বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২

নওগাঁ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে বিএনপির একাংশের মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:১৭ এএম | 189 বার পড়া হয়েছে
নওগাঁ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে বিএনপির একাংশের মানববন্ধন

নওগাঁর ধামইরহাটে আসন্ন ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৪৭, নওগাঁ-২ ধামইরহাট-পত্নীতলা আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় কমিটির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক শামসুজ্জোহা‘র বিএনপি মনোনীত এমপি পদে প্রাথমিক দলীয় মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দুপুর বারোটার দিকে উপজেলা পরিষদ গেটের সামনে জয়পুরহাট-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের উপর ৪৭, নওগাঁ-২ (ধামইরহাট-পত্নীতলা) বিএনপির সাধারণ ভোটার ও সর্বস্তরের জনগণের ডাকে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। দুপুরে জামায়েত হতে থাকা দলীয় সমর্থিত নেতাকর্মী ও নানান বয়সের নারী ও তরুণ ভোটাররা বিভিন্ন স্লোগানের ব্যানার ফেস্টুন ও তারেক জিয়ার ৩১ দফা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশে স্লোগান দিতে থাকেন।

উপজেলা শাখা বিএনপির একাংশ জানায়, নওগাঁ-২ (ধামইরহাট-পত্নীতলা) আসনে এমপি পদে পাঁচজন মনোনয়ন প্রত্যাশী ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দখলবাজ ও চাঁদাবাজদের দল থেকে বিতাড়িত করে শিক্ষিত তরুণ ও যোগ্য নেতৃত্বকে মনোনয়ন দেবার জোর দাবি জানানো হয়। অন্যথায় চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের মনোনয়ন দেওয়ার কারণে এ আসন জামায়াতের দখলে চলে যাওয়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়।

মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় কমিটির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক শামসুজ্জোহা খান, উপজেলা শাখা বিএনপির সাবেক সভাপতি চপল চৌধুরী, পত্নীতলা উপজেলা শাখা বিএনপির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় যুবদলের নির্বাহী কমিটির সহ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার কেএমএস মুসাব্বির শাফি ও আগ্রাদ্বীগুন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন মোস্তাক।

এদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য শামসুজ্জোহা‘র দুর্নীতি, দখলবাজি ও দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করে হাইব্রিডদের বিভিন্ন পদে সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে তার এমপি পদে প্রাথমিক দলীয় মনোনয়ন বাতিল করে কেন্দ্রীয় কমিটির মনোনয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় বাকি চারজনের মধ্যে যে কোন একজনকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেবার জোর দাবি জানানো হয়। অন্যথায় দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে জানান সাধারণ ভোটার ও দলীয় সমর্থকেরা

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সাবেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক দেওয়ান মোহাম্মদ ফেরদৌস, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজমল হোসেন চৌধুরী সাহান, পত্নীতলা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র আনোয়ার হোসেন, উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আলহাজ্ব রুহুল আমিন, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজুওয়ান হোসেন রঞ্জু, পত্নীতলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবু তাহের চৌধুরী, পত্নীতলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবু তাহের চৌধুরী মন্টু, ধামইরহাট মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদা আক্তার প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, গত ৩ নভেম্বর বিএনপির মনোনয়ন বোর্ড সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় কমিটির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক শামসুজ্জোহা খানকে ৪৭, নওগাঁ-২ ধামইরহাট-পত্নীতলা আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

 

জয় ই মামুন

মানিকগঞ্জে অবৈধভাবে ইট উৎপাদনের দায়ে সাতটি ইটভাটাকে জরিমানা

জয় ই মামুন প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৫ পিএম
মানিকগঞ্জে অবৈধভাবে ইট উৎপাদনের দায়ে সাতটি ইটভাটাকে জরিমানা

সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কৃষিজমির উর্বর উপরিভাগের মাটি কেটে ইট তৈরির অভিযোগে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০১৯-এর ৫(১) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ১৫(১) ধারা অনুযায়ী এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অভিযানে যেসব ইটভাটাকে জরিমানা করা হয়েছে সেগুলো হলো- কে এফ সি ব্রিকস (বেরুন্ডি) ৪ লাখ টাকা, মেসার্স সোহানা ব্রিকস (খোলাপাড়া) ৪ লাখ টাকা, মেসার্স এ এ বি অ্যান্ড কোং (গাড়াদিয়া) ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মেসার্স জে বি সি ব্রিকস (গোবিন্দল) ২ লাখ টাকা, মেসার্স কে বি সি ব্রিকস-১ (রামকান্তপুর) ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা,
মেসার্স কে বি সি ব্রিকস-২ (রামকান্তপুর) ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং মেসার্স এম আর এম ব্রিকস (রামকান্তপুর) ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

অভিযানটি পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইংয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজ্জাদ জাহিদ রাতুল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সহকারী পরিচালক মো. মোজাফফর খান।

অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র‍্যাব-৪ ও জেলা পুলিশের সদস্যরা সহায়তা প্রদান করেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালিত হলে পরিবেশ ধ্বংস রোধে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিস্টরা।

সামিনুর ইসলাম নীলফামারী

জলঢাকায় শিক্ষার্থী হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

সামিনুর ইসলাম নীলফামারী প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৩ পিএম
জলঢাকায় শিক্ষার্থী হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বগুলাগাড়ী পৌর (৪নং ওয়ার্ড) ডাঙ্গপাড়া এলাকায় সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় মানববন্ধন করেছে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

নিহত মিমনুর রহমান ভ্যানচালক আলমগীর হোসেন (আল্লীর) প্রথম পুত্র এবং বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন শিক্ষার্থী ছিলেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ মার্চ তিনি ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হয়ে নিহত হন। এ ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উদ্বেগ, শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ মর্মান্তিক ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের উদ্যোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে ব্যানার হাতে নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা ন্যায়বিচারের দাবি জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষিকা মোছা: মনোয়ারা বেগম, সহকারী প্রধান শিক্ষক মহুবর রহমান, শিক্ষক আব্দুল হাই, মিজানুর রহমান, স্বপন কুমার রায়, ভগীরথ চন্দ্র রায় এবং সহকারী শিক্ষিকা সাজেদা সুলতানা ও শিলা রানী রায়সহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন নিরপরাধ শিক্ষার্থীর এমন নির্মম মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা অবিলম্বে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একইসঙ্গে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার করার আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।

এ বিষয়ে জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। খুব শিগগিরই জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

এদিকে, নিহতের পরিবার শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে এবং দ্রুত বিচার প্রত্যাশা করছে। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে, যাতে এমন ঘটনা আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে চারতলা ভবন

আধুনিক হচ্ছে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা

মেহেদী হাসান রিপন প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১১ পিএম
আধুনিক হচ্ছে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা

যশোরবাসীর পুলিশি সেবা আরও বেগবান ও আধুনিক করতে বড় ধরনের সংস্কার উদ্যোগে হাত দিয়েছে সরকার। শহরের জরাজীর্ণ কোতোয়ালি মডেল থানা ভবনটি ভেঙে সেখানে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক চারতলা ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ষাট দশকে নির্মিত বর্তমান থানা ভবনটি দীর্ঘ ব্যবহারের ফলে বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সরকারের দেশব্যাপী ১০৭টি থানা আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় এই সংস্কার কাজ শুরু হচ্ছে। যশোর গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।

যশোর গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই ভবনটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। ২৬ হাজার স্কয়ার ফিটের এই ভবনের মূল কাঠামো বা ফাউন্ডেশন হবে ছয়তলা পর্যন্ত, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে এটি চারতলা হিসেবে নির্মিত হবে। ঝিনাইদহের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন করার দায়িত্ব পেয়েছে। আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সেবাপ্রার্থী এবং পুলিশ সদস্যদের সুবিধার্থে ভবনের প্রতিটি তলা সুনিপুণভাবে সাজানো হয়েছে:
* প্রথম তলা: অভ্যর্থনা কেন্দ্র এবং দাপ্তরিক অফিস।
* দ্বিতীয় তলা: হাজতখানা ও প্রশাসনিক শাখা।
* তৃতীয় তলা: অফিস এবং নারী পুলিশ সদস্যদের জন্য ব্যারাক।
* চতুর্থ তলা: পুরুষ পুলিশ সদস্যদের জন্য আধুনিক ব্যারাক।

অস্থায়ীভাবে কার্যক্রম চলবে চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়িতে

নির্মাণ কাজ চলাকালীন জনসেবা যেন ব্যাহত না হয়, সেজন্য থানার যাবতীয় কার্যক্রম সাময়িকভাবে চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ি থেকে পরিচালিত হবে। আগামী ৫ এপ্রিলের মধ্যে বর্তমান ভবনটি খালি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে জনবল অনুযায়ী চাঁচড়া ফাঁড়িতে পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় পুলিশ সদস্যদের সাময়িকভাবে কিছুটা আবাসন সংকটে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খান বলেন, উন্নত ও আধুনিক পুলিশি সেবার স্বার্থে এই সাময়িক কষ্টটুকু মেনে নিতে হবে। নতুন ভবন নির্মিত হলে যশোরবাসীকে সেবা প্রদানের মান ও পুলিশের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

error: Content is protected !!