বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২
বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২

সুন্দরবনে মধু আহরণ শুরু : শেষ সময়ের ব্যস্ত মৌয়ালরা

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:০৭ পিএম | 53 বার পড়া হয়েছে
সুন্দরবনে মধু আহরণ শুরু : শেষ সময়ের ব্যস্ত মৌয়ালরা

‎সুন্দরবনে মধু আহরণ মৌসুম শুরু। এরই মধ্যে বনে ফুটেছে খলিসা, গরান, পশুর, হারগোজাসহ রঙ-বেরঙের ফুল। মৌমাছির গুঞ্জনে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো বনাঞ্চল। এখন অপেক্ষা রাত পোহানোর। মধু আহরণে বনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত মৌয়ালরা। তবে উপকূলজুড়ে বনজীবীদের মধ্যে বিরাজ করছে বনদস্যুর আতঙ্ক। ঘ্রাণ ও স্বাদে অতুলনীয় সুন্দরবনের মধু সংগ্রহ করতে জীবনবাজি রাখতে হয় মৌয়ালদের। এতদিন নদীতে কুমির আর ডাঙায় বাঘের ভয় থাকলেও এবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে বনদস্যুর আতঙ্ক।

‎মৌয়ালরা বলছেন, কয়েকটি দস্যু দল বনে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বনজীবীদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় এবং শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাও ঘটছে। ফলে এবার মধু আহরণে যেতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন অনেক মৌয়াল। এতে যেমন মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ার শঙ্কা রয়েছে, তেমনি জীবিকা সংকটে পড়তে পারেন হাজারো মৌয়াল।

‎বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১ এপ্রিল থেকে সুন্দরবনে টানা দুই মাস মধু সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া হবে। এ বছর সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় ১ হাজার ১০০ কুইন্টাল (১ কুইন্টাল-১০০ কেজি) মধু এবং ৬০০ কুইন্টাল মোম আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

‎বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে সুন্দরবন থেকে ৪ হাজার ৪৬৩ কুইন্টাল মধু আহরণ করা হয়েছিল। ২০২২ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৮ কুইন্টালে। ২০২৩ সালে আরও কমে হয় ২ হাজার ৮২৫ কুইন্টাল। ২০২৪ সালে কিছুটা বেড়ে ৩ হাজার ১৮৩ কুইন্টাল মধু আহরণ করা হয়। আর ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৭৬ কুইন্টালে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩৫ শতাংশ কম।

‎২০২৪ সালে প্রায় ৮ হাজার মৌয়াল মধু আহরণে নিয়োজিত থাকলেও ২০২৫ সালে তা নেমে আসে প্রায় ৫ হাজারে। স্থানীয়দের মতে, এবার এই সংখ্যা আরও কমতে পারে।

‎বাগেরহাট ও খুলনার পার্শবর্তী  মৌয়ালরা জানায়, সুন্দরবনে ডাকাতের তৎপরতা বেড়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর অপহরণের ঘটনা বাড়ছে বলে দাবি তাদের। এতে পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেকেই বনে যেতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন।

‎স্থানীয়দের মধ্যে অনেকে জানান,ছোটবেলা থেকে জঙ্গলে যাই, কোনো দিন বাঘ-কুমিরের ভয় পাইনি। কিন্তু এখন ডাকাতের ভয় সবচেয়ে বেশি। একবার ধরা পড়লে আর রক্ষা নেই। তাই এবার মধু কাটা বাদ দিয়ে এলাকায় দিনমজুরি কাজ করবো।
‎আগে আমরা সাতজন মিলে নৌকায় যেতাম। এবার ডাকাতের ভয়ে কেউই যেতে চাইছে না।বাপ-দাদার পেশা হলেও নিরাপত্তা না থাকলে এ পেশা ছেড়ে দিতে হবে।’

‎মৌয়ালরা আরো বলেন, ‘ঋণ করে মধু কাটতে যাই। কিন্তু ডাকাতের হাতে পড়লে সব হারিয়ে নিঃস্ব হতে হয়।’

‎তবে বন বিভাগ বলছে, মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে যৌথ টহল জোরদার করা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

‎সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. মশিউর রহমান জানান, মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

‎এদিকে, মধু আহরণ মৌসুমের শুরুতেই মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি দেখতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি ১ এপ্রিল খুলনা ও সাতক্ষীরা সফর করবেন।

‎সফরসূচি অনুযায়ী, তিনি সাতক্ষীরার নীল ডুমুর এলাকায় সুন্দরবনের মধু সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন এবং সেখানে উপস্থিত মৌয়ালদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

জাহিদ হোসেন

মানিক-৪ বরিশালের চরমোনাই ঘাটে ডুবে যায়

জাহিদ হোসেন প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৫৪ পিএম
মানিক-৪ বরিশালের চরমোনাই ঘাটে ডুবে যায়

বরিশালের চরমোনাই ঘাটে বাৎসরিক মাহফিলকে কেন্দ্র করে রিজার্ভ একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

আজ বুধবার (১ই এপ্রিল) দুপুরে বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নে ময়দানে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, ডুবে যাওয়া শরীয়তপুরের এমভি মানিক-৪ লঞ্চটি মঙ্গলবার (৩১ই মার্চ) রাতে চরমোনাই মাহফিলের উদ্দেশে মুন্সিগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসে। লঞ্চটি ভোররাতে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে চরমোনাইয়ের ঘাটে অবস্থান করছিল। নদীতে পানি কমে যাওয়ার কারনে লঞ্চের পেছনের দিকটা ডেবে গিয়ে দুপুরের দিকে লঞ্চটি ডুবে যায়। তবে এ সময় লঞ্চের ভিতরে কেউ ভেতরে না থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে লঞ্চের ভেতরে রাখা মুসল্লিদের বেশ কিছু মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

লঞ্চ সংশ্লিষ্ট ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা, লঞ্চটি মজবুতভাবে বেঁধে না রাখায় পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে এ দুর্ঘটনা ঘটছে বলে ধারণা করা হয়।

রাজশাহীতে পদ্মা ব্যারাজ দ্রুত নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৫১ পিএম
রাজশাহীতে পদ্মা ব্যারাজ দ্রুত নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

রাজশাহী অঞ্চলকে মরুকরণের হাত থেকে রক্ষা করতে পদ্মা ব্যারাজ দ্রুত নির্মাণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) রাজশাহী জেলা কমিটি। একই সঙ্গে বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার নিশ্চিত করা, উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং পদ্মা নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ ও কৃষিরক্ষার দাবিও জানানো হয়েছে।

আজ বুধবার সকালে রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়। সামাজিক সংগঠন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সহযোগিতায় কর্মসূচিতে পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বাপার রাজশাহী সভাপতি মাহমুদ হাসানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি মো. লিয়াকত আলী ও সাধারণ সম্পাদক মো. জামাত খান; বাপার রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক সেলিনা বেগম, সোনার দেশ পত্রিকার সম্পাদক হাসান মিল্লাত, কলেজশিক্ষক মো. জুয়েল কিবরিয়া, বাপার পবার সভাপতি রহিমা বেগম, রুলফাওর নির্বাহী পরিচালক মো. আফজাল হোসেন প্রমুখ।

তালাত মাহামুদ বিশেষ প্রতিনিধি

নরসিংদীর মাধবদীতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে মারধরের অভিযোগ

তালাত মাহামুদ বিশেষ প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪৯ পিএম
নরসিংদীর মাধবদীতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে মারধরের অভিযোগ

নরসিংদীর মাধবদী থানার দরিপাড়া বাজার এলাকায় এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে মারধর ও মিথ্যা মামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের “রাইটার বাবুল” পরিচয়ধারী (সোর্স) । সবুজ মিয়া দরিপাড়া বাজারে মাছ কাটার পেশা হিসেবে জীবিকা অর্জন করেন।

ভুক্তভোগী সবুজ মিয়া জানান, সম্প্রতি দরিপাড়া বাজারে ব্যক্তিগত একটি বিষয় কে কেন্দ্র করে পুলিশের রাইটার বাবুল(সোর্স)পরিচয়দানকারী ব্যক্তি তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করে । গুরুতর আহত করা হয়। ঘটনার পরও থেমে থাকেনি অভিযুক্ত ব্যক্তি; বরং ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন ধরনের মামলা দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরজমিনে গিয়ে

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের “রাইটার বাবুল” পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে। যতটুকু যানাযায় সে একজন চিহ্নিত (সোর্স) । তার ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন বাবুল মাধবদী থানার রাইটার ও সাব ইন্সপেক্টরের সহকারী পরিচয় দিয়ে। মাদক ব্যবসা করে,সে নিজে ও মাদক সেবন করে। তার বিরুদ্ধে, নরসিংদী ও মাধবদী থানা সহ একাধিক মামলা রয়েছে। বাবুল নিরীহ মানুষকে হয়রানি মুলক ও মামলা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অর্থ উপার্জন করাই মুলত তার পেশা । অভিযুক্ত সবুজ মিয়ার পিতা মোঃ বাচ্ছু মিয়া। একজন দেশপ্রেমিক বীর মূক্তিযোদ্ধা, সেক্টর কমান্ডার আনসার বাহিনীর ও নরসিংদী জজকোর্টের সিনিয়র আইনজীবির সহকারী।

এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে মাধবদী থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যের ওপর এ ধরনের হামলা অত্যান্ত নিন্দনীয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

error: Content is protected !!