তরল জৈব সার প্রস্তুত প্রণালি বিষয়ে কৃষকদের মাঝে সচেতনতামূলক উদ্যোগ
মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি নিশ্চিত করতে তরল জৈব সার ব্যবহারের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। এ লক্ষ্যে কৃষিবিদ সিলমিন জাহান ইলমা কৃষকদের জন্য তরল জৈব সার তৈরির কার্যকরী ফর্মুলা তুলে ধরেছেন, যা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং পরিবেশবান্ধব।
ব্যানারে উল্লেখিত নির্দেশনা অনুযায়ী, একটি ১০০ লিটার ড্রাম ব্যবহার করে সহজেই তরল জৈব সার তৈরি করা যায়। এ জন্য প্রয়োজন হবে—
১০ কেজি ফ্রেশ গোবর
১০ কেজি গো-চানা
১.৫ লিটার চিটাগুড়
১ কেজি বেসন
১০ লিটার পুকুরের পানি
১ কেজি ধানের কুঁড়া
১ কেজি চাল ধোয়া পানি
১ কেজি খৈল ভেজা
১টি কাঁচা ডিম (খোসাসহ ভালোভাবে বেটে)
১ মুঠো জঙ্গলের মাটি
১০০ গ্রাম টক দই
সব উপকরণ একত্রে ড্রামে দিয়ে ১০০ লিটার পর্যন্ত পানি যোগ করতে হবে। এরপর ড্রাম ঢেকে রেখে প্রতিদিন বাম থেকে ডান দিকে অন্তত তিনবার নেড়ে মিশাতে হবে। মিশ্রণটি বস্তা দিয়ে ঢেকে বা ছায়াযুক্ত স্থানে সংরক্ষণ করা উচিত।
নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রস্তুতির ৫ দিন পর (৬ থেকে ১১তম দিন) এই তরল জৈব সার ব্যবহার উপযোগী হয়ে ওঠে। ব্যবহারকালে প্রতি ১ লিটার তরল সারকে ৯ লিটার পানির সঙ্গে মিশিয়ে জমিতে বা ফসলের গোড়ায় প্রয়োগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
🔹 কৃষিবিদের মন্তব্য
কৃষিবিদ সিলমিন জাহান ইলমা বলেন, “তরল জৈব সার ব্যবহারে মাটির জৈব গুণাগুণ বৃদ্ধি পায়, উপকারী অণুজীব সক্রিয় হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে জমির উৎপাদন ক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব হয়। এটি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের একটি কার্যকর উপায়।”
🔹 কৃষকদের প্রত্যাশা ও গুরুত্ব
স্থানীয় কৃষকরা জানান, রাসায়নিক সারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে এবং জমির উর্বরতা হ্রাস পাওয়ায় তারা জৈব সার ব্যবহার করতে আগ্রহী। সহজ ও স্বল্প ব্যয়ে প্রস্তুতযোগ্য তরল জৈব সার তাদের উৎপাদন খরচ কমাতে সহায়ক হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগ কৃষকদের মধ্যে জৈব কৃষির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

















