে প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও আস্থার জায়গা পুনরুদ্ধার করতে।

error: Content is protected !!