রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২
রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২

শীতার্ত ও অসহায় মানুষের মাঝে চাদর ও শীতবস্ত্র বিতরণ, মানবিক সমাজ গঠনের আহ্বান 

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪০ পিএম | 69 বার পড়া হয়েছে
শীতার্ত ও অসহায় মানুষের মাঝে চাদর ও শীতবস্ত্র বিতরণ, মানবিক সমাজ গঠনের আহ্বান 

সোস্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফেনীতে “শীত উৎসব–২০২৬” অনুষ্ঠিত হয়।

শীতার্ত ও অসহায় মানুষের মাঝে চাদর ও শীতবস্ত্র বিতরণ, মানবিক সমাজ গঠনের আহ্বান অতিথিদের

শীতার্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে সোস্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফেনীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে “শীত উৎসব–২০২৬”। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় ফেনী সদর উপজেলার ফরহাদনগর ভোরবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ উৎসবমুখর আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে হাফেজ ক্বারী মো. শরিফুল ইসলামের কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে প্রথম পর্বের সূচনা হয়। এরপর সম্মিলিতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন ও দেশপ্রেমমূলক পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

সোস্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের সভাপতি আরিফ হাসনাত–এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শীত উৎসব বাস্তবায়ন কমিটির চেয়ারম্যান ও সংগঠনটির সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলাউদ্দিন আদর।

তিনি বলেন, “মানবতার সেবাই আমাদের সংগঠনের মূল লক্ষ্য। শীত মৌসুমে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও কবি শাহাদাত হোসাইন চৌধুরী। তিনি বলেন,

“শীত মৌসুমে দরিদ্র মানুষের কষ্ট বহুগুণ বেড়ে যায়। সমাজের বিত্তবান ও সচেতন শ্রেণি এগিয়ে এলে এই কষ্ট অনেকাংশে লাঘব করা সম্ভব। মানবিক কাজের মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সোস্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাকিল মাহমুদ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আফছার উদ্দিন হাজারী, ফেনী জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্য ওসমান গণি রাসেল, ভোরবাজার বাজার কমিটির সভাপতি মো. দুলাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, ফেনীর প্রান্তরের বার্তা সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আজগর হোসাইনসহ আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন, শীত শুধু একটি মৌসুম নয়—দরিদ্র মানুষের জন্য এটি একটি বড় সংকট। এই সময়ে মানবিক সহায়তা তাদের জীবনে নতুন আশা ও সাহস জোগায়। সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তারা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের হাত থেকে ১০০ জন শীতার্ত মানুষের মাঝে চাদর এবং ১৫০ জন অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

শীতবস্ত্র পেয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে দেখা যায় আনন্দ ও স্বস্তির হাসি।

সোস্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই প্রতিবছর শীত মৌসুমে তারা এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ভবিষ্যতেও এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পুরো আয়োজন ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয় এক মানবিক, সহমর্মিতাপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ।

“শীত উৎসব–২০২৬”–এর মাধ্যমে অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারায় সন্তোষ প্রকাশ করেন আয়োজক ও অতিথিবৃন্দ। মানবিক এই উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে মনে করেন সচেতন মহল।

ভূঞাপুরে মহিলা সমাবেশ ও দোয়া মাহফিল

খন্দকার আউয়াল ভাসানী (টাঙ্গাইল) প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৫৮ পিএম
ভূঞাপুরে মহিলা সমাবেশ ও দোয়া মাহফিল

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এক মহিলা সমাবেশ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুর সহধর্মিণী বিলকিস সালাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভূঞাপুর পৌর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।বিলকিস সালাম প্রধান অতিথি বিলকিস সালাম

তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী। দেশের মানুষের অধিকার আদায়ে তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন। আমরা তাঁর আদর্শ ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এগিয়ে নেব। আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।”দোয়া মাহফিলে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তাঁর ভূমিকা এবং দেশপ্রেমিক নেতৃত্বের কথা স্মরণ করে বক্তারা তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। শেষে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

সাব্বির আলম বাবু, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

কালের স্বাক্ষী পাঁচ শতাধিক বছরের পুরনো কমলা রানীর দীঘি

সাব্বির আলম বাবু, বিশেষ প্রতিনিধিঃ উজ্জ্বল বাংলাদেশ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৪৭ পিএম
কালের স্বাক্ষী পাঁচ শতাধিক বছরের পুরনো কমলা রানীর দীঘি

ঐতিহ্যের কালের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে পাঁচ শতাধিক বছরের পুরনো দক্ষিণ বাংলার সবচেয়ে বড় দীঘি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া নদীর তীরে ‘সুন্দরী কমলা রানীর দীঘি’।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চন্দ্রদ্বীপ রাজার শৌর্যবীর্যের স্মৃতি এই কমলা রানীর দীঘি। কথিত আছে, রাজা জয়দেবের কোনো পুত্র সন্তান ছিল না। কমলা সুন্দরী ও বিদ্যাসুন্দরী নামে দুই মেয়ে ছিল। কমলা ছিলেন বুদ্ধিমতি। পিতার নির্দেশে তিনি রাজ্য পরিচালনা ও অস্ত্র চালনা শেখেন। পরিণত বয়সে রাজা কমলাকে বাবুগঞ্জ থানার দেহেরগতি গ্রামের উষাপতির পুত্র বলভদ্র বসুর সঙ্গে বিয়ে দেন।

বলভদ্র বসু ছিলেন বিদ্যোৎশায়ী ও বিভিন্ন শাসে্ত্র পণ্ডিত এবং যুদ্ধ বিদ্যায় অতুলনীয়। বলভদ্র বসু অবশ্য দেখতে কালো ছিলেন, তাই প্রজারা তাকে কালো রাজা বলতেন। বিয়ের পর কমলা স্বামীসহ কচুয়াতেই বসবাস করতেন। রাজা জয়দেব তার মৃত্যুর সময় কমলাকে পরবর্তী রাজা নিযুক্ত করেছিলেন।১৪৯০ খ্রিস্টাব্দে কমলা সিংহাসনে আরোহণ করেন।

কমলা রানীর দীঘির পাড়ের উচ্চতা প্রায় ৪০-৫০ ফুট। এতবড় এবং উঁচু পাড় বিশিষ্ট দীঘি তখন এ বঙ্গে ছিল প্রথম। দীঘি খননে তখনকার দিনে মোট ৯ লাখ টাকা খরচ হয়েছিল। কথিত আছে, দীঘি খনন হলেও দীঘিতে পানি উঠছিল না। অথচ দীঘির চার পাশে ছিল পুকুর, ডোবা-নালা, খাল-বিল পানিতে ভর্তি। পানি উঠাতে পূজা দেওয়া হয়, কাঙালি ভোজের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু তারপরেও পানি ওঠেনি। এ জন্য কমলা রানীসহ সভাসদ ও প্রজাদের চোখে ঘুম ছিল না। একদিন রাতে কমলা রানী পালংকে ঘুমাচ্ছিলেন। তখন কে যেন ফিস ফিস করে তার কানে কানে সাবধান করে দিয়ে যায়- যদি না সে পুকুরের ভিতর খালি পায়ে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে হেঁটে না আসেন- তাহলে কিছুতেই এক ফোঁটা পানিও ওঠবে না। তখন কমলা রানী পূজা অর্চনা সেরে খালি পায়ে দীঘিতে হাঁটা শুরু করেন। তিনি দীঘির মাঝে পৌঁছাতেই পানি ওঠা শুরু করে। চোখের নিমিষে কমলার হাঁটু পর্যন্ত পানিতে ডুবে যায়। কমলা অবশ্য জিদ ধরে ছিলেন। পানি কোমর পর্যন্ত না ওঠা অবধি তিনি পাড়ে উঠবেন না। এই কাজ করতে গিয়ে পানি এতটাই উঠে যায় যে কমলা আর সেই পানি থেকে তীরে উঠতে পারেননি। তিনি ওই পানিতে ডুবে হারিয়ে যান। সেই কমলা সুন্দরী দীঘির উত্তর পাড় দিয়ে তেঁতুলিয়া নদীতে চলে গেল। ৫২৬ বছর আগের সেই খাল ও দীঘিটি এখন কালের সাক্ষী হয়ে নানা স্মৃতি বহন করছে।

অপহৃত ট্রাক ও চালক উদ্ধার

নওগাঁয় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

মর্তুজা শাহাদত সাধন, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ, উজ্জ্বল বাংলাদেশ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৩৮ পিএম
নওগাঁয় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

নওগাঁর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) নওগাঁর টানা অভিযানে আন্তঃজেলা কুখ্যাত ডাকাত চক্রের ৬ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডাকাতির শিকার হওয়া ট্রাক, অপহৃত ট্রাকচালক ও হেলপার এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত আরেকটি ট্রাক উদ্ধার করা হয়েছে।

ডাকাতির ঘটনার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার সময় প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

জানা যায়, গত ২২ জানুয়ারি দিনাজপুর জেলার বদরগঞ্জ এলাকা থেকে ট্রাকচালক মারুফ ও তার হেলপার শামীম একটি ট্রাকে (ঢাকা মেট্রো-ট ১৬-০১৩৮) করে প্রায় ২৫০ বস্তা (৫০০ মন) ধান বোঝাই করে নওগাঁ জেলার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

পরদিন রাত আনুমানিক পৌনে ২টার দিকে নওগাঁ সদর থানার শেষ সীমানার কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের নির্জন সড়কে পৌঁছালে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল পিছন দিক থেকে আরেকটি ট্রাক দিয়ে ওভারটেক করে সামনে ব্যারিকেড দেয়। এ সময় ডাকাতরা ট্রাকের কাচ ভেঙে চালক ও হেলপারকে মারধর করে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং ধানসহ ট্রাকটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনাটি জানার সাথে সাথেই পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় সদর থানা, বদলগাছি থানা ও সদর সার্কেলের পুলিশ সদস্যরা মাঠে নামেন। তদন্তের এক পর্যায়ে পাওয়া তথ্যে বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ থানার মোকামতলা তদন্ত কেন্দ্রে একটি ট্রাক ও একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক রাখা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ডিবি নওগাঁর একটি টিম সেখানে পৌঁছে আটক ব্যক্তি মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ (৩০) কে জিজ্ঞাসাবাদ করে ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত হয় যে, সে ডাকাতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এরপর আরিফুল ইসলামকে হেফাজতে নিয়ে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ ও সাদুল্যাপুর থানায় অভিযান চালিয়ে মো. গোলাপ (২৪), লাভলু (২৮) কে আরও দুই ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর এলাকায় ডাকাত দলের সর্দার মো. সামিউল ইসলাম (৩০) কে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সে পালিয়ে গেলেও তার ভাড়া বাসা থেকে ডাকাতি হওয়া ট্রাকের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ঢাকা জেলার আশুলিয়া, সাভার ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও তিনজন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়।