শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২
শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২

জাহান্নাম থেকে মুক্তির ১৫টা অসাধারন হাদিস

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ মার্চ, ২০২৫, ১:৪৩ পিএম | 126 বার পড়া হয়েছে
জাহান্নাম থেকে মুক্তির ১৫টা অসাধারন হাদিস

*১- যোহরের ফরয নামাজের পূর্বে ৪ এবং পড়ে ৪ রাকাত নামাজ আদায় করা-

উম্মে হাবীবা (রাঃ) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি বরাবর যোহরের পূর্বে চার রাক’আত এবং যোহরের পরে চার রাক’আত ছালাত আদায় করবে আল্লাহ্‌ তাকে জাহান্নামের প্রতি হারাম করে দিবেন ” (ইবনে মাজাহ- ১১৬০, তিরমিযী ৪২৭-২৮, আবূ দাঊদ ১২৬৯, আহমাদ ২৬২৩২। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ১১৬৮, সহীহ আবী দাউদ ১১৫২)
[অর্থাৎ যোহরের ফরয নামাজের আগে ৪ রাকাত এবং পড়ে ২ রাকাত ২ রাকাত করে ৪ রাকাত এই মোট ৮ রাকাত যেটা আমরা পড়ে থাকি।
বেশিরভাগ মানুষ যেহেতু সুন্নত নফল হিসাবে বুঝে থাকে তাদের সুবিধার জন্য বলছি-এই হাদিস অনুযায়ী যোহরের প্রথমে ৪ রাকাত সুন্নত তারপর ৪ রাকাত ফরয তারপর ২ রাকাত সুন্নত এবং শেষে ২ রাকাত নফল, সব মিলে হবে ১২ রাকাত]

*২- প্রতিদিন ৩৬০ বার তাসবিহ, তাহলিল, তাকবীর, তাহমিদ আদায় করা-

“আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘‘আদম সন্তানের মধ্যে প্রত্যেক মানুষকে ৩৬০ গ্রন্থির উপর সৃষ্টি করা হয়েছে। (আর প্রত্যেক গ্রন্থির পক্ষ থেকে প্রদেয় সাদকা রয়েছে।) সুতরাং যে ব্যক্তি ‘আল্লাহু আকবার’ বলল, ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ বলল, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলল, ‘সুবহানাল্লাহ’ বলল, ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলল, মানুষ চলার রাস্তা থেকে পাথর, কাঁটা অথবা হাড় সরাল, কিম্বা ভাল কাজের আদেশ করল অথবা মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করল, (এবং সব মিলে ৩৬০ সংখ্যক পুণ্যকর্ম করল), সে ঐদিন এমন অবস্থায় সন্ধ্যা করল যে, সে নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে দূর করে নিল।’’(সহিহ মুসলিম হাদিস-২২২০, হাদিস একাডেমী)

যদি রাসূল (সাঃ) এর নিম্নে বর্ণিত হাদিসটি লক্ষ্য করেন–
রাসূল (সাঃ) বলেন, কোন ব্যক্তি যদি প্রত্যেক ফরয স্বলাতের পর-
“সুবহা-নাল্লাহ” (আল্লাহ কতই না পবিত্র-মহান)”«سُبْحَانَ اللَّه ((৩৩ বার
“আলহামদুলিল্লাহ” (সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য) الْحَمْدُ لِلَّهِ، (৩৩ বার)
“আল্লা-হু আকবার” (আল্লাহ সবচেয়ে বড়)” اللَّهُ أَكْبَرُ (৩৩ বার)
তারপর ১ বার নিম্নোক্ত দোয়া বলে
« لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ».
(লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন কাদীর)।
“একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই, সকল প্রশংসা তাঁরই এবং তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।”
তাহলে ঐ ব্যক্তির সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনা সমতুল্যও হয়। (সহিহ মুসলিম হাদিস-১২৩৯, হাদিস একাডেমী)
আর এ দোয়া না পারলে আর ১ বার “আল্লা-হু আকবার” বলে ১০০ পূর্ণ করবে।
#তাহলে দেখা যাচ্ছে, কোন ব্যক্তি ৫ ওয়াক্ত সলাত আদায় করলেই তার ৩৬০ বার নয় ৫০০ বার উপরোক্ত তাসবিহ, তাহলিল, তাকবীর, তাহমিদ আদায় এমনিতেই হয়ে যাচ্ছে তাছাড়া ৫ ওয়াক্ত সলাত আদায়ে আরোও ১টা বিরাট ফযিলত রয়েছে, সেটা হোল-
“আবু উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয নামাযের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সে জান্নাতবাসী হবে। (নাসাই, সহীহ জামে’ ৫/৩৩৯, সিলসিলাহ সহীহাহ্‌ ৯৭২)
মানুষের আর কি চাওয়া বাকি থাকতে পারে?
[রাসুল (সাঃ) সলাত শেষে একাকী বসে প্রায় ১৭টি দোয়া ও জিকির আদায় করতেন কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের আমরা রাসুল (সাঃ)-এর সুন্নাহর জায়গায় সম্মিলিত মুনাজাতের বিদআত চালু করেছি যার হাদিসে কোন প্রমাণ নেই, একথা অনেকেরই ভালো লাগবে না কিন্তু আপনি যে কাজটা করছেন সেই কাজটা শরীয়তে অনুমোদিত কিনা সেটা কি আপনার জানা উচিত নয়?

*৩- ৪০ দিন তাকবীরে উলার সাথে সলাত আদায় করা-

রাসুল (সাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য ৪০ দিন জামাতে সলাত আদায় করবে এবং তাকবীরে তাহরিমা পাবে অর্থাৎ সলাত আরম্ভ হওয়ার সময় উপস্থিত থাকবে আল্লাহ তাকে ২টি জিনিষ হতে মুক্তি দিবেন। ১- জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিবেন এবং ২- মুনাফিকি থেকে মুক্তি দিবেন। (সূনান আত তিরমিজী [তাহকীককৃত] – হাদিস ২৪১, তাকবিরে উলার ফজিলত অধ্যায়)

*৪- অসুস্থ অবস্থায় নিম্নের দোয়া পড়া-

আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) এবং আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তাঁরা উভয়েই রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর প্রতি সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তিনি বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, অল্লাহু আকবার’ [لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَاللهُ أكْبَرُ] (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই এবং আল্লাহ সবচেয়ে বড়) বলে, আল্লাহ তার সত্যায়ন করে বলেন, ‘আমি ছাড়া কোন (সত্য) উপাস্য নেই এবং আমি সবচেয়ে বড়।’
আর যখন সে বলে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু অহদাহু লা শারীকা লাহ’ [لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَحدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ] (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোন অংশী নেই), তখন আল্লাহ বলেন, ‘আমি ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, আমি একক, আমার কোন অংশী নেই।’
আর যখন সে বলে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, লাহুল মুলকু অলাহুল হাম্দ’ [لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ] (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, সার্বভৌম ক্ষমতা তাঁরই এবং তাঁরই যাবতীয় প্রশংসা), তখন আল্লাহ বলেন, ‘আমি ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, সার্বভৌম ক্ষমতা আমারই এবং আমারই যাবতীয় প্রশংসা।’
আর যখন সে বলে, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, অলা হাওলা অলা ক্বুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ [لاَ إله إِلاَّ اللهُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ باللهِ] (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন (সত্য) উপাস্য নেই এবং আল্লাহর প্রেরণা দান ছাড়া পাপ থেকে ফিরার এবং সৎকাজ করার বা নড়া-চড়ার শক্তি নেই), তখন আল্লাহ বলেন, ‘আমি ছাড়া কোন (সত্য) উপাস্য নেই এবং আমার প্রেরণা দান ছাড়া পাপ থেকে ফিরার এবং সৎকাজ করার বা নড়া-চড়ার শক্তি নেই।’
নবী (সাঃ) বলতেন, ‘‘যে ব্যক্তি তার অসুস্থ অবস্থায় এটি পড়ে মারা যাবে, জাহান্নামের আগুন তাকে খাবে না।’’ (অর্থাৎ সে কখনো জাহান্নামে যাবে না।) (সূনান আত তিরমিজী [তাহকীককৃত] – ৩৪৩০, দোয়া অধ্যায়)

*৫- বেশি-বেশি দান করা-

আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বলেন, “তোমরা জাহান্নাম থেকে বাঁচো; যদিও খেজুরের এক টুকরো সাদকাহ করে হয়। আর যে ব্যাক্তি এরও সামর্থ্য রাখে না, সে যেন ভাল কথা বলে বাঁচে।(সহিহুল বুখারি- ১৪১৩, তাওহীদ পাবলিকেশন)

*৬- জাহান্নামের আজাব থেকে মুক্তি চেয়ে দোয়া করা-

আনাস (রাঃ) বলেনঃ, “আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ৩ বার আল্লাহ্‌র নিকট জান্নাত চায়, জান্নাত তখন বলে : “হে আল্লাহ্‌! ঐ ব্যাক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাও। পক্ষান্তরে যে ব্যাক্তি ৩ বার জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি চেয়ে দোয়া করে, জাহান্নাম বলে; ‘হে আল্লাহ্‌ ঐ ব্যাক্তিকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দাও।” (সূনান আত তিরমিজী [তাহকীককৃত] – ২৫৭২, জান্নাতের বিবরণ অধ্যায়)
#জান্নাত চাওয়া ওঁ জাহান্নাম থেকে বাচার দোয়া-
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ».
(আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল জান্নাতা ওয়া আ‘উযু বিকা মিনান্নার)
“হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জান্নাত চাই এবং জাহান্নাম থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই”। (আবূ দাউদ- ৭৯৩, সলাত অধ্যায়)

*৭- গীবত থেকে দূরে থাকা-

আসমা বিনতে ইয়াযীদ হতে বর্ণিত, নবী (সাঃ) বলেন, “যে ব্যাক্তি তার (মুসলিম) ভায়ের অনুপস্থিতিতে (তার গীবত করা ও ইজ্জত লুটার সময় প্রতিবাদ করে) তার সম্ভ্রম রক্ষা করে সেই ব্যাক্তি আল্লাহ্‌র নিকট এই অধিকার পায় যে তিনি তাঁকে দোযখ থেকে মুক্ত করে দেন।”(আহমদ, ত্বাবারানী, সহীহুল জামে- ৬২৪০)
#কিন্তু এখন অবস্থা তোঁ পুরোই উল্টা, কোথাও কারো নিন্দা করা হলে আমরা প্রতিবাদ না করে বরং নিজেরাই অংশগ্রহন করি তবে নবী (সাঃ)-এর এ হাদিস থেকে তারাই শিক্ষা নিবে যারা জান্নাত যেতে ইচ্ছুক।

*৮- মানুষের সাথে সর্বোত্তম ব্যাবহার করা-

মহানবী (সাঃ) বলেন, “যে ব্যাক্তি পছন্দ করে যে, তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করানো হোক, তার মৃত্যু যেন আল্লাহ্‌ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান রাখা অবস্থায় আসে এবং লোকেদের সঙ্গে সেই রকম ব্যাবহার করে, যে রকম ব্যবহার সে নিজের জন্য পছন্দ করে।” (নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)

*৯- চোখকে পাপ থেকে হিফাযত করা-

রাসুল (সাঃ) বলেন কিয়ামতের দিন জাহান্নাম দেখবে না। ১- এমন চক্ষু যে আল্লাহ্‌র ভয়ে কাঁদে, ২-এমন চক্ষু যে আল্লাহ্‌র রাস্তায় জেগে থাকে, ৩- এমন চক্ষু যে বেগানা মহিলাকে দেখে নিচু হয়ে যায়
(শাইখ আলবানি (রঃ) প্রনিত সিলসিলাহ সহীহাহ- হাদিস ১৪৭৭)

*১০- ফজর ও আসর সালাত যথাসময়ে আদায় করা-

আবু বাকর ইবনু ‘উমারাহ ইবনু রুওয়াইয়াহ হতে তার পিতার সুত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছি এমন ব্যাক্তি কখনোই জাহান্নামে যাবে না, যে সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে সালাত আদায় করে (অর্থাৎ ফজর ও আসর সালাত)। একথা শুনে বাসরার অধিবাসী একটি লোক তাকে জিজ্ঞেস করলো, তুমি কি নিজে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) নিকট একথা শুনেছ? সে বললো, হ্যাঁ! (সহীহ মুসলিম- ১৩১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’লার কাছে এই ২ ওয়াক্ত সলাতের রয়েছে আলাদা মর্যাদা আর এই ২ ওয়াক্ত সলাত যথার্থ মর্যাদা দিয়ে তারাই আদায় করতে পারবে যারা ৫ ওয়াক্ত সলাতের ব্যাপারে সচেতন কেননা এই ২ ওয়াক্ত সলাত সবচেয়ে বেশি কষ্টের সময়ে, যারা এই ২ ওয়াক্ত সলাত সঠিক ভাবে আদায় করতে পারে তাদের জন্য বাকি ৩ ওয়াক্ত আদায় করা খুবই সহজ।

*১১- আন্তরিকভাবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর স্বীকৃতি দেওয়া-

ইতবান বিন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যাক্তি একমাত্র আল্লহকে সন্তুষ্ট করার জন্য ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে, ক্বিয়ামতের দিন সে এমনভাবে উপস্থিত হবে যে, তার উপর জাহান্নাম হারাম হয়ে গেছে।” (মুসনাদে আহমাদ- হাদিস ১৬৪৮২)
এ হাদিসের অর্থ এই নয় যে, শুধু আপনি ১ বার মুখে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বললেন আর জান্নাত চলে গেলেন বরং যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর স্বীকৃতি দিবে তখনই তার উপর ইসলামের ফরয বিধানগুলো পালন করা আবশ্যক হয়ে যাবে আর এজন্যই মক্কার মুশরিকরা এই স্বীকৃতি দিতো না কারণ তারা জানতো তাওহিদের এই স্বীকৃতি দেওয়ার অর্থই হচ্ছে বহু দেবতার ইবাদত বাদ দিয়ে শুধুমাত্র আল্লাহ্‌র-ই ইবাদত করতে হবে।

*১২- কন্যাসন্তানদের ভালভাবে লালন-পালন করা-

আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন আমার নিকট একটি মহিলা তার দুটি কন্যাকে সঙ্গে করে ভিক্ষা করতে (গৃহে) প্রবেশ করল। কিন্তু সে আমার নিকট খেজুর ছাড়া আর কিছু পেল না। আমি খেজুরটি তাকে দিলাম সে সেটিকে দুই খণ্ডে ভাগ করে তার দুটি মেয়েকে খেতে দিল। আর নিজে তা হতে কিছুও খেলনা। অতঃপর সে উঠে বের হয়ে গেল। তারপর নবী (সাঃ) আমাদের নিকট এলে আমি ঐ কথা তাঁকে জানালাম। ঘটনা শুনে তিনি বললেন, “যে ব্যাক্তি একাধিক কন্যা নিয়ে সঙ্কটাপন্ন হবে, অতঃপর সে তাদের প্রতি যথার্থ সদ্ব্যবহার করবে, সেই ব্যাক্তির জন্য ঐ কন্যারা জাহান্নাম থেকে অন্তরাল (পর্দা) স্বরূপ হবে।” (সহিহুল বুখারী- ১৪১৮, তাওহীদ পাবলিকেশন)

*১৩- ফরয সিয়ামের পাশাপাশি বেশি-বেশি নফল সিয়াম পালন করা-

রাসুল (সাঃ) বলেন “রোযা (জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার জন্য ) ঢালস্বরূপ ।” (বুখারী- ১৮৯৪, তাওহীদ পাবলিকেশন)
রাসুল (সাঃ) আরও বলেছেন “যে ব্যাক্তি আল্লাহর পথে ১ দিন রোযা রাখবে, আল্লাহ্‌ ঐ ১ দিন রোযার বিনিময়ে তার চেহারাকে জাহান্নাম হতে ৭০ বছর (পরিমাণ পথ) দূরে রাখবেন।” (বুখারী- ২৮৪০, তাওহীদ পাবলিকেশন)

#সহিহ হাদিসে বর্ণিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিয়াম/রোযা পালনের দিনসমূহ

(শাওয়াল মাসের রোযা)
আবু আইয়ুব আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে রোযা পালন করল অতঃপর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোযা আদায় করল সে যেন সাড়া বছর রোযা পালন করল।’ (মুসলিম : ২৮১৫)

(প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখা)
এ তিনটি রোযা আদায় করলে পূর্ণ বছর নফল রোযা আদায়ের সওয়াব লাভের কথা এসেছে। একটি নেক আমলের সওয়াব কমপক্ষে দশগুণ দেয়া হয়। তিন দিনের রোযার সওয়াব দশগুণ করলে ত্রিশ দিন হয়। যেমন আবু কাতাদা রা. হতে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে—
‘প্রত্যেক মাসে তিনটি রোযা ও এক রমজানের পর পরবর্তী রমজানে রোযা পালন পূর্ণ বছর রোযা পালনের সমান’। (মুসলিম : ২৮০৪)
মাসের যে তিন দিন রোযা রাখা হবে সে তিন দিনকে হাদিসের পরিভাষায় বলা হয় ‘আইয়ামুল বিয’। এ তিন দিন হল চান্দ্র মাসের তেরো, চৌদ্দ ও পনেরো তারিখ। বিয শব্দের অর্থ আলোকিত। এ তিন দিনের রাতগুলো শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চাঁদের আলোতে আলোকিত থাকে। আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এ রোযা গুরুত্বসহকারে আদায় করতেন। হাদিসে এসেছে—
ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মুসাফির ও মুকিম কোন অবস্থাতেই এ রোযা ত্যাগ করতেন না। (নাসায়ী : ২৩৪৫)

(প্রত্যেক সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোযা)
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘সোমবার ও বৃহস্পতিবার বান্দার আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। কাজেই আমি পছন্দ করি যখন আমার আমল পেশ করা হবে তখন আমি রোযা অবস্থায় থাকব।’ (তিরমিযী : ৭২৫)

*১৪- মানুষের সাথে মিলেমিশে থাকা-

ইবনে মাসউদ (রাঃ) বর্ণনা করেন, “রাসুলে আকরাম (সাঃ) বলেছেনঃ আমি কি তোমাদের জানাবো না, কোন ব্যাক্তি জাহান্নামের আগুনের জন্যে হারাম অথবা (বলেছেন) কার জন্যে জাহান্নামের আগুন হারাম? (তাহলে জেনে রাখ) জাহান্নামের আগুন এমন প্রতিটি লোকের জন্য হারাম, যে লোকদের কাছাকাছি বা তাদের সাথে মিলেমিশে থাকে; যে কোমলমতি নম্র প্রকৃতির ও মধুর স্বভাব বিশিষ্ট।” (সূনান আত তিরমিজী [তাহকীককৃত] – ২৪৮৮, কিয়ামাত ও মর্মস্পর্শী বিষয় অধ্যায়)

১৫- সন্তান বা আপনজনদের মৃত্যুতে ধৈর্যধারণ করা-

আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন এক মহিলা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নিকট এসে বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! কেবলমাত্র পুরুষেরাই আপনার হাদীস শোনার সৌভাগ্য লাভ করছে। সুতরাং আপনি আমাদের জন্যও একটি দিন নির্ধারিত করুন। আমরা সে দিন আপনার নিকট আসব, আপনি আমাদেরকে তা শিক্ষা দেবেন, যা আল্লাহ আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন।’ তিনি বললেন, ‘‘তোমরা অমুক অমুক দিন একত্রিত হও।’’ অতঃপর নবী (সাঃ) তাদের নিকট এসে সে শিক্ষা দিলেন, যা আল্লাহ তাঁকে শিক্ষা দিয়েছেন। তারপর তিনি বললেন, ‘‘তোমাদের মধ্যে যে কোন মহিলার তিনটি সন্তান মারা যাবে, তারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে আড় হয়ে যাবে।’’ এক মহিলা বলল, ‘আর দু’টি সন্তান মারা গেলে?’ তিনি বললেন, ‘‘দু’টি মারা গেলেও (তাই হবে)।’’ ” (বুখারী- ১০১, তাওহীদ পাবলিকেশন)

#দুনিয়াবি কোন বিপদ থেকে বাচার জন্য আমরা কত রকমের উপায় অবলম্বন করে থাকি অথচ আমাদের সবচেয়ে বড় বিপদ জাহান্নাম থেকে বাচার জন্য এই উপায়গুলো সর্বাত্মকভাবে আঁকড়ে ধরা কি আমাদের জন্য জরুরি নয়? আল্লাহ তা’লা আমাদের এই আমলগুলো করার মাদ্ধমে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার তাওফিক দান করুন, আমীন।

সংগ্রাম, নেতৃত্ব ও মানবতার প্রতীক আলহাজ্ব এম. এ. হাশেম রাজুর জন্মদিন উদযাপন

বিশেষ প্রতিনিধি আহমদ রেজা : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০৮ পিএম
সংগ্রাম, নেতৃত্ব ও মানবতার প্রতীক আলহাজ্ব এম. এ. হাশেম রাজুর জন্মদিন উদযাপন

দেশব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে মানবাধিকার সংগঠক ও রাজনীতিবিদ আলহাজ্ব এম. এ. হাশেম রাজুর জন্মদিন। এ উপলক্ষে আজ বিভিন্ন স্থানে দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা ও মানবিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আয়োজিত এসব অনুষ্ঠানে বক্তারা তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, মানবাধিকার রক্ষায় সংগ্রাম এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। মানবতার কল্যাণে তাঁর নিরলস পথচলা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে—এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
এদিকে জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে আন্তর্জাতিক বিশ্বতান টীম ও বন্ধু শক্তি-২০০০ টীম আলহাজ্ব এম. এ. হাশেমকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তাঁরা তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সফলতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক বিশ্বতানের ঢাকা জেলার উপদেষ্টা, ছোট মান্না খ্যাত জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী অশ্রু বড়ুয়া সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন, যা উপস্থিত অতিথিদের মাঝে আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।
শুভ জন্মদিন—আলহাজ্ব এম. এ. হাশেম রাজু।

তাড়াশের তালম সাহেব বাজারে  ইয়াবাসহ জনতার হাতে আটক ২ জন

জহুরুল ইসলাম তাড়াশ  প্রতিনিধি: প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪৯ পিএম
তাড়াশের তালম সাহেব বাজারে  ইয়াবাসহ জনতার হাতে আটক ২ জন

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার তালম সাহেব বাজার এলাকায়  ইয়াবাসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে তাদের তাড়াশ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্দেহজনক চলাফেরা দেখে  (বৃহস্পতিবার)  তালম সাহেব বাজার এলাকায় স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে  ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটককৃত ব্যক্তিদের  হেফাজতে নেয়।

আটককৃতরা হলেন—তাড়াশ পৌরসভার সদর ওয়াবদা বাঁধ এলাকার মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে বাবু (৪৫) এবং মৃত বাবলু হোসেনের ছেলে বিদ্যুৎ (৩৮)।

এ বিষয়ে তাড়াশ থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল জনতার এই উদ্যোগকে মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

নরসিংদীতে ডাব পাড়াকে কেন্দ্র করে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

মোঃ মুক্তাদির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার। প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩৪ পিএম
নরসিংদীতে ডাব পাড়াকে কেন্দ্র করে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

নরসিংদীর পলাশে গাছ থেকে ডাব পাড়াকে কেন্দ্র মামুন মিয়া নামে এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। আজ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের গালিমপুর গ্রামে এই হত্যা ঘটনা ঘটে।নিহত মামুন মিয়া গালিমপুর গ্রামের মোমেন মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, গত দুই দিন আগে প্রতিবেশি ইসমাঈলের ছেলে আজিজুর ইসলাম মামুনকে দিয়ে বাড়ির পাশের কয়েকটি ডাব গাছ থেকে ডাব পাড়ায়। পরে কিছু ডাব মামুন নিয়ে গেলে তা নিয়ে আজিজুরের সাথে বিরোধ সৃষ্টি হয়। গতকাল এ নিয়ে সামাজিক ভাবে আপোস মিমাংসা করা হলেও বিষয়টি মানতে নারাজ আজিজুর। পরে আজ সকালে মামুনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আজিজুর তার ভাই হযরত আলীসহ পরিবারের লোকেরা দা,ও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুত্বর আহত করে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহেদ আল মামুন জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে কাজ করছে পুলিশ।

error: Content is protected !!