সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

অপি মুন্সী : শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি

শিবচরের দত্তপাড়ায় কমলার বাগান করে স্বাবলম্বী রাসেল মিয়া

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:৪৬ এএম | 69 বার পড়া হয়েছে
শিবচরের দত্তপাড়ায় কমলার বাগান করে স্বাবলম্বী রাসেল মিয়া

মাদারীপুরের শিবচর দত্তপাড়া ইউনিয়নে সূর্যনগর গ্রাম। সবুজের আবরণে মোড়া, নীরব প্রকৃতির এক প্রশান্ত ঠিকানা। সেই গ্রামেই ৯ বিঘা জমিতে কমলা, মাল্টা, পেয়ারা, ড্রাগন সবমিলিয়ে এখন বেশ বড় ফার্ম গড়েছেন প্রবাস ফেরত রাসেল হোসেন। এর মধ্যে দেড় বিঘা জায়গাজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যতিক্রমী এক কমলার বাগান, যা এখন শিবচরের মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু।

গত ছয় বছর আগে লাগানো কমলার চারা এখন টানা দুই মৌসুম ধরে দিচ্ছে চমকপ্রদন ফলন। ছোট আকৃতির টক-মিষ্টি প্রজাতির এই কমলাগুলো গাছে গাছে ঝুলে থাকে থোকায় থোকায়। বাগানে ঢুকলেই ঘ্রাণে ভরে যায় চারদিক, চোখে পড়ে হলুদ-সবুজ রঙের মন ছুঁয়ে যাওয়া দৃশ্য। পাশাপাশি মাল্টা, পেয়ারা আর ড্রাগন ফলের চাষও বাগানটিকে করে তুলেছে একটি সমন্বিত ফলের খামার।

দত্তপাড়া মৃধাকান্দির লিজ নেওয়া জমিতে রাসেল গড়ে তুলেছেন তার স্বপ্নের এই উদ্যোগ। দেড় বিঘা জমিতে রোপণ করা ৭০টি কমলাগাছের বেশিরভাগই এখন নিয়মিত ফল দিচ্ছে। স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি ২৭০থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয় এসব কমলা। ফরমালিনবিহীন ও তাজা হওয়ায় বহু ক্রেতা সরাসরি বাগানেই এসেই কিনতে।

যেখানে দেশে কমলা চাষ এখনও বিরল, সেখানে প্রবাস ফেরত এক যুবকের অধ্যবসায় শিবচরের মাটিতে লিখে দিয়েছে সফলতার নতুন অধ্যায়।

রাসেলের বাগান শুধু কৃষি উৎপাদনেই নয়, এলাকার তরুণদের মাঝেও জাগিয়ে তুলছে নতুন প্রেরণা ও উদ্যোগের সাহস। মাটির প্রতি টানে দেশে ফিরে গড়া এই বাগান শিবচরের কৃষিতে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

এলাকাবাসীর মতে, দেশে যেখানে কমলা চাষ এখনও অচেনা বাস্তবতা, সেখানে রাসেলের এই প্রচেষ্টা কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। তার বাগান নিয়ে এলাকায় চলছে ব্যাপক আলোচনা।

বাগানে কমলা কিনতে আসা একজ বলেন, গাছে পাকা কমলার স্বাদ এই প্রথম। অসাধারণ লাগল। তাই দুই কেজি নিলাম। সবচেয়ে ভালো লেগেছে কোনো রাসায়নিক নেই।

এ বিষয়ে বাগানের মালিক রাসেল হোসেন জানান, এই বাগান শুধু বাবার শখ নয়, আমার নিজেরও স্বপ্ন। সৌদি আরব থেকে ফিরে চাকরি করলেও মন পড়ে থাকত বাগানে। শেষে চাকরি ছেড়ে পুরো সময়টাই এখন কৃষিকাজে দিচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, গত মৌসুমে ফলন খুব ভালো ছিল। এবার ফল কিছুটা কম হলেও স্বাদ আরও দারুণ। ৯ বিঘা জমিতে কমলা ছাড়াও মাল্টা, পেয়ারা, ড্রাগন সবমিলিয়ে এখন বেশ বড় ফার্ম হয়ে গেছে। অনলাইনেও অর্ডার আসে, শিবচরেই সব বিক্রি হয়ে যায়। নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তার পরামর্শ—মাটিকে ভালোবাসতে হবে। পরিশ্রম ছাড়া সফলতা আসবে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, রাসেলের বাগান এখন পরিপূর্ণ ফলনের পর্যায়ে। উৎপাদিত কমলার স্বাদ অত্যন্ত উন্নত। তাকে মিশ্র ফল বাগান প্রকল্পের আওতায় সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। ভবিষ্যতে সার ব্যবহারের বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা সহযোগিতা করবেন।

ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদত্যাগ

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৭ পিএম
ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদত্যাগ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির উত্তরাঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তৌহিদ মো. সিয়াম পদত্যাগ করেছেন। আজ সোমবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এ কথা জানান।

ফেসবুক পোস্টে সিয়াম লিখেছেন, ‘গত ২৮ মার্চ আমি জাতীয় ছাত্রশক্তি থেকে পদত্যাগ করেছি। এই পথচলায় যারা আমার সহযোদ্ধা ছিলেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। জাতীয় ছাত্রশক্তি ও এনসিপির নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রয়াস সফল হোক এই কামনা করি।’

আবু তৌহিদ মো. সিয়াম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখার সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর তিনি বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। বাগছাসের নাম পরিবর্তন ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে গত ২৩ অক্টোবর আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় ছাত্রশক্তি।

এরপর ৩১ অক্টোবর সংগঠনটির চার সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক (উত্তরাঞ্চল) পদে দায়িত্ব পেয়েছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু তৌহিদ মো. সিয়াম।

মোঃ সাকিব মুন্সী

মদনে বিএনপি নেতাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

মোঃ সাকিব মুন্সী প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
মদনে বিএনপি নেতাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বিএনপি নেতাকে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান আকন্দ শফিক, তিনি মদন উপজেলা বিএনপির সহ-সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে কয়েকজনের বিরুদ্ধে মদন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানা সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার নিজ বাড়ির সামনে বিলে ঘাস কাটতে গেলে জমির মালিকানা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে একই গ্রামের মো. সোহেল (৩৫), তার ভাই মো. কায়েস (২৮), কাউসার (৩০) ও মো. সাগর (২২) মিলে তাকে মারধর করে এবং পানিতে চুবিয়ে নির্যাতন করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ঘটনার প্রতিবাদে রোববার মদন পৌরশহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা, এতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযুক্ত সোহেল মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মেহেদী হাসান আমার চাষকৃত জমিতে ঘাস কাটছিল। আমি বাধা দিলে ধস্তাধস্তি হয়। তবে পানিতে চুবিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয়।”
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান বলেন, “এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

জয়া আহসান এবং বিপাশা হায়াতকে নিয়ে বিতর্ক

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৮:০৩ পিএম
জয়া আহসান এবং বিপাশা হায়াতকে নিয়ে বিতর্ক

জয়া আহসান এবং বিপাশা হায়াতকে নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে নিউজফিডে অহেতুক একটা বিতর্ক দেখছি।
দুজনের বয়স কাছাকাছি, কিন্তু জয়া যেভাবে নিজেকে মেন্টেইন করেছেন, নিজের বয়সকে ধরে রেখেছেন, বিপাশা সেভাবে পারেননি,
তার শরীরে বয়সের ছাপ পড়েছে, চুল পেকেছে আরো কত কি।
সমস্যাটা আসলে কার চুল সাদা, কার ফিগার ছিপছিপে, কার মেকআপ কম সেটা না, সমস্যাটা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে।
একটা অদ্ভুত মানসিকতা ধীরে ধীরে সমাজে জায়গা করে নিয়েছে।
যেখানে একজন নারী বয়সকে যেভাবে গ্রহণ করবেন, সেটাকেই আদর্শ বানিয়ে অন্যদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বিপাশা হায়াত যদি নিজের সাদা চুল, স্বাভাবিক বয়স এসবকে গ্রহণ করেন, সেটা তার ব্যক্তিগত পছন্দ, তার স্বাচ্ছন্দ্য।
কিন্তু সেই পছন্দকে মাপকাঠি বানিয়ে অন্য নারীদের বিচার করা এটা আসলে প্রশংসা না, এটা নিয়ন্ত্রণের আরেক রূপ।
একইভাবে, জয়া আহসান যদি নিজেকে ফিট রাখেন, স্টাইলিশ থাকেন, কিংবা নিজের মতো করে ইয়াং অনুভব করতে চান, তাহলে সেটাও তার অধিকার।
বয়স বাড়লেই কেন একজন নারীকে নির্দিষ্ট ছাঁচে ঢুকে যেতে হবে?
কেন তার সাজ, পোশাক, এমনকি নিজের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি সবকিছু সমাজ ঠিক করে দেবে?
সবচেয়ে বড় সমস্যার বিষয় হলো এই তুলনাটা।
একজনকে তুলে ধরতে গিয়ে আরেকজনকে ছোট করা।
একজন স্বাভাবিক, কারণ তিনি বয়স মেনে নিয়েছেন,
আরেকজন অস্বাভাবিক, কারণ তিনি নিজেকে ধরে রাখতে চান।
এই বিভাজনটা আসলে কতটা যুক্তিযুক্ত?
সত্যি বলতে, এখানে প্রশংসার আড়ালে একটা সূক্ষ্ম চাপ কাজ করে, তুমি এমন হও, না হলে তুমি ভুল, তুমি খারাপ।
কেউ সাদা চুলে স্বাচ্ছন্দ,
কেউ রঙ করে ভালো লাগে।
কেউ মেকআপ ছাড়াই স্বস্তিতে,
কেউ সাজতে ভালোবাসে।
এই ভিন্নতাই স্বাভাবিক।
সমালোচনা যদি করতেই হয়, তাহলে এই দ্বিমুখী মানসিকতারই করা উচিত।
যেখানে একজন নারীর স্বাধীন পছন্দকে আরেকজনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়।
কারণ শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা খুব সহজ,
নারী কি নিজের মতো করে বাঁচতে পারবে?
নাকি তাকে সবসময় অন্যের পছন্দ অনুযায়ী বদলাতে হবে?

error: Content is protected !!