ভাঙন শেষে আমি
সবসময় ভাবতাম—
ভালোবাসা মানেই, নিজেকে কিছুটা সরিয়ে রাখা।
নিজের কথাগুলো গিলে ফেলা,
নিজের প্রয়োজনগুলো একটু পেছনে ঠেলে দেওয়া।
ভেবেছি, এতে সম্পর্ক টিকে যাবে।
ভেবেছি, ওরা খেয়াল করবে—
আমার না-বলা অভিমানগুলো,
আমার নিঃশব্দ সহনশীলতা।
কিন্তু সময়ের খাতা খুলে দেখি—
আমি শুধু দিয়ে গেছি।
কারো চোখে পড়েনি আমার খালি হাত,
কারো কানে পৌঁছায়নি আমার না-বলা শব্দগুলো।
জানো, ক্লান্তি আসলে তখনই আসে—
যখন বারবার ছেড়ে দাও,
আর কেউ একটিবারও ফিরে চায় না।
আমি দেখেছি—
যতটা মাটি হই, ততটা পায়ে হেঁটে যায় সবাই।
যতটা চুপ থাকি, ততটাই নির্লজ্জ হয়ে ওঠে আচরণগুলো।
যতটা সহ্য করি, ততটাই যুক্তি সাজিয়ে দেয় ওরা,
আমাকেই ভুল প্রমাণ করতে।
একদিন ঘুম ভেঙে দেখি—
আমি নেই।
শুধু থেকে গেছে একটা “মানিয়ে নেওয়ার অভ্যাস”।
আর সেদিন বুঝি,
আমার নীরবতা, আমার উদারতা,
আমার চুপচাপ থাকা—
সবকিছু মিলিয়ে
আমি নিজেকে হেরে দিয়েছি।
তাই আজ,
আমি কণ্ঠ শক্ত করি—
না, চিৎকার করে নয়,
শান্ত স্বরে বলি:
“এবার আমি নিজেকে ছাড়ব না।”
আমি আমার সম্মান চাই—
তোমার ভালোবাসার ভেতর,
তোমার কথার ভঙ্গিতে,
তোমার সময়ের প্রাধান্যে।
আমি চেয়েছি না, এখনও চাই না বেশি কিছু।
শুধু চাই, যতটুকু আমার প্রাপ্য,
তা যেন আমিই না হারিয়ে ফেলি কাউকে সন্তুষ্ট রাখতে গিয়ে।
এই স্বীকারোক্তি হয়তো কারও কাছে অহংকার মনে হবে।
তবু আমি বলি—
এটাই আমার প্রেমের নতুন ব্যাকরণ।
যেখানে আমি আছি।
পূর্ণ, অবিচল, অপরাজেয়।














