মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩১ চৈত্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩১ চৈত্র ১৪৩৩

দেশি স্বাদের দিন আজ

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১৫ পিএম | 56 বার পড়া হয়েছে
দেশি স্বাদের দিন আজ

বাংলা স্বাদ! এটি শুনে অনেকে ফিক করে হেসে ফেলেন। আছে নাকি বাংলার স্বাদ? মধুমাস শেষ। আজ থেকে শুরু গ্রীষ্মকাল—প্রখর রুদ্র গ্রীষ্ম। এ সময় নাকি খাবারে বৈচিত্র্য থাকে না।

সে জন্যই প্রাচীন বাংলায় গড়ে উঠেছিল ‘থোড় বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোড়’ নামের প্রবাদটি। অর্থাৎ যেই লাউ সেই কদু। মানে, একই জিনিস প্রতিদিন খাচ্ছি, মজা পাচ্ছি না। প্রবাদটির দিকে খেয়াল করুন। থোড় মানে কলার থোড় বা ভাদাল, মোচা নয় কিন্তু। এরপর বড়ি—কুমড়ো বা ডালের বড়ি। মসুর, মাষকলাই ও অড়হর ডালের বড়ি বানানো যায়। এগুলো এখন কিনতেও পাওয়া যায়। সবজির সঙ্গে মিশেল দিয়ে খাওয়া হয় ডালের বড়ি।

রইল বাকি খাড়া। খাড়া মানে ডাঁটা। শজনে ডাঁটাকে খাড়া নামে ডাকা হয় বাংলাদেশের নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা, যশোরের কিছু অঞ্চলে। শব্দটি অপ্রচলিত হলেও ওই সব অঞ্চলের প্রবীণ মানুষের মুখে শোনা যায় শব্দটি। সামান্য তেলে পাঁচফোড়ন আর লাল মরিচ সাঁতলে এই থোড়, বড়ি আর খাড়া একসঙ্গে রেঁধে খেয়েছেন কখনো? না খেলে এই বৈশাখের কোনো এক দিন খেয়ে দেখুন।

আমাদের চালের নাম বাদশাভোগ, ঝিঙেশাইল, রাঁধুনিপাগল, কাটারিভোগ, কাজল লতা, দুধকলম—কী কাব্যিক আর বিচিত্র নাম! এগুলোর প্রতিটি চালের আছে আলাদা স্বাদ। সাদা চাল খেতে গিয়ে এই আলাদা স্বাদের কথা আমরা ভুলেই গেছি। আর ইলিশ? এই এক মাছ যাতে জিরে ফোড়ন দিলে একধরনের স্বাদ পাওয়া যায়, পাতুরি করলে আরেক ধরনের স্বাদ কিংবা শুধু পেঁয়াজ আর কাঁচা মরিচে রাঁধলে ভিন্ন স্বাদ পাওয়া যায়।

বাকিগুলোর কথা না হয় বাদই দিলাম। আবার ধরুন, আলুর ভর্তা। আজ সকালবেলা পান্তার সঙ্গে যে আলুর ভর্তা খেয়েছেন, তার স্বাদের বৈচিত্র্য খেয়াল করেছেন কখনো? সেদ্ধ আলু মিহি করে পিষে নিয়ে তাতে শুকনো মরিচ দিয়ে অথবা তার সঙ্গে সেদ্ধ ডিম যোগ করে কিংবা শুধুই কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ আর সরিষার তেল দিয়ে তৈরি করা আলু ভর্তার যে স্বাদ, তা মনোযোগ দিয়ে না চাখলে পাওয়া যায় না। আবার ধরুন, সেই মার্বেল আকৃতির ছোট আলু টেলে নিয়ে ভর্তা করলে অথবা আলু পুড়ে ভর্তা করলে তার যে স্বাদ মেলে, তার তুলনা কোথায়?

এত কিছু বাদ দিন তো। একটা থালির কথা বলি। আজ খেয়ে দেখুন কিংবা আপনার সুবিধামতো সময়ে খেয়ে দেখবেন। কাঁসা বা মাটির সানকির ঠিক মাঝখানে নিন সুগন্ধি কোনো চালের ভাত, তার সঙ্গে একফালি কাগজি লেবু, সঙ্গে রাখুন পছন্দের ঘন ডাল, এক বাটি ঘন ঝোলে ডোবানো পছন্দের মাছ, পাশে জোড়া ফালি পটোল বা একটুখানি উচ্ছে ভাজা, বড় মাছের মাথা দিয়ে সুগন্ধি চালে রান্না করা মুড়িঘন্ট, সবজির লাবড়া বা ঘন্ট। আর শেষ পাতে রাখুন ঘন দুধে সুগন্ধি চাল দিয়ে কড়া পাকে রান্না করা পায়েস। গরমের দিন বলে মাংসটা না হয় বাদই রাখুন। দেখবেন বাংলা থালির স্বাদ কারে কয়!

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের, নোয়াখালী

লোকজ মেলা ও সংগীতে জমজমাট সেনবাগের পহেলা বৈশাখ

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের, নোয়াখালী প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৮ পিএম
লোকজ মেলা ও সংগীতে জমজমাট সেনবাগের পহেলা বৈশাখ

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় সেনবাগ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক বর্ণিল মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি সেনবাগ পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন।

শোভাযাত্রা শেষে সেনবাগ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোকজ বৈশাখী মেলা। অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় বাংলা গান, নৃত্য ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

অনুষ্ঠানে সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহসিয়া তাবাসসুম বৈশাখী মেলায় উপস্থিত সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। এসময় তিনি বৈশাখের ঐতিহ্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন এবং দর্শনার্থীদের আনন্দ দিতে রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশন করেন, যা উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

দিনব্যাপী লোকজ বৈশাখী মেলায় গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা পণ্য, হস্তশিল্প, খাবার ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে দিনব্যাপী চলতে থাকে নববর্ষের আনন্দ আয়োজন।

বাংলা নববর্ষকে ঘিরে সেনবাগে এমন প্রাণবন্ত আয়োজন স্থানীয়দের মাঝে নতুন বছরের আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

সুলেখা আক্তার শান্তা

নব উদ্যম

সুলেখা আক্তার শান্তা প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২২ পিএম
নব উদ্যম

ওই ডাকে কে যায় বৈশাখী সকালে,
আলো মেখে বাতাসে নাচে পলাশ-পাতার ঢেউ।
ঘরের কোণে জমে থাকা আবিলতা সরিয়ে,
আজ নতুন বরণে বুক বাঁধি
আনন্দের রঙে আজ রাঙাব সব দিক।
যা ছিলাম গত বছর, সে আমি আছি জাগ্রত,
নেই কোনো আফসোস, নেই পুরোনো ক্ষত।
নতুন পথ দেখায় হাতে ধরা রোদ্দুরের শপথ
কালের চাকা চিনি, তবু সৃষ্টির আহ্বান মিথ্যে নয়।
হে বৈশাখ, তোমারই লাগি সাজাই হৃদয় মাঠ
আশার বীজ ছড়াই চারদিকে ফসল উঠুক।
এবারের গান যেন নিঃশব্দ ব্যথা নয়
বরং সম্ভাবনার ঝলক যেন চোখে লাগে স্পষ্ট।
এসো হে বৈশাখ।

কামরুল ইসলাম

টেকনাফে অস্ত্র ও গুলিসহ মাদক চোরাচালান চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার

কামরুল ইসলাম প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২০ পিএম
টেকনাফে অস্ত্র ও গুলিসহ মাদক চোরাচালান চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাঞ্জরপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্রসহ মাদক চোরাচালান চক্রের তিন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১৫।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোররাত পৌনে ৪টার দিকে র‍্যাব-১৫ (সিপিসি-২) এর হোয়াইক্যং ক্যাম্পের একটি বিশেষ টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তর কাঞ্জরপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

র‍্যাব সূত্র জানায়, ওই এলাকায় মাদকের একটি বড় চালান হাতবদলের উদ্দেশ্যে একদল স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী অবস্থান করছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এসময় র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তিনজনকে আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
মোঃ রাশেদ (প্রকাশ রাসেল) (২৫),
মোঃ সোহেল উদ্দিন (প্রকাশ লালু) (২৩) এবং
এহসান উল্লাহ (২৫)।

অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ২টি দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক (এলজি), ৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ১টি বড় রামদা উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক পাচার, দস্যুতা ও অস্ত্র প্রদর্শনের একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে।

এ বিষয়ে র‍্যাব-১৫ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত মিডিয়া কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন ও ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে জব্দকৃত আলামতসহ টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

error: Content is protected !!