সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

ফেনী–৩, নির্বাচন ও গণতন্ত্রের প্রশ্ন: 

আবদুল আউয়াল মিন্টুর বক্তব্য কী ইঙ্গিত দেয়

Master Mohammad Hanif
Master Mohammad Hanif - Feni District Correspondent, Feni District প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৩:৪৮ পিএম | 77 বার পড়া হয়েছে
আবদুল আউয়াল মিন্টুর বক্তব্য কী ইঙ্গিত দেয়

দেশের রাজনীতি আজ আর কেবল দলীয় প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি পরিণত হয়েছে গণতন্ত্র টিকে থাকার লড়াইয়ে।

ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে যে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে, তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

এই প্রেক্ষাপটে ফেনী–৩ নির্বাচনী এলাকার বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট শিল্পপতি জনাব আবদুল আউয়াল মিন্টু–র সঙ্গে সমসাময়িক রাজনীতি ও নির্বাচন বিষয়ে আলোচনাটি বিশেষ তাৎপর্য দাবি করে।

আলোচনায় তিনি যে বাস্তবতা তুলে ধরেন, তা মূলত রাষ্ট্র পরিচালনার বর্তমান সংকটেরই প্রতিফলন। একটি কার্যকর গণতন্ত্রে নির্বাচন মানে কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; নির্বাচন মানে জনগণের মতামতের অবাধ প্রকাশ।

অথচ দীর্ঘদিন ধরে সেই মৌলিক অধিকার প্রশ্নবিদ্ধ। এর ফলে রাজনীতির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্রমাগত ক্ষয়ে যাচ্ছে—যা কোনো রাষ্ট্রের জন্য শুভ লক্ষণ নয়।

ফেনী–৩ আসনের বাস্তব চিত্র নিয়ে তার বক্তব্য আরও স্পষ্ট ও বাস্তবধর্মী। উন্নয়নের নামে বৈষম্য, পরিকল্পনার অভাব এবং কর্মসংস্থানের সংকট এই জনপদের দীর্ঘদিনের সমস্যা।

রাজনৈতিক নেতৃত্ব যখন জনকল্যাণের বদলে ক্ষমতার হিসাবেই বেশি ব্যস্ত থাকে, তখন এমন পরিস্থিতিই তৈরি হয়। একজন শিল্পপতি হিসেবে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের বিষয়ে জনাব মিন্টুর অভিজ্ঞতা এই এলাকায় ভিন্নমাত্রা যোগ করতে পারে—এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

তিনি যে কথাটি সবচেয়ে জোর দিয়ে উচ্চারণ করেন, তা হলো—রাজনীতি প্রতিহিংসার জন্য নয়, বরং রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য। সহনশীলতা ছাড়া গণতন্ত্র টেকে না, আর ভিন্নমত দমন করে কখনোই স্থিতিশীলতা আনা যায় না।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং জবাবদিহিমূলক প্রশাসন—এসব কোনো বিলাসিতা নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক শর্ত।

নির্বাচন প্রসঙ্গে তার আশাবাদ রাজনৈতিক বক্তব্যের চেয়েও বেশি কিছু। এটি একটি বিশ্বাসের প্রকাশ—যদি জনগণ নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়, তবে ফলাফল স্বাভাবিকভাবেই জনগণের পক্ষেই যাবে।

“আল্লাহর রহমতে ধানের শীষের বিজয় হবে—ইনশাআল্লাহ”—এই উচ্চারণের ভেতরে রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি জনগণের ওপর আস্থার ঘোষণাও স্পষ্ট।

সম্পাদকীয় দৃষ্টিতে বলা যায়, এই আলোচনা কেবল একজন প্রার্থীর বক্তব্য নয়; এটি বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের একটি স্পষ্ট ভাষ্য। প্রশ্ন হলো—রাষ্ট্র কি জনগণের কণ্ঠ শুনতে প্রস্তুত, নাকি নির্বাচন আবারও আনুষ্ঠানিকতার গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে? ফেনী–৩ আসনের নির্বাচন সেই বৃহত্তর প্রশ্নেরই একটি অংশ।

শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবে জনগণ। তবে এটুকু নিশ্চিত—গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও জবাবদিহির প্রশ্নে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া নেতৃত্বই আজ সময়ের দাবি।

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের, নোয়াখালী

নোয়াখালীতে মাদক দ্বন্দ্বে তরুণকে কুপিয়ে হত্যা

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের, নোয়াখালী প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
নোয়াখালীতে মাদক দ্বন্দ্বে তরুণকে কুপিয়ে হত্যা

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় মাদক সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে মো. নিরব (২৬) নামে এক তরুণকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে আসামিদের নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে রোববার দুপুরে উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মাইজচরা গ্রামের বাংলাবাজারের উত্তর পাশে কালা দুলালের বাপের বাড়ির সামনে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় নিরবকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহত নিরব একই ওয়ার্ডের আব্দুল গনি বাড়ির আব্দুল গনির ছেলে। তিনি পেশায় একজন স’মিল শ্রমিক ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিরব কিছুদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। কয়েকদিন আগে মাদক সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক রুবেল মাঝির (২৮) ভাতিজার সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
ওই বিরোধের জেরে রোববার সকাল ১০টার দিকে নিরব তার তিন সহযোগীকে নিয়ে বাংলাবাজারের উত্তর পাশে রুবেল মাঝির ওপর হামলা চালায়। এ সময় ছুরিকাঘাতে রুবেল মাঝির ৩-৪ জন অনুসারী আহত হয়।

পরে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে দুপুর ১২টার দিকে নিরবের অনুসারীরা প্রতিপক্ষ রুবেল মাঝির বাড়ির সামনে চলে গেলে রুবেল মাঝির লোকজন ধাওয়া দিয়ে নিরবকে আটক করে। পরে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিরবকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের পিতা মো. জহির ওরফে আব্দুল গনি রোববার রাতে ২২ জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে রোববার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে পূর্ব মাইজচরা গ্রাম থেকে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

SIRAJUL KABIR BULBUL

উখিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় উখিয়া উপজেলা বিএনপির সহ সাধারণ সম্পাদক কারানির্যাতিত সাবেক, ছাত্রনেতা, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন

SIRAJUL KABIR BULBUL প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
উখিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় উখিয়া উপজেলা বিএনপির সহ সাধারণ  সম্পাদক কারানির্যাতিত সাবেক, ছাত্রনেতা, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন

SIRAJUL KABIR BULBUL

নিরাপত্তা ও বৈধতা নিয়েও শঙ্কা, সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি

সৌদি প্রবাসীদের জন্য সতর্কবার্তা

বিশেষ প্রতিনিধিঃ প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১০:২১ পিএম
সৌদি প্রবাসীদের জন্য সতর্কবার্তা

সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে জরুরি সতর্কবার্তা দিয়েছেন “সৌদি প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ১০১ টিম”-এর পরিচালক মো: সেলিম রানা। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে সকল প্রবাসীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

তার দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, “যারা সৌদি আরবে আছেন, তারা অপ্রয়োজনে বাইরে বের হবেন না। আকামার মেয়াদ ও কাগজপত্র বৈধ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদ ও আটক হওয়ার ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে উমরাহ বা হজের উদ্দেশ্যে চলাচলের সময়ও অনেক প্রবাসী সমস্যায় পড়ছেন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু ক্ষেত্রে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও প্রবাসীদের আটক করে জেল খাটিয়ে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে করে শত শত বাংলাদেশি প্রবাসী চরম দুর্ভোগে পড়ছেন এবং তাদের পরিবারগুলোও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছে।
১০১ টিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইতোমধ্যে অনেক প্রবাসী কান্না ও আহাজারির মধ্য দিয়ে দেশে ফেরত যেতে বাধ্য হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় হতাশা বাড়ছে প্রবাসীদের মধ্যে।
এ বিষয়ে ১০১ টিমের সদস্য ফয়সাল, জাহিদ ও নাঈম বলেন, “আমরা জানতে চাই—বৈধভাবে সৌদি আরবে থাকার পরও কেন আমরা নিরাপদ নই? আমাদের সমস্যা কে দেখবে?”
তারা আরও দাবি জানান, বাংলাদেশের সরকারকে দ্রুত এ বিষয়ে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে এবং প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হয় এবং ভিসা ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়। তাই প্রবাসীদের সবসময় নিজেদের কাগজপত্র হালনাগাদ রাখা, নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা এবং সন্দেহজনক পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপসংহার:
বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি প্রবাসীদের জন্য সচেতনতা ও সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপই পারে প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও আস্থার জায়গা পুনরুদ্ধার করতে।

error: Content is protected !!