রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২
রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন নিরাপদ শাক সবজি

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ মে, ২০২৫, ৩:০৯ পিএম | 77 বার পড়া হয়েছে
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন নিরাপদ শাক সবজি

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ (৮ দশমিক ৪ মিলিয়ন) মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। WHO-2014| World Health Organization – Diabetes Country Profile, 2016- এর মতে বাংলাদেশে ডায়াবেটিসে প্রতি বছর মারা যায় ৬ হাজার ৬০ জন পুরুষ এবং ৪ হাজার ৭৬০ নারী। যাদের বয়স ৩০-৬৯ বছরের মধ্যে। ৭০ বা তার ওপরের বয়সে মারা যায় ৮ হাজার ২২০ জন পুরুষ এবং ৭ হাজার ৩৯০ জন নারী। ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য জটিলতায় ভোগে পুরুষ ৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং নারী ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।

বাংলাদেশ কৃষি নির্ভর দেশ। বর্তমানে বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে। কিন্তু পারিবারিক পর্যায়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ খাদ্যের সমন্বয়ে পরিপূর্ণ পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যগ্রহণ এখনো একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের জনগোষ্ঠী বর্তমানে দুই ধরনের অপুষ্টির শিকার।

যেমন- খাদ্যের অভাবজনিত পুষ্টিহীনতা এবং জ্ঞানের অভাবে খাদ্য সংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদি অসংক্রামক রোগসমূহ, যেমন- ডায়াবেটিস,স্থূলতা, স্ট্রোক, হৃদরোগ, উচ্চরক্তচাপ, ক্যান্সার ইত্যাদি। জেনে রাখা জরুরি যে, খাদ্যসংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদি রোগে মৃত্যুর হার অপুষ্টিজনিত মৃত্যুর হারের চেয়ে বহুগুণ বেশি। খাদ্য তালিকায় শাকসবজি ও ফলমূল যোগ করে, খাবারে বৈচিত্র্যতা এনে অনুপুষ্টির অভাব যাকে ‘হিডেন হাংগার’ বলে দূর করে এই অসংক্রামক রোগসমূহকে প্রতিরোধ করা যায়।

ডায়াবেটিস হলো একটি দীর্ঘমেয়াদি বিপাকে ত্রুটিজনিত রোগ। আমরা সারা দিন যেসব খাবার খাই তা পরিপাকের পর অধিকাংশই গ্লুকোজ হিসেবে রক্তে মিশে যায়। দেহকোষগুলো আমাদের শরীরে শক্তি ও তাপ উৎপাদনের জন্য এই গ্লুকোজ গ্রহণ করে, আর এই কাজটি সম্পাদনের জন্য দেহকোষগুলোকে নির্ভর করতে হয় ইনসুলিন নামক এক প্রকার হরমোনের ওপর যা অগ্ন্যাশয় থেকে নিসৃত হয়।

ডায়াবেটিস হলে অগ্ন্যাশয় থেকে এই ইনসুলিন নিঃসরণে ব্যাঘাত ঘটে বা কম নিঃসৃত হয় অথবা অকার্যকর হওয়ায় কোষে গ্লুকোজের ঘাটতি ঘটে এবং রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যায়। এই অবস্থাকেই ডায়াবেটিস বলে।

কারো রক্তে গ্লুকোজ সুনির্দিষ্ট মাত্রা অতিক্রম করলেই তাকে ডায়াবেটিস রোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় রক্তে গ্লুকোজ মাত্রা অভুক্ত অবস্থায় ৬ দশমিক ১ মি. মোল/লি. এবং গ্লুকোজ খাওয়ার ২ ঘণ্টা পর ৭ দশমিক ৮ মি.মোল/লি. এর নিচে থাকতে হবে।

আর যদি ডায়াবেটিস হয়ে যায়, তাহলে তা নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা সেটা বোঝা যাবে যদি রক্তে গ্লুকোজ মাত্রা অভুক্ত অবস্থায় ৪ দশমিক ৪-৬ দশমিক ১ মি.মোল/লি., খাবার খাওয়ার ২ ঘণ্টা পর ৪ দশমিক ৪-৮ দশমিক ০ মি.মোল/লি. এর মধ্যে থাকে এবং হিমোগ্লোবিন এ১ সি-৭ শতাংশের নিচে থাকে। গর্ভকালীন সময়ে অভুক্ত অবস্থায় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ৫ দশমিক ৩ মি.মোল/লি. এবং খাবার খাওয়ার ২ ঘণ্টা পর ৬ দশমিক ৭ মি.মোল/লি. এর নিচে থাকতে হবে।

যাদের ডায়াবেটিস হয়েছে তাদের উচিত এটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। আর যাদের এখনো হয় নাই তাদের উচিত এটাকে প্রতিরোধ করা। কারণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে ডায়াবেটিস হবে ৭ম বৃহত্তম মরণ ব্যাধি।

ডায়াবেটিস আজীবনের একটি অসংক্রামক রোগ। বংশগত, পরিবেশগত, অলস জীবন যাপন, অসম খাদ্যাভ্যাসের কারণে এ রোগ হতে পারে। এর চিকিৎসার মূল উপাদান হচ্ছে শিক্ষা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম এবং প্রয়োজনে ওষুধ। এগুলোর সমন্বয়ে শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করতে হবে, পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

রক্তের গ্লুকোজের প্রধান উৎস হলো খাবার দাবার। এজন্যই ডায়াবেটিস হলে খাদ্য সম্পর্কে বিশেষভাবে সচেতন হতে হবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় ডায়াবেটিস হলে মানুষ খুব চিন্তায় পড়ে যায়, এই বুঝি তার রিজিক চলে গেল। আসলে কি তাই? আসল কথা হলো খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা ডায়াবেটিস হওয়ার আগেও যেমন থাকে, ডায়াবেটিস হওয়ার পরেও ঠিক একই রকম থাকে। পুষ্টির কোনো তারতম্য হয় না।

পার্থক্য হলো ডায়াবেটিস হলে খাবারের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয় এবং প্রতিদিনই কোনো না কোনো ব্যায়াম করতে হয়, যার উদ্দেশ্য হলো ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রেখে স্বাস্থ্যকে ভালো রাখা। ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য কেমন হবে সেটা সবারই জানা দরকার।

যেসব খাবার খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বেড়ে যায় সেসব খাবার যেমন- মিষ্টি জাতীয় খাবার, সাদা ভাত, সাদা রুটি, সিদ্ধ আলু ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণে রেখে যেসব খাবার খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দেরিতে এবং ধীরে ধীরে বাড়ে যেমন আঁশ জাতীয় শাকসবজি, ফল, মাছ/মাংস, ডিম, দুধ জাতীয় খাবার ইত্যাদি খাবারের তালিকায় যাতে থাকে সে দিকটা খেয়াল রাখতে হয়।

ডায়াবেটিস রোগীর খাবারে শাকসবজির গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। সারা বছরই এ দেশে নানা ধরনের শাকসবজি উৎপাদন হয়। প্রকৃতির এই নেয়ামতকে বিজ্ঞানসম্মত কাজে লাগিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা ও প্রতিরোধ করা যায়। ডায়াবেটিস রোগীর সুবিধার জন্য

শাকসবজিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-
১। শর্করা সম্বলিত সবজি যেমন- আলু, মিষ্টি কুমড়া, কাঁচা কলা, বরবটি, থোড়, মোচা, বিট, শিম, মাটির নীচের কচু, গাজর, কাঁকরোল, শিমের বিচি, কাঁঠালের বিচি, শালগম, ইঁচড়, ঢেঁড়স, বেগুন, মটর শুঁটি, কচুরমুখী, পাকা টমেটো।

২। শর্করাবিহীন শাকসবজি যেমন- সব ধরনের শাক, যেমন লালশাক, পুঁইশাক, পালংশাক, কলমিশাক, ডাঁটাশাক, কচুশাক ইত্যাদি এবং সবজি যেমন ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, ওলকপি, কাঁচা টমেটো, কাঁচা পেপে, শসা, খিরা, উচ্ছে, করলা, ঝিঙা, চিচিঙা, পটোল, লাউ, চালকুমড়া, ডাঁটা, সজনা, ধন্দুল, ক্যাপসিকাম, কাঁচামরিচ, মাশরুম ইত্যাদি।

উপরোক্ত শাকসবজিগুলো প্রতিটি মৌসুমেই কোনটা না কোনটা উৎপাদিত হয়। ডায়াবেটিস রোগীর উচিত প্রতিদিন একই ধরনের শাকসবজি না খেয়ে পাঁচ মিশালী শাকসবজি খাওয়া। এতে করে সব ধরনের শাকসবজির ভিটামিন মিনারেলসহ শরীরের কাজে লাগবে, খাবারে বৈচিত্র্য আসবে, পেট ভরবে, মনে পরিতৃপ্তি আসবে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব জরুরি। বীজ যেমন- পরিবেশ পেলে গজিয়ে উঠে অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসও তেমনই বেড়ে যায় নানা ধরনের রোগ হওয়ার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ পেলে। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে হার্ট, কিডনি, লিভার, চোখ নষ্ট হয়ে যায়, নানা রকম ক্যান্সার হতে পারে, এমনকি শরীরের মাংসেও পচন ধরতে পারে। গর্ভকালীন সময়েও নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে, গর্ভস্থ শিশু মৃত এবং প্রতিবন্ধী হতে পারে, অর্থাৎ ডায়াবেটিস এহেনও কোনো রোগ বা জটিলতা নেই যেটা জন্মাতে সাহায্য করে না।

আল্লাহ তায়ালা শাকসবজির ভেতর এতই নিয়ামত দিয়ে রেখেছেন যে সারা বছর যেসব শাকসবজি পাওয়া যায় তা দিয়েই এসব রোগ প্রতিরোধ করা যায়। প্রতিদিনের খাবারে আঁশযুক্ত শাকসবজি থাকতে হবে। বিভিন্ন প্রকার শাক, তরি-তরকারি যেমন শিম, বরবটি, মাশরুম, লাউ, কুমড়া, গাজর, কাঁচা কলা, ডাঁটা এগুলোর বাইরের আবরণ হচ্ছে সেলুলোজ, একে আঁশও বলা যায়।

এগুলো হজম হয় না, রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়তে দেয় না, ওজনও বাড়ায় না। এগুলো খাদ্যনালীর আর্দ্রতা পরিশোষণ করে ক্ষুদ্রান্ত্র পার হয়ে মলের সাথে বৃহদন্ত্রে উপস্থিত হয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করে এবং মলত্যাগে সাহায্য করে। সুতরাং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণসহ এসব খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য এমন কি কোলন ক্যান্সারও দূর করে। রক্তস্বল্পতায় শাকসবজির গুরুত্ব অনেক।

পালংশাক, লালশাক,পেঁয়াজ, গাজর, মুলা, বিট, মিষ্টি আলু, টমেটো, খোসাসহ আলু, কচুশাক, লেটুস পাতা, শিম, বরবটি ইত্যাদিতে লৌহ ও ফলিক এসিড রয়েছে। সবজির মধ্যে বীট রক্তশূন্যতা রোধে খুবই উপকারী। এতে রয়েছে পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, সালফার, আয়োডিন, লৌহ, কপার, ভিটামিন বি-২, বি-৬, বি-১২ এবং ভিটামিন সি। উচ্চমানের লৌহের জন্য এটি রক্তের লোহিত কণিকা সক্রিয় করতে ও উৎপাদন করতে সাহায্য করে। দেহে ফ্রেশ অক্সিজেন সরবরাহও করে। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস রক্তে কোলস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় যেটা হার্টের জন্য ক্ষতিকর। নায়াসিন কোলস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। এটা পাওয়া যায় আঁশযুক্ত সবুজ শাক সবজি, খোসাসহ আলুতে। তাছাড়া কাঁচা রসুনও খাওয়া যেতে পারে।
তাজা শাকসবজি আমাদের প্রক্রিয়াজাত করে খেতে হয় অর্থাৎ রান্না করে খেতে হয়। রান্নার ওপরও ডায়াবেটিস রোগীর রক্তে শর্করার বাড়া-কমা অনেকটা নির্ভর করে। যেমন- আলুর চিপস বা ফ্রেন্সফ্রাইয়ের চেয়ে সিদ্ধ আলু খেলে শর্করার পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। গাজর কাঁচা না খেয়ে সিদ্ধ অবস্থায় খেলে শর্করার পরিমাণ দ্রুত বেড়ে যায়। শর্করা সংবলিত সবজিগুলো অনেকক্ষণ ধরে রান্না করলে সহজে হজম হয়ে শোষণ হয় এবং দ্রুত রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।

শাক সবজি যেগুলো কাঁচা ও টাটকা খাওয়া যায় সেগুলো কাঁচা অবস্থায় খেলেই উপকার বেশি পাওয়া যায়। যেগুলো খোসাসহ রান্না করা যায় সেগুলো খোসাসহ রান্নাই ভালো। তবে সবজি বেশি সিদ্ধ না করে একটু কাঁচা কাঁচা করে রান্না করা উচিত। এতে স্বাদ, গন্ধ, রঙ এবং ভিটামিন অটুট থাকে।

বর্তমানে অপুষ্টির সমস্যা নিরসনে সারা বিশ্বে ড্রাগ বেসড অ্যাপ্রোচের তুলনায় ফুড বেসড অ্যাপ্রোচ অধিক টেকসই বলে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ এর মাধ্যমে নিজস্ব উৎপাদিত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, কর্ম সংস্থানের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, পরিবেশ উন্নয়ন এবং চিকিৎসা খাতে ব্যয় কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নে ফুড বেসড অ্যাপ্রোচের ভূমিকা অপরিসীম।

সুতরাং আসুন আমরা সকলে মিলে কৃষি উৎপাদনে স্বয়ং সম্পূর্ণতার পাশাপাশি খাদ্য ও পুষ্টির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে একটি সুস্থ জাতি গঠনে সহায়তা করি।

‘স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ শাক সবজি ও ফল খাই, ডায়াবেটিস প্রতিরোধে এর তুলনা নাই’।

সুন্দরবনে ৪ হাজার ফুট ফাঁদসহ হরিণ শিকারিকে আটক করেছে বনবিভাগ

ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৯ পিএম
সুন্দরবনে ৪ হাজার ফুট ফাঁদসহ হরিণ শিকারিকে আটক করেছে বনবিভাগ

‎সুন্দরবনে অভিযান চালিয়ে ছগির খান (৪০) নামে এক হরিণ শিকারিকে আটক করেছে বনরক্ষীরা।

‎শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে শরণখোলা রেঞ্জের কচিখালী ডিমের চর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এসময় তার কাছে থাকা ৪ হাজার ফুট মালাফাঁদ, মাংস পরিমাপ করা দাড়িপাল্লা, ২ কেজি সাদা পলিথিন জব্দ করা হয়।

‎আটক শিকারি ছগির খান বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার দক্ষিণ চরদুয়ানী গ্রামের রুস্তম আলী খানের ছেলে।

‎বন বিভাগ জানায়, শনিবার সকালে সুন্দরবনের কচিখালীর ডিমেরচরে নিয়মিত টহলকালে বনের মধ্যে মালাফাঁদ পাতা দেখতে পান। এসময় বনরক্ষীরা তল্লাশি করে ছগির খান নামে এক হরিণ শিকারিকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হয়। আটক শিকারির কাছ থেকে ৪ হাজার ফুট মালাফাঁদ, মাংস পরিমাপ করা দাড়িপাল্লা, ২ কেজি সাদা পলিথিন, প্লাস্টিক বস্তা, চাল ডালসহ আনুষঙ্গিক মালামাল জব্দ করে বনরক্ষীরা।

‎এসময়ে বনরক্ষীদের উপস্থিতি টের পেয়ে আরও ৫ হরিণ শিকারী পালিয়ে যায়।

‎সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার ড. রেজাউল করিম বলেন, কচিখালীর ডিমেরচরে মালা ফাঁদসহ আটক হরিণ শিকারির বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা করা হয়েছে। রোববার সকালে আটক শিকারিকে বাগেরহাট আদালতে পাঠানো হবে বলে জানান এই বন কর্মকর্তা।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সচেতনতার আহ্বান জানালেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু

সাইফ উল্লাহ, স্টাফ রিপোর্টার:: প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৫ পিএম
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সচেতনতার আহ্বান জানালেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু

“সরকারি জলমহাল আইন, ২০২৬ এর খসড়া চূড়ান্তকরণ” শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোঃ মিজানুর রহমান মিনু এমপি বলেছেন, ইসরায়েল ইরান যুদ্ধ কে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে বিশ্বে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় সবাইকে সচেতন হতে হবে।

শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, জ্বালানির অভাবে হাওর অঞ্চলে ধান ঘরে তুলতে যেন কোনো সমস্যা না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে—এ বিষয়টি মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ভূমধ্যসাগরে সাম্প্রতিক ঘটনায় ১২টি তাজা প্রাণ ঝরে গেছে, এবং প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে।
মন্ত্রী জানান, জলমহাল আইন, ২০২৬ এর খসড়া চূড়ান্ত করতে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর আগে এভাবে অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ খুব কমই নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের এমপি মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের এমপি কলিম উদ্দিন আহমদ দিলনসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
কর্মশালার শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফেজ মাওলানা তাজুল ইসলাম এবং গীতা পাঠ করেন অমিত চক্রবর্তী। স্বাগত বক্তব্যে সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ বলেন, অংশীজনদের উপস্থিতিতে এ ধরনের আয়োজন বিরল। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে—যাতে প্রকৃত উপকারভোগীরা জলমহালের সুফল পায় এবং একইসঙ্গে সরকারি রাজস্বও নিশ্চিত হয়।
উন্মুক্ত আলোচনায় বিভিন্ন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নেতারা অভিযোগ করেন, প্রকৃত জেলেরা জলমহালের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভবান হচ্ছেন। তারা জলমহাল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান।
এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং বিষয়টি নজরে রাখার আশ্বাস দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, প্রকৃত মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। মাছ ধরা বন্ধ মৌসুমে বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে হাঁস-মুরগি পালনসহ অন্যান্য উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি জলমহাল ইজারার মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়েও ভাবনার কথা জানান।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, নতুন জলমহাল আইন প্রণয়নের মাধ্যমে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা উপকৃত হবেন এবং এ খাতে দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান হবে।##

 

সাইফ উল্লাহ
মোবা: ০১৭১২৪৫১৪৪৬
তারিখ: ৫/৪/২৬

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে এক নারী আটক

স্টাফ রিপোর্টারঃ মোঃ আল-আমিন ভূঁইয়া প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৩ পিএম
নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে এক নারী আটক

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে এক নারীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রবিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) উপজেলার একটি নির্দিষ্ট এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, আটককৃত নারী দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উদ্ধারকৃত মাদকের পরিমাণ ও ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকায় মাদক কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান জোরদার করে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার একজন কর্মকর্তা জানান, আটককৃত নারীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তাকে আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

error: Content is protected !!