কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
কটিয়াদীতে ভূমি অফিসে অনিয়মের পাহাড়: ৭৫ দিনেও নামজারি পাননি পঙ্গু ফরিদ
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা ভূমি অফিসে সেবাগ্রহীতাদের চরম ভোগান্তি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দিনের পর দিন ঘুরেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা, উল্টো পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ।
রোববার (১৫ মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অফিসের বারান্দায় মাটিতে বসে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করছেন উপজেলার ইন্দুয়াইল গ্রামের বাসিন্দা ফরিদ মিয়া। তার দুটি পা-ই অচল। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে গত আড়াই মাস (৭৫ দিন) ধরে তিনি ঘুরছেন স্ত্রীর নামে একটি ই-নামজারি (খারিজ) আবেদনের নিষ্পত্তির জন্য।
ভুক্তভোগী ফরিদ মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি একজন প্রতিবন্ধী মানুষ, দুইটা পা অচল। মাটিতে বসে বসে টেনে টেনে চলতে হয়। স্ত্রীর নামে খারিজের আবেদনের জন্য গত ২০-২৫ দিন নিজে এই অফিসে আইছি। এসিল্যান্ড (সহকারী কমিশনার-ভূমি), মৌলভী স্যারসহ সবার দ্বারে দ্বারে গেছি। কিন্তু কাজ হয় না; সবাই শুধু এক রুম থেকে অন্য রুমে পাঠায়। এতদিন ধইরা ঘুরতাছি, কবে কাজ শেষ হবে আল্লাহ জানে।”
একই অফিসের অব্যবস্থাপনার শিকার অষ্টঘড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মুকুল মিয়া। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই অফিসে নামজারির পেছনে ছুটতে ছুটতে আমার চার জোড়া জুতা ছিঁড়ে গেছে। শেষে ঝগড়াঝাঁটি করে তবেই কাজ করাতে পেরেছি। এখানে স্বাভাবিকভাবে কাজ পাওয়া দুষ্কর।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, কটিয়াদী উপজেলা ভূমি অফিসে ‘টাকা ছাড়া কোনো ফাইল নড়ে না’। অদৃশ্য সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে দালাল চক্র ও অফিসের কিছু অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশে সেবার নামে চলছে হয়রানি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ হস্তক্ষেপ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খাঁন বলেন,এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

















