শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

টেকনাফে বোটসহ ১৩ জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:০৫ পিএম | 33 বার পড়া হয়েছে
টেকনাফে বোটসহ ১৩ জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি

 

বঙ্গোপসাগরের অদূরে মাছ শিকারে আসার সময় দুইটি বোটসহ ১৩ জন রোহিঙ্গা জেলেকে আটক করেছে মিয়ানমার আরাকান আর্মি।
আরমানের মালিকানাধীন ট্রলারে জেলেরা হলেন, ইবাদ উল্লাহ, মোঃ আয়ুব, সুলতান আহমদ, দিন ইসলাম, আক্তার হোসেন এবং অপরটি ট্রলারের মালিক এখনো সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
বুধবার (১২ নভেম্বর) বিকাল ৪ টায় টেকনাফ পৌরসভা কায়ুকখালী বোট মালিক সমিতির সভাপতি সাজেদ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, সেন্টমার্টিন বঙ্গোপসাগরের অদূরে মাছ শিকারের শেষে আসার সময় মায়ানমার আরাকান আর্মি মাছ ধরার দুইটি বোট ১৩ জেলেকে ধরে নিয়ে যায়। পৌরসভা উত্তর জালিয়া পাড়া এলাকার বাসিন্দার সৈয়দ আলমের ছেলে মোঃ আরমানের মালিকানাধীন একটি ট্রলারসহ ৬ জন রোহিঙ্গা জেলেকে আরাকান আর্মি আটক করে। অপরটি ট্রলারের মালিকের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
মিয়ানমার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল আরাকান নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, ১২ নভেম্বর সকাল ৬টায় এন-খাউং-তাও বেস স্টেশন থেকে দুটি স্পিডবোট ও একটি বড় কাঠের নৌকা নিয়ে একটি উপকূলীয় নিরাপত্তা টহল দল এনগওয়ে-মাউং উপকূলের দিকে রওনা দেয়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশ থেকে আরাকান জলসীমায় অবৈধভাবে প্রবেশ করে মাছ ধরার ঘটনাগুলো প্রতিরোধ ও অভিযুক্তদের আটক করা।
টহল চলাকালীন সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে, সিত্তে টাউনশিপের কো-তান-কাউক গ্রামের প্রায় ১.৭৭ কিলোমিটার পশ্চিমে টহল দল মাছ ধরার সময় ৬ জন বাংলাদেশি জেলেকে আটক করে।
জব্দকৃত সামগ্রী ১টি কাঠের নৌকা, ৪৮ ভিস প্রায় ৭৭ কেজি মাছ ও চিংড়ি, ৪টি মোবাইল ফোন, ৬টি ড্রিফট জাল, ১টি ড্র্যাগ জাল, ২০০টি টারপলিন শিট। আটক জেলেদের অবৈধভাবে আরাকান জলসীমায় প্রবেশ করে মাছ ধরার অপরাধে আরাকান আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, ‘ট্রলারসহ কিছু জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি ট্রলার মালিকদের কাছ থেকে জেনেছি। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেদের বিষয়ে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে।’###

ভারতীয় নাগরিকের লাশ দেখার সুযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) এর মানবিক দৃষ্টান্ত

শামসুন্নাহার সুমা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:৪০ পিএম
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) এর মানবিক দৃষ্টান্ত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় গত ০৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাত ঘটিকায় ভারতীয় নাগরিক মালদা জেলায় কালিয়াচক থানা দিছতরদিঘির গ্রামের বাসিন্দা কসিমুদ্দিনের স্ত্রী ফনি বেগম (৭৫) বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। সংবাদ পেয়ে বাংলাদেশে বসবাসকারী চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর জমিনপুর গ্রামে মৃত ফনি বেগম এর ভাই আতাউর রহমান (৬০) ও তার স্বজনরা লাশ দেখার জন্য বিজিবি’র নিকট আবেদন করেন।

সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজিবি’র পক্ষ হতে তাৎক্ষণিক প্রতিপক্ষ বিএসএফ এর সাথে যোগাযোগ করা হয় এবং গতকাল (০৫ ডিসেম্বর) শুক্রবার সকাল সাড়ে আট ঘটিকায় মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) অধীনস্থ কিরণগঞ্জ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ১৭৯/৩-এস এর নিকট শূন্য লাইনে বিজিবি-বিএসএফ এর উপস্থিতিতে মৃতের লাশ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়। লাশ দেখে বাংলাদেশী আত্মীয়-স্বজন আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন এবং শেষবারের মত আত্মীয়কে দেখতে পেরে তারা বিজিবি’র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এ ব্যাপারে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল গোলাম কিবরিয়া, বিজিবিএম, বিজিওএম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিজিবি অত্যন্ত মানবিক এবং মানবিক কাজে সব সময় সহানুভূতিশীল। বিজিবি সকল প্রকার মানবিক কাজ মৌলিক কর্তব্য হিসেবে সম্পাদনে বদ্ধ পরিকর।

ক্ষমতায় গেলে মাটিসহ খেয়ে ফেলবে

বিএনপি দুর্নীতিতে ৫ বারের চ্যাম্পিয়ন: জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম পাবনা ঈশ্বরদী প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:৩৬ পিএম
বিএনপি দুর্নীতিতে ৫ বারের চ্যাম্পিয়ন: জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল

বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামির কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন-“ বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে দুর্নীতিতে ৫ বারের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। দেশের সর্বত্র বালু খাওয়া, পাথর খাওয়া, সব শেষ। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ভুমিদখল, খুন, রাহাজানি করেছে। এবার যদি বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যায় তাহলে দেশের মাটিসহ খেয়ে ফেলবে। তার প্রমান হলো, গত ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে ফ্যাসিবাদ শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগ পালালে বিএনপি ভেবেছিল তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা চলে গেছে। এই কারণে দেশের সব জায়গায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজি, খুন, জখম করেছে। নিজ দলের নেতাকর্মীদের খুন করেছে। মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করেছে”।

আজ (শুক্রবার) বিকেলে ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াত ইসলামির আমির ড. নুরুজ্জামান প্রামানিকের সভাপতিত্বে আলহাজ্ব খায়রুজ্জামান বাবু বাস টার্মিনালে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘড়িয়া) আসনে দলীয় প্রার্থীর আবু তালেব মন্ডলের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন-“ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনটি দল বাংলাদেশকে শাসন করেছে। তার একটি দল পালিয়েছে। আরেকটি দল অতিরিক্ত দালানি করে মুছে গেছে। আরেকটি দল বাকি। যারা দুর্নীতিতে ৫ বারের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এই দলের নেতাকর্মী আজকে অনেক কিছু করতে পারেন। অথচ সেদিন বেগম জিয়া কাজের মেয়ে ফাতেমাকে নিয়ে বালুর ট্রাকের সামনে পড়েছিলেন। সেদিন তো আপনারা কেউ এগিয়ে যাননি। মানুষ এখন বলছে সব দল দেখা শেষ, এখন জামায়াত ইসলামের বাংলাদেশ”।

মোঃ আবু সাঈদ বাঘা (রাজশাহী) প্রতিবেদক

বাঘায় গ্রাম্য শালিসের আংশিক মীমাংসা হলো ষাট বছরের জমি বিরোধ

মোঃ আবু সাঈদ বাঘা (রাজশাহী) প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১৬ পিএম
বাঘায় গ্রাম্য শালিসের আংশিক মীমাংসা হলো ষাট বছরের জমি বিরোধ

রাজশাহীর বাঘায় দীর্ঘ ছয় দশকের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ আংশিকভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে। বাউসা ইউনিয়নের ফতিয়াদাড় গ্রামে বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এই বড় পরিসরের শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

শালিসে উপস্থিত ছিলেন—বাউসা ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল জলিল, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সহকারী অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন, বাউসা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ রেজাউল করিম, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন, বাঘা প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক আব্দুল লতিফ মিঞা, বিএনপি নেতা আব্দুর রশিদ মাস্টার, রাজশাহী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হক, মনিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ মুকুলসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

দীর্ঘ সময় উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা, আদালতের রায়, পরিমাপ, নথিপত্র ও পুরোনো দলিল যাচাইয়ের পর সালিস কমিটি একমত সিদ্ধান্তে পৌঁছে।

জানা যায়, ফতিয়াদাড় গ্রামের মৃত তজিম উদ্দীনের ছেলে নাজিম উদ্দীন লাল্টু ও মৃত জেকের আলীর ছেলে আরিফুল ইসলামের মধ্যে পারিবারিক উত্তরাধিকার ও ক্রয় সূত্রে পাওয়া জমি নিয়ে প্রায় ৬০ বছর ধরে বিরোধ চলছিল। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার অভিযোগ, থানায় জিডি এবং আদালতে মামলা করেও জটিলতায় দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়। এতে দুই পরিবারের সম্পর্কও তিক্ত হয়ে ওঠে।

সালিস সূত্রে জানা যায়, নাজিম উদ্দীন লাল্টু পাচপাড়া মৌজায় তার প্রাপ্য ৭ একর ২৫ শতাংশ জমির চেয়ে ২ একর ২২ শতাংশ বেশি—মোট ৯ একর ৪৭ শতাংশ জমি ভোগদখলে রেখেছিলেন। এই অতিরিক্ত অংশ নিয়েই আরিফুল ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছিল।

সালিস কমিটি আদালতের রায় ও কাগজপত্র যাচাই শেষে নাজিম উদ্দীন লাল্টুর দখলে থাকা জমির মধ্যে ৭৫ শতাংশ (প্রায় আড়াই বিঘা) জমি আরিফুল ইসলামকে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেয়।

শালিসের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল জলিল জানান, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সার্ভেয়ারের মাধ্যমে আরিফুল ইসলামকে ৬৩ শতাংশ জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় আগামী ১৩ ডিসেম্বর পরবর্তী শালিসে তা নিষ্পত্তি করা হবে।

সার্ভেয়ার মামুনুর রশিদও নিশ্চিত করেন যে, আরিফুল ইসলামকে ৬৩ শতাংশ জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষ সালিসি সিদ্ধান্তের বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে।