সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

ডেমরায় ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া 

সোনাগাজীর যুবক ফখরুল ইসলামের দাফন সম্পন্ন

Master Mohammad Hanif
Master Mohammad Hanif - Feni District Correspondent, Feni District প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১২:১৮ পিএম | 89 বার পড়া হয়েছে
সোনাগাজীর যুবক ফখরুল ইসলামের দাফন সম্পন্ন

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যু হত্যাকাণ্ড নাকি আত্মহত্যা—পরিবার ও পুলিশ দু’পক্ষই অপেক্ষায়; স্ত্রীর দাবি, স্বামীর শরীরে ছিল আঘাতের চিহ্ন: ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নের সেনেরখিল গ্রামে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া যুবক ফখরুল ইসলাম (২৮)–এর দাফন বুধবার সম্পন্ন হয়েছে। সকাল সাড়ে ৯টায় সেনেরখিল গ্রামের জামে মসজিদের সামনে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

ফখরুল ইসলাম সাবেক চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ইলিয়াস হোসেনের তৃতীয় ছেলে। তিনি একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ভুট্টোর ছোট ভাই।

ঘটনার বিবরণ
গত ৮ ডিসেম্বর, সোমবার বিকেলে ঢাকার ডেমরা থানার মুস্তাক হাজি এলাকার খালের পাশে একটি গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ফখরুলের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে ৯ ডিসেম্বর রাত আটটায় স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে।

পরিবারের দাবি ও শোকস্তব্ধ পরিবেশ
ফখরুলের বড় ভাই নুরুল ইসলাম ভুট্টো সৌদি আরব থেকে জানিয়েছেন, ফখরুল এলাকায় ইলেকট্রনিক মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন। তিনি রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী পরিবারের সন্তান হলেও কখনও কাউকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেননি। আ.লীগ সরকারের পতনের পর জীবিকার প্রয়োজনে তিনি ঢাকার ডেমরা এলাকায় একটি গ্যাস বোতলজাত দোকানে চাকরি নেন।

তিনি আরও জানান, সম্প্রতি ইতালিতে তার ওয়ার্ক পারমিট (নোলস্তা) ইস্যু হয়েছে এবং ভিসা প্রসেসিং প্রায় শেষ পর্যায়ে ছিল। আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই তার ইতালি যাওয়ার কথা ছিল।

ফখরুলের দুই কন্যা সন্তান রয়েছে, বয়স মাত্র ৪ ও ৫ বছর। স্ত্রী ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। শ্বশুরবাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরপার্বতী গ্রামে। স্বল্প বেতনের দোকানের চাকরির ব্যবস্থাও করেছিলেন তার শ্বশুর।

স্ত্রীর অভিযোগ: ‘এটি আত্মহত্যা নয়, হত্যাকাণ্ড’
ফখরুলের স্ত্রী রুবিনা আক্তার জানান, শনিবার রাতে স্বামীর সঙ্গে তার সর্বশেষ কথা হয়েছে। পরদিন সকালে ফোন বন্ধ থাকায় তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেন। সোমবার রাতে ডেমরা থানা পুলিশ থেকে তার স্বামীর মৃত্যুসংবাদ পান।

তিনি বলেন, “কেউ কেউ বলছে আমার স্বামী আত্মহত্যা করেছে—কিন্তু এটি আত্মহত্যা হতে পারে না। তার মুখমণ্ডলে ও শরীরে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন ছিল। আত্মহত্যা করলে আঘাতের চিহ্ন থাকবে কেন? আমার দৃঢ় বিশ্বাস—এটি হত্যাকাণ্ড।”

পুলিশের বক্তব্য
ডেমরা থানার ওসি তাইফুর রহমান বলেন, “লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়েছে এবং ঢামেকে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার আগে মৃত্যু হত্যাকাণ্ড নাকি আত্মহত্যা—এটি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।”

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ক্ষুব্ধ পরিবারের প্রশ্ন
ফখরুলের পরিবার জানায়—তারা সঠিক ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চান না। তবে মরদেহে আঘাতের চিহ্ন থাকায় তারা মৃত্যুকে রহস্যজনক মনে করছেন।

পরিবারের ভাষায়— “আমরা কার কাছে বিচার চাইব? তদন্তের স্বচ্ছতা চাই।”

উপসংহার
ফখরুল ইসলামের রহস্যজনক মৃত্যু এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এখন পরিবার, স্থানীয় জনগণ ও প্রশাসন—সবাই ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছেন। রিপোর্ট প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে, এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড।

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের, নোয়াখালী

নোয়াখালীতে মাদক দ্বন্দ্বে তরুণকে কুপিয়ে হত্যা

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের, নোয়াখালী প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
নোয়াখালীতে মাদক দ্বন্দ্বে তরুণকে কুপিয়ে হত্যা

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় মাদক সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে মো. নিরব (২৬) নামে এক তরুণকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে আসামিদের নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে রোববার দুপুরে উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মাইজচরা গ্রামের বাংলাবাজারের উত্তর পাশে কালা দুলালের বাপের বাড়ির সামনে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় নিরবকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহত নিরব একই ওয়ার্ডের আব্দুল গনি বাড়ির আব্দুল গনির ছেলে। তিনি পেশায় একজন স’মিল শ্রমিক ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিরব কিছুদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। কয়েকদিন আগে মাদক সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক রুবেল মাঝির (২৮) ভাতিজার সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
ওই বিরোধের জেরে রোববার সকাল ১০টার দিকে নিরব তার তিন সহযোগীকে নিয়ে বাংলাবাজারের উত্তর পাশে রুবেল মাঝির ওপর হামলা চালায়। এ সময় ছুরিকাঘাতে রুবেল মাঝির ৩-৪ জন অনুসারী আহত হয়।

পরে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে দুপুর ১২টার দিকে নিরবের অনুসারীরা প্রতিপক্ষ রুবেল মাঝির বাড়ির সামনে চলে গেলে রুবেল মাঝির লোকজন ধাওয়া দিয়ে নিরবকে আটক করে। পরে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিরবকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের পিতা মো. জহির ওরফে আব্দুল গনি রোববার রাতে ২২ জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে রোববার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে পূর্ব মাইজচরা গ্রাম থেকে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

SIRAJUL KABIR BULBUL

উখিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় উখিয়া উপজেলা বিএনপির সহ সাধারণ সম্পাদক কারানির্যাতিত সাবেক, ছাত্রনেতা, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন

SIRAJUL KABIR BULBUL প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
উখিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় উখিয়া উপজেলা বিএনপির সহ সাধারণ  সম্পাদক কারানির্যাতিত সাবেক, ছাত্রনেতা, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন

SIRAJUL KABIR BULBUL

নিরাপত্তা ও বৈধতা নিয়েও শঙ্কা, সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি

সৌদি প্রবাসীদের জন্য সতর্কবার্তা

বিশেষ প্রতিনিধিঃ প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১০:২১ পিএম
সৌদি প্রবাসীদের জন্য সতর্কবার্তা

সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে জরুরি সতর্কবার্তা দিয়েছেন “সৌদি প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ১০১ টিম”-এর পরিচালক মো: সেলিম রানা। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে সকল প্রবাসীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

তার দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, “যারা সৌদি আরবে আছেন, তারা অপ্রয়োজনে বাইরে বের হবেন না। আকামার মেয়াদ ও কাগজপত্র বৈধ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদ ও আটক হওয়ার ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে উমরাহ বা হজের উদ্দেশ্যে চলাচলের সময়ও অনেক প্রবাসী সমস্যায় পড়ছেন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু ক্ষেত্রে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও প্রবাসীদের আটক করে জেল খাটিয়ে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে করে শত শত বাংলাদেশি প্রবাসী চরম দুর্ভোগে পড়ছেন এবং তাদের পরিবারগুলোও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছে।
১০১ টিমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইতোমধ্যে অনেক প্রবাসী কান্না ও আহাজারির মধ্য দিয়ে দেশে ফেরত যেতে বাধ্য হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় হতাশা বাড়ছে প্রবাসীদের মধ্যে।
এ বিষয়ে ১০১ টিমের সদস্য ফয়সাল, জাহিদ ও নাঈম বলেন, “আমরা জানতে চাই—বৈধভাবে সৌদি আরবে থাকার পরও কেন আমরা নিরাপদ নই? আমাদের সমস্যা কে দেখবে?”
তারা আরও দাবি জানান, বাংলাদেশের সরকারকে দ্রুত এ বিষয়ে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে এবং প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হয় এবং ভিসা ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়। তাই প্রবাসীদের সবসময় নিজেদের কাগজপত্র হালনাগাদ রাখা, নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা এবং সন্দেহজনক পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপসংহার:
বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি প্রবাসীদের জন্য সচেতনতা ও সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপই পারে প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও আস্থার জায়গা পুনরুদ্ধার করতে।

error: Content is protected !!