বিনোদপুর সরকারপাড়ায় ৯০ বছরের বৃদ্ধা
রিজিয়া বেগমের মানবেতর জীবন: রমজানে পান্তাভাতেই কাটছে দিন
মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর সরকারপাড়ার ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধা রিজিয়া বেগম যেন দারিদ্র্য আর অসহায়ত্বের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে ভিক্ষা করে কোনোভাবে বেঁচে আছেন তিনি।
বয়সের ভারে শরীর ভেঙে পড়েছে, ঠিকমতো হাঁটতেও পারেন না। লাঠির ওপর ভর করে কষ্টে কষ্টে কয়েক কদম এগোনোই যেন তার কাছে বড় সংগ্রাম।
অনেক আগেই মারা গেছেন তার স্বামী শাকেন মৃদ্ধা। স্বামী হারানোর পর থেকে যেন একেবারেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন এই বৃদ্ধা। নেই কোনো সন্তান বা আপনজন, নেই নিজের বলতে একটুকরো জমি বা মাথা গোঁজার ঠাঁই। বর্তমানে অন্যের একটি ছাগল রাখার ঘরের বারান্দায় মাথা গুঁজে কোনোভাবে দিন পার করছেন তিনি। শীত, বৃষ্টি বা ঝড়—কিছুই যেন তার এই অসহায় জীবনের কষ্টকে কমাতে পারেনি।
সরকারি সহযোগিতা বলতে শুধু একটি বয়স্ক ভাতা। তাও আবার তিন মাস পরপর যে সামান্য টাকা পান, তা দিয়ে ঠিকমতো ওষুধই কেনা যায় না। কখনো ওষুধ কিনতে গিয়ে না খেয়ে থাকতে হয়, আবার কখনো খাবার জোগাড় করতে গিয়ে ওষুধ বাদ দিতে হয়। এইভাবেই অসহায়ত্ব আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তার।
পবিত্র রমজান মাসেও নেই কোনো স্বস্তি। ইফতার ও সেহরিতে অনেক সময় শুধু পান্তাভাত, আর কখনো সামান্য আলু ভর্তা দিয়েই রোজা রাখছেন এই বৃদ্ধা। চোখে পানি নিয়ে রিজিয়া বেগম বলেন, “কতদিন যে একটুকরো মুরগির মাংস খেয়েছি, মনে নেই। আল্লাহ জানেন আর কতদিন এভাবে বাঁচতে হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দা হারুন মিয়া বলেন, “রিজিয়া বেগমের অবস্থা দেখলে সত্যিই চোখে পানি চলে আসে। বয়সের কারণে এখন আর ঠিকমতো ভিক্ষাও করতে পারেন না। তিনি খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা হরিদাস বলেন, “এই বৃদ্ধার থাকার মতো একটা ঘর নেই, ঠিকমতো খাবারও জোটে না। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ যদি একটু সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে অন্তত জীবনের শেষ সময়টা একটু শান্তিতে কাটাতে পারবেন।”
রমজানের এই পবিত্র মাসে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে এই অসহায় বৃদ্ধার পাশে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ: ০১৯৩৫৬৮৬৭২৭














