পিতার শোক ও সান্ত্বনা
এক সাহাবি প্রায়ই তাঁর ছোট্ট ছেলেকে সাথে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর মজলিসে আসতেন। একদিন আদর করে নবীজি (সাঃ) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: “তুমি কি তাকে ভালোবাসো?”
সাহাবি চোখ ভরা আবেগ নিয়ে উত্তর দিলেন: “আল্লাহ আপনাকে তেমনই ভালোবাসুন, যেমন আমি তাকে ভালোবাসি।”
শোকের ছায়া
কিছুদিন পর আল্লাহর ইচ্ছায় হঠাৎ তাঁর সেই প্রিয় সন্তানটি মারা গেল। সন্তানের শোকে কাতর হয়ে ওই সাহাবি বেশ কিছুদিন নবীজির মজলিসে আসতে পারলেন না।
নবীজি (সাঃ) তাঁকে কয়েক দিন দেখতে না পেয়ে অন্য সাহাবিদের কাছে তাঁর খবর জানতে চাইলেন। সাহাবিরা জানালেন: “জি ইয়া রাসূলাল্লাহ! কিছুদিন আগে তার সেই সন্তানটি মারা গেছে, যাকে তিনি সাথে নিয়ে আসতেন।”
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তখন তাঁর সঙ্গী সাহাবিদের নিয়ে ওই শোকাহত সাহাবির বাড়িতে গেলেন। (বা সাহাবি নিজেই নবীজির কাছে এলেন)। সাহাবি তখন খুবই বিষণ্ণ ও শোকাহত অবস্থায় ছিলেন।
পরম সান্ত্বনা
নবীজি (সাঃ) তাঁর শোক বুঝতে পারলেন এবং তাঁকে এক পরম সান্ত্বনা দিয়ে বললেন:
“তুমি কি এতে খুশি নও যে, কিয়ামতের দিন জান্নাতের যে কোনো দরজায় তুমি যাবে, সেখানেই তোমার সন্তানকে পাবে, সে দৌড়ে এসে তোমার জন্য দরজা খুলে দেবে?”
রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর এই কথাগুলো যেন শীতল বারিধারার মতো সেই শোকাহত পিতার হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দিল। সন্তানের জন্য তাঁর সমস্ত দুঃখ হালকা হয়ে গেল, কারণ তিনি নিশ্চিত হলেন যে, তাঁর সন্তান তাঁর জন্য এক মুক্তির সম্বল হয়ে অপেক্ষা করছে।
শিক্ষা:
নবীজি (সাঃ)-এর এই ঘটনা আমাদের শেখায়—নিষ্পাপ অবস্থায় মারা যাওয়া শিশুসন্তানরা মা-বাবার জন্য পরকালে বিশেষ সম্বল এবং জান্নাতে যাওয়ার সুপারিশকারী হবে। আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা থাকলে, প্রতিটি ক্ষতিই একসময় বড় পুরস্কারে পরিণত হয়।

















