এক টুকরো রুটি ও আল্লাহর বরকত
রিজিক বা জীবিকার বিষয়টি ইসলাম ধর্মে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুরআন শরীফে আল্লাহ তায়ালা বলেন: “পৃথিবীতে চলাফেরা করা কোনো প্রাণীই নেই যার রিজিক আল্লাহর উপর নির্ভর করে না।” (সূরা হুদ: ৬)
কিন্তু মানুষ প্রায়ই ভুলে যায় যে, রিজিক শুধু অর্থ নয়, বরং এতে স্বাস্থ্য, শান্তি, জ্ঞান, ভালো সন্তান—সবই অন্তর্ভুক্ত।
তাওয়াক্কুলের শিক্ষা
সাহাবাদের জীবন থেকে আমরা শিখি, তাঁরা রিজিক নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় থাকতেন না। হযরত উমর (রাঃ) বলতেন: “রিজিক তোমার কাছে যেমন খুঁজে আসে, মৃত্যু তোমাকে যেমন খুঁজে পায়।” অর্থাৎ, হালাল পথে চেষ্টা করাই যথেষ্ট, কারণ রিজিক আসবে আল্লাহর আদেশেই।
একদিন আবু হুরাইরা (রাঃ), যিনি আহলুস সুফফাহর সদস্য ছিলেন, তিনি চরম ক্ষুধায় কাতর ছিলেন। নবীজি (সাঃ) একটি পাত্রে কিছু দুধ পান করান এবং আবু হুরাইরাকে সবাইকে সেই দুধ বিতরণ করতে বলেন।
আবু হুরাইরা (রাঃ) যখন সবাইকে দুধ বিতরণ করলেন, তখনো পাত্রে কিছু দুধ অবশিষ্ট ছিল। নবীজি (সাঃ) তাঁকে বললেন, “এবার তুমি পান করো।” আবু হুরাইরা (রাঃ) পান করতে লাগলেন এবং শেষ পর্যন্ত তিনি পান করেই চললেন—যতক্ষণ না তিনি পরিতৃপ্ত হলেন। এটি ছিল আল্লাহর বরকতপূর্ণ রিজিকের এক নিদর্শন।
রিজিকের রহস্য: পরিমাণে নয়, বরকতে
এই ঘটনা প্রমাণ করে, রিজিক কখনও পরিমাণে নির্ভর করে না, বরং বরকতে নির্ভর করে। সামান্য জিনিসও যদি বরকতময় হয়, তবে তা বিপুল প্রাচুর্যের চেয়ে বেশি কল্যাণ নিয়ে আসে।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: “যে ব্যক্তি তার পরিবারের জন্য হালাল রিজিকের উদ্দেশ্যে পরিশ্রম করে, সে আল্লাহর পথে জিহাদকারীর মতো।” (বায়হাকি, শু’আবুল ঈমান: ৫৩১২)
এখানে পরিশ্রম হলো মাধ্যম, কিন্তু দাতা একমাত্র আল্লাহ। বরকত আসে—আল্লাহর স্মরণ, কৃতজ্ঞতা, নামাজ, দোয়া এবং হালাল পথে পরিশ্রমের মাধ্যমে।
শিক্ষা:
রিজিক নির্ধারণের দায়িত্ব একমাত্র আল্লাহর। আমাদের উচিত, রিজিক নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে বরং রিজিকদাতার সন্তুষ্টির পথে হালালভাবে চেষ্টা করা। তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর নির্ভরতা) এবং ধৈর্যই তোমার প্রকৃত সমর্থক ও সাফল্যের চাবিকাঠি।

















