রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২
রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২

জীবনের লক্ষ্য খোঁজার গল্প

যেখানে শেষ, সেখানেই শুরু

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ জুন, ২০২৫, ১২:০৫ পিএম | 282 বার পড়া হয়েছে
যেখানে শেষ, সেখানেই শুরু

মানুষ জন্মায় এক শূন্যতা নিয়ে। তারপর ধীরে ধীরে জীবন তাকে শিখিয়ে দেয় কিভাবে হাঁটতে হয়, কিভাবে লড়তে হয়, আবার কিভাবে হার মানতেও হয়। কিন্তু এই হেরে যাওয়ার মাঝে যদি কেউ নিজের জীবনের লক্ষ্য ভুলে যায়, তাহলে জীবন এক মৃত নদীর মতো নিঃস্ব ও অর্থহীন হয়ে ওঠে। অথচ লক্ষ্যহীন জীবন মানেই কিন্তু শেষ নয়। বরং সেটাই হতে পারে নতুন এক শুরুর সূচনা।
অনেকেই বলেন, “আমার কোনো লক্ষ্য নেই। আমি জানি না, আমি জীবনে কী করতে চাই।” অথচ এই না জানাটাই কিন্তু জীবনের প্রথম ধাপ। কারণ যে মানুষ জানে সে জানে না, সে খোঁজে। আর যে খোঁজে, সে একদিন না একদিন ঠিকই খুঁজে পায়।
জীবনের লক্ষ্য কেবল একটি নির্দিষ্ট পেশা বা অর্জন নয়। এটি হতে পারে আত্মতৃপ্তি, পরিবারকে ভালো রাখা, সমাজের জন্য কিছু করা, কিংবা নিজের ভেতরের অস্থিরতাকে শান্ত করা। লক্ষ্য মানে নিজের ভেতরের যন্ত্রণাগুলোর উত্তর খোঁজা। লক্ষ্য মানে নিজেকে প্রশ্ন করা, “আমি কেন বেঁচে আছি?” এবং সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতেই তৈরি হয় জীবনের মানে।
হতাশা আসে, কারণ আশা ছিল
আমরা সবাই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে হতাশ হই। কেউ চাকরি না পেয়ে, কেউ সম্পর্ক হারিয়ে, কেউ পরিবার থেকে অবহেলা পেয়ে, কেউ নিজের শারীরিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, এই হতাশা এসেছে কেন? কারণ আপনি আশা করেছিলেন। আপনি ভেবেছিলেন ভালো কিছু হবে। এবং এটাই প্রমাণ করে, আপনি এখনো ভিতর থেকে হার মানেননি।
যখন জীবন থেমে যায় বলে মনে হয়, তখন আসলে তা নতুন পথের জন্য থেমে দাঁড়িয়েছে। আপনি শুধু সেই পথ দেখতে পাচ্ছেন না এখনই। একটুখানি ধৈর্য, একটুখানি নিজের প্রতি বিশ্বাস, এবং প্রতিদিন একটু একটু করে এগিয়ে চললেই একসময় দেখা মিলবে সেই নতুন দিগন্তের।
নিজেকে ছোট করে ভাববেন না
এই পৃথিবীতে প্রত্যেকটি মানুষ বিশেষ। আপনি, হ্যাঁ আপনিও। হয়তো আপনি এখনো সেটা বুঝতে পারেননি, কিন্তু আপনি এই পৃথিবীতে এমন কিছু দিতে পারেন, যা আর কেউ পারবে না। আপনার অভিজ্ঞতা, আপনার কষ্ট, আপনার ছোট ছোট জয়ের গল্প—এই সবই অন্য কারো জন্য আশার আলো হতে পারে।
অনেক সময় আমরা নিজেদের অন্যের সঙ্গে তুলনা করি। দেখি, “সে এত দূর চলে গেছে, আমি এখনো কিছুই করতে পারিনি।” অথচ আপনি জানেন না, সে মানুষটা কত কষ্ট করে সেখানে পৌঁছেছে, আর আপনার ভেতরে লুকিয়ে আছে আরও গভীর এক শক্তি যা হয়তো আজ না, কাল, কিন্তু ঠিক একদিন জ্বলে উঠবে।
তুলনা না করে বরং নিজের আজকের চেয়ে আগামীকালকে একটু ভালো করার প্রতিজ্ঞা নিন। আজ যদি এক পা এগোতে পারেন, আগামীকাল দুই পা পারবেন। এভাবেই ধীরে ধীরে বদলে যাবে আপনার জীবন।
লক্ষ্য নেই? সমস্যা না, শুরু করুন হেঁটে
অনেকেই ভাবে, আগে লক্ষ্য ঠিক করব, তারপর কাজ শুরু করব। অথচ সত্যিটা হলো, কাজ শুরু করলেই লক্ষ্য ধরা দেয়। আপনি যদি এখন জানেন না আপনি কী করতে চান, তাহলে যেকোনো একটা ভালো অভ্যাস শুরু করুন। হোক সেটা সকালে উঠে হাঁটা, একটা বই পড়া, কারো পাশে দাঁড়ানো, কিংবা নিজের একটা ছোট্ট স্কিল শেখা।
এই ছোট ছোট কাজগুলোই আপনাকে নিয়ে যাবে বড় কিছুতে। হয়তো আপনি ভাবছেন, “এতে কি হবে?” কিন্তু একটা ভালো কাজ অন্য ভালো কাজকে ডাকে। একটা ধৈর্য অন্য ধৈর্য তৈরি করে। এভাবেই গড়ে ওঠে শক্ত ভিত।
নিজেকে ভালোবাসুন – কারণ আপনি সেটার যোগ্য
অনেক সময় আমরা নিজেদের সেরা শত্রু হয়ে যাই। নিজের ভেতরের কণ্ঠটা বলে, “তুই পারবি না। তুই তো ব্যর্থ।” অথচ এই কণ্ঠটা থামাতে পারেন আপনি নিজেই। আপনি যদি নিজের বন্ধু না হন, তাহলে কে হবে?
প্রতিদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বলুন, “আমি পারব। আমি বদল আনব। আমি অন্ধকারে আলো খুঁজে বের করব।” প্রথম দিকে এটা হাস্যকর লাগতে পারে, কিন্তু ধীরে ধীরে আপনার মন বিশ্বাস করতে শুরু করবে। নিজের ভালো দিকগুলো খুঁজে বের করুন। লিখে ফেলুন আপনার তিনটা গুণ। নিজের ছোট অর্জনগুলোকে উদযাপন করুন। এতে করে আপনি অনুভব করবেন, আপনি মূল্যবান।
আপনার গল্প এখনো শেষ হয়নি
হয়তো আপনি এখন মনে করছেন, “আমার বয়স হয়ে গেছে”, “এখন কিছু করার সময় না”, “সবাই এগিয়ে গেছে, আমি একা পড়ে গেছি।” কিন্তু আপনি জানেন না, হয়তো আপনার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায় এখনো লেখা বাকি। অনেক লেখক, শিল্পী, উদ্যোক্তা তাদের সাফল্য পেয়েছে চল্লিশ বা পঞ্চাশ বছর পার হওয়ার পর। কারণ তারা বিশ্বাস হারাননি।
জীবন একটা নদীর মতো। তার কখনো স্রোত থাকে, কখনো স্থিরতা, কখনো খরস্রোতা। আপনি যদি ভাটায়ও স্থির থাকতে পারেন, তবে জোয়ার আসবেই একদিন। শুধু প্রয়োজন নিজের বিশ্বাসটুকু ধরে রাখা।
শেষ কথা – শুরুটা আজই হোক
আপনি এখন যেখানেই থাকুন না কেন, যেমন অবস্থাতেই থাকুন, একটা কথা মনে রাখুন—জীবন এখনও আপনাকে সুযোগ দিচ্ছে। আজ একটা ছোট কাজ দিয়ে দিনটা শুরু করুন। কারো সঙ্গে ভালোভাবে কথা বলুন, একটা কাগজে আপনার চিন্তাগুলো লিখুন, নিজের ভবিষ্যৎ কল্পনা করুন। মনে রাখুন, এই ছোট ছোট পদক্ষেপই একদিন হয়ে উঠবে বিশাল এক জার্নি।
আর যদি কখনো মনটা খুব ভেঙে পড়ে, চোখে পানি এসে যায়, মনে হয় আর পারছি না—তখন নিজেকে শুধু এটুকু বলবেন, “এই পথটা আমার শেষ পথ না, এটা কেবল একটা বাঁক। আমি আবার দাঁড়াব, আমি আবার হাঁটব। কারণ আমি জীবিত, আর জীবিত থাকলেই নতুন সম্ভব।”
আপনার জীবনের গল্প এখনো বাকি। শুরু করুন আজই। আপনি পারবেন। কারণ আপনি অমূল্য। 🌱

ফাইনালে উঠতে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:৫৮ পিএম
ফাইনালে উঠতে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ

২০২৪ সালে নেপালকে হারিয়েই শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। ললিতপুরের আনফা কমপ্লেক্সে স্বাগতিকদের কাঁদিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামা বাংলাদেশ এবার নেপালকে পেল সেমিফাইনালেই। এবারও ফাইনালে উঠতে আত্মবিশ্বাসী মার্ক কক্সের শিষ্যরা।

গ্রুপ পর্বে পাকিস্তানকে ২-০ গোলে হারিয়ে অভিযান শুরু করে বাংলাদেশ। অপরাজিত হয়ে সেমিতে উঠলেও মার্ক কক্সের শিষ্যরা ভারতের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছেন। ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছে বাংলাদেশ। অপর গ্রুপ (‘এ’ গ্রুপ) থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নেপাল সেমিতে উঠেছে। সেমিফাইনাল সামনে রেখে বাংলাদেশ দল প্রস্তুতি নিচ্ছে জোরকদমে। আজ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) এক ভিডিও বার্তায় গোলরক্ষক কোচ বিপ্লব ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমার বিশ্বাস খেলোয়াড়রা সেরাটা দিয়ে সেমিফাইনালে নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে উঠব।’

বাংলাদেশ-নেপাল সেমিফাইনাল হবে ১ এপ্রিল মালে জাতীয় স্টেডিয়ামে। নকআউট পর্বের ম্যাচ সামনে রেখে আজ রিকভারি সেশন করেছে দল। মূলত নেপাল ম্যাচ সামনে রেখে ফুটবলারদের উজ্জীবিত রাখতেই এমন কিছু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিপ্লব। বাফুফের ভিডিও বার্তায় গোলরক্ষক বলেন, ‘গত দুটি ম্যাচে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে অনেক বড় ম্যাচ খেলেছি। ফুটবলারদের ওপর ধকল গেছে। এখন আমরা রিকভারি ট্রেনিং করছি সুইমিংপুলে এসে। স্ট্রেসিং ছিল। সামনে সেমিফাইনালের মতো অনেক বড় একটা ম্যাচ। দলকে ভালো একটা অবস্থায় আনার চেষ্টা করছি। খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করতে প্রত্যেক মুহূর্ত চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

নেপাল ৭ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে উঠেছে সেমিফাইনালে। ভুটান-শ্রীলঙ্কাকে হারানো নেপাল ড্র করেছে মালদ্বীপের বিপক্ষে। এখন পর্যন্ত নেপাল দিয়েছে চার গোল এবং দুই গোল হজম করেছে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হলেও ফাইনালে ওঠার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ফুটবলার ডেকলান সুলিভান। বাফুফের ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘দলের সঙ্গে রিকভারি সেশন মাত্র শেষ হলো। সেশনটা ভালো ছিল। আমরা এখানেই থামব না। পরের ম্যাচে আমাদের জিততেই হবে।’

অনূর্ধ্ব-২০ সাফ শুরুর আগেই আলোচনায় ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী দুই যমজ রোনান সুলিভান ও ডেকলান সুলিভান। রোনান পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন। ডেকলান দুই ম্যাচের একটিতেও খেলার সুযোগ পাননি। ১ এপ্রিল আরেক সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারত-ভুটান। ভারত-বাংলাদেশ দুই দলের পয়েন্ট চার। কিন্তু গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ‘বি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ভারত। গতকাল ১-১ গোলে ড্র হওয়া বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে দেখা গেছে জোড়া লাল কার্ড।

 

‎মোঃ রেজাদুল ইসলাম রেজা, গাইবান্ধা

ফুলছড়িতে বিএনপি নেতার বাড়িতে তাণ্ডব

‎মোঃ রেজাদুল ইসলাম রেজা, গাইবান্ধা প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:৫৬ পিএম
ফুলছড়িতে বিএনপি নেতার বাড়িতে তাণ্ডব

গাইবান্ধার ফুলছড়িতে প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালিয়ে জাসাস নেতার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় রীতিমতো ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এলাকায়।

‎গত ১৯ মার্চ বিকেলে ফুলছড়ি ইউনিয়নে জাসাসের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেনের বাড়িতে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।

স্থানীয়দের দাবি, একাধিক হত্যা ও ডাকাতি মামলার আসামি মোহাম্মদ আলী ও তার সশস্ত্র বাহিনী এ হামলার নেতৃত্ব দেয়।

‎ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বাধা ও ছাত্র হত্যা দায়ে ঢাকা উত্তরা থানার মামলার আসামি শুকুর আলী ফিরোজের প্রত্যক্ষ নির্দেশে এই নৃশংস হামলা সংঘটিত হয়েছে। বাড়িতে পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগ নিয়ে হামলার ছক কষা হলেও ঘটনাস্থলে লোকজন থাকায় আগুন দিতে ব্যর্থ হয়ে হামলাকারীরা ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।

‎এ সময় ফরহাদ হোসেনের বাবা জামাল বাদশাসহ অন্তত ১৩ জনকে লাঠি, রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। গুরুতর আহতদের ফেলে রেখে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন—কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

‎আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবার। যেকোনো সময় আবারও হামলার আশঙ্কায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

‎ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা বলছেন, অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে হবে, নইলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

‎ফুলছড়ি থানা সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় ফরহাদ হোসেন ৫১ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন।

বিসিবিকে নিয়ে কী বললেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী?

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:৫৪ পিএম
বিসিবিকে নিয়ে কী বললেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী?

ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জিতে বিএনপি সরকার গঠন করার পর টেকনোক্র্যাট কোটায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার আগ থেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিয়ে তুলনামূলক বেশি বক্তব্য রেখেছেন আমিনুল হক। সংসদ অধিবেশনে আজ যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে থাকল বিসিবি।

সংসদ অধিবেশনে আজ প্রশ্নোত্তর পর্বে আমিনুলের কাছে বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন জিজ্ঞেস করেন, বিসিবি নিয়ে কী ভাবছেন তিনি। উত্তরে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের যে অর্থ কিংবা জনবল, তাঁরা বিগত সময়ে যে ভোটের অধিকার হরণ করতে একটি গ্রুপকে সহযোগিতার মাধ্যমে এ ধরনের অপকর্ম করেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরে এই বোর্ডের যাঁরা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, সেই সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ইনশা আল্লাহ। পাশাপাশি আমাদের সবশেষ ক্রিকেট বোর্ডের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব নেওয়ার কিছু ইস্যু আমার সামনে পরিলক্ষিত হয়েছে। আমাদের যে দুদকের মহাপরিচালক রয়েছেন, তাঁর কাছে আহ্বান করব এই বিষয়ে কোনো তদন্ত বা কিছু থাকলে যেন আমাদের জানান এবং সেগুলো যেন জাতির সামনে উপস্থাপন করা হয়।’

২০০৯ সাল থেকে শুরু করে টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। সংসদ সদস্য মোশাররফ আওয়ামী শাসনামলে ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে জানতে চাইলে আমিনুল বলেন, ‘আপনারা সকলেই জানেন যে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় থেকে ২০০৮ সাল থেকে ক্রিকেট বোর্ডসহ দলীয়করণ এবং রাজনীতিকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে যে স্থবিরতা নিয়ে এসেছিল এবং বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন যেভাবে ধ্বংসের পথে চলে গেছে, সেই ধ্বংসস্তূপ ক্রীড়াঙ্গনকে নতুনভাবে দলীয়করণমুক্ত, রাজনীতিকরণমুক্ত করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে চলেছি। ২০০৮ সাল থেকে যারা এই দলীয় সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে যারা অবৈধ নিয়োগ হয়েছে, সে সব আমরা দ্রুতই তদন্ত কমিটি করে কারা জড়িত ছিল, ইনশা আল্লাহ জাতির সামনে নিয়ে আসব।’

জাতীয় দলের সাবেক গোলরক্ষক আমিনুল বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ক্রীড়াবিদ হিসেবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। কেন ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলতে পারল না একটা তদন্ত কমিটির মাধ্যমে সেটার কারণ অনুসন্ধানের ঘোষণা ঈদের ছুটির আগে দিয়েছিলেন তিনি। এরই মধ্যে বিসিবির গত বছরের ৬ অক্টোবরের নির্বাচন নিয়ে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে।

error: Content is protected !!