সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

হাবিল, কাবিল ও তাকওয়ার পরীক্ষা

পৃথিবীর প্রথম কোরবানি

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:০৫ পিএম | 38 বার পড়া হয়েছে
পৃথিবীর প্রথম কোরবানি

মানবজাতির ঊষালগ্নে, যখন পৃথিবী ছিল এক শান্ত ও জনবিরল স্থান, তখন আদি পিতা হজরত আদম (আলাইহিস সালাম)-এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিল এক গভীর দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলেন। কোনোভাবেই যখন মীমাংসা হচ্ছিল না, তখন আদম (আ.) আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী তাদের এক অভিনব পরীক্ষার কথা জানালেন। তিনি বললেন, “তোমরা উভয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোরবানি পেশ করো। যার কোরবানি কবুল হবে, সত্য তার পক্ষেই থাকবে।”
এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘আদমের দুই পুত্রের (হাবিল ও কাবিলের) বৃত্তান্ত তুমি তাদেরকে যথাযথভাবে শুনিয়ে দাও, যখন তারা উভয়ে কোরবানি করেছিল, তখন একজনের কোরবানি কবুল হলো এবং অন্যজনের কোরবানি কবুল হলো না। তাদের একজন বলল, আমি তোমাকে অবশ্যই হত্যা করব। অপরজন বলল, আল্লাহ তো সংযমীদের কোরবানিই কবুল করে থাকেন। (সুরা মায়িদা: ২৭)
সেই যুগে কোরবানি কবুল হওয়ার নিদর্শন ছিল অলৌকিক। নিয়ম ছিল, কোরবানির বস্তু নির্জন খোলা জায়গায় রেখে আসতে হতো। যদি আকাশ থেকে আগুনের একটি শিখা এসে সেই বস্তুটি ভস্মীভূত করে দিত, তবে বোঝা যেত যে কোরবানি কবুল হয়েছে।
হাবিল ও কাবিলের প্রস্তুতি
দুই ভাই তাদের নিজ নিজ পেশা থেকে কোরবানির সামগ্রী নিয়ে পাহাড়ের ওপর উপস্থিত হলেন।
হাবিল: তিনি ছিলেন পশুপালক। তাঁর মনে ছিল আল্লাহর প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও তাকওয়া। তিনি তাঁর পালের সবচেয়ে সুস্থ, সবল এবং উৎকৃষ্ট দুম্বাটি কোরবানির জন্য বেছে নিলেন।
কাবিল: তিনি ছিলেন কৃষক। কিন্তু তাঁর মনে ছিল কৃপণতা ও অহংকার। তিনি নিজের খেত থেকে সবচেয়ে নিম্নমানের, পোকাধরা গমের কিছু শীষ নিয়ে কোরবানির জন্য পেশ করলেন।
আসমানি ফয়সালা ও কাবিলের ক্রোধ
উভয়ে পাহাড়ের ওপর তাদের উপহার রেখে দূরে অপেক্ষা করতে লাগলেন। হঠাৎ আকাশের বুক চিরে এক জ্যোতির্ময় অগ্নিশিখা নেমে এল এবং মুহূর্তের মধ্যে হাবিলের দুম্বাটিকে ভস্মীভূত করে দিল। অর্থাৎ হাবিলের কোরবানি আল্লাহর দরবারে কবুল হলো। অন্যদিকে কাবিলের গমের আটিটি অবিকল আগের মতোই পড়ে রইল; তা প্রত্যাখ্যাত হলো।
নিজের পরাজয় দেখে কাবিলের মনে হিংসার আগুন জ্বলে উঠল। সে ক্ষোভে ফেটে পড়ে চিৎকার করে বলল, “আমি অবশ্যই তোমায় হত্যা করব!”
হাবিলের শান্ত ও প্রজ্ঞাপূর্ণ উত্তর
ভাইয়ের এমন হুংকার শুনেও হাবিল বিচলিত হলেন না। তিনি অত্যন্ত কোমল ও নীতিগত সুরে বললেন:
“আল্লাহ তো কেবল মুত্তাকি বা সংযমীদের কোরবানিই কবুল করেন। তুমি যদি তাকওয়া অবলম্বন করতে, তবে তোমার কোরবানিও গৃহীত হতো। এতে আমার তো কোনো দোষ নেই।”
হাবিল আরও বললেন যে, কাবিল যদি তাকে মারতেও আসে, তিনি পাল্টা আঘাত করবেন না, কারণ তিনি বিশ্বজগতের পালনকর্তাকে ভয় করেন। কিন্তু কাবিল তার মনের কালিমা মুছতে পারল না। হিংসা তাকে এতটাই অন্ধ করে দিল যে, শেষ পর্যন্ত সে তার আপন ভাইকে হত্যা করে ফেলল।
ইতিহাসের শিক্ষা: মনের স্বচ্ছতা
হাবিলের সেই উৎসর্গ করা দুম্বাটি সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তা জান্নাতে বিচরণ করতে থাকে এবং হাজার বছর পর হজরত ইসমাইল (আ.)-কে রক্ষার জন্য সেই দুম্বাটিই ফিদয়া হিসেবে প্রেরিত হয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন— “আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্যে কোরবানি নির্ধারণ করেছি, যাতে তারা আল্লাহর দেওয়া চতুস্পদ জন্তু জবেহ কারার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে। অতএব তোমাদের আল্লাহ তো একমাত্র আল্লাহ সুতরাং তাঁরই আজ্ঞাধীন থাকো এবং বিনয়ীগণকে সুসংবাদ দাও।” (সুরা হজ:৩৪)
গল্পের শিক্ষা:
১. তাকওয়াই মূল: আল্লাহর কাছে পশুর রক্ত বা মাংস পৌঁছায় না, বরং পৌঁছায় বান্দার মনের স্বচ্ছতা এবং তাকওয়া। হাবিল শ্রেষ্ঠ জিনিস দিয়েছিলেন ভালোবাসা থেকে, আর কাবিল দিয়েছিল অবহেলা থেকে। ২. হিংসার পরিণতি: হিংসা মানুষকে অন্ধ করে দেয় এবং তা প্রথম মানব হত্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ৩. ইখলাস বা নিষ্ঠা: লোকদেখানো কোনো ইবাদত আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। কোরবানি কবুলের প্রধান শর্ত হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রবল ইচ্ছা।

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের, নোয়াখালী

নোয়াখালীতে মাদক দ্বন্দ্বে তরুণকে কুপিয়ে হত্যা

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের, নোয়াখালী প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
নোয়াখালীতে মাদক দ্বন্দ্বে তরুণকে কুপিয়ে হত্যা

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় মাদক সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে মো. নিরব (২৬) নামে এক তরুণকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে আসামিদের নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে রোববার দুপুরে উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মাইজচরা গ্রামের বাংলাবাজারের উত্তর পাশে কালা দুলালের বাপের বাড়ির সামনে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় নিরবকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহত নিরব একই ওয়ার্ডের আব্দুল গনি বাড়ির আব্দুল গনির ছেলে। তিনি পেশায় একজন স’মিল শ্রমিক ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিরব কিছুদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। কয়েকদিন আগে মাদক সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক রুবেল মাঝির (২৮) ভাতিজার সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
ওই বিরোধের জেরে রোববার সকাল ১০টার দিকে নিরব তার তিন সহযোগীকে নিয়ে বাংলাবাজারের উত্তর পাশে রুবেল মাঝির ওপর হামলা চালায়। এ সময় ছুরিকাঘাতে রুবেল মাঝির ৩-৪ জন অনুসারী আহত হয়।

পরে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে দুপুর ১২টার দিকে নিরবের অনুসারীরা প্রতিপক্ষ রুবেল মাঝির বাড়ির সামনে চলে গেলে রুবেল মাঝির লোকজন ধাওয়া দিয়ে নিরবকে আটক করে। পরে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিরবকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের পিতা মো. জহির ওরফে আব্দুল গনি রোববার রাতে ২২ জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে রোববার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে পূর্ব মাইজচরা গ্রাম থেকে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

SIRAJUL KABIR BULBUL

উখিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় উখিয়া উপজেলা বিএনপির সহ সাধারণ সম্পাদক কারানির্যাতিত সাবেক, ছাত্রনেতা, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন

SIRAJUL KABIR BULBUL প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
উখিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় উখিয়া উপজেলা বিএনপির সহ সাধারণ  সম্পাদক কারানির্যাতিত সাবেক, ছাত্রনেতা, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন

SIRAJUL KABIR BULBUL

নিরাপত্তা ও বৈধতা নিয়েও শঙ্কা, সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি

সৌদি প্রবাসীদের জন্য সতর্কবার্তা

বিশেষ প্রতিনিধিঃ প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১০:২১ পিএম
সৌদি প্রবাসীদের জন্য সতর্কবার্তা

সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে জরুরি সতর্কবার্তা দিয়েছেন “সৌদি প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ১০১ টিম”-এর পরিচালক মো: সেলিম রানা। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে সকল প্রবাসীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

তার দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, “যারা সৌদি আরবে আছেন, তারা অপ্রয়োজনে বাইরে বের হবেন না। আকামার মেয়াদ ও কাগজপত্র বৈধ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদ ও আটক হওয়ার ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে উমরাহ বা হজের উদ্দেশ্যে চলাচলের সময়ও অনেক প্রবাসী সমস্যায় পড়ছেন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু ক্ষেত্রে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও প্রবাসীদের আটক করে জেল খাটিয়ে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে করে শত শত বাংলাদেশি প্রবাসী চরম দুর্ভোগে পড়ছেন এবং তাদের পরিবারগুলোও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছে।
১০১ টিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইতোমধ্যে অনেক প্রবাসী কান্না ও আহাজারির মধ্য দিয়ে দেশে ফেরত যেতে বাধ্য হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় হতাশা বাড়ছে প্রবাসীদের মধ্যে।
এ বিষয়ে ১০১ টিমের সদস্য ফয়সাল, জাহিদ ও নাঈম বলেন, “আমরা জানতে চাই—বৈধভাবে সৌদি আরবে থাকার পরও কেন আমরা নিরাপদ নই? আমাদের সমস্যা কে দেখবে?”
তারা আরও দাবি জানান, বাংলাদেশের সরকারকে দ্রুত এ বিষয়ে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে এবং প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হয় এবং ভিসা ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়। তাই প্রবাসীদের সবসময় নিজেদের কাগজপত্র হালনাগাদ রাখা, নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা এবং সন্দেহজনক পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপসংহার:
বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি প্রবাসীদের জন্য সচেতনতা ও সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপই পারে প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও আস্থার জায়গা পুনরুদ্ধার করতে।

error: Content is protected !!