শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২
শনিবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২

নাসিরনগরের মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে অনিয়ম–দুর্নীতির অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৩:১২ পিএম | 102 বার পড়া হয়েছে
নাসিরনগরের মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে অনিয়ম–দুর্নীতির অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার এমপিওভুক্ত খান্দুরা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীরা গত ২৭ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, টানা তিন বছর ধরে মাদ্রাসার বাজেটভুক্ত কোনো ধরনের মেরামত বা উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ফান্ডের বিপুল পরিমাণ টাকার হিসাবও পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগকারীদের দাবি, মেয়াদোত্তীর্ণ ম্যানেজিং কমিটির নাম ব্যবহার করে কোনো বৈধ সভা ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটির বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন সুপার জহিরুল ইসলাম। এমনকি স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তুলেছেন তারা।
শিক্ষকদের অভিযোগ, সুপার মাদ্রাসার বিভিন্ন খাতের অর্থ এককভাবে ব্যবহার করছেন এবং কোনোভাবে স্বচ্ছ হিসাব দিচ্ছেন না। ভর্তির টাকা, মাঠ সংস্কার, ক্রীড়া সামগ্রী ক্রয়সহ নানা আর্থিক লেনদেনে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, মানসিক নির্যাতন এবং অপমানজনক ভাষা ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করেছে অভিযোগকারীরা।
এছাড়া শিক্ষক বদলি ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও করেছেন শিক্ষক–কর্মচারীরা। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি তাদের। চলতি শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হলেও তা অফিসিয়াল রেকর্ডে দেখানো হয়নি।
শিক্ষকরা জানান, এসব অনিয়মের কারণে মাদ্রাসার স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে; শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে সুপারের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগকারীরা আরও বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রভাব ব্যবহার করে সুপার তাদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করছেন।
অভিযুক্ত সুপার জহিরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। অভিযোগগুলোর কোনো প্রমাণ নেই। কারও অভিযোগ থাকলে আমি তার সমাধান করে দেব।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জীবন ভট্টাচার্য বলেন, “এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা হওয়ায় আমাদের এখতিয়ার সীমিত। তবে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব।”
এ বিষয়ে নাসিরনগরের ইউএনও শাহিনা নাসরিন বলেন, “শিক্ষকরা একবার নিজেদের মধ্যে বসে আপসের চেষ্টা করেছিলেন। গুরুতর অভিযোগগুলো যাচাই করে শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিচারিক প্রক্রিয়ায় ঐতিহাসিক অগ্রগতি

গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যা মামলা সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

শেখ জসিম উদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধি, উজ্জ্বল বাংলাদেশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৩৮ এএম
গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যা মামলা সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

গাজীপুরে তরুণ ও প্রতিশ্রুতিশীল সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

মামলার বাদী ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর গাজীপুর জেলা স্টাফ রিপোর্টার, নিহত সাংবাদিক তুহিনের বড় ভাই সেলিমের সাক্ষ্যগ্রহণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

চার্জ গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়াকে সাংবাদিক সমাজ বিচারিক ব্যবস্থার এক “ঐতিহাসিক মাইলফলক” হিসেবে দেখছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সাংবাদিক হত্যা মামলার ইতিহাসে চার্জ গঠনের পর এত দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়া বিরল, ব্যতিক্রমী ও নজিরবিহীন ঘটনা।

গত ৭ আগস্ট গাজীপুরের ব্যস্ততম চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যার বর্বর ঘটনা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করে। সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচারিক পরিণতির পথে এবার দৃশ্যমান অগ্রগতি শুরু হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার, সহকর্মী ও সারাদেশের সাংবাদিক সমাজে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

বুধবার দুপুরে প্রধান অভিযুক্ত কেটু মিজান ওরফে কোপা মিজান, তার স্ত্রী গোলাপিসহ মোট আটজন অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শুরু করেন।

মামলার বাদী ও নিহত সাংবাদিকের বড় ভাই সেলিমের প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে বিচারিক লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সূচিত হয়। আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি শুধু একটি মামলার অগ্রগতি নয়; বরং সাংবাদিক হত্যা বিচারে রাষ্ট্রীয় সদিচ্ছার একটি বড় পরীক্ষা।

সাংবাদিক তুহিনের পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত চন্দ্র সরকার বলেন,“চার্জ গঠনের পর এত দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়া সত্যিই ইতিবাচক। আমরা ইতোমধ্যে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা স্থানান্তরের আবেদন করেছি। অনুমোদন পেলে পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যেই বিচার শেষ করা সম্ভব। তবে এখনো সরকারি অনুমোদন না পাওয়ায় কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে।”

দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর সম্পাদক এবং সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল-এর প্রধান মো. খায়রুল আলম রফিক বলেন,“গত ৫৪ বছরে দেশে ৬৯ জন সাংবাদিক নিহত হলেও অধিকাংশ হত্যার বিচার হয়নি, যা জাতির জন্য লজ্জাজনক। তুহিন হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন হলে এটি একটি ব্যতিক্রমী নজির হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন,“দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিলে ৯০ দিনের মধ্যেই রায় সম্ভব। আমরা গত কয়েক মাস ধরে আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানিয়ে আসছি। আজ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ায় প্রথমবারের মতো মনে হচ্ছে—এই বিচার আমরা সত্যিই দেখতে যাচ্ছি।”

মামলার বাদী সেলিম বলেন,“দ্রুত বিচার চেয়ে দীর্ঘদিন ধরে আবেদন করেছি। আজ দীর্ঘ সময় ধরে সাক্ষ্যগ্রহণ হওয়ায় আমাদের পরিবারের জন্য এটি বড় স্বস্তির বিষয়। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।”

সাংবাদিক নেতাদের অভিমত, এই মামলায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হলে বাংলাদেশে সাংবাদিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই দেশজুড়ে সাংবাদিক সমাজ কালো ব্যাজ ধারণ, মানববন্ধন, প্রেস ক্লাব কর্মসূচি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবাদ গড়ে তোলে। একটাই স্লোগান তখন উচ্চারিত হয়—“তুহিন হত্যার বিচার চাই, দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, তুহিন শুধু একজন সাংবাদিকই ছিলেন না—তিনি ছিলেন সত্যের কণ্ঠস্বর। তার মৃত্যু ছিল সাংবাদিকতা, সমাজ ও গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত। বিচার বিলম্বিত হলে সেই ক্ষত আরও গভীর হতো।

চার্জ গঠন, দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ এবং ধারাবাহিক শুনানির মাধ্যমে এই মামলার অগ্রগতি একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—বাংলাদেশে সাংবাদিক হত্যা আর ধামাচাপা দেওয়া যাবে না।

সাংবাদিক মহলের দৃঢ় বিশ্বাস, তুহিন হত্যার বিচার কার্যকরভাবে সম্পন্ন হলে এটি বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে।

প্রশ্ন এখন একটাই—রাষ্ট্র কি এবার সত্যিই প্রমাণ করবে, সত্যের কণ্ঠ কখনো রুদ্ধ করা যায় না।

এ.এস.এম হামিদ হাসান, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কটিয়াদীতে মেজর আখতারের হাত ধরে দুই শতাধিক লোকের জামায়াতে যোগদান

এ.এস.এম হামিদ হাসান, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি, উজ্জ্বল বাংলাদেশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
কটিয়াদীতে মেজর আখতারের হাত ধরে দুই শতাধিক লোকের জামায়াতে যোগদান

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বিএনপির সাবেক এমপি,বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সদ্য জামায়াতে যোগদান করা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনের হাত ধরে বিএনপিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় দুই শতাধিক মানুষ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকাল থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত কটিয়াদী উপজেলার চান্দপুর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামে মেজর রঞ্জনের বাড়িতে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। মেজর আখতারের উপস্থিতিতে যোগদানকৃত ব্যক্তিরা জামায়াতের সহযোগী সদস্য ফর্ম পূরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্যপদ লাভ করেন।

জানা গেছে, গত ১৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা.শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সাবেক এমপি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন। এরপর থেকে তিনি স্থানীয় এলাকা ও ঢাকায় জামায়াতের বিভিন্ন কর্মসূচি ও অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে বক্তব্য দিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। পাশাপাশি তিনি কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে জামায়াতে মনোনীত ১০ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন।

এছাড়া‌ও গত বৃহস্পতিবার তিনি ঢাকা-১১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ দেন।য পাশাপাশি নিজ এলাকায় তিনি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের বিষয়ে ব্যাপকভাবে ভূমিকা পালন করে আসছেন। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে কটিয়াদী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপিসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, সাবেক ইউপি সদস্য এবং দুজন সনাতন ধর্মাবলম্বীর ব্যক্তিসহ প্রায় দুই শতাধিক লোক জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন।

এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন বলেন, দেশ ও মানুষের কল্যাণে আদর্শভিত্তিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যুক্ত হয়েছেন। এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীর হয়ে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

মেজর রঞ্জন আরও বলেন, দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে হলে সৎ ও আদর্শভিত্তিক নেতৃত্ব প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং মানুষকেও সেই আহ্বান জানিয়েছি। ইতোমধ্যে আমার আহ্বানে সাড়া দিয়ে মানুষ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহশ্রাম-ধূলদিয়া ও চান্দপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ। মেজর রঞ্জন বলেন ইনশাআল্লাহ আগামীকাল বিকেলেও এই যোগদান কর্মসূচি চলমান থাকবে।

মিলন বৈদ্য শুভ, রাউজান, (চট্টগ্রাম)

রাউজান সরকারি কলেজে বাণী অর্চনা পরিষদের উদ্যোগে বিদ্যাদেবী সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত

মিলন বৈদ্য শুভ, রাউজান, (চট্টগ্রাম), উজ্জ্বল বাংলাদেশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:২৭ এএম
রাউজান সরকারি কলেজে বাণী অর্চনা পরিষদের উদ্যোগে বিদ্যাদেবী সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রামের রাউজান সরকারি কলেজে বাণী অর্চনা পরিষদের উদ্যোগে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে বিদ্যাদেবী শ্রীশ্রী সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পবিত্র এই পূজা উপলক্ষে কলেজ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল মায়ের চরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, সমবেত প্রার্থনা, ধর্মীয় আলোচনা, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৃত্যানুষ্ঠান। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পূজার সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ উৎসবের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
অনুষ্ঠানে প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাউজান উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সম্মানিত সভাপতি শ্রীযুক্ত অরুণ পালিত (বাসু), রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনাব সাজেদুল ইসলাম (পলাশ), রাউজান উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সম্মানিত সাধারণ সম্পাদক শ্রীমান সুমন দাশগুপ্ত, সহ-সাধারণ সম্পাদক শ্রীযুক্ত টিপু দে ও হিমাদ্রি পাল ইমন, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রীমান দাশ (শুভ) ও বাপ্পা কুমার দাশ এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রীমান পাবেল চৌধুরী।
এছাড়াও রাউজান ঐক্যবদ্ধ সনাতনী সমাজ সংগঠনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন অমর কৃষ্ণ দাশ গুপ্ত, শ্রীমান দাশ (শুভ), সাগর দাশগুপ্ত (বাবু), উৎসব মজুমদার, অনিক দাশ (শুভ) ও রুবেল মজুমদার।
বাণী অর্চনা পরিষদের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক পার্থ দে, অর্থ সম্পাদক অন্তর মজুমদার, সহ-অর্থ সম্পাদক অভিষেক তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় দে, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয় বিশ্বাস ও চৈত্রীকা দে, সাংস্কৃতিক সম্পাদক তীর্থ চৌধুরী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক প্রীতম বিশ্বাস ও ঋতু দে, প্রচার সম্পাদক কিশোর দে, সহ-প্রচার সম্পাদক দীপঙ্কর দেবনাথ, নিলয় ভট্টাচার্যসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এ সময় বিপুল সংখ্যক সনাতনী ছাত্র-ছাত্রী ও ভক্তবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য রাউজান উপজেলায় ২৫০টিরও বেশি স্থানে বিদ্যাদেবী সরস্বতী পূজা উদযাপিত হচ্ছে, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।