বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২
বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২

ভৈরব নদীতে ট্যাংকারের তেল চুরি, আইন প্রয়োগকারী সকল সংস্থার কর্মকর্তাগণ নিরব দর্শক

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৩ এএম | 38 বার পড়া হয়েছে
ভৈরব নদীতে ট্যাংকারের তেল চুরি, আইন প্রয়োগকারী সকল সংস্থার কর্মকর্তাগণ নিরব দর্শক

খুলনার মেসার্স পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপোতে আসা ট্যাংকার থেকে লাখ লাখ টাকার জ্বালানি তেল সুকৌশলে চোরদের হাতে চলে যাচ্ছে। অনেকটা প্রকাশ্যেই তেল চোররা তৎপর থাকলেও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো রহস্যজনক কারণে থাকছে নীরব। এতে এক দিকে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব আয়।

একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভৈরব নদী তীরে গড়ে ওঠেছে মেসার্স পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নামে তিনটি জ্বালানি তেলের ডিপো। এসব ডিপোতে বিভিন্ন রকম জ্বালানি তেল চট্টগ্রাম থেকে লোড নিয়ে আসা জাহাজগুলো ভৈরব নদীতে নোঙর করে ৪/৫ দিন ধরে তেল খালাসের জন্য অপেক্ষা করে।

অভিযোগ রয়েছে, খুলনা নগরীর কাশিপুর, নদীর পাড়ে ঘর বেঁধে ও ফরমাইশখানা গ্রামের একটা মহল নানা আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে আঁতাত করে সুকৌশলে ওই জাহাজগুলো থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার তেল চুরি করে দিঘলিয়া ও খুলনা শহরের বিভিন্ন দোকান ও ডিলারের কাছে বিক্রি করছে।

সূত্র জানায়, পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপোর অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তেল ট্যাংকারের (জাহাজের) অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আঁতাত করে তেল পাচার করে খুলনা ও আশপাশের জেলাগুলোতে বিক্রি করছে। এসব তেলের মধ্যে ফার্নেস ওয়েল, ডিজেল, পেট্রোল, কেরোসিন, অকটেন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এসব চোরাই তেল সংরক্ষণ ও কেনাবেচার জন্য খালিশপুর ও কাশিপুরে বাড়ির মধ্যে ভূমিতে হাউস করা হয়েছে। কেউ কেউ রাস্তার পাশে শার্টার যুক্ত ঘর করেছে। কেউবা নদীর কুলে বা ডিপোগুলোর রাস্তার পাশ দিয়ে বেড়া বা শার্টারযুক্ত ঘর করেছে। ট্যাংকলরিগুলো ডিপো থেকে তেল লোড নিয়ে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় জ্বালানি তেল চুরির মহৌৎসব। এই তেল চোরচক্রের সঙ্গে বিভিন্ন ডিলার ও ডিপোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আঁতাত থাকে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার হাতে তেল ধরা পড়লে মুহূর্তের মধ্যে বৈধ মালিকানাট কাগজপত্র তৈরি হয়ে যায়। এসব তেল চোর ট্যাংকলরি ডিপো থেকে বের হলেই ঘরের শার্টার খুলে ড্রাম নিয়ে নিজেরাই পাইপ খুলে দিয়ে তেল ভর্তি করে আবার ঘরের শার্টার বন্ধ করে দেয়। রাস্তার পাশে ঘর করে তেল চোরাকারবারি আছে প্রায় ২ শতাধিক। কেউ কেউ গড়ে তুলেছে স্থাপনাও।

এক সূত্র থেকে জানা যায়, এ ডিপোগুলোর জ্বালানি তেল লোড দেওয়ার কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের সঙ্গে ওয়াগন ও ট্যাংকলরি চালক ও শ্রমিকদের আঁতাত থাকে। তারা গোপন সালামির বিনিময়ে প্রয়োজনীয় তেলের চেয়েও বেশি লোড করে। সেই তেল ডিপো থেকে বেরিয়ে নির্ধারিত ঘরে গিয়ে বিক্রি করে দেয় ট্যাংকলরির চালক ও কর্মচারীরা। এমনকি এ চোরাই চক্র ডিপো থেকে খুলনাগামী ট্রেন লাইনের পাশেও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে ট্রেনের জ্বালানি তেলভর্তি ওয়াগন থেকে তেল চুরি করে আসছে বছরের পর বছর ধরে। এদিকে কাশিপুরের একটি তেল চোরাই চক্র বিভিন্ন নৌকা নিয়ে ভৈরব নদীতে নোঙর করা ট্যাংকার থেকে ক্যানভর্তি করে তেল চুরি করে। এ তেল চোরাই চক্রের মধ্যে রয়েছে খুলনা নগরীর কাশিপুর ও দিঘলিয়া থানার সদর ইউনিয়নের ফরমাইশখানা গ্রামের কিছু লোক। অথচ আইনপ্রয়োগকারী সব সংস্থা অজ্ঞাত কারণে নীরব দর্শক।

সূত্র থেকে আরো জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে আসা জাহাজগুলো ভৈরব নদের তীরের একটি মহলের মাধ্যমে ২০/৩০ হাজার টাকা ডাকে বিক্রি হয়। ঘাটের ওপরের একজন ও একজন নৌকা মাঝি সারা বছর এ জাহাজ নিয়ন্ত্রণ করে এবং তেল পাচার করে। নতুন নতুন জাহাজ এলেই এভাবে বেচাকেনা হয়। ফলে প্রতি বছর পেট্রোবাংলার কোটি কোটি টাকার জ্বালানি তেলের ক্ষতি ও অপচয় হয়। সরকার হারায় মোটা অংকের রাজস্ব। দিঘলিয়ার একটা প্রভাবশালী মহল নেপথ্যে থেকে এ অবৈধ ব্যবসা বছরের পর বছর চালিয়ে আসছে বলে জানা যায়।

কয়েক বছর আগে দিঘলিয়া থানা পুলিশ ও অন্যান্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানে এ তেল চোরচক্র ঘরে উঠলেও বর্তমানে পুনরায় জোরেশোরে শুরু করেছে তাদের অবৈধ কারবার। এ অবৈধ তেল চুরির আধিপত্যকে কেন্দ্র করে শিশু বাচ্চু, সাকিব, মামুনসহ কয়েকটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে ফরমাইশখানা বার্মাশেল খেয়াঘাটের আশপাশে। এই অবৈধ তেলের ব্যবসা ও ঘাটের শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ফরমাইশখানা গ্রামের খলিল মোড়ল, দিঘলিয়া সদর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মোল্লা হারুন অর রশিদ ও শেখ ফরহাদ হোসেন চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়েছেন। কেউবা মিথ্যা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে শুধু ঘাট নয় এলাকা ছাড়া হয়েছে। কেউ কেউ বলছে, মুন্না হত্যা রহস্য এই জ্বালানি ব্যবসার আধিপত্যের সাথে জড়িত থাকতে পারে।

খালিশপুর থানার ওসি তৌহিদুজ্জামান জানান, আমরা যেখানে অভিযোগ পাচ্ছি সেখানেই অভিযান পরিচালনা করছি। অনেক তেল উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাগুলো তদন্ত করে দেখা হবে। অবৈধ এ কারবারিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নদীতে যে ঘটনা ঘটে সেটা দেখবে নৌ থানা পুলিশ।

কেএমপি সদর নৌ থানার ওসি বাবুল আক্তারের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

জাহিদ হোসেন

মানিক-৪ বরিশালের চরমোনাই ঘাটে ডুবে যায়

জাহিদ হোসেন প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৫৪ পিএম
মানিক-৪ বরিশালের চরমোনাই ঘাটে ডুবে যায়

বরিশালের চরমোনাই ঘাটে বাৎসরিক মাহফিলকে কেন্দ্র করে রিজার্ভ একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

আজ বুধবার (১ই এপ্রিল) দুপুরে বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নে ময়দানে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, ডুবে যাওয়া শরীয়তপুরের এমভি মানিক-৪ লঞ্চটি মঙ্গলবার (৩১ই মার্চ) রাতে চরমোনাই মাহফিলের উদ্দেশে মুন্সিগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসে। লঞ্চটি ভোররাতে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে চরমোনাইয়ের ঘাটে অবস্থান করছিল। নদীতে পানি কমে যাওয়ার কারনে লঞ্চের পেছনের দিকটা ডেবে গিয়ে দুপুরের দিকে লঞ্চটি ডুবে যায়। তবে এ সময় লঞ্চের ভিতরে কেউ ভেতরে না থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে লঞ্চের ভেতরে রাখা মুসল্লিদের বেশ কিছু মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

লঞ্চ সংশ্লিষ্ট ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা, লঞ্চটি মজবুতভাবে বেঁধে না রাখায় পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে এ দুর্ঘটনা ঘটছে বলে ধারণা করা হয়।

রাজশাহীতে পদ্মা ব্যারাজ দ্রুত নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৫১ পিএম
রাজশাহীতে পদ্মা ব্যারাজ দ্রুত নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

রাজশাহী অঞ্চলকে মরুকরণের হাত থেকে রক্ষা করতে পদ্মা ব্যারাজ দ্রুত নির্মাণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) রাজশাহী জেলা কমিটি। একই সঙ্গে বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার নিশ্চিত করা, উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং পদ্মা নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ ও কৃষিরক্ষার দাবিও জানানো হয়েছে।

আজ বুধবার সকালে রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়। সামাজিক সংগঠন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সহযোগিতায় কর্মসূচিতে পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বাপার রাজশাহী সভাপতি মাহমুদ হাসানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি মো. লিয়াকত আলী ও সাধারণ সম্পাদক মো. জামাত খান; বাপার রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক সেলিনা বেগম, সোনার দেশ পত্রিকার সম্পাদক হাসান মিল্লাত, কলেজশিক্ষক মো. জুয়েল কিবরিয়া, বাপার পবার সভাপতি রহিমা বেগম, রুলফাওর নির্বাহী পরিচালক মো. আফজাল হোসেন প্রমুখ।

তালাত মাহামুদ বিশেষ প্রতিনিধি

নরসিংদীর মাধবদীতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে মারধরের অভিযোগ

তালাত মাহামুদ বিশেষ প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪৯ পিএম
নরসিংদীর মাধবদীতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে মারধরের অভিযোগ

নরসিংদীর মাধবদী থানার দরিপাড়া বাজার এলাকায় এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে মারধর ও মিথ্যা মামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের “রাইটার বাবুল” পরিচয়ধারী (সোর্স) । সবুজ মিয়া দরিপাড়া বাজারে মাছ কাটার পেশা হিসেবে জীবিকা অর্জন করেন।

ভুক্তভোগী সবুজ মিয়া জানান, সম্প্রতি দরিপাড়া বাজারে ব্যক্তিগত একটি বিষয় কে কেন্দ্র করে পুলিশের রাইটার বাবুল(সোর্স)পরিচয়দানকারী ব্যক্তি তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করে । গুরুতর আহত করা হয়। ঘটনার পরও থেমে থাকেনি অভিযুক্ত ব্যক্তি; বরং ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন ধরনের মামলা দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরজমিনে গিয়ে

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের “রাইটার বাবুল” পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে। যতটুকু যানাযায় সে একজন চিহ্নিত (সোর্স) । তার ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন বাবুল মাধবদী থানার রাইটার ও সাব ইন্সপেক্টরের সহকারী পরিচয় দিয়ে। মাদক ব্যবসা করে,সে নিজে ও মাদক সেবন করে। তার বিরুদ্ধে, নরসিংদী ও মাধবদী থানা সহ একাধিক মামলা রয়েছে। বাবুল নিরীহ মানুষকে হয়রানি মুলক ও মামলা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অর্থ উপার্জন করাই মুলত তার পেশা । অভিযুক্ত সবুজ মিয়ার পিতা মোঃ বাচ্ছু মিয়া। একজন দেশপ্রেমিক বীর মূক্তিযোদ্ধা, সেক্টর কমান্ডার আনসার বাহিনীর ও নরসিংদী জজকোর্টের সিনিয়র আইনজীবির সহকারী।

এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে মাধবদী থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যের ওপর এ ধরনের হামলা অত্যান্ত নিন্দনীয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

error: Content is protected !!