যশোরে তরুণীর সংবাদ সম্মেলন: প্রেম, ধর্ষণ ও বিষ খাইয়ে হত্যাচেষ্টার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
প্রেম ও বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে যশোরে এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে ভুক্তভোগী নারী বিষ খাইয়ে তাকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন, অন্যদিকে প্রতিপক্ষ একে ১০ লাখ টাকার ‘চাঁদা না পেয়ে সাজানো নাটক’ বলে দাবি করেছে।
শনিবার দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের চিত্র ফুটে ওঠে।
অভয়নগর উপজেলার পোতপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সোনিয়া আক্তার দিয়া (২৫) জানান, তার এই সংকটের শুরু ২০১৪ সালে। ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হওয়া যশোর শহরের চোপদারপাড়া এলাকার এহসান আহমেদ ফয়সালের সাথে তার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সোনিয়ার অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফয়সাল তাকে কুয়াকাটায় নিয়ে একটি হোটেলে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ফয়সাল বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে গত বছরের মে মাসে তিনি কোতোয়ালি থানায় ধর্ষণের মামলা করেন।
সোনিয়া আরও অভিযোগ করেন, মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় ফয়সালের পরিবার তাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক বিষ খাইয়ে দেয়। পরে তাকে রাস্তায় ফেলে রাখা হলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, তাকে এসিড নিক্ষেপ ও গুমের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তার ভাইকেও পুলিশ দিয়ে আটক করানো হয়েছে।
‘১০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে মনগড়া গল্প’ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সোনিয়ার কথাবার্তায় কিছু অসংলগ্নতা ধরা পড়লে বিষয়টি ভিন্ন মোড় নেয়। এদিকে অভিযুক্ত ফয়সালের ভগ্নিপতি ব্যবসায়ী আইয়াজ উদ্দিন রিপন সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে গণমাধ্যমকে জানান, এটি একটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও সাজানো অভিযোগ।
তাদের দাবি, সোনিয়া প্রেমের ফাঁদে ফেলে ফয়সালের পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। টাকা না পেয়েই মানহানির উদ্দেশ্যে এই নাটক সাজানো হয়েছে এবং রাজনৈতিক নেতাদের নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, তাদের কাছে টাকা দাবির ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে।ধর্ষণ মামলা থেকে শুরু করে হত্যাচেষ্টার মামলা এবং সবশেষে সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ—সব মিলিয়ে ঘটনাটি বর্তমানে জেলাজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রকৃত সত্য উদঘাটনে এখন পুলিশি তদন্তের দিকেই তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।








