সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

৭ মাসে সম্পূর্ণ কোরআন হিফজ করে বিস্ময় সৃষ্টি করল ১০ বছর বয়সী আহনাফ

অল্প বয়সে অদম্য মেধা ও অধ্যবসায়ে ফেনীর ছাগলনাইয়ায় বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন

Master Mohammad Hanif
Master Mohammad Hanif - Feni District Correspondent, Feni District প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৩:৫৪ পিএম | 88 বার পড়া হয়েছে
অল্প বয়সে অদম্য মেধা ও অধ্যবসায়ে ফেনীর ছাগলনাইয়ায় বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন

মাত্র সাত মাসে সম্পূর্ণ পবিত্র কোরআন মাজীদ হিফজ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার নিজকুঞ্জরা গ্রামের কৃতী সন্তান মোহাম্মদ আহনাফ (১০)।

অল্প বয়সেই এমন অসাধারণ সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে সে পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠীসহ পুরো এলাকাবাসীর মাঝে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি সৃষ্টি করেছে।

জানা যায়, মোহাম্মদ আহনাফ ফেনীর ঐতিহ্যবাহী মহিপাল দারুল ইসলাম হিফজুল কুরআন মাদ্রাসা-এর একজন নিয়মিত ও মেধাবী ছাত্র।

সে ছাগলনাইয়া উপজেলার নিজকুঞ্জরা গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে পরিচিত শামীম মাস্টারের সন্তান।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, সাধারণত একটি পূর্ণ কোরআন হিফজ করতে কয়েক বছর সময় লাগলেও আহনাফ তার অসাধারণ স্মরণশক্তি, একাগ্রতা ও কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে মাত্র সাত মাসেই এই বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেছে। তার প্রতিদিনের পড়াশোনার রুটিন ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল।

নির্ধারিত সময়ের বাইরেও সে স্বেচ্ছায় নিয়মিত মুরাজা‘আ (পুনরাবৃত্তি) করত।
মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ জানান, আহনাফ অত্যন্ত ভদ্র, বিনয়ী ও মনোযোগী ছাত্র। সে কখনো ক্লাসে অমনোযোগী হয়নি এবং শিক্ষকদের নির্দেশনা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছে।

শিক্ষকরা আরও জানান, এই সাফল্যের পেছনে যেমন আহনাফের ব্যক্তিগত চেষ্টা রয়েছে, তেমনি তার পরিবার ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের নিবিড় তত্ত্বাবধানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

আহনাফের বাবা শামীম মাস্টার সন্তানের এই কৃতিত্বে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে বলেন,
“আমরা কখনো কল্পনাও করিনি যে এত অল্প সময়ে সে সম্পূর্ণ কোরআন হিফজ করতে পারবে। এটা একান্তই আল্লাহর দান।

আমি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন আমার সন্তানকে দ্বীনের খেদমতে কবুল করেন এবং কোরআনের আলোয় জীবন পরিচালনার তাওফিক দেন।”

এদিকে মোহাম্মদ আহনাফের এই অসাধারণ অর্জনে পরিবার, আত্মীয়স্বজন, শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে।

অনেকেই তাকে ভবিষ্যতে একজন আদর্শ হাফেজে কোরআন, আলেম ও কোরআনের খাদেম হিসেবে দেখতে চান।

এলাকাবাসীর অভিমত, আহনাফের এই সাফল্য শুধু তার পরিবারের জন্য নয়, বরং পুরো সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তার এই অর্জন অন্যান্য শিক্ষার্থীদের কোরআন শিক্ষায় আগ্রহী করে তুলবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মহান আল্লাহ যেন মোহাম্মদ আহনাফকে পবিত্র কোরআনের শিক্ষা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করার তাওফিক দান করেন এবং তাকে দ্বীন ও মানবতার কল্যাণে কবুল করেন—এই দোয়া করছেন সকলেই।

ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদত্যাগ

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৭ পিএম
ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদত্যাগ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির উত্তরাঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তৌহিদ মো. সিয়াম পদত্যাগ করেছেন। আজ সোমবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ কথা জানান।

ফেসবুক পোস্টে সিয়াম লিখেছেন, ‘গত ২৮ মার্চ আমি জাতীয় ছাত্রশক্তি থেকে পদত্যাগ করেছি। এই পথচলায় যারা আমার সহযোদ্ধা ছিলেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। জাতীয় ছাত্রশক্তি ও এনসিপির নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রয়াস সফল হোক এই কামনা করি।’

আবু তৌহিদ মো. সিয়াম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখার সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর তিনি বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। বাগছাসের নাম পরিবর্তন ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে গত ২৩ অক্টোবর আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় ছাত্রশক্তি।

এরপর ৩১ অক্টোবর সংগঠনটির চার সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক (উত্তরাঞ্চল) পদে দায়িত্ব পেয়েছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু তৌহিদ মো. সিয়াম।

মোঃ সাকিব মুন্সী

মদনে বিএনপি নেতাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

মোঃ সাকিব মুন্সী প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
মদনে বিএনপি নেতাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বিএনপি নেতাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান আকন্দ শফিক, তিনি মদন উপজেলা বিএনপির সহ-সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মদন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানা সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার নিজ বাড়ির সামনে বিলে ঘাস কাটতে গেলে জমির মালিকানা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে একই গ্রামের মো. সোহেল (৩৫), তার ভাই মো. কায়েস (২৮), কাউসার (৩০) ও মো. সাগর (২২) মিলে তাকে মারধর করে এবং পানিতে চুবিয়ে নির্যাতন করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ঘটনার প্রতিবাদে রোববার মদন পৌরশহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা, এতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযুক্ত সোহেল মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মেহেদী হাসান আমার চাষকৃত জমিতে ঘাস কাটছিল। আমি বাধা দিলে ধস্তাধস্তি হয়। তবে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয়।”
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান বলেন, “এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

জয়া আহসান এবং বিপাশা হায়াতকে নিয়ে বিতর্ক

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৩ পিএম
জয়া আহসান এবং বিপাশা হায়াতকে নিয়ে বিতর্ক

জয়া আহসান এবং বিপাশা হায়াতকে নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে নিউজফিডে অহেতুক একটা বিতর্ক দেখছি।
দুজনের বয়স কাছাকাছি, কিন্তু জয়া যেভাবে নিজেকে মেন্টেইন করেছেন, নিজের বয়সকে ধরে রেখেছেন, বিপাশা সেভাবে পারেননি,
তার শরীরে বয়সের ছাপ পড়েছে, চুল পেকেছে আরো কত কি।
সমস্যাটা আসলে কার চুল সাদা, কার ফিগার ছিপছিপে, কার মেকআপ কম সেটা না, সমস্যাটা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে।
একটা অদ্ভুত মানসিকতা ধীরে ধীরে সমাজে জায়গা করে নিয়েছে।
যেখানে একজন নারী বয়সকে যেভাবে গ্রহণ করবেন, সেটাকেই আদর্শ বানিয়ে অন্যদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বিপাশা হায়াত যদি নিজের সাদা চুল, স্বাভাবিক বয়স এসবকে গ্রহণ করেন, সেটা তার ব্যক্তিগত পছন্দ, তার স্বাচ্ছন্দ্য।
কিন্তু সেই পছন্দকে মাপকাঠি বানিয়ে অন্য নারীদের বিচার করা এটা আসলে প্রশংসা না, এটা নিয়ন্ত্রণের আরেক রূপ।
একইভাবে, জয়া আহসান যদি নিজেকে ফিট রাখেন, স্টাইলিশ থাকেন, কিংবা নিজের মতো করে ইয়াং অনুভব করতে চান, তাহলে সেটাও তার অধিকার।
বয়স বাড়লেই কেন একজন নারীকে নির্দিষ্ট ছাঁচে ঢুকে যেতে হবে?
কেন তার সাজ, পোশাক, এমনকি নিজের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি সবকিছু সমাজ ঠিক করে দেবে?
সবচেয়ে বড় সমস্যার বিষয় হলো এই তুলনাটা।
একজনকে তুলে ধরতে গিয়ে আরেকজনকে ছোট করা।
একজন স্বাভাবিক, কারণ তিনি বয়স মেনে নিয়েছেন,
আরেকজন অস্বাভাবিক, কারণ তিনি নিজেকে ধরে রাখতে চান।
এই বিভাজনটা আসলে কতটা যুক্তিযুক্ত?
সত্যি বলতে, এখানে প্রশংসার আড়ালে একটা সূক্ষ্ম চাপ কাজ করে, তুমি এমন হও, না হলে তুমি ভুল, তুমি খারাপ।
কেউ সাদা চুলে স্বাচ্ছন্দ,
কেউ রঙ করে ভালো লাগে।
কেউ মেকআপ ছাড়াই স্বস্তিতে,
কেউ সাজতে ভালোবাসে।
এই ভিন্নতাই স্বাভাবিক।
সমালোচনা যদি করতেই হয়, তাহলে এই দ্বিমুখী মানসিকতারই করা উচিত।
যেখানে একজন নারীর স্বাধীন পছন্দকে আরেকজনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়।
কারণ শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা খুব সহজ,
নারী কি নিজের মতো করে বাঁচতে পারবে?
নাকি তাকে সবসময় অন্যের পছন্দ অনুযায়ী বদলাতে হবে?

error: Content is protected !!