মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২
মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২

নথিতে মিলছে না কোনো প্রমাণ

বগুড়া স্টেডিয়াম ফাঁড়িতে অর্থ ও স্বর্ণ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৫ পিএম | 75 বার পড়া হয়েছে
বগুড়া স্টেডিয়াম ফাঁড়িতে অর্থ ও স্বর্ণ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ

বগুড়ায় এক দরিদ্র নারীর মৃত্যুর পর মানবিকতার পরিবর্তে পুলিশের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লোভ ও অনৈতিকতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মৃত নারীর ঘর থেকে উদ্ধার করা নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের বদলে আত্মসাৎ করা হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে বগুড়া সদর থানার স্টেডিয়াম পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে।

২০ হাজার টাকা ও চার আনা স্বর্ণ ‘উদ্ধার’, কিন্তু গেল কোথায়?
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৬ ডিসেম্বর বগুড়া শহরের জামিল নগর এলাকায় ভাড়াবাসায় বসবাসরত সাবিকুন নাহার নামের এক নারীর লাশ উদ্ধারের সময় তার ঘর থেকে ২০ হাজার টাকা নগদ ও চার আনা ওজনের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।
কিন্তু এসব অর্থ ও স্বর্ণ মৃত নারীর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উদ্ধার করা অর্থ ও স্বর্ণ এসআই জাহাঙ্গীর আলম আত্মসাৎ করেছেন।
এসআইয়ের দাবি বনাম নথির ভয়াবহ গরমিল
অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই জাহাঙ্গীর আলম বলেন—
“উদ্ধার করা টাকা ও স্বর্ণ থানায় জিডি করে আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।”
তবে তার এই দাবির সঙ্গে থানা ও আদালতের সরকারি নথিপত্রে কোনো মিল পাওয়া যায়নি।
বগুড়া আদালত পুলিশের জেনারেল রেকর্ড অফিসার (জিআরও) সুশান্ত কুমার বলেন—
“এসআই জাহাঙ্গীর আলম জিডি মূলে আদালতে কোনো টাকা বা স্বর্ণ জমা দেননি।”
এদিকে সদর থানার একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়—
“এই ঘটনায় এসআই জাহাঙ্গীর আলম কোনো জিডি করেননি।”
জিডিতে নেই টাকা-স্বর্ণের উল্লেখ
থানা সূত্রে জানা যায়, এসআই জাহাঙ্গীর আলম লাশ উদ্ধারের সময় ৬ ডিসেম্বর রাত ১১টা ২৫ মিনিটে ৫৫৭ নম্বর একটি জিডি করেন, যেখানে কেবল ‘অপমৃত্যু মামলা’র কথা উল্লেখ রয়েছে।
ওই জিডিতে উদ্ধার করা অর্থ বা স্বর্ণালংকারের কোনো উল্লেখ নেই। এমনকি ২৪ ডিসেম্বর বিকেল পর্যন্ত সেই জিডি অনলাইনে আপলোডও করা হয়নি।
লাশ উদ্ধার, কিন্তু জব্দ তালিকা নেই—কেন?
বাড়ির মালিক শাজাহান আলী ও তার স্ত্রী শামিমা বেগম জানান,
“লাশ মর্গে পাঠানোর পর আমাদের সামনে এসআই জাহাঙ্গীর আলম ঘর তল্লাশি করে টাকা ও স্বর্ণ উদ্ধার করেন। তখন স্থানীয় গোলাম মোস্তফাসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু কোনো জব্দ তালিকা করা হয়নি, আমাদের স্বাক্ষরও নেওয়া হয়নি।”
আইন অনুযায়ী, কোনো মালামাল উদ্ধার হলে জব্দ তালিকা ও সাক্ষীর স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক—যা এখানে মানা হয়নি বলে অভিযোগ।
দাফনের আগে টাকা দাবি করার অভিযোগ
বাড়ির মালিক দম্পতির আরও অভিযোগ, ঘটনার দুই দিন পর এসআই জাহাঙ্গীর আলম তাদের ফাঁড়িতে ডেকে নিয়ে বলেন—
“লাশ দাফনের কথা বলেন এবং উদ্ধার করা টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা না দিলে দাফনের দায়িত্ব নেবেন না।”
টাকা না পাওয়ায় তারা দাফনের দায়িত্ব নেননি। পরে মানবিক সংগঠন আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম মরদেহের দাফন সম্পন্ন করে।
আরও অভিযোগ: পরিবার ভাঙন ও আত্মহত্যার হুমকি
এদিকে ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ রাতে আরও একটি ঘটনায় স্টেডিয়াম ফাঁড়ির এসআই জাহাঙ্গীর আলম ও ওসি কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে একটি পরিবারকে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগী মোছাঃ আলো বেগম অভিযোগ করেন,
“স্বামীর মিথ্যা অভিযোগে পুলিশ হুমকি দিয়ে আমাদের বের করে দেয়। আমি আমার মেয়েকে নিয়ে আত্মহত্যার চিন্তা পর্যন্ত করেছি।”
এই ঘটনায় স্টেডিয়াম ফাঁড়ির ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে।
জনমত ও প্রতিক্রিয়া
বগুড়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এরশাদুল বারী বলেন—
“একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ পুরো পুলিশ প্রশাসনের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি জরুরি।”
স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীরাও অবিলম্বে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এসআইয়ের পুনরাবৃত্ত দাবি, প্রমাণের অভাব
এসআই জাহাঙ্গীর আলম পুনরায় দাবি করেন—
“উদ্ধার করা টাকা ও স্বর্ণ থানায় জিডি করে আদালতে জমা দিয়েছি।”
তবে থানা ও আদালতের নথিতে এখনো পর্যন্ত তার দাবির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রশ্ন রয়ে গেল
🔹 যদি টাকা ও স্বর্ণ আদালতে জমা হয়ে থাকে—তবে নথিতে তার কোনো অস্তিত্ব নেই কেন?
🔹 জব্দ তালিকা ছাড়া কীভাবে মালামাল উদ্ধার করা হলো?
🔹 একাধিক অভিযোগের পরও কেন এসআই জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেই?
শেষ কথা
একজন মৃত দরিদ্র নারীর শেষ সম্বল নিয়ে ওঠা এই অভিযোগ শুধু একটি ঘটনার নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলেছে।
আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন—এই নীতি বাস্তবে কার্যকর হবে কি না, তা এখন তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।
এই প্রতিবেদক অনুসন্ধান অব্যাহত রাখবে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে জনস্বার্থে তা প্রকাশ করা হবে।

কাঁচামালের সংকটে ২৫ দিন বন্ধ থাকতে পারে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার

এনামুল হক রাশেদীঃ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৯ পিএম
কাঁচামালের সংকটে ২৫ দিন বন্ধ থাকতে পারে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার

বর্তমানে ইআরএলে ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন জ্বালানি উৎপাদন হলেও এখন তা কমে ৩ হাজার ২০০ টনে নেমে এসেছে।

কাঁচামালের সংকটে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বন্ধ থাকায় আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে রিফাইনারিটির মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে। ফলে অন্তত ২৫ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠার ৫৭ বছরের ইতিহাসে কাঁচামালের অভাবে এমন পরিস্থিতি এবারই প্রথম।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ৩৫ দিনে অপরিশোধিত তেলবাহী কোনো জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়নি। বর্তমানে ইআরএলে ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন জ্বালানি উৎপাদন হলেও এখন তা কমে ৩ হাজার ২০০ টনে নেমে এসেছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, চলতি মাসে নতুন কোনো অপরিশোধিত তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসার সম্ভাবনা নেই। পরবর্তী চালানটি আসতে পারে আগামী ১ মে। এক লাখ টন তেলবাহী সেই জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে রিফাইনারিতে তেল আনতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। এ হিসাবে অন্তত ২৫ দিন ইআরএলের উৎপাদন বন্ধ থাকতে পারে।
১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রামের এই রিফাইনারি মাসে প্রায় দেড় লাখ টন তেল পরিশোধন করে। এখান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার টন ডিজেল, ১৫ হাজার টন পেট্রোলসহ মোট ১৪ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদন হয়। দেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদার মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি পরিশোধন করে ইআরএল, যা মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।
বিকল্প ব্যবস্থার কথা বলছে বিপিসি
জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিপিসি। জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ইআরএল সাময়িক বন্ধ হলেও দেশে অকটেন ও পেট্রোলের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট হবে না। বর্তমানে অন্তত তিন মাস চলার মতো অকটেন মজুত রয়েছে।
তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর পর অপরিশোধিত তেল না এলেও ইতোমধ্যে ১০টি জাহাজে ডিজেল দেশে এসেছে। এপ্রিল মাসে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার টন ডিজেল আসা নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের ডিপোগুলোতে মজুত রয়েছে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেল এবং আরও প্রায় ৬০ হাজার টন আমদানির প্রক্রিয়া চলছে।

পেট্রোল-অকটেনের মজুত স্বাভাবিকঃ

দেশে মাসে প্রায় ৩৫ হাজার টন অকটেন ও ৩০ হাজার টনের কিছু বেশি পেট্রোলের চাহিদা রয়েছে। সিলেট গ্যাসফিল্ডের কনডেনসেট ফ্রাকশনেশন প্লান্টসহ কয়েকটি বেসরকারি প্লান্ট থেকে পেট্রোল উৎপাদন হওয়ায় এ খাতে তেমন সংকট নেই। সম্প্রতি ২৫ হাজার টন অকটেন নিয়ে একটি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে এবং আরও একটি জাহাজ আগামী সপ্তাহে আসার কথা রয়েছে।
তবে ইআরএল বন্ধ হয়ে গেলে ন্যাফথা সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ পেট্রোল ও অকটেন মিশ্রণ প্রক্রিয়ায় এই উপাদানটি গুরুত্বপূর্ণ।
মে মাসে আসতে পারে অপরিশোধিত তেল
বিপিসি সূত্র জানায়, সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে ২০ এপ্রিল এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল জাহাজে তোলা হবে। এছাড়া ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের আরেকটি জাহাজে এক লাখ টন তেল হরমুজ প্রণালিতে আটকে রয়েছে। দুটি জাহাজ মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ টন অপরিশোধিত তেল মে মাসের শুরুতে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
তেল খালাস করে রিফাইনারিতে পৌঁছাতে কয়েক দিন সময় লাগবে। এরপর গুণগত মান যাচাই শেষে পুনরায় পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

দেশে জ্বালানির ব্যবহারঃ

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় পরিবহন খাতে। মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই এই খাতে ব্যয় হয়। এছাড়া কৃষিতে ১৫ শতাংশ, বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ১২ শতাংশ, শিল্পে প্রায় ৬ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে বাকি জ্বালানি ব্যবহৃত হয়।
২০২৪–২৫ অর্থবছরে বিপিসি মোট ৬৮ লাখের বেশি টন জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ডিজেল—৪৩ লাখ টনেরও বেশি, যা মোট বিক্রির প্রায় ৬৪ শতাংশ।

নোয়াখালীতে যুবককে পিটিয়ে পুড়িয়ে হত্যা

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের, ব্যুরো চীফ নোয়াখালী: প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৭ পিএম
নোয়াখালীতে যুবককে পিটিয়ে পুড়িয়ে হত্যা

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় মো. খোকন (৩২) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। লাশটি আগুনে পোড়ানো অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, গতকাল রোববার ৫ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে চাটখিল পৌরসভার দৌলতপুর গ্রামের মন্ত্রী পোল সংলগ্ন ঝোঁপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত খোকন ওই এলাকার হোসেন আলী পাটোয়ারী বাড়ির মো. ফারুক হোসেনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, খোকন পেশায় একজন দিনমজুর ছিল। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন পেয়ে খোকন বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৯০) করা হয়।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, দুর্বৃত্তরা অন্যত্র তাকে পিটিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করে লাশ চাটখিল পৌরসভার দৌলতপুর গ্রামের মন্ত্রী পোল সংলগ্ন ঝোঁপের মধ্যে ফেলে যায়। পরে রোববার রাতে স্থানীয়রা ঝোঁপের মধ্যে অর্ধগলিত লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ওসি আব্দুল মোন্নাফ আরও বলেন, লাশটি পোড়ানো মনে হচ্ছে। তবে ফরেনসিক রিপোর্ট না পেলে কিছু বলা যাচ্ছেনা। তবে এটি প্রাথমিক ভাবে হত্যাকান্ড বলে মনে হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঝিনাইদহের মহেশপুরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

মোঃ ফজলুল কবির গামা প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৪ পিএম
ঝিনাইদহের মহেশপুরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

মহেশপুর ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। রবিবার (৫ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১০টায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে কৃষি কার্যালয় চত্বরে এ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় পাট, তিল, মুগ ও আউশ ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই সহায়তা প্রদান করা হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজ্জাদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা বাহারুল ইসলাম,প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান, প্রেসক্লাব মহেশপুরের সভাপতি সরোয়ার হোসেন, সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সমর কুমার মিত্রসহ কৃষি বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

বিতরণকৃত উপকরণের বিবরণ: উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন পর্যায়ের কৃষকদের মাঝে নিম্নোক্ত হারে বীজ বিতরণ করা হয়েছে:
* আউশ ধান: ১২ হাজার কৃষকের মাঝে ৫ কেজি করে।
* মুগ ডাল: ৭০০ জন কৃষকের মাঝে ৫ কেজি করে।
* পাট: ৬০০ জন কৃষকের মাঝে ১ কেজি করে।
* তিল: ২০০ জন কৃষকের মাঝে ১ কেজি করে।

বীজের পাশাপাশি প্রতিটি কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে ১০ কেজি ডিএপি (DAP) এবং ৫ কেজি এমওপি (MOP) সার প্রদান করা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “বর্তমান সরকারের কৃষি বান্ধব নীতির ফলে কৃষকরা আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সুবিধা পাচ্ছেন। এই প্রণোদনা কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমিয়ে তাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সহায়ক হবে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা জানান, সঠিক সময়ে উন্নত মানের বীজ ও সার ব্যবহারের মাধ্যমে উপজেলায় দানা জাতীয় শস্য ও অর্থকরী ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। কৃষকরা যাতে এসব উপকরণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারেন, সে লক্ষে কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে তদারকি ও পরামর্শ অব্যাহত রেখেছে।

error: Content is protected !!