রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২
রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২

সুলেখা আক্তার শান্তা

অপূরণীয় পূর্ণতা

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৫:৩০ পিএম | 186 বার পড়া হয়েছে
অপূরণীয় পূর্ণতা

বড় বোন আবিদা একদিন ছোট ভাই এনামের কাছে এক অনুরোধ নিয়ে আসেন। ভাই, তোর তো দুই সন্তান। একটা সন্তান আমাকে দে।
এনাম কিছু না বললেও, তার স্ত্রী সেলিনা প্রতিবাদ করে ওঠেন। বাবা-মায়ের কাছে কখনো সন্তান বেশি হয় না। আমরা হয়তো ঠিকমতো খাওয়াতে-পড়াতে পারি না, কিন্তু সন্তান কাউকে দিতে পারব না। আমার সন্তান আমার বুকের ধন, আমার কাছেই থাকবে।
আবিদার চোখে জল। তার নিঃসঙ্গ জীবনে সন্তানের আকাঙ্ক্ষা যেন বুক ফাটিয়ে বেরিয়ে আসে। সেই কান্না দেখে এনামের মন গলে যায়। তিনি বলেন, আমার মেয়েকে আমি আমার বোনকে দেব। ওর কাছে আমার মেয়ে ভালো থাকবে। আমার অভাব-অনটনের সংসারে আমি হয়তো ঠিকভাবে সন্তান মানুষ করতে পারব না। কিন্তু বোনের কাছে থাকলে আমার মেয়ের জীবনটা ভালোভাবে গড়ে উঠবে। ভাই তাঁর বুকের ধন তুলে দিলো বোনের হাতে। ভালোবাসা, ত্যাগ আর বিশ্বাসের এক নিঃশব্দ চুক্তিতে।
সেলিনা চিৎকার করে ওঠেন, তার মানে তুমি আমার মেয়েকে দিতে চাও? এনাম শান্ত গলায় বলেন, তুমি আমাকে ভুল বুঝো না সেলিনা। আমার বোনের সন্তানের আফসোস ছিল, আর আমাদের মেয়েটাও আমার বোনের কাছে ভালো জীবন পাবে। আমি শুধু চাই, ও যেন ভালো থাকে।
ভাইয়ের এমন কথা শুনে আবিদার চোখে আনন্দের জল। ভাই, আমি তোকে কথা দিচ্ছি, তোর মেয়েকে আমি কখনো কষ্ট দেবো না। ওকে আমি নিজের সন্তানের মতো মানুষ করব। তোরা দেখবি, আমি কেমন করে ওকে বড় করি। আমার তো কোথাও কোনো কমতি নেই, শুধু ছিল সন্তানের অভাব। তোর মেয়ে শিলা, ওকে পেয়ে আমার সেই অভাব পূর্ণ হবে। সেলিনা চুপ হয়ে যান। তার চোখে জল, কিন্তু মনে এক আশার আলো। তাঁর মেয়ে সুন্দর জীবন পাবে। সেলিনা কাঁপা গলায় বলেন, আপা, আপনি তো চাকরি করেন। মেয়েটা একা পড়ে থাকবে বাসায়। আমার অভাবের সংসার হলেও, মেয়েটা ছিল আমাদের ভালোবাসায় পরিপূর্ণ। কাজের মেয়ের কাছে রেখে আপনি অফিসে যাবেন, এতে কি ও ভালো থাকবে?
আবিদা স্নিগ্ধ গলায় উত্তর দেন, সেলিনা, তুমি চিন্তা করো না। তোমার মেয়ের যত্নে কোনো কমতি থাকবে না। আমি ওকে নিজের সন্তানের মতোই মানুষ করব, আমার সবটুকু দিয়ে।
শেষমেশ আবিদা শিলাকে নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। শিলাকে পেয়ে তাঁর মন ভরে যায় প্রশান্তিতে। শিলার জন্য কী করবেন, সে যেন কিছুই বুঝে উঠতে পারেন না। দিশেহারা হয়ে ওঠেন। শিলার ছোট ছোট হাসি, তার কচি হাতের স্পর্শে আবিদার জীবনে এক নতুন আলো জ্বলে ওঠে।
শিলাকে নিয়ে আসার প্রাই দুই বছর পর, আবিদার গর্ভে সন্তান আসে। এই খবরে আবিদার স্বামী আতিক আবেগে ভরে ওঠেন। শিলা আমাদের ভাগ্যলক্ষী। ও আসার পরেই তোমার গর্ভে সন্তান এলো।
আবিদার চোখে জল, মুখে হাসি। আমি মা হতে পারব! এ যে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ! আমার বড় সন্তান শিলা, ওর ভালোবাসায় কোনো কমতি হবে না। আমার দুই সন্তান, ওরা দুজনেই আমার ঘরে আলো ছড়াবে, আমার জীবনের পূর্ণতা হবে।
আবিদার গর্ভে সন্তান থাকাকালীন হঠাৎ সে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিছানা থেকে উঠতে পারে না, চলাফেরা করাও কঠিন হয়ে যায়। এই সময়ে শিলা যেন ছোট্ট এক পরিপূর্ণ সেবিকা হয়ে ওঠে। মা ঠিকমতো খেলো কিনা, তার কী প্রয়োজন, কখন কী লাগবে, সবকিছুই শিলা মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করে। একদিন আবিদা কষ্টের মাঝে মেয়েকে বলেন, মা, তোর কিছু করতে হবে না। তুই তোর পড়ালেখা ঠিকমতো কর। শিলা মায়ের পাশে বসে মৃদু হাসি দিয়ে বলে, মা, আমার পড়ালেখা ঠিকই হচ্ছে। পড়া শেষ করেই তোমার কাছে আসি। তুমি এখন অসুস্থ, তোমার দিকে খেয়াল রাখা আমারই দায়িত্ব। আবিদার চোখে জল নিয়ে মেয়েকে আদর করে বলেন, আমার মেয়ে বলে কী! পাকনা মা আমার!
শিলার ভালোবাসা, যত্ন আর দায়িত্ববোধে আবিদার অসুস্থ শরীরেও যেন এক নতুন শক্তি জেগে ওঠে। এই মেয়ে শুধু তাঁর দত্তক নয়, সে যেন তাঁর হৃদয়েরই অংশ।
সেলিনা হঠাৎ একদিন ঢাকায় আসেন, মেয়েকে দেখতে। বাড়িতে ঢুকেই দেখেন, শিলা ঘরের কাজ করছে। দৃশ্যটা দেখে তার চোখ রাঙা হয়ে ওঠে। কী! আমার মেয়েকে দিয়ে কাজ করাচ্ছে? আমার মেয়ে কি কাজের মেয়ে? তিনি রেগে গিয়ে বলেন, আমি আর আমার মেয়েকে এখানে রাখবো না। এখনই নিয়ে যাব।
আবিদা অবাক হয়ে বলেন, সেলিনা, আমার কাছে আসো। কী হয়েছে বলো? সেলিনা ক্ষোভে ফেটে পড়েন, কী আর বলবো! এইটুকু মেয়েকে দিয়ে আপনি কাজ করাচ্ছেন! সেলিনা রাগ করো কেন? আমার ঘরে তো কাজের লোক আছে! মেয়েকে দিয়ে কখনো কাজ করাই নেই। আপনার সংসার সামলাতে আমার মেয়েকে এনেছেন?
আবিদা শান্ত গলায় বলেন, সেলিনা, শিলা কাজ করছে নিজের ইচ্ছায়। আমি কখনো ওকে জোর করিনি। ও আমাকে ভালোবাসে, আমার অসুস্থতার সময় কাজ করছে। সেলিনা কিছু সময় চুপ থাকেন। তারপর বলেন, আমার মেয়েকে দিয়ে কাজ করান, মেয়ে এখানে রাখব না। আবিদা বলেন, তুমি বারবার বলছো আমার মেয়ে, আমার মেয়ে। শিলা কি আমার মেয়ে নয়? হ্যাঁ, পেটের মেয়ে নয়, এটা বলছো ঠিক। কিন্তু ওরে আমি ভাবি না ও আমার পেটের মেয়ে না। এই কথায় সেলিনার চোখে জল আসে। সে বুঝতে পারে, শিলা শুধু তাঁর নয়, শিলা এখন দুই মায়ের ভালোবাসায় বড় হচ্ছে। সেলিনা রাগে ফুঁসে ওঠেন, শিলা আপনের ভাইয়ের মেয়ে! মেয়ে ভাবলে কি মেয়েকে দিয়ে কাজ করাতেন? আপনের ঘরে কাজের লোক আছে, তারপরও আমার মেয়েকে দিয়ে কাজ করান?
আবিদা কষ্ট পেয়ে বলেন, সেলিনা, তুমি কী বলছো? আমি কখনো শিলাকে ভাবিনি যে ও আমার মেয়ে না। তুমি যা দেখেছো, তা ভুল বোঝাবুঝি। আমি শিলাকে দিয়ে কোনো কাজ করাই না। ওকে আমি কখনো পানি পর্যন্ত ঢেলে খেতে দেই না, বরং আমি নিজে ওর কাজ করে দেই।
সেলিনা রেগে বলেন, আমি আর কিছু শুনবো না। আমি আমার সন্তানকে নিয়ে যাব। সে শিলার দিকে ফিরে বলেন, চল মা, আমার সঙ্গে যাবি। শিলা চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। তারপর আস্তে আস্তে বলে, আমি মাকে রেখে যাব না। মা অসুস্থ, মা আমাকে ভালোবাসে। আমি এখানেই থাকবো। এই কথায় সেলিনার চোখে জল আসে। সে বুঝতে পারে, শিলা এখন শুধু তার সন্তান নয়, শিলা এখন আবিদারও মেয়ে। একটা সম্পর্ক, যা মায়ার বন্ধন, ভালোবাসা আর সেই ভালোবাসা কোনো যুক্তিতে বাঁধা পড়ে না।
সেলিনা বলেন, তোর মা কে রে? তোর মা তো আমি! নিজের মাকে রেখে অন্যকে মা বলিস? চল, এখনই আমার সঙ্গে যাবি।
আবিদা তখন এতটাই অসুস্থ যে বিছানা থেকে উঠতে পারেন না। তিনি কাঁপা গলায় বলেন, শিলাকে নিও না… শিলা, মা তুই যাস না…!
শিলা চোখে জল, বলে, আমি মাকে রেখে যাব না। কিন্তু সেলিনা জোর করে শিলাকে টেনে নিয়ে যান। আবিদা বিছানায় শুয়ে কাঁদতে থাকেন, যেন বুকের ভেতরটা ফেটে যাচ্ছে।
আতিক স্ত্রীর পাশে বসে বলেন, তুমি অন্যের মেয়ের জন্য এত ভেঙে পড়ছো কেন? শিলা কি তোমার মেয়ে? আবিদা চোখ মুছে বলেন, না, শিলা আমার পেটের মেয়ে নয়। তবে ও আমার হৃদয়। শিলা যদি আমার মেয়ে হতো, তাহলে কেউ ওরে নিয়ে যেতে পারতো না! আতিক চুপ হয়ে যান। আবিদার চোখে শুধু শিলার মুখ ভাসে ওঠে, মেয়ের কথা মনে করে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদেন।
আবিদার ঘরে নতুন আলো আসে। তার গর্ভজাত কন্যা, তুলি। তুলিকে পেয়ে আবিদা যেন জীবনের পূর্ণতা খুঁজে পান। তবুও শিলার কথা তার মনে পড়ে, প্রতিদিন। কেউ জিজ্ঞেস করলে বলেন, আমার দুই সন্তান। একজন পেটের, একজন হৃদয়ের। শিলা দূরে থাকলেও, তার প্রয়োজনীয় সবকিছু আবিদা পাঠিয়ে দেন। সেলিনা তা গ্রহণ করেন, কিন্তু সম্পর্কের দূরত্ব বজায় রাখেন।
হঠাৎ একদিন তুলির টাইফয়েড জ্বর হয়! কিছুতেই জ্বর ভালো হয় না। ঘাতক জ্বর তুলিকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। শেষমেশ, তুলি পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়। সন্তানহারা মা আবিদা ভেঙে পড়েন। শিলা সিদ্ধান্ত নেয় সে তার মায়ের কাছে ফিরে যাবে। সেলিনা বাধা দিয়ে বলেন, না, তুই যেতে পারবি না।
এনাম দৃঢ়ভাবে বলেন, তুমি কিছুতেই ওকে বাধা দেবে না। ওকে ওর মায়ের কাছে যেতে দাও। শিলা বলে, বাবা, আমি আমার মায়ের কাছে যাব। আজ আমাকে কেউ বাধা দিতে পারবে না। এনাম মৃদু হাসি দিয়ে বলেন, যা মা, তুই তোর মায়ের কাছে যা।
শিলা ছুটে আসে মায়ের কাছে। দরজায় দাঁড়িয়ে আবিদাকে জড়িয়ে ধরে, কাঁপা গলায় বলে, মা, তুমি আমার মা। আমি তোমার শিলা। কিন্তু সন্তানহারা আবিদা তখন পাগলের মতো। তাঁর হুশ নেই, কে তুমি? চলে যাও। আমি অপয়া। আমার কোনো সন্তান নেই। আমার সন্তান আমাকে ছেড়ে চলে গেছে…!
শিলার চোখে জল। সে মায়ের পাশে বসে, ধীরে ধীরে সেবা-যত্ন করতে থাকে। দিন যায়, রাত যায় শিলার ভালোবাসা, যত্ন আর ধৈর্যে আবিদা আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে ওঠেন।
একদিন আবিদা চোখ মেলে বলেন, আমি পাগল ছিলাম… ভালো ছিলাম… তুমি আমাকে কেন সুস্থ করলে? শিলা মৃদু হাসি দিয়ে বলে, মা, তুমি যে আমার মা। তোমার সেবা-যত্ন করাই তো আমার কর্তব্য।
আবিদা শিলাকে জড়িয়ে ধরেন। তুলির শূন্যতা, শিলার ভালোবাসায় কিছুটা পূর্ণতা পায়। আবিদা কাঁপা গলায় বলেন, তোমাকে তো তোমার বাবা-মা নিয়ে যাবে মা…!
শিলা জোর গলায় বলে, না মা, আমি আর যাব না। আমি তোমার কাছেই থাকবো। তুমি আমার মা। তোমার কাছ থেকে আমি মা গন্ধ পাই। তুমি আমাকে গর্ভে ধরো না ঠিকই, কিন্তু আমার হৃদয় বলে, তুমি আমার মা। আবিদার চোখে জল আসে। তিনি মৃদু হাসি দিয়ে বলেন, মা, তুই যাবি না তো? আমাকে ছেড়ে চলে যাবি না? শিলা আবিদার হাত ধরে বলে, না মা, আমি যাব না। আমি তোমার মেয়ে, চিরকাল তোমারই থাকবো। ঠিক সেই মুহূর্তে এনাম আর সেলিনা এসে দাঁড়ান। দুজনে একসাথে বলেন, আপা, তোমাকে আমরা আমাদের সন্তানকে দিয়ে দিলাম। আর আমরা শিলাকে আমাদের সন্তান বলে দাবি করবো না। তুমি ওর মা, তুমি ওর মা হয়েই থাকো।
আবিদা শিলাকে জড়িয়ে ধরেন। শিলার চোখে আনন্দের জল। আর আবিদার মুখে প্রশান্তির হাসি। আবিদা শিলার সামনে দাঁড়িয়ে দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, আমি শিলার মা। আমি শিলার মা হয়েই থাকবো। ও আমার সন্তান ওরে নিয়ে যাবে না তো?
এনাম ও সেলিনা মাথা নাড়েন, না শিলা, তোমার মেয়ে তোমারই মেয়ে থাকবে। আবিদা দুহাত বাড়িয়ে বলেন, আয় মা, আমার বুকে আয়। শিলা ছুটে যায়, জড়িয়ে ধরে তার মাকে। আবিদার বুক যেন প্রশান্তিতে ভরে ওঠে। হৃদয়ের হাহাকার, সন্তানের শূন্যতা, সব ভুলে যায় তিনি। শিলার স্পর্শে, ভালোবাসায়, তাঁর মন শান্তিতে ভরে ওঠে।
একটা সম্পর্ক, যা জন্ম নয়, ভালোবাসায় গড়ে ওঠে। একটা মেয়ে, প্রমাণ করে, মা হওয়া শুধু রক্তের নয়, হৃদয়েরও।

রিমন হোসেন

প্রবাসীদের অধিকার আদায়ে সচেতন থাকতে প্রেস বিজ্ঞপ্তি

রিমন হোসেন প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ১:১৬ পিএম
প্রবাসীদের অধিকার আদায়ে সচেতন থাকতে প্রেস বিজ্ঞপ্তি

যারা প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধাদের ঘৃণার চোখে দেখে বা অবমূল্যায়ন করে, তারা অকৃতজ্ঞতার পরিচয় দেয়। “দেশবন্ধু” রেমিটেন্স যুদ্ধা সংসদের প্রতিষ্ঠাতা এবং কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা এবং এম এ রউফ (Qatar) সদস্য সচিব কেন্দ্রীয় কমিটি
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
বিষয়: প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধাদের মর্যাদা, অধিকার ও ৬ দফা দাবির প্রতি জাতীয় মনোযোগের আহ্বান
তারিখ: 29/03/2026.
“দেশবন্ধু” রেমিটেন্স যুদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মর্যাদা ও অধিকার সংরক্ষণের বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি প্রদান করা হয়েছে।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা এবং সদস্য সচিব এম এ রউফ (কাতার) বলেন, যারা প্রবাসী রেমিটেন্স যোদ্ধাদের ঘৃণার চোখে দেখে বা অবমূল্যায়ন করে, তারা অকৃতজ্ঞতার পরিচয় দেয়। দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে প্রবাসীরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দিনরাত পরিশ্রম করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন—তাদের অবদানকে অস্বীকার করা জাতির জন্য লজ্জাজনক।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে একটি ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত ছিল যে প্রবাসীরা কেবল শ্রম দিবে ও অর্থ পাঠাবে; তাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বা নেতৃত্বে আসার কোনো অধিকার নেই। এমনকি কিছু মহল থেকে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে—যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক।
সংগঠনটি উল্লেখ করে যে, প্রবাসীদের ভোটাধিকার আদায় কোনো দয়া বা অনুগ্রহের ফল নয়; এটি একটি দীর্ঘ সংগ্রামের অর্জন। আজ প্রবাসীরা ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন, ভোট দিয়েছেন—এটি প্রবাসীদের বিজয় এবং রেমিটেন্স যোদ্ধাদের সম্মিলিত সাফল্য।
এ সময় “দেশবন্ধু” রেমিটেন্স যুদ্ধা সংসদ তাদের ঘোষিত ৬ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানায় এবং বলে যে, এই দাবিগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রবাসীদের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বিবৃতিতে ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বলা হয়,
“United We Stand, Divided We Fall”—
অর্থাৎ, ঐক্যবদ্ধ থাকলেই সাফল্য অর্জন সম্ভব।
“একতাই শক্তি, একতাই মুক্তি।”
✍️ নিবেদনে
“দেশবন্ধু” রেমিটেন্স যুদ্ধা সংসদ
প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক: অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা
সদস্য সচিব: এম এ রউফ (কাতার)
কেন্দ্রীয় কমিটি
প্রচার সম্পাদক রিমন হোসেন

ফারুক আহমেদ চৌধুরী ইউকে
আহবায়ক
মোসাদ্দিক মিয়া মানিক ইউকে
আহ্বায়ক, যুক্তরাজ্য কমিটি
সৈয়দ খালেদ মিয়া অলিদ
যুগ্ম আহ্বায়ক, যুক্তরাজ্য কমিটি
আহবায়ক
হাকিকূল ইসলাম খোকন সিনিয়র সাংবাদিক আমেরিকা
রেজা নবী আমেরিকা
আহবায়ক
রেয়াজ আবু সাইদ ইতালি
আহবায়ক
শাহিন তালুকদার দুবাই
আহবায়ক
আরব আলী কুয়েত
হেলাল আহমেদ সৌদি আরব
মাহারাজ মিয়া দূবাই
কাজী মোকলিছ মালদ্বীপ
আবূল হোসেন সরদার অস্ট্রিয়া
শাহাজান অস্ট্রেলিয়া
কিলটন পাভেল আমেরিকা
আহবায়ক
হেলাল উদদীন কাতার
শাহাজান খান মালোয়েশিয়া
কামাল মিয়া বাহরাইন
আবূ তাহের ওমান
আবূ তাহের চৌধুরী ইউকে
লুৎফুর রহমান ইউকে
মোহাম্মদ এনাম লন্ডন
ইকবাল তালুকদার লন্ডন
নাজমা আক্তার লন্ডন
এডভোকেট তাজূল ইসলাম বাংলাদেশ
মেজর ইমরান বাংলাদেশ
রিমন হোসেন সৌদি আরব
আঃ হামিদ সৌদি আরব
শুভ মীর সৌদি আরব
মো: সজীব সৌদি আরব
মো: সাব্বির হোসেন সৌদি আরব
মো: রবিউস সানী সৌদি আরব
মো: মামুন মোল্লা সৌদি আরব
সাগর মিয়া সৌদি আরব
ইয়াসমিন আখতার বকুল বাংলাদেশ
রাবিয়া খাতূন বাংলাদেশ
নাজনীন রহমান রাজন মহিলা কেন্দ্রীয় কমিটি
সভাপতি বাংলাদেশ
নাসরিন আক্তার সূমন রউফ
মহিলা কেন্দ্রীয় কমিটি সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট
বাংলাদেশ
ইয়াসমিন আক্তার রুমন
মহিলা কেন্দ্রীয় কমিটি বাংলাদেশ সহ সভাপতি
রানিছা কেন্দ্রীয় কমিটির
সদস্য
মাহিশা বাংলাদেশ সদস্য
আলেয়া বেগম বাংলাদেশ
মীর আশরাফ আমেরিকা
জালাল উদ্দীন ফ্রান্স
ডক্টর মালেক ফরাজী ফ্রান্স
জালাল উদ্দীন ফ্রান্স
জামাল মোস্তফা সুইডেন
রহিম মিয়া স্পেন
মোহাম্মদ আজাদ রহমান সিঙ্গাপুর
রিপন মিয়া কানাডা
আক্তার মিয়া বাংলাদেশ
ইয়াসমিন আক্তার বাংলাদেশ
মোহন বাংলাদেশ
আব্দুল কাইয়ুম বাংলাদেশ
আব্দুল লতিফ বাংলাদেশ
মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ বাংলাদেশ
এডভোকেট আবেদ রাজা বাংলাদেশ
কামাল৷ মিয়া আইল্যান্ড
আরব আলী কুয়েত
জাহাঙ্গীর আলম অস্ট্রেলিয়া
সিরাজ খান পাকিস্তান
মুসলিম মিয়া ইন্ডিয়া
শাহাদাৎ হোসেন চায়না
আশরাফ মিয়া পোল্যান্ড
নাজমা আক্তার লন্ডন
কাউসার অস্ট্রেলিয়া
লাবনী আনোয়ার বাংলাদেশ
আবূল বাসার বাংলাদেশ
আব্দুল লতিফ ইউকে
ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর লন্ডন
এডভোকেট এনাম লন্ডন
শাহাজান মিয়া আইল্যান্ড
সিরাজ মিয়া সিঙ্গাপুর
শেখ ফরিদ অস্ট্রেলিয়া
নুরুল হুদা বাংলাদেশ
মনিরুজ্জামান বাংলাদেশ
ইসমাইল খান বাংলাদেশ
এস এম আব্দুস সাত্তার বাংলাদেশ।
মনিরুজ্জামান সাংবাদিক বাংলাদেশ
আমিনুল ইসলাম বাংলাদেশ
আলেয়া বেগম বাংলাদেশ
হাসিনা মমতাজ বাংলাদেশ
সপিক মিয়া লন্ডন
রহমত আলী লন্ডন
জুনায়েদ লন্ডন
নবাব উদদীন লন্ডন
হাসিনা বেগম সাথী বাংলাদেশ
আব্দুল কাদের জিলানী বাংলাদেশ
মাহবুব হোসেন ফ্রান্স
এডভোকেট মির সিরাজ বাংলাদেশ
ইউসূফ আলী বাংলা দেশ
আশরাফ খান বাংলাদেশ
প্রফেসর আলহাজ ডক্টর শরিফ সাকি
এনামুল কবির লিটূ
দেয়াল বড়ুয়া বাংলাদেশ
আর ও অনেকই সংযুক্ত আছেন
DESH-BONDHU REMITTANCE JUDDAH SHONSHOD

চয়ন কুমার রায় লালমনিরহাট

লালমনিরহাটে সংবাদ সম্মেলন: ইউএনও ও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে জমি দখল ও লুটপাটের অভিযোগ

চয়ন কুমার রায় লালমনিরহাট প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ১:১৩ পিএম
লালমনিরহাটে সংবাদ সম্মেলন: ইউএনও ও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে জমি দখল ও লুটপাটের অভিযোগ

লালমনিরহাট সদর উপজেলায় কোনো প্রকার আইনি নোটিশ বা পুলিশি উপস্থিতি ছাড়াই এক সংখ্যালঘু পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ, হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী গোবিন্দ চন্দ্র সরকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ তোলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে লালমনিরহাট গল্পকথা মৃধাবাড়িতে আজ বিকাল ৫টায় মৃত গঙ্গামোহন সরকারের পুত্র গোবিন্দ চন্দ্র সরকার জানান,, ২৬ মার্চ বিকেলে লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনিতা দাস কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই তার মালিকানাধীন জমিতে আকস্মিকভাবে প্রবেশ করেন। এসময় তার সাথে মোগলহাট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান দুলাল হোসেন এবং স্থানীয় বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শুকুরউদ্দীনসহ প্রায় ৫০-৬০ জনের একটি দল ছিল।
​অভিযোগ করা হয় যে, কোনো আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই সেখানে ‘মব’ সৃষ্টি করে বসতবাড়ির সাইনবোর্ড ও স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়। ভুক্তভোগী ও তার সন্তানদের জোরপূর্বক জমি থেকে বের করে দিয়ে নির্মাণাধীন মার্কেটের প্রায় ১০ হাজার ইট, ১০০ বস্তা সিমেন্ট এবং প্রায় ২ লক্ষ টাকার রড লুটপাট করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

গোবিন্দ চন্দ্র সরকার তার বক্তব্যে জানান, এই জমি কোনো সরকারি খাস বা কলোনির জায়গা নয়। ১৯৪৩ সালে তার পিতা প্রায় ১৭.৫ একর জমি ক্রয় করেন, যার মধ্যে বড় একটি অংশ পরবর্তীতে সরকার অধিগ্রহণ করে। অবশিষ্ট ২ একর ১৭ শতাংশ জমি ১৯৬২ সালে তার পিতার নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। এই জমির একটি অংশ ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মন্দিরে দান করা হয়েছে। বর্তমানে অবশিষ্ট জমিতে তিনি বৈধভাবে মার্কেট নির্মাণের কাজ করছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আবেগপ্লুত কণ্ঠে গোবিন্দ চন্দ্র সরকার বলেন, “আমি একজন আইন মান্যকারী নাগরিক। আমার যদি কোনো ত্রুটি থাকতো, তবে আমাকে কাগজপত্র দেখানোর সুযোগ দেওয়া কিংবা আইনি নোটিশ দেওয়া যেতো। কিন্তু ইউএনও মহোদয় কোনো পুলিশ ছাড়াই স্থানীয় একদল ব্যক্তিকে নিয়ে যেভাবে হামলা ও মারধর চালিয়েছেন, তা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও বেআইনি।” তিনি আরও জানান, তাকে টেনে-হিঁচড়ে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং ঘটনার ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। একইসঙ্গে দখলকৃত সম্পত্তি দ্রুত ফেরত পেতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি ১৯৪০ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত জমির সকল বৈধ দলিল ও কাগজপত্র সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত আছেন বলেও জানান।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, এখনো পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সচেতন মহলে এই ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মো:মুন্না শেখ বাগেরহাট

প্রথম কর্মদিবসেই সক্রিয় ভূমিকা: জেলা পরিষদে ব্যারিস্টার শেখ জাকির হোসেন

মো:মুন্না শেখ বাগেরহাট প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ১:০৫ পিএম
প্রথম কর্মদিবসেই সক্রিয় ভূমিকা: জেলা পরিষদে ব্যারিস্টার শেখ জাকির হোসেন

জেলা পরিষদ বাগেরহাটের নবনিযুক্ত প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ জাকির হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম কর্মদিবসেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি জেলা পরিষদ কার্যালয় পরিদর্শন করেন এবং সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

প্রথম দিনেই তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন। এ সময় তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করে বলেন, জেলার উন্নয়ন ও সেবার মান আরও বাড়াতে সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে প্রশাসক বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হন। কোথাও কোনো সমস্যা বা ধীরগতি থাকলে তা দ্রুত সমাধানের নির্দেশনা দেন।
তিনি আরও জানান, বাগেরহাট জেলার উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হবে এবং স্থানীয় জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন প্রশাসকের আগমনকে স্বাগত জানিয়ে তার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

error: Content is protected !!