ভিমরতি
বাংগালি পরিবারে পিতা আর সন্তানের সেতুবন্ধন হয়ে থাকেন মা! বাবা’র প্রতি সন্তানের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, ভক্তি সব থাকে কিন্তু একটি সসম্ভ্রম অলিখিত দূরত্বও থাকে ! মা সেই দূরত্ব ঘুচিয়ে টাইট করে গিট্টু দিয়ে রাখেন! মা না থাকলে গিট্টু ঢিলে হতে হতে একসময় আলগা হয়ে যায় !
বড় ছেলে আর মেয়ে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে! ছোট ছেলে ক্যাডেটে !
বড় ছেলে আজান এ লেভেলে দিবে ! কলেজ লেভেলে গেলে সবাই নিজেকে তালেবর ভাবা শুরু করে! ইংলিশ মিডিয়ামের পোলাপানের ক্ষেত্রে এটা আরও এক ডিগ্রি বেশি প্রয়োজ্য! মা থাকলে এইসব মাতব্বরি হাসনে, প্রহসনে অথবা শাসনে সামলে নেন! নাড়ি ছেঁড়া ধন বলেই সন্তানের নাড়িনক্ষত্র বোঝেন!
উঠতি বয়সে মুখে দাড়ি গোঁফ গজায় সেই সাথে মনে মস্তিষ্কেও অনেক কিছু গজায়! মা সব বোঝেন! গজিয়ে ওঠা আগাছা নিড়ানি মায়ের চেয়ে ভালো কেউ পারেনা!
আজান যেদিন ল্যানড ক্রুজার গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দিয়ে এক রিক্সাকে আরোহী সমেত উল্টে ফেলে দিয়ে সার্জেন্টের সাথে তর্ক বাঁধিয়ে দিলো সেদিন মনে মনে ফারুক সাহেব অসহায় বোধ করলেন !
ঠিক কতটুকু শাসন সুপথে পরিচালিত করবে, কতটুকু অভিভাবকের প্রতি বিদ্বেষ তৈরী করবে সেটা মাপার পাল্লা বাটখারা এদের মায়ের কাছে ছিলো ! ফারুক সাহেব সেসব ঠাহর করতে পারেন না !
ম্যানেজার আগেই জানিয়েছিলো, আজান ইদানীং অতিরিক্ত টাকা হাতখরচ হিসেবে নিচ্ছে! তার রুম গোছাতে গিয়ে হাউজকিপার প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে সিগারেটের আধখাওয়া,পুরো খাওয়া ফিল্টার উদ্ধার করে! এমনকি একদিন বিলেতি মদের বোতলও ফ্লাওয়ার ভাসের পেছনে পাওয়া গেল!
এক দল বন্ধু নিয়ে সে ঘন্টার পর ঘণ্টা দরজা বন্ধ করে হৈ হুল্লোড় করে ! সেই সময়টাতে বাসার বাবুর্চিকে বিভিন্ন খাবারের ফরমায়েসি আইটেম তৈরি করে করে হয়রান হতে হয়! গৃহকর্মীরা এমন গন্ধ, এমন মিউজিক,এমন হুল্লোড়, এমন পরিবেশ আগে দেখেনি! বেগম সাহেবা যতদিন ছিলেন – এমনকি তিনি যখন বিছানা থেকে উঠতেও পারতেন না – তখনও বাসার সবকিছু নিয়মমাফিক চলতো! লবণদানী থেকে শুরু করে হারপিকের বোতল – কোন কিছু জায়গা থেকে নড়ার উপায় নেই !
তার অস্তিত্ব মানেই অঘোষিত কর্তৃত্বের বাতাবরণ ! এখন প্রায় সারাক্ষণ উরাধূরা ইংলিশ মিউজিক বাজে তারপরও কী অতলানত নৈশব্দ্য! সেই নৈশব্দে কান পাতলে ভাংগনের শব্দ শোনা যায় !
এদিকে মেয়ে চারুলতাও ডাগর হয়ে উঠেছে!














