চট্টগ্রাম বিশেষ প্রতিনিধি: (আহমদ রেজা)
হাফেজ মোহাম্মদ হোসাইন (রহ.)-এর স্মরণে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার উত্তর বন্দর গ্রামে প্রখ্যাত ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিত্ব ও সমাজসেবক হাফেজ মোহাম্মদ হোসাইন (রহ.)-এর স্মরণে দোয়া, মিলাদ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) বিকাল ৪টা থেকে বাদ এশা পর্যন্ত এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, মাওলানা মুফতি নঈম উদ্দিন আল কাদেরী (রহ.)-এর সহযোদ্ধা এবং আনোয়ারা উপজেলায় ইসলামী ছাত্রসেনা ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পৃষ্ঠপোষক হাফেজ মোহাম্মদ হোসাইন (রহ.) দীর্ঘ ১৬ বছর মসজিদুল ইকরার খেদমতে নিয়োজিত ছিলেন। গত ২৮ রমজান রাত ৯টার দিকে এতেকাফরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। পরদিন ২৯ রমজান রাত ৯টায় তিনি ইন্তেকাল করেন। তার আকস্মিক ইন্তেকালে এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে এবং এবারের ঈদকে শোকের আবহে পালন করেন স্থানীয়রা।
স্মরণ সভায় কোরআন খতম, গাউছিয়া খতম, নাতে মোস্তফা (সা.) পরিবেশন, আলোচনা সভা, মিলাদ, কিয়াম ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তর বন্দর এলাকার বিভিন্ন মসজিদের খতিব, পেশ ইমাম, মোয়াজ্জেম, হাফেজ ও ছাত্রবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন— মসজিদুল ইকরা মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি আলহাজ্ব মোঃ নুরুল আলম, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মোঃ ফারুক, মধ্য বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ খালেক, উত্তর বন্দর শাহী জামে মসজিদ কমিটির মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বুলু, কাফকো সিবিএ সভাপতি পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ আনিসুর রহমান চৌধুরী, উত্তর বন্দর ব্লাড ডোনেশন গ্রুপের উপদেষ্টা আলহাজ্ব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনা (আনোয়ারা পশ্চিম) সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্রসেনা চট্টগ্রাম (আনোয়ারা পশ্চিম) এর সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আবু সালাম, বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্ট উত্তর বন্দর ২নং ওয়ার্ডের সভাপতি মোঃ আসাদুর রহমানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মোঃ সাদ্দাম হোসেন। পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন মোঃ ইরফান আহমেদ মাঈন এবং নাতে মোস্তফা পরিবেশন করেন মোকাদ্দেস হোসেন। সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন মঈনীয়া যুব ফোরাম আনোয়ারা উপজেলার সভাপতি মোহাম্মদ জহির উদ্দিন সওদাগর।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, হাফেজ মোহাম্মদ হোসাইন (রহ.) প্রায় ৬৫ বছরের জীবনে ধর্মীয় শিক্ষা, শিক্ষকতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। যশোরে জন্ম হলেও তিনি জীবনের অধিকাংশ সময় উত্তর বন্দর গ্রামের মানুষের সাথে কাটিয়েছেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী, সদালাপী ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি। গ্রামের মানুষকে সাথে নিয়ে জশনে জুলুস ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) প্রতিষ্ঠায়ও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
বক্তারা আরও বলেন, তিনি কখনো কারো সাথে কঠোর আচরণ করেননি; বরং হাসিমুখে সকলের সাথে মিশে থাকতেন এবং ইসলামের খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন।
পরিশেষে, মিলাদ, কিয়াম ও বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা হেলাল উদ্দিন আল কাদেরী ও মাওলানা মাহফুজুর রহমান আল কাদেরী।

















