পরির অভিশাপ
আমার নাম মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। আমি রাজশাহীর একজন সাধারণ মানুষ।
আমার জীবনের গল্প শোনানোর আগে আমি চাই, আপনাদেরকে আমার পরিবারের সম্পর্কে একটু জানিয়ে রাখি।
আমাদের পরিবারে আছি আমি, আমার বাবা-মা, দাদা-দাদী, বড় ভাই ও বড় বোন।
মোট দুই ভাই, এক বোন—এভাবেই গঠিত আমাদের পরিবার।
আমরা রাজশাহী শহর থেকে অনেক দূরের একটি ছোট্ট গ্রামে, এক নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে বসবাস করতাম।
আমার বাবা ছিলেন একজন দোকানদার। আমাদের এলাকাতেই তাঁর একটি ছোট মুদি দোকান ছিল।
সেই দোকানে তিনি মুদি মালপত্র, চা, বিস্কুট, বিড়ি-সিগারেট ইত্যাদি বিক্রি করতেন।
এই দোকানের আয়ে আমাদের সংসার চলতো।
ছোটবেলার দিনগুলো এভাবেই কেটেছে।
তখন আমার বয়স প্রায় ৯-১০ বছর। আমার ভাই তখন অনেকটাই বড়, বয়স প্রায় ২০ থেকে ২২ বছর হবে।
আর বড় বোনের বয়স ভাইয়ের চেয়েও বেশি।
আমার বড় আপু দেখতে তেমন আকর্ষণীয় ছিল না, এবং একটু চটকদার স্বভাবের ছিল।
চোখে কিছুটা সমস্যা থাকায় ভালো ঘর থেকে বিয়ের প্রস্তাবও আসতো না।
যেগুলো আসত, সেগুলো খুবই সাধারণ ঘরের ছেলে ছিল, যাদের আমার বাবা মেনে নিতে চাইতেন না।
এভাবে পছন্দ-অপছন্দ করতে করতেই বোনের বয়স অনেকটা বেড়ে যায়, কিন্তু বিয়ে আর হয়ে ওঠে না।
আমার বয়স যখন ১০ থেকে ১১ বছরের কাছাকাছি, তখন থেকেই আমার বাবার পুরনো হাঁপানির রোগটা বাড়তে থাকে।
হাঁপানির কারণে তিনি ভীষণ কষ্ট পেতেন এবং শেষমেশ দোকান চালানো বন্ধ করে দেন।
এরপর আমার ভাইয়া দূরের এক বড় বাজারে একটি দোকান চালু করে।
সেই দোকানে বাবা অনেক টাকা বিনিয়োগ করেন। ভাই দোকান চালাতো, আর সেই টাকাতেই আমাদের পুরো পরিবার চলতো।
বাবার অবস্থা দিনে দিনে খারাপ হতে থাকে। তিনি এতটাই অসুস্থ হয়ে যান যে আর কিছুই করতে পারতেন না।
সারাক্ষণ ঘরে পড়ে থাকতেন।
আমি তখন মাত্র ১০ বা ১২ বছরের, এর মধ্যেই বাবা হাঁপানির রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
বাবার মৃত্যুর পর আমাদের পরিবার যেন ভেঙে পড়ে।
ভাইয়ার আয়ে কোনোরকমে সংসার চলতো, কিন্তু দুঃখ-কষ্ট আমাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়।
এই কঠিন সময়ের মধ্যেই আমি বড় হতে থাকি।
বয়স যখন ১৪ বছরের কাছাকাছি, তখন থেকেই আমার জীবনে নানা ঘটনা ঘটতে শুরু করে।
একসময় আমাদের গ্রামে এক তান্ত্রিক বা কবিরাজ আসে।
সে উঠেছিল হামিদার মায়ের বাড়িতে।
গ্রামের অনেক মানুষ তার কাছে যেতো কারণ তিনি খুবই নামকরা কবিরাজ ছিলেন।
তিনি কারো মুখের দিকে তাকিয়ে বলতে পারতেন তার নাম কী, সে কেন এসেছে, কী সমস্যা নিয়ে এসেছে—সবই বলে দিতে পারতেন।
এমনই একজন নামকরা ও ক্ষমতাবান কবিরাজ ছিলেন তিনি।
Will be continue …..














