হবিগঞ্জের ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস পালিত
৪-ই এপ্রিল ২৬ইং রোজ শনিবার
হবিগঞ্জের ঐতিহাসিক মুক্তিযোদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত তেলিয়াপাড়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
১৯৭১ সালের এই দিনে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা-বাগানের বাংলোয় সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের অংশগ্রহণে মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
দিবসটি উপলক্ষে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের উদ্যোগে বেলা ১১টায় পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচি সূচনা করা হয়। পরে দুপুরে বেলা এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তেলিয়াপাড়া থেকেই মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল।
এ সময় তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিকল্পনায় এবং সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর নেতৃত্বে যুদ্ধ পরিচালিত হয়। এখান থেকেই সেক্টর ভাগ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালিত হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়নি, সে সময় তিনি পাকিস্তানে বন্দি ছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়া বোরকা পরে তার দুই শিশুসন্তান নিয়ে ঢাকায় চলে যান এবং তাকে বাংলাদেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করেন।
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরেনি, বরং বিকৃত ইতিহাস উপস্থাপন করেছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ আলহাজ জি কে গউছ, হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম ফয়সল, হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হোসেন জীবন, চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক জি এম সরফরাজ এবং পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদসহ অন্য নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা রফিক।
উল্লেখ্য, তেলিয়াপাড়া দিবস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার কৌশল নির্ধারণসহ দেশকে বিভিন্ন সেক্টরে ভাগ করার বিষয়ে তেলিয়াপাড়া থেকেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।








