চয়ন কুমার রায় লালমনিরহাট
ভারতীয় কারাগারে এক বাংলাদেশি মৃত্যুর ৩৬ দিন পর দেশে ফিরল তার মরদেহ
ভারতের কারাগারে বন্দি অবস্থায় মৃত্যুর ৩৬ দিন পর খাইরুজ্জামান (৪২) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুর আড়াইটায় লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর ও ভারতের চেংড়াবান্দা ইমিগ্রেশনের মাধ্যমে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে মরদেহটি হস্তান্তর করা হয়।
নিহত খাইরুজ্জামান কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার পশ্চিম কালুডাঙা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর ধরে ভারতের কারাগারে বন্দি ছিলেন।
নিহতের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাড়ে তিন বছর আগে কাজের সন্ধানে অবৈধ পথে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন খাইরুজ্জামান। সেখানে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতীয় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কারাগারে ছিলেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি অসুস্থ অবস্থায় তাকে জলপাইগুড়ি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ওই দিন রাতেই তার মৃত্যু হয়।
খাইরুজ্জামানের ছোট ভাই খয়বর জামান বলেন, “ভাই দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর নিখোঁজ ছিলেন। তার মৃত্যুর পর আমরা জানতে পারি তিনি কারাগারে ছিলেন। মায়ের শেষ ইচ্ছা ছিল ভাইয়ের মুখটি দেখার। লাশটি ফিরে পাওয়ায় আমরা সরকারি ও সংশ্লিষ্ট সবার কাছে কৃতজ্ঞ।”
মরদেহ হস্তান্তরের সময় কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রতিনিধি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এবং দুই দেশের পুলিশ ও কাস্টমস কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রেডিও চিলমারীর স্টেশন ম্যানেজার বশির আহমেদ এই মরদেহ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। তিনি জানান, পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের সঙ্গে দীর্ঘ কূটনৈতিক যোগাযোগের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
বুড়িমারী ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি গ্রহণ করে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। খাইরুজ্জামান স্ত্রী, এক মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন। আজ রাত সাড়ে ৭টায় তার নিজ গ্রামে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।











