জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর
মণিরামপুরে ‘রক্তবিন্দু’র উদ্যোগে স্বাধীনতা দিবসে ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্পের প্রস্তুতি
এক ব্যাগ রক্ত—কখনো কখনো সেটিই হয়ে ওঠে একজন মানুষের জীবনের শেষ আশ্রয়। সেই মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের খাকুন্দী গ্রামে গড়ে উঠেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “রক্তবিন্দু”। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে সংগঠনটির সদস্যরা নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন মুমূর্ষু রোগীদের পাশে দাঁড়াতে, সমাজে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে।
রবিবার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে সংগঠনটির উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আগামী ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্প আয়োজন, সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে ব্লাড টেস্ট কার্যক্রম এবং সংগঠনের কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও নতুন সদস্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা মোঃ আল জাবের মোল্লা। উপস্থিত ছিলেন নড়াইল জেলা তথ্য অফিসার মোঃ রুস্তম আলী, বিশিষ্ট সাংবাদিক জেমস আব্দুর রহিম রানা, ব্যাংক কর্মকর্তা মোঃ মহিদুল ইসলাম, মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান, মোঃ ইউনুস আলী মোল্লা, মোঃ ফারুক মোল্লা, মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম, মোঃ আনিসুর রহমান সদ্দার, মোঃ মাসুম বিল্লাল, মোঃ নুর ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও স্বেচ্ছাসেবীরা।
বক্তারা বলেন, দেশের হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী রক্তের জন্য অপেক্ষা করেন। অনেক পরিবার তখন দিশেহারা হয়ে পড়েন—কোথায় পাওয়া যাবে প্রয়োজনীয় রক্ত? ঠিক সেই মুহূর্তে এগিয়ে আসে কিছু মানবিক মানুষ, যারা নিজের রক্ত দিয়ে বাঁচিয়ে দেন অপর একজনের জীবন।
২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে “রক্তবিন্দু” দেশের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য মুমূর্ষু রোগীর জন্য রক্তের ব্যবস্থা করে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সংগঠনের তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা দিন-রাত ফোনে যোগাযোগ করে, রক্তদাতা খুঁজে বের করে এবং প্রয়োজনের মুহূর্তে রোগীর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
সভা শেষে সংগঠনটির পক্ষ থেকে মোঃ জাহিদুল ইসলামকে সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়। তিনি ইতোমধ্যে ১৯ জন রক্তশূন্য রোগীকে স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন। তার এই নিঃস্বার্থ মানবিক অবদান সমাজে মানবতার আলো ছড়িয়ে দেয়।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, একজন মানুষের দেওয়া এক ব্যাগ রক্ত শুধু একটি জীবনই বাঁচায় না, বরং একটি পুরো পরিবারকে ফিরিয়ে দেয় নতুন আশা ও স্বস্তির নিশ্বাস। জাহিদুল ইসলামের মতো উদার তরুণদের উদাহরণ সমাজে মানবিকতা ও দায়িত্ববোধকে আরও শক্তিশালী করে।
সভায় আগামী বছর থেকে প্রতি বছর তিনজন সেরা রক্তদাতাকে সম্মাননা প্রদান করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যাতে আরও বেশি মানুষ স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত হন।
সভা শেষে বক্তারা সবাইকে মানবিক এই কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “রক্তদান কোনো ভয় বা দ্বিধার বিষয় নয়—এটি গর্বের। আপনার এক ব্যাগ রক্ত একটি মুমূর্ষু মানুষের জন্য নতুন জীবনের বার্তা হয়ে উঠতে পারে। তাই সবার প্রতি আহ্বান—রক্ত দিন, জীবন বাঁচান।”
মানবিক সংগঠন “রক্তবিন্দু” ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে থেকে স্বেচ্ছায় রক্তদানের মতো মহৎ উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেছেন, সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ থাকলে রক্তের অভাবে কোনো মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে না।














