শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২

হাসিনাকে সামনাসামনি কোনদিন দেখেননি হারুন

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৪, ১:০৩ পিএম | 126 বার পড়া হয়েছে
হাসিনাকে সামনাসামনি কোনদিন দেখেননি হারুন

‘আমি সরকারি চাকরি করি। আমার সঙ্গে কোনোদিন শেখ হাসিনার দেখা হয়নি। ১৫ বছরের ক্ষমতাকালীন সময়ে কোনোদিন শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে যাইনি। আমার সঙ্গে কথা হয়নি।’ অজ্ঞাত স্থান থেকে এমন কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ।

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়। এর পর থেকেই আলোচনায় আছেন ডিবির এই সাবেক প্রধান। গণ-অভ্যুত্থানের পর আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা হারুনকে ঘিরে নানা তথ্য ছড়াতে থাকে। যার মধ্যে বিমানবন্দরে হারুনের ওপর হামলা, সিএমএইচে ভর্তি, অন্য বাহিনীর হেফাজতে থাকা, আর সর্বশেষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যাওয়া।

তবে নানা তথ্যের মাঝেও এখনো হারুনের অবস্থান অজানা। অজ্ঞাত স্থান থেকেই সম্প্রতি এক সাংবাদিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়াসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন পুলিশের সাবেক এই কর্মকর্তা।

হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘আমাকে ঘিরে নানা ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছিল। তখনো আমি চুপ ছিলাম। সরকার যখন বলল, সবাইকে কাজে যোগ দিতে। তখন আমি গত ৮ আগস্ট ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি আমাকে তখনই যোগ দিতে নিষেধ করেন। আমাকে নিরাপদ স্থানে থাকতে বলেন। আমি যোগদান করতে গেছি। কিন্তু আমি যোগ দিতে পারিনি। দুই দিন পর দেখি আমার নামে মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি, কমিশনার ও আমাকে হুকুমের আসামি করা হয়। তখন আমি অবাক হলাম।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি তো ডিবিতে কাজ করি। ডিবির কাজ হলো মামলা তদন্ত করা। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নির্দেশ দিলে আমরা গ্রেপ্তার করি। মোহাম্মদপুরে তো আমি গিয়ে মারামারি করিনি, এটা তো আমার কাজ না। অতিরিক্ত কমিশনার কি মারামারি করতে যায়? আর ডিএমপিতে কমিশনারের পরে ৬ জন অতিরিক্ত কমিশনার। আমি হলাম ৬ নম্বর কমিশনার। সেখানে আমার নামে যখন মামলা হলো তখন তো একটু…। আবার বলা হলো মামলা হলেও সমস্যা নেই। ঘটনার সঙ্গে জড়িত না থাকলে গ্রেপ্তার করা হবে না। আমি মনে করলাম ভালো কথা। ভাবলাম জয়েন করব। পরের দিন দেখলাম একজন উপদেষ্টা বললেন, যেসব পুলিশ কর্মকর্তা জয়েন করেননি আপনারা তাদের ধরে নিয়ে আসেন। আমি তখন আরো অবাক হলাম। আমি ‍যদি চাকরিতে জয়েন না করি তাহলে প্রসিডিং করবে। আর যোগ দিলে আমাকে দিয়ে জোর করে চাকরি করাবেন। এটা শোনার পরে আমার মনে হলো রিস্ক। মানে আমার লাইফ ঝুঁকির মধ্যে। এখন মানুষকে ধরে যেভাবে পেটানো, ডিম মারা হচ্ছে। যদি আমাকে…। আগে তো বাঁচতে হবে। আমি ইচ্ছাকৃতভাবে একটু চুপ আছি।’

ছাত্র-জনতার হাতে গণধোলাইয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে হারুন বলেন, ‘ফেসবুক, ইউটিউবে নানা গুজব আছে। আপনারা মরার ছবিসহ নানা গুজব দেখেছেন। আমি এগুলো নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। যারা এগুলো বলে তারা টাকা-পয়সা পাওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাড়ে। এগুলো গুজব।’

পুলিশ সদর দপ্তরের দেয়াল টপকে পালাতে গিয়ে ব্যথা পাওয়ার বিষয়ে সাবেক ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি পুলিশ সদর দপ্তরে যাইনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে আমেরিকা এসেছিলাম ছুটি নিয়ে। জুলাইয়ের ১৫ তারিখ দেশে ফিরি। দেশে যাওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কোর কমিটির বাসায় একটা মিটিং হয়। প্রতিদিন সেই মিটিং হতো। মিটিংয়ে স্বরাষ্ট্রসচিব, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি, ডিএমপি কমিশনার, এনএসআই, ডিজিএফআই, এসবি, বিজিবিপ্রধান ছিল। এ ছাড়া ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি ও এনটিএমসির প্রধান। প্রতিদিন কোর কমিটির মিটিং হচ্ছিল। একদিন মিটিংয়ে আমাকে ডাকা হলো।

আমার কাছে গ্রেপ্তারের বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়। তখন আমি বলি আমার কাছে কেউ গ্রেপ্তার নেই। তবে র‌্যাব নুরুকে গ্রেপ্তার করে আমার কাছে দিয়েছে, নজরুল ইসলাম খানকে দিয়েছে। গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে তিনজন সমন্বয়ক আছে। তাদের এসবি পাহারা দিচ্ছিল। আমাকে বলা হলো তাদের নিরাপত্তার জন্য ডিবিতে আনার জন্য। তখন বলি আমি তাদের কিভাবে নেব?’

তিনি আরো বলেন, ‘তখন তারা বলে এত কিছু বোঝার দরকার নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব আপনি নিয়ে রাখেন। আমাকে কমিশনারসহ কোর কমিটির সবাই এই কথা বলেছে। এরপর আমি ডিবির রমনা বিভাগের ডিসি হুমায়ুনকে সমন্বয়ক তিনজনকে নিয়ে আসতে বলি। হুমায়ুন তাদের নিতে আসে। তাদের মোবাইল আগেই ডিজিএফআই নিয়ে গেছিল। রাত ২টা-৩টার দিকে আমাকে ডিজিএফআইয়ের দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ফোন দিয়ে বলেন সারজিসসহ আরো দুজনকে ডিবি গেটে আনা হয়েছে। আপনার কোনো এক কর্মকর্তাকে বলেন রিসিভ করতে। পরে আমি ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) শাহেনশাহ মাহমুদকে ফোন দিয়ে বলি রিসিভ করতে। পরে তাদের সাইবারের একজন এডিসি রিসিভ করে। এই হলো পাঁচজন। পরের দিন ডিজিএফআইপ্রধান আমাকে ফোন দিয়ে বলেন, একটি মেয়ে (নুসরাত তাবাসসুম) খুব উৎপাত করছে তাকেও তুলে আনতে হবে। আমি মিরপুরের ডিসি মানস কুমার পোদ্দারকে বলি তাকে আনতে। এই ছয়জন হলো। এরপর আমাকে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হলো।

প্রধানমন্ত্রী পুলিশ হাসপাতালে যাওয়ার পরে আমার কাছে কাজের আপডেট জানতে চান এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম। আমি বিস্তারিত তাকে পাঠাই। আগে তাদের বিভিন্ন সংস্থা মারধর করেছে। কিন্তু আমি তাদের (সমন্বয়ক) স্বজনদের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিয়েছি। আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে আমি ভাতও খেয়েছি। ওই মেয়েটার মাকে এনে তার সঙ্গে রাখা হয়েছে। এর আগে আরেকটি রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছিল আইনসচিবের সঙ্গে আমার কথার। আমি আইনসচিবকে বলি আমি তাদের ধরিনি। কিন্তু আমাকে কালার করা হচ্ছে। তখন কিন্তু বিভিন্ন মিডিয়ায় আসছিল তাদের ডিবিতে আটকে রাখা হয়েছে। আমি তো কোনো কূলই পাচ্ছি না। সাধারণ মানুষ জানতেছে তাদের আমি আটকে রেখেছি। আমি হারুন তাদের সঙ্গে কোনো খারাপ কথা বলিনি। ভিপি নুরের সঙ্গেও দুজন সমন্বয়কের কথা বলিয়ে দিয়েছি। তারা যাওয়ার পরে কিন্তু এখন পর্যন্ত বলেনি হারুন তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে। আমার ক্ষতিটা হলো মানুষ জানল হারুন তাদের ধরে নিয়েছে।’

এত সংস্থা থাকতে ডিবিকে দিয়ে কেন এই কাজটি করাতে গেল। আপনার তো অতিউৎসাহী মনোভাব ছিল। এমন প্রশ্নের জবাবে হারুন বলেন, ‘এখনো তো সব গ্রেপ্তার ডিবি করছে। সারা দেশে ধরা হচ্ছে তাদের তো ডিবিতে নেওয়া হচ্ছে। আমি ডিবিকে মানুষের আস্থার স্থানে নিয়ে এসেছি। বিএনপি যত নেতাকে গ্রেপ্তার করে ডিবিতে এনেছি। কেউ বলতে পারবে না কারো সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছি। আমি কখনো খারাপ ব্যবহার করিনি। মতিঝিলের আওয়ামী লীগ নেতা টিপু হত্যার ঘটনায় ৩৩ জন দলীয় নেতার বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছি। এতে দলের নেতারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। সর্বশেষ এমপি আনার হত্যার ঘটনায় নেপাল, ভারত এমনকি পাহাড় থেকে আসামি ধরে এনেছি। জেলার সাধারণ সম্পাদককে ধরেছি। তার মানে কোনো ঘটনা ঘটলে ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে জড়াইনি। আমার এমন কাজে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনেকে ক্ষিপ্ত হয়েছে।’

সরকারপ্রধান (শেখ হাসিনা) সবাইকে বিপদে ফেলে চলে গেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘এ নিয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। আমি ছোট মানুষ। আমি ডিএমপির প্রধানও না, পুলিশের প্রধান না। আমাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমাকে মোয়া বানানো হচ্ছে। আমি কেন আলোচিত-এর একটাই কারণ যেখানে অপরাধ হয়েছে সেখানে আমি মানুষকে সেবা দিয়েছি। মানুষ যখন যে সমস্যায় পড়েছে তারা থানায় না গিয়ে ডিবিতে আসত। ডিবিতে আমার চাকরিজীবনে মানুষের উপকার করেছি। কারো ক্ষতি করিনি।’

সরকারের লাঠিয়াল হিসেবে কাজ করে আপনি অনুতপ্ত কি না জানতে চাইলে ডিবির সাবেক এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি লাঠিয়াল হিসেবে কাজ করিনি। আমি সরকারি চাকরি করি। আমার সঙ্গে কোনো দিন শেখ হাসিনার দেখা হয়নি। ১৫ বছরের ক্ষমতাকালীন সময়ে কোনো দিন শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে যাইনি। আমার সঙ্গে কথা হয়নি। আমাকে বলা হচ্ছে হুকুমদাতা। আমি হুকুমদাতা কিভাবে হলাম। আমি তো ডিএমপি কমিশনারের অধীনে কাজ করেছি। আমি যা করেছি ন্যায়বোধ থেকে করেছি। অন্যায় করিনি। ন্যায়বোধ দিয়ে কাজ করায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রোষানলে পড়েছি। কিন্তু মানুষ আমার কাজের প্রশংসা করেছে। আমাকে ভুল বোঝার অবকাশ নেই।’

আফরোজা খানম মুক্তা : স্বত্ত্বাধিকারী, সৌখিন কারুশিল্প

ইফতারে থাকুক ব্রকলির পাকোড়া

আফরোজা খানম মুক্তা : স্বত্ত্বাধিকারী, সৌখিন কারুশিল্প প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ৫:০৩ পিএম
ইফতারে থাকুক ব্রকলির পাকোড়া

একদিন ইফতারে আলুর চপের পরিবর্তে ব্রকলির পাকোড়া তৈরি করে দেখুন। খাবার টেবিলে এটিই হয়ে উঠবে মধ্যমণি। আপনাদের জন্য ব্রকলির পাকোড়ার রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা।

উপকরণ

ব্রকলি ১টি; আদা ও রসুনবাটা; হলুদ, মরিচ, ধনে, জিরাগুঁড়া, গরম মসলা, কাশ্মীরি মরিচের গুঁড়া ১ চা-চামচ করে, চিনি ও লবণ স্বাদমতো, বেকিং পাউডার ১ চা-চামচ, বেসন ও কর্নফ্লাওয়ার ১ কাপ করে, বিট লবণ পরিমাণমতো, ডিম ১টা, হিং আধা চা-চামচ, কালিজিরা ১ চা-চামচ।

প্রণালি

ব্রকলি কেটে ধুয়ে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। গরম পানিতে সামান্য বেকিং পাউডার দিয়ে ব্রকলি পাঁচ মিনিট সেদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে নিন। একটি বাটিতে সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে ব্যাটার তৈরি করে ১ ঘণ্টা ঢাকনাসহ রেখে দিন। পরে সেদ্ধ ব্রকলি ব্যাটারে ডুবিয়ে গরম তেলে সোনালি করে ভেজে নিন। এবার পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ দিয়ে বিট লবণ ছিটিয়ে পরিবেশন করুন।

ঈদযাত্রা: ভোগান্তি এড়াতে আগেভাগেই শহর ছাড়ছে মানুষ

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ৫:০২ পিএম
ঈদযাত্রা: ভোগান্তি এড়াতে আগেভাগেই শহর ছাড়ছে মানুষ

আর মাত্র সাত-আট দিন পর পবিত্র ঈদুল ফিতর। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপন করতে ইতিমধ্যে শহর ছাড়তে শুরু করেছে অনেক মানুষ। মূল ঈদযাত্রার সময় কাউন্টারে টিকিট সংকট, অতিরিক্ত ভাড়া, যানজট ও নানা ভোগান্তি এড়াতেই অনেকে আগেভাগে বাড়ির পথে রওনা দিচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন বাস কাউন্টারে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। পুরুষ যাত্রীর তুলনায় নারী, বৃদ্ধ ও শিশুর সংখ্যা বেশি। যানজট ও ভোগান্তি এড়াতে অনেক পরিবারের পুরুষ সদস্যরা আগে নারী ও শিশুদের বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছেন। তাঁরা অফিস ছুটি শুরু হলে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেবেন।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড, মৌচাক, শিমরাইল মোড় ও কাঁচপুর এলাকার বাস কাউন্টারগুলো ঘুরে দেখা যায়, অন্যান্য দিনের তুলনায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে।

সাইনবোর্ড বাস কাউন্টারের সামনে যাত্রীদের সঙ্গে আসা ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, তিনি একটি বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘ঈদের ছুটি শুরু হলে মানুষের চাপ অনেক বেড়ে যায়। তখন গাড়ি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। পথে যানজট ও ভোগান্তিও থাকে। তাই পরিবারের সদস্যদের আগে বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি। ছুটি শুরু হলে আমি পরে চলে যাব।’

ব্যাংক কর্মকর্তা মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, ‘আমাদের ছুটি শুরু হবে আরও তিন দিন পর। তখন সড়কে ভিড় অনেক বেড়ে যাবে। তাই এখনই স্ত্রী ও সন্তানদের বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি। ছুটি শুরু হলে আমি রাতে কোনো এক সময় চলে যাব।’

সিদ্ধিরগঞ্জে ব্যবসা করা চাঁদপুরের বাসিন্দা কাপড় ব্যবসায়ী ফরিদ মিয়া বলেন, ‘আমি সাধারণত ঈদের দিন সকালে বাড়ি যাই। কারণ, চাঁদরাতে গভীর রাত পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতে হয়। তাই যানজট এড়াতে পরিবারকে আগে পাঠিয়ে দিই। এবার বাচ্চাদের স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে, তাই পরিবারের সবাইকে আগেই বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি।’

বাসচালক মতিন বলেন, ‘মানুষ এখন থেকেই বাড়ি যাওয়া শুরু করেছে। যাত্রীর চাপও বাড়ছে। তবে এখনো কোথাও বড় ধরনের যানজট নেই।’

নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর হাইওয়ে থানার শিমরাইল ক্যাম্পের টিআই জুলহাস উদ্দিন বলেন, ‘ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আমরা ইতিমধ্যে তৎপরতা শুরু করেছি। মহাসড়কে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আশা করছি, নারায়ণগঞ্জ অংশে যাত্রীদের যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হবে না।’

আসিফের বিরুদ্ধে মামলার চেষ্টা পরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত: নাহিদ ইসলাম

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ৫:০১ পিএম
আসিফের বিরুদ্ধে মামলার চেষ্টা পরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত: নাহিদ ইসলাম

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের চেষ্টাকে উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এটি জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও তরুণ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত।

আজ শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আসিফ মাহমুদকে প্রধান আসামি করে জুলাই বিপ্লবের নেতৃত্বদানকারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানকালীন ভূমিকার জন্য মামলা দায়েরের অপচেষ্টা হয়েছে। তবে আদালত ওই মামলা গ্রহণ করেনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে এ ধরনের অপচেষ্টা একই সঙ্গে উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। এটি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপ নয়; বরং জুলাই বিপ্লবের চেতনা, ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম এবং সেই সংগ্রামের তরুণ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত রাজনৈতিক আঘাত।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এখন দেশের তরুণ প্রজন্মের সাম্য, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা, গণতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের প্রতীক। এই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের চেষ্টা প্রমাণ করে যে ৫ আগস্টের পরাজিত শক্তি এখনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

মামলা কিংবা ভয়ভীতির মাধ্যমে এ নেতৃত্বকে দমন করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অতীতে এ ধরনের অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ব্যর্থ হবে বলে তিনি দাবি করেন।

সরকার ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, এ ধরনের অপচেষ্টা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং পরাজিত অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিহত করতে তাঁরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

error: Content is protected !!