শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২
শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২

কৌশলী ইসলামী দল

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ মে, ২০২৫, ১২:১৭ পিএম | 52 বার পড়া হয়েছে
কৌশলী ইসলামী দল

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে টার্গেট করে ঐক্য গড়ার প্রচেষ্টায়ও ‘কৌশলী’ ভূমিকায় রয়েছে ইসলামী দলগুলো। একছাতার তলে এসে ‘এক বাক্সে’ ভোট পাঠানোর উদ্যোগে ছোট বড় ইসলামী দলগুলোতে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ইসলামী দলগুলোর নেতাদের মধ্যে বোঝাপড়া বেড়েছে। জাতীয় সব ইস্যুতে দলগুলোর নেতারা ভেদাভেদ ভুলে এখন একমঞ্চে বসছেন প্রায়ই। সবশেষ নারী সংস্কার কমিশন বাতিলে দলগুলোর একাট্টা থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া এক বাক্সে ভোটার পাঠানো বা নির্বাচন ইস্যুতে ঐক্য গড়তে অনেকেই সম্মত হয়েছে।

তবে, এ বিষয়ে জামায়াত ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিসের শীর্ষ নেতারা দৈনিক ভোরের আকাশকে বলেছেন, তাদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। একটু সময় লাগলেও মৌলিক জায়গায় তারা এককাতারে পৌঁছাতে পারবেন। তবে, যেহেতু নির্বাচনের এখনো কোনো দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি তাই তারা ধীরে এগোচ্ছেন। নানা আশঙ্কায় কোন প্রক্রিয়ায় ঐক্য হবে সেটিও প্রকাশ করতে চান না তারা। এছাড়া জামায়াত ইসলামীকে নিয়ে অন্য দলগুলো যেমন কৌশলী ঠিক দলটিও ঐক্যের ব্যাপারে কৌশলী ভূমিকায় রয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও হেফাজতের ইসলামের শীর্ষ নেতা মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে। তিনি দৈনিক ভোরের আকাশকে বলেন, ইসলামী দলগুলোর বৃহৎ ঐক্যের ব্যাপারে আমরা কাজ করছি। আমাদের মধ্যে আলোচনা ও বোঝাপড়া দিনদিন ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। দেশের মানুষের ইসলামী দলগুলোর বিভিন্ন মত ও পথের নেতৃবৃন্দকে এককাতারে দেখতে চাওয়ার যে আকাক্সক্ষা রয়েছে সেটি পূরণ হবে বলে আমি মনে করি। ইতোমধ্যেই আমরা কিন্তু বিভিন্ন ইস্যুতে একসঙ্গে বসেছি।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম দৈনিক ভোরের আকাশকে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন থেকেই ইসলামী দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের কথা বলে আসছি। এটা আমরা আওয়ামী লীগ পতনের পর বলছি সেইরকম নয়। আর বিষয়টিতে ইসলামী দলগুলোর আগ্রহও বেড়েছে। জোট করতে গেলে কিছু মতপার্থক্য থাকে। কে কতটুকু ছাড় দেবেন সেটা একটা বিষয়। সবমিলিয়ে তো একটা ঐক্য। ইসলামী দলগুলোর ঐক্যের প্রক্রিয়া ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি।

ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, ঐক্য নিয়ে আলোচনা চলমান। এর লক্ষ্য হলো ইসলামী শক্তিগুলোকে এক জায়গায় আনা। এ নিয়ে সাধারণ মানুষেরও একটা আগ্রহ আছে। কারণ তারা তো বিভিন্ন দলের ভূমিকায় হতাশ হয়েছেন। সাধারণ মানুষের চাওয়া আছে, ইসলামী শক্তি এক কাতারে আসলে তারা ভাল থাকবেন।

জামায়াত ইসলামীর আকিদাগত সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, কোন কোন কওমি উলামা দলটির বিষয়ে আপত্তি থাকলেও আসলে একেবারে বিচ্ছিন্ন থাকা ভালো কথা নয়। আমরা একের অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছি।

জানা গেছে, বাংলাদেশে নিবন্ধিত এবং অনিবন্ধিত ইসলামী দল সব মিলিয়ে ৬০টিরও বেশি। এসব দলের মধ্যে হাতে গোনা ৭-৮টি দলের মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম থাকলেও অনেক দল অস্তিত্ব বিলীনের পথে। নিবন্ধিত ইসলামী দল রয়েছে মাত্র ১১টি। নিবন্ধিত ইসলামী দলগুলো হলো- খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, ইসলামী আন্দোলন, ইসলামিক ফ্রন্ট, খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, জাকের পার্টি, ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি। এর বাইরে বড় ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামী এখন নিবন্ধনহীন। দলটির এক সময় নিবন্ধন ছিল। বারবার সংসদ নির্বাচনে নিজস্ব প্রতীক ‘দাড়িপাল্লা’ নিয়ে ভোট করে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিতও¡ করেছে দলটি। একটি রিটের পর জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট রায় দেন হাইকোর্ট।

ওই বছরের ২ নভেম্বর হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হওয়ার পর জামায়াত ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে। যদিও জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে ইসি। তারপর থেকে দলটির এখন আর নিবন্ধন নেই। আপিল বিভাগের জামায়াতের নিবন্ধনের ফিরে পেতে দলটির করা আপিলের রায় ঘোষণা হবে আগমী ১ জুন। ভোটের ক্ষেত্রে জামায়াতের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এখন মাঠ পর্যায়ে গুরুত্ব রয়েছে।

গত ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ফের ইসলামী দলগুলো নিজেদের মধ্যে ফের ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে। সেই জায়গা থেকে দলগুলোর নেতারা তারা একে অপরের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শুরু করেন। বিশেষ করে দুটি দলকে এ ব্যাপারে বেশ তৎপর দেখা গেছে। যার একটি হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী আর অন্যটি চরমোনই পীরের নেতৃত্বে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ইসলামী আন্দোলন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়েও সভা সেমিনার করেছে।

তবে, আওয়ামী লীগের পতনের পর ইসলামী দলগুলোকে একছাতায় আনার জোর চেষ্টা শুরু করে জামায়াতে ইসলামী। যার অংশ হিসেবে ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন ঘরানার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় শুরু করে জামায়াত ইসলামী।

এর মধ্যে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন, জাকের পার্টি, খেলাফত মজলিস ও ফরায়েজী আন্দোলনও ছিল। এছাড়া খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির আব্দুল মাজেদ আতাহারী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের (একাংশ) আমির আবু জাফর কাসেমী, জামিয়া মাদানিয়ার মুহতামিম মনিরুজ্জামান কাসেমীর মত আলেমদের সঙ্গেও জামায়াত নেতারা নানাভাবে বৈঠক করেন।

মূলত ওই বৈঠকের মূল বিষয় ছিল ইসলামী দলগুলো যেন একে অপরের প্রতি বিদ্বেষমূলক কথাবার্তা বলা থেকে রিবত রাখা এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক ঐক্য গড়ে তোলা। যার প্রভাব মাঠ পর্যায়েও পড়ে। দলগুলোর বেশিরভাগ নেতাকর্মীর মধ্যে আশার সৃষ্টি হয়।

ইসলামী দলগুলোর সেই ঐক্য প্রক্রিয়া এখন কোন পর্যায়ে সেটি জানতে ইসলামী ঘরানার রাজনৈতিক দলগুওেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীর দৈনিক ভোরের আকাশ এর পক্ষ থেকে কথা যোগাযোগ করা হয়।

নেতাকর্মীদের মধ্যে কথা বলে জানা গেছে, সরকার পতনের পর যে ঐক্য প্রক্রিয়া চলছিল সেটি এখনো চলমান। দলগুলোর নেতাদের পরস্পরের সঙ্গে কথাবার্তাও অব্যাহত রয়েছে।

তবে, কিছুটা ধীর গতির কারণ হিসেবে বেশিরভাগ মাঠ পর্যায়ের কর্মী বলেছেন, দলগুলোর একে অপরের সঙ্গে বেশ ‘আকিদাগত’ অমিলই গতি মন্থর হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। এছাড়া জামায়াত ইসলামীকে অনেকে ‘মওদূদীবাদ’ মনে করাও নিজেদের মধ্যে ঐক্যে বাধার সৃষ্টি হয়।

তবে, সব দলের প্রার্থী না হয়ে যেন একক প্রার্থী দেওয়া সম্ভব হয় সে ব্যাপারে সব দলের নেতাকর্মীর ইতিবাচক আগ্রহ অটুট রয়েছে। নিজেদের মধ্যে সুসম্পর্ক বাড়াতে ইসলামী দলের নেতারা পরস্পরের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধও বাড়িয়েছে।

গত ২১ জানুয়ারি হঠাৎ জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বরিশালে নিজ দলের কর্মী সভায় যোগ দেওয়ার আগে চরমোনাই সফর করেন। এসময় চরমোনাই পীর ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের সঙ্গে বৈঠকও করেন জামায়াত আমির।

বৈঠক শেষে দুই ইসলামী দলের প্রধান বলেন, তারা ভোট কেন্দ্রে ইসলামী দলের পক্ষে একটি বাক্স পাঠাতে চান। সে লক্ষ্যে তারা কাজ করছেন। এছাড়াও ইসলামী দলগুলোর নেতারা জাতীয় বিভিন্ন ইস্যুতে প্রায়ই একই মঞ্চে বসছেন। আলাপ আলোচনা করছেন তারা।

গত ৩০ এপ্রিল জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের উদ্যোগে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের ইসলামফোবিয়া : করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে বেশিরভাগ দলের নেতারা অংশ নেন। সেমিনারে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজসিল, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোটসহ সমমনা ইসলামী দলগুলোর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশমালা এবং বিকর্তিত কমিশন কমিশন বাতিলে একাট্ট হন তারা।

এর কয়েকদিন আগেও গত ২৩ এপ্রিল সমমনা ৫টি দলের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজনৈতিক সংলাপ করে। বৈঠক শেষে চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছিলেন, আমরা সমমনা পাঁচটি ইসলামী রাজনৈতিক দল একত্র হয়ে কতগুলো মৌলিক বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছাতে পেরেছি।

সামনে জাতীয় নির্বাচন, আমরা যেন ইসলামী দলগুলো একটি বাক্সে ভোট পাঠাতে পারি, বিষয়টি নিয়ে কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। অনেকের আন্তরিকতা প্রকাশ পেয়েছে। আলোচনায় আমরা সন্তুষ্ট। এছাড়া সংস্কার, নির্বাচন ও চলমান পরিস্থিতি সবাই একমত হয়েছেন বলে জানান তিনি। ইসলামী দল হলেও ভিন্ন মতাদর্শের নেতাদের বৈঠকের পর একই সুরে বক্তব্য দেওয়ার পর ফের ঐক্যের বিষয়টি সামনে এসেছে।

এছাড়া জাতীয় নির্বাচন নিয়ে যেহেতু রাজনীতির মাঠ সরগরম হচ্ছে তাই অনেকে এখন মনে করছেন যে, দ্রুত ইসলামী দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের গতি ত্বরান্বিত হবে। তবে, দলগুলোর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তফশিল ঘোষণার আগে বা নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে দলগুলোর নেতারা স্পষ্ট করবেন। তারা এখন নিজেদের মধ্যে নানা বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রেখেছন।

একদিকে, বড় দলগুলোর মনোভাব বা পরিস্থিতি বুঝে তারা সামনের এগোনোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করবেন। অন্যদিকে, আগে-ভাগে ঘোষণা দিলে সেটি কারো কারো মাথাব্যথার কারণ হতে পারে এমন বিষয়ও মাথায় রয়েছে দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের। এছাড়া ঐক্যের ব্যাপারে জামায়াত ইসলামী যেমন কৌশলী আবার ঠিক বিপরীতে অন্যান্য দলগুলোও জামায়াত নিয়ে কৌশলী ভূমিকায় রয়েছে।

পোরশায় সড়কে রশি টেনে ডাকাতি: বাবা-ছেলেসহ ৪ ডাকাত গ্রেফতার

মর্তুজা শাহাদত সাধন, নওগাঁ প্রতিনিধি : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৫ পিএম
পোরশায় সড়কে রশি টেনে ডাকাতি: বাবা-ছেলেসহ ৪ ডাকাত গ্রেফতার

নওগাঁর পোরশা উপজেলায় সড়কে রশি টেনে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় বাবা-ছেলেসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— সাপাহার উপজেলার খোট্টাপাড়া গ্রামের আবু তাহের (৫৬) ও তাঁর ছেলে কামাল হোসেন (২৩), নওগাঁ সদর উপজেলার দোগাছী দক্ষিণপাড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফা (৫৫) এবং মহাদেবপুর উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের মোস্তাক আহমেদ (৪৬)।

পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পোরশা উপজেলার সারাইগাছী-খাট্টাপাড়া ফকিরের মোড় এলাকায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাত দলটি একটি সেতুর ওপর রশি টেনে ছয়জন আরোহীসহ দুটি মোটরসাইকেলের পথরোধ করে। পরে অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা, একটি স্মার্টফোন, তিনটি বাটন মোবাইল ফোন এবং ১২৫ সিসির দুটি ডিসকভার মোটরসাইকেল লুটে নেয়।

ডাকাতরা ভুক্তভোগীদের পাশের একটি আম বাগানে নিয়ে গিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে রেখে যায়। এ ঘটনায় পরদিন পোরশা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ সুপার জানান, মামলার তদন্তে নেমে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও এআই ব্যবহার করে মাত্র ১৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে। পরবর্তীতে নওগাঁ সদর ও মহাদেবপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ডাকাত চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পূর্বে একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে মাদক ও দ্রুত বিচার আইনে দুটি, আবু তাহেরের বিরুদ্ধে চুরি ও ডাকাতিসহ পাঁচটি, কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে দুটি এবং মোস্তাক আহমেদের বিরুদ্ধে চুরি ও ডাকাতিসহ আটটি মামলা চলমান রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, ডাকাত চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নাটোরে ১২ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদক কারবারি আটক

মো: রাজিবুল ইসলাম বাবু বিশেষ প্রতিনিধি : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৩ পিএম
নাটোরে ১২ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদক কারবারি আটক

নাটোরে যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে ১২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ভোরে নাটোর সদর থানাধীন চকরামপুর এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন- রাজবাড়ী সদর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের মৃত কাসেম শেখের ছেলে লিটন শেখ (৪২) এবং নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ছাতিয়ানগাছা মন্ডলপাড়া গ্রামের জিন্নাত আলীর ছেলে শরিফুল ইসলাম (৩৫)।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায় , গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৩টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত শহরের চকরামপুর এলাকায় ইসলামিয়া পচুর হোটেলের সামনে চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় কুড়িগ্রাম থেকে ফরিদপুরগামী শাহী ক্লাসিক (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৫৩৫৭) নামের একটি যাত্রীবাহী বাসের দুই যাত্রীর কাছে থাকা স্কুল ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে ১২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাটোর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক খন্দকার নাজিম উদ্দিন।

এ ঘটনায় পরিদর্শক খন্দকার নাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে নাটোর সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আটক ব্যক্তিদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মো: রাজিবুল ইসলাম বাবু
বিশেষ প্রতিনিধি
নাটোর।
০১৩১০-৩২১ ৩০৬.
০১৭৪০-৮১৫ ৫০৬.
৩ এপ্রিল ২০২৬.

সুন্দরবন থেকে অস্ত্র-গুলিসহ দুই বনদস্যু আটক, উদ্ধার ৩ জেলে

রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০২ পিএম
সুন্দরবন থেকে অস্ত্র-গুলিসহ দুই বনদস্যু আটক, উদ্ধার ৩ জেলে

সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের অভিযানে  অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ  দুই বনদস্যু আটক। এসময় উদ্ধার করা হয় মুক্তি পনের দাবিতে দস্যুদের কাছে জিম্মি থাকা  তিন জেলেকে।
‎শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) বিকালে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন, কোস্টগার্ড  পশ্চিমজোন এর মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন ।

‎তিনি জানান,গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দরবনের কুখ্যাত দস্যু ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনী সদস্যরা সুন্দরবনের বাইনতলা খাল সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে,  শুক্রবার ভোরে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে দস্যুরা বনের ভেতর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আভিযানিক দল কর্তৃক দস্যুদের ধাওয়া করে। এসময় ২টি একনলা বন্দুক, ২৩ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৫ পিস ইয়াবা ও নগদ ১,১০০ টাকাসহ  বন দস্যু ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর ২ জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করে তাদের আস্তানা ধ্বংস করা হয়।

‎কোস্টগার্ড জানায়, আটক বন দস্যু মোঃ সোহাগ হাওলাদার (৩৫) বাগেরহাটের শরণখোলা এবং বাবুল সানা (৪২) খুলনার পাইকগাছা থানার বাসিন্দা। উভয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে ডাকাতি করে আসছিল।

‎অপরদিকে, আরও একটি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সুন্দরবনের খোল ডাঙ্গ খাল সংলগ্ন এলাকা বনদস্যু জোনাব বাহিনীর আস্তানায় অভিযান চালায় কোস্টগার্ড। এসময় মুক্তিপণের দাবিতে দস্যু বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা ৩ জন জেলেকে উদ্ধার করা হয়। তবে কোস্টগার্ডের অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ায় কোন বন দস্যুকে আটক করতে পারেনি কোস্টগার্ড।

‎এ সময় দস্যুদের আস্তানা থেকে ২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৩টি ওয়াকিটকি চার্জার, ৩টি মোবাইল ব্যাটারি ও ১টি কুড়াল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত জেলে ইনতাজ (৫০), মোশাররফ (৪২) ও আনিস (৪৫) সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা।

‎আটককৃত ডাকাত, জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা এবং উদ্ধারকৃত জেলেদের পরিবারের নিকট হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানায় কোস্টগার্ড।

‎কোস্টগার্ড সুত্রে জানাযায়, গত বছরের শুরু থেকে  অদ্যাবধি বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানে কুখ্যাত করিম-শরীফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ ও আসাবুর বাহিনীর মোট ৬১ জন দস্যুকো আটক  করা হয়েছে। ওই সব অভিযানে  ৮০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৯৯ রাউন্ড তাজা গোলা, ৩০৮ রাউন্ড ফাঁকা গোলা ও ১,৯৫০ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি জব্দ এবং দস্যুদের কবল থেকে ৭৮ জন জেলে ও ৩ জন পর্যটককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

error: Content is protected !!