মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২

ঐক্যবদ্ধ রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপি

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:৫৯ এএম | 128 বার পড়া হয়েছে
ঐক্যবদ্ধ রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপি

বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নারায়ণগঞ্জ-১(রূপগঞ্জ) আসনের বিএনপির প্রাথমিকভাবে দেওয়া মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত বীরমুক্তিযোদ্ধা কাজী মনিরুজ্জামান বলেছেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষকে জয়ী করতে হবে। আমি গণতন্ত্রের জন্য স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পিতা শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আহবানে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম। গণতন্ত্র ও অর্থনীতির মুক্তির জন্য লড়াই করতে হবে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তারেক রহমানের ৩১দফা বাস্তবায়নসহ দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে।
ব্যাক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ-এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গতকাল ৫নভেম্বর বুধবার সন্ধ্যায় রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে রূপসী কাজীবাড়ি মাঠে আয়োজিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন।
তিনি আরো বলেন, ২০০৮ ও ২০১৮ সালে বিএনপি থেকে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। ২০১৮সালের নির্বাচনে দিনের ভোট রাতে হয়েছে। তখন স্বৈরাচার সরকারের সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর ছাত্রলীগ ও যুবলীগ আমার বাড়ি ঘেরাও করে রেখেছিল। আমার স্ত্রীর মিছিলে হামলা চালিয়েছিল। বর্তমানে বাংলাদেশ একটি সংকটময় সময় অতিক্রম করছে। আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এদেশের মানুষকে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতে হবে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নারায়ণগঞ্জ-১(রূপগঞ্জ) আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু সভায় হঠাৎ চলে আসেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মাহবুবুর রহমান, বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন, কাজী আহাদ, জাকির হোসেন রিপন, এডভোকেট জাকির হোসেন, যুবদল নেতা এডভোকেট আমিরুল ইসলাম ইমন, আবু মোহাম্মদ মাসুম, আজিম সরকার, রূপগঞ্জ উপজেলা জিয়া মঞ্চের সভাপতি জজ মিয়া, রূপগঞ্জ উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি হাওয়া বেগম, সাধারণ সম্পাদক রোমানা আফরিন প্রমুখ।
সভায় মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু বলেন, সকলের সঙ্গে মিলে-মিশে ঐক্যবদ্ধভাবে থাকবো। কাজী মনিরুজ্জামান মনির কাকা অভিজ্ঞ মানুষ। আমি তার হাত ধরেই নির্বাচন করতে চাই। রূপগঞ্জের প্রতিটি ঘরে ঘরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করবো।
সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব গোলাম ফারুক খোকন, রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন, সাধারণ সম্পাদক হাজী বাছির উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য নূর নবী ভুঁইয়া, আনোয়ার সাদাত সায়েম, আশরাফুল হক রিপন প্রমুখ।

মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা সংবাদদাতা

লেমুয়ায় মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ

মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা সংবাদদাতা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
লেমুয়ায় মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ

ফেনী সদরের নেয়াজপুরের নূরানি ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় চাঞ্চল্য; অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী ও মানবাধিকার সংগঠন

ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের নেয়াজপুর গ্রামে অবস্থিত একটি নূরানি ও হাফেজিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক ও অশোভন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসাটির প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম বিভিন্ন সময় ছাত্রীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অশোভন আচরণ করে আসছিলেন। তবে ভয়ভীতি ও সামাজিক সংকোচের কারণে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বিষয়টি এতদিন প্রকাশ করতে সাহস পায়নি।
জানা যায়, গত ৮ মার্চ কয়েকজন ছাত্রী নিজেদের মধ্যে আলাপচারিতার সময় তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া কিছু অস্বস্তিকর ঘটনার বিষয়ে আলোচনা করছিল। ওই সময় পাশে থাকা এক অভিভাবক বিষয়টি শুনে সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরে তিনি নিজের মেয়ের কাছে বিস্তারিত জানতে চাইলে মেয়েটি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। এরপর ধীরে ধীরে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী একই ধরনের অভিযোগের কথা জানায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একান্তে কথা বলার সুযোগ নিয়ে তাদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করতেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, বিষয়টি কাউকে জানালে তাদের ক্ষতি হতে পারে বলে ভয় দেখানো হয়েছিল। এ কারণে তারা দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন রাখতে বাধ্য হয়।
এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বিষয়টি মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক হাফেজ রিয়াজ উদ্দিনকে জানালে ঘটনাটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরপরই অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মাদ্রাসা থেকে সরে যান এবং এরপর থেকে তাকে আর পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি প্রকাশ না করার জন্য মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি গোপন রাখার অনুরোধ করেছিল। এতে অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
পরদিন ৯ মার্চ সকাল ১০টার দিকে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মাদ্রাসায় গিয়ে ঘটনার বিষয়ে জানতে চান। এ সময় মাদ্রাসায় অন্যান্য শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে সেখানে পাওয়া যায়নি। মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্যদের ডাকা হলেও শুরুতে কেউ উপস্থিত হননি।
পরে পরিচালনা কমিটির সদস্য রহমত উল্লাহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তাকে পুরো বিষয়টি জানানো হয়। এ সময় ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী অভিযুক্ত শিক্ষককে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি বিচার না হওয়া পর্যন্ত মাদ্রাসার নূরানি বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন তারা।
ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের দাবি, পরিচালনা কমিটির সদস্য রহমত উল্লাহ ও সহকারী শিক্ষক শাহাদাত হোসেন কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। এ সময় কথাকাটাকাটির ঘটনাও ঘটে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মমিনুল হককে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার নেতৃবৃন্দও এ ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সংস্থাটির আঞ্চলিক পরিচালক ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সহকারী যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ হানিফ এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব আবুল কাশেম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য জেলা প্রশাসকের প্রতি আহ্বান জানান।
এ সময় ফেনী জেলা তথ্য ও ইনফরমেশন অফিসার আবু বক্কর ছিদ্দিকও দ্রুত প্রশাসনিক তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। এ ধরনের ঘটনায় কোনো প্রকার আপস বা গোপনীয়তার সুযোগ নেই।
এলাকাবাসীর দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে এবং শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে এবং প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয়রা।
উল্লেখ্য, স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী এর আগেও অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার অর্থ আত্মসাৎ, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং অভিভাবকদের কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত ফোন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব বিষয়ে এখনো প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন মহল।

স্টাফ রিপোর্টার, উজ্জ্বল বাংলাদেশ

নকল দুধ ও ঘি তৈরির দায়ে ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

স্টাফ রিপোর্টার, উজ্জ্বল বাংলাদেশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
নকল দুধ ও ঘি তৈরির দায়ে ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

বিভিন্ন কেমিক্যাল দিয়ে নকল দুধ ও ঘি তৈরি হচ্ছে পাবনার ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলায় এই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এমনই অবৈধ কর্মকান্ডের সত্যতা পাওয়ায় তিনটি দুগ্ধ উৎপাদনকারী এবং সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে তিন লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গতকাল সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলার ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা বাজারে এ অভিযান চালায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।
অভিযানকালে বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত রাসায়নিক, ভেজাল ডালডা ও পাউডার জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পাবনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা বাজারের কেয়া ডেইরিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ যৌথ অভিযান চালায়। অভিযানকালে সেখানে ক্ষতিকর ডালডা, ইউরিয়া, ডিটারজেন্ট, সোডা সহ বিভিন্ন কেমিক্যাল দিয়ে নকল দুধ তৈরির প্রমাণ পান সংশ্লিষ্টরা। এ সময় কেয়া ডেইরি স্বত্বাধিকারী আয়েশা সিদ্দিকা কেয়া কে নকল দুধ তৈরির দায়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডাদেশ প্রদান করেন ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইমামা বানীন। জরিমানার টাকা দিয়ে রেহাই পান ভেজাল দুধ উৎপাদনকারী।
একই সময় পার্শ্ববর্তী এলাকার আমিনা ডেইরি এবং প্রিমিয়াম ফুডে অভিযান চালিয়ে ভেজাল দুধ তৈরি এবং নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দুধ সংরক্ষণ করার দায়ে আমিনা ডেইরীকে ৩০ হাজার এবং প্রিমিয়াম ফুডকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পাবনার সরকারি পরিচালক মাহমুদ হাসান রনি বলেন, ‘ভেজাল দুধ ও ঘি তৈরির গোপন সংবাদ পেয়ে অভিযান চালিয়ে সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ ও অন্য দু’টিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভেজাল দুধ ও ঘিতে সয়লাব হয়ে গেছে এ অঞ্চল। ভেজাল রোধে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সোচ্চার হতে হবে বলে জানান তিনি।’
ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইমামা বানীন বলেন, ‘এ অঞ্চলে নকল দুধ ও ঘি উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন সোচ্চার রয়েছে। যেখান থেকেই অভিযোগ আসছে সেখানেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তি প্রয়োগ করা হবে।’

পিঁপড়ার ফরিয়াদ ও সোলায়মান (আ.)-এর মুচকি হাসি

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
পিঁপড়ার ফরিয়াদ ও সোলায়মান (আ.)-এর মুচকি হাসি

হযরত সোলায়মান (আ.) ছিলেন এমন এক সম্রাট, যাঁকে আল্লাহ তাআলা জ্বিন, মানুষ এবং পশুপাখির ওপর আধিপত্য দান করেছিলেন। তাঁর সেনাবাহিনী ছিল বিশ্বের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন বিশাল বাহিনী। কিন্তু এই সুবিশাল বাহিনীতে ছিল কঠোর শৃঙ্খলা; প্রতিটি জ্বিন, মানুষ আর পাখি নিজ নিজ সারিতে সুশৃঙ্খলভাবে অবস্থান করত।
১. পিঁপড়াদের রাজ্যে বিশাল বাহিনীর আগমন
একদিন হযরত সোলায়মান (আ.) তাঁর সেই বিশাল বাহিনী নিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। পথ চলতে চলতে তাঁরা এমন এক উপত্যকায় এসে পৌঁছালেন, যেখানে ছিল অগণিত পিঁপড়ার বসবাস। দূর থেকে ধেয়ে আসা সেই বিশাল বাহিনীর পদধ্বনি আর ধুলোর মেঘ দেখে পিঁপড়াদের রানি শঙ্কিত হয়ে পড়ল। রানি বুঝতে পারল, এই বাহিনী যদি তাদের জনপদের ওপর দিয়ে যায়, তবে মুহূর্তের মধ্যে লক্ষ লক্ষ পিঁপড়া পিষ্ট হয়ে শেষ হয়ে যাবে।
২. রানির সতর্কবার্তা ও নবীর প্রতি অগাধ বিশ্বাস
পিঁপড়া রানি তখন উচ্চকণ্ঠে তার জাতিকে সতর্ক করে দিয়ে বলল:
“হে পিঁপড়া দল! তোমরা দ্রুত নিজ নিজ গর্তে ঢুকে পড়ো। নতুবা সোলায়মান এবং তাঁর বাহিনী তোমাদের পিষ্ট করে ফেলবে, অথচ তাঁরা তা টেরও পাবেন না (অজ্ঞাতসারে)।”
এই ছোট্ট বাক্যের ভেতরে লুকিয়ে ছিল এক বিশাল দর্শন। পিঁপড়া রানি জানত, সোলায়মান (আ.) একজন নবী, আর কোনো নবী কখনো জেনেশুনে আল্লাহর কোনো সৃষ্টির ওপর জুলুম করতে পারেন না। তাই সে ‘অজ্ঞাতসারে’ শব্দটি ব্যবহার করে নবীর মর্যাদাকে সমুন্নত রাখল। আলস্নাহ তা’আলা কোরআন কারীমে এ কাহিনীটি বর্ণনাপূর্বক এরশাদ করেন-
“আর একত্র করা হয়েছিল সোলায়মানের জন্য তাঁর সৈন্যবাহিনী- জ্বিন, মানব ও পক্ষীকূল হতে এবং অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন ব্যূহে বিভক্ত করা হল। এমন কি যখন তারা উপনীত হল পিপীলিকার এক ময়দানে, তখন এক পিপীলিকা বলল, হে পিপীলিকা দল! তোমরা প্রবেশ কর স্ব স্ব গর্তে, তোমাদের যেন পদতলে পিষ্ট না করেন সোলায়মান ও তাঁর বাহিনী, তাদের অজ্ঞাতসারে।” (সূরা- নামল, আয়াত- ১৭-১৮)
৩. বাতাসের ঝাপটায় ভেসে আসা সেই শব্দ
আল্লাহ তাআলা হযরত সোলায়মান (আ.)-কে পশুপাখি ও কীটপতঙ্গের ভাষা বোঝার অলৌকিক ক্ষমতা দিয়েছিলেন। অনেক দূর থেকে বাতাসের ঝাপটায় পিঁপড়া রানির সেই সতর্কবার্তা সোলায়মান (আ.)-এর কানে পৌঁছাল। একটি ক্ষুদ্র পিঁপড়ার মুখে নিজের বাহিনীর প্রতি এমন সতর্কবার্তা এবং তাঁর ন্যায়বিচারের প্রতি এমন অগাধ আস্থা দেখে সোলায়মান (আ.)-এর মন আনন্দে ভরে উঠল।
৪. শুকরিয়ার সিজদা ও মুচকি হাসি
পিঁপড়া রানির কথা শুনে হযরত সোলায়মান (আ.) মুচকি হাসলেন। তিনি অত্যন্ত অভিভূত হলেন যে, একটি তুচ্ছ পিঁপড়াও তাঁর আমানতদারিতা সম্পর্কে অবগত। তিনি তখনই আল্লাহর দরবারে হাত তুলে দোয়া করলেন:
“হে আমার পালনকর্তা! আপনি আমাকে সামর্থ্য দিন যাতে আমি আপনার সেই নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে পারি যা আপনি আমাকে ও আমার পিতামাতাকে দান করেছেন। আর আমি যেন এমন নেক আমল করতে পারি যাতে আপনি সন্তুষ্ট হন।” আলস্নাহ তা’আলা কোরআন কারীমে এ কাহিনীটি বর্ণনাপূর্বক এরশাদ করেন-
অর্থঃ তখন হযরত সোলায়মান (আঃ) পিপীলিকার কথা শুনে মুচকি হাসলেন এবং বললেন, হে আলস্নাহ! এতে আমাকে দৃঢ়তা দান করম্নন, যেন আমি শোকর আদায় করতে পারি আপনার ঐসব নেয়ামতের, যা আপনি আমাকে ও আমার পিতাকে দান করেছেন, আর যেন নেক আমল করতে পারি, যাতে আপনি সন্ত্মুষ্ট হন এবং আমাকে প্রবিষ্ট করম্নন আপনার রহমতের মাধ্যমে, আপনার পূণ্যবান বান্দাদের দলে। সূরা আন-নামলের ১৮-১৯ নম্বর আয়াত থেকে নেওয়া হয়েছে।
গল্পের শিক্ষা:
ন্যায়বিচারের আদর্শ: একজন প্রকৃত শাসকের পরিচয় হলো ক্ষুদ্রতম প্রাণের প্রতিও তাঁর মায়া ও ইনসাফ থাকা।
পিঁপড়ার বুদ্ধিমত্তা: বিপদ দেখে কেবল আহাজারি না করে ত্বরিত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং নিজের জাতিকে রক্ষা করা নেতার গুণ।
সৃষ্টিকর্তার কুদরত: মহাবিশ্বের অধিপতি আল্লাহ একটি ক্ষুদ্র পিঁপড়াকেও যেমন ভাষা দিয়েছেন, তেমনি একজন নবীকেও দিয়েছেন সেই ভাষা বোঝার জ্ঞান।
নবীদের মর্যাদা: ইতর প্রাণীও জানত যে আল্লাহর নবী কখনো জেনেশুনে কারও ক্ষতি করেন না।

error: Content is protected !!