বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২
বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে শিশু ইরা হত্যা: অভিযুক্ত ঘাতক মাহাবুব গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৬ এএম | 41 বার পড়া হয়েছে
সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে শিশু ইরা হত্যা: অভিযুক্ত ঘাতক মাহাবুব গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কে গলা কাটা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় শ্রেনীর ছাত্রী ৭ বছর বয়সী শিশু জান্নাতুল নিশা ইরা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। ঘটনার মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ইরা। বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার চাচা মো. রমিজ।
গত রবিবার (১ মার্চ) সকালে সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক-এর দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গলা কাটা অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করেন চন্দ্রনাথ মন্দির সড়ক সংস্কারকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা। প্রথমে তাকে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়। রবিবার চমেকে ইরার গলায় অস্ত্রোপচার করা হয়। সোমবার তাকে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নেওয়া হলে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পুনরায় ইএনটি ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। ৩ মার্চ মঙ্গলবার ভোরে আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়।।ইরা সীতাকুণ্ডের কুমিরা ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া গ্রামের দরিদ্র রিকশাচালক মনিরুল ইসলামের মেয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, স্কুল বন্ধ থাকায় ইরা প্রতিদিনের মতো তার দাদার বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়েছিল। কিন্তু বাড়ি থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় পাওয়া যায়।

চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং সে ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ঘটনার দিন ১ মার্চ রবিবার রাতেই শিশুটির মা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানা-য় অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। শিশুটির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হচ্ছে।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) মো. রাসেল জানান, “ঘটনার মূল অভিযুক্ত প্রধান আসামী প্রতিবেশী মাহাবুব শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনে জানানো হবে।”
ঘটনার পর পর শিশু ইরা কান্ডে দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় উঠে। পুলিশ কোনো ক্লু খুঁজে না পেলেও র‍্যাব-৭ এবং পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় চন্দ্রনাথ ধাম পাহাড়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়। ফুটেজে দেখা যায়, এক মধ্যবয়সী ব্যক্তি ইরাকে নিয়ে চন্দ্রনাথ ধামের দিকে যাচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে তাদের প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া মাহবুব (৫০) হিসেবে শনাক্ত করেন। পরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে খুনিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরাধীকে উপযুক্ত সাজা প্রদানের লক্ষে আদালতে পাঠানো হবে বলে তিনি জানান।
ইরার চাচা আজিজ বলেন,
“সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকেও সে ইশারায় আমাদের সঙ্গে কথা বলছিল। পরে রাত আড়াইটার দিকে তার অবস্থার অবনতি হয়। সে ইশারায় পানি ও খাবার চাইছিল, কিন্তু চিকিৎসকদের নিষেধ থাকায় কিছু দিতে পারিনি।” পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে শিশুটি ইশারায় একটি নাম বোঝানোর চেষ্টা করেছিল।
নৃশংস এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। শিশু ইরাকে হত্যা চেষ্টার পর দুর্গম পাহাড় থেকে উদ্ধার, চিকিৎসা, মামলা দায়ের, মৃত্যুর ঘটনা এবং প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে মামলাটি এখন পূর্ণাঙ্গ হত্যা মামলায় রূপ নিচ্ছে।

তাছলিমা আক্তার মুক্তা

ফুলকে ভালোবাসো

তাছলিমা আক্তার মুক্তা প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১:৫৯ পিএম
ফুলকে ভালোবাসো

ফুলের মতো সুন্দর হয়ে
ফোটলে গাছে গাছে ,
কত্ত পাখি আসতো কাছে
আমায় ভালোবাসে ।

মানুষ গুলোও বাসতো ভালো
আসতো আমার কাছে ,
নানা রঙের সুভাষ ছড়িয়ে
থাকতাম তাদের পাশে ।

পাখির সাথে করতাম খেলা
হাওয়ার তালে তালে ,
ভালোবেসে ছোট্ট শিশুকে
চুমু দিতাম গালে ।

কলি হয়ে ফোটাতাম আমি
সোনালী রোদ্দুরে
ভীষণ খুশি থাকতাম মোরা
এই পৃথিবী জুড়ে ।

ছিরো না কেউ ফুল কখনো
ফুলের বাগান থেকে ,
সারাজীবন ফুলরা তোমাদের
সুভাষ যাবে মেখে ।

মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল:গোদাগাড়ী রাজশাহী

গোদাগাড়ীতে অসহায় প্রতিবন্ধী বিধবার জমি দখলের চেষ্টা ও নির্যাতনের অভিযোগ

মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল:গোদাগাড়ী রাজশাহী প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১:২৭ পিএম
গোদাগাড়ীতে অসহায় প্রতিবন্ধী বিধবার জমি দখলের চেষ্টা ও নির্যাতনের অভিযোগ

রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের মাদারপুর ডিমভাঙ্গা এলাকায় এক অসহায় শারীরিক প্রতিবন্ধী বিধবা নারীর বসতভিটা দখলের চেষ্টা ও অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মোসা. সাবেরা খাতুন তার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু রক্ষা এবং জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পৌরসভার দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে।

​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাদারপুর গ্রামের মৃত আলতাব হোসেনের মেয়ে মোসা. সাবেরা খাতুন তার বাবা-মায়ের রেখে যাওয়া রেলওয়ের জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। নিঃসন্তান ও শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ার সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশী প্রভাবশালী মো. শাজাহান আলী ও তার চার ছেলে এসরাইল, ইউসুফ, খালেক ও মোসাহাক ওই জায়গাটি লিখে দেওয়ার জন্য তাকে দীর্ঘকাল ধরে চাপ দিয়ে আসছে।
​জায়গা দিতে অস্বীকার করায় বিবাদীপক্ষ তার ওপর অবর্ণনীয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সাবেরা খাতুন জানান ​তার বাড়ির সামনে মলমূত্র ও গোবর ফেলে পরিবেশ দূষিত করা হচ্ছে।
​ড্রেন বন্ধ করে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করা হয়েছে।
​গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
​সরকারি টিউবওয়েল দখল ও জনভোগান্তি
​স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত শাজাহান আলী ও তার ছেলেরা সরকারিভাবে প্রাপ্ত একটি টিউবওয়েল নিজেদের দখলে নিয়ে ঘিরে রেখেছে। ফলে ওই এলাকার সাধারণ মানুষ খাবার পানি সংগ্রহ করতে পারছেন না। পানি নিতে গেলে স্থানীয়দের সাথেও দুর্ব্যবহার ও হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ তুলেছেন গ্রামবাসী।

​প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ
​ভুক্তভোগী সাবেরা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি একজন প্রতিবন্ধী মানুষ, আমার কেউ নেই। তারা আমার বাড়িতে তালা মেরে আমাকে বের করে দিতে চায়। আমি থানা ও পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি অনেক আগে, কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো সমাধান পাইনি। আমি এখন প্রাণভয়ে দিন কাটাচ্ছি।
​এলাকাবাসীর মতে, একজন সহায়-সম্বলহীন নারীর ওপর এমন আচরণ চরম অমানবিক। দীর্ঘদিন অভিযোগ পড়ে থাকলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

​বর্তমানে সাবেরা খাতুন চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছেন। তিনি তার বসতভিটা রক্ষা এবং নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

এই বিষয়ে অভিযোগ প্রসঙ্গে ইউসুফ আলীর সঙ্গে ফোনে তার কথা বললে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন ।
অভিযোগ প্রসঙ্গে বিস্তারিত জানতে চাইলে প্রশ্নের জবাবে
তিনি সাংবাদিককে বলেন কি ভুলভাল বকছেন, এবং সাংবাদিককে বলে নিউজ করলে দেখে নেব ‌এমন হুমকি প্রদান করে।

হাজী সেলিম

আমি মানুষ, আমি প্রাণ

হাজী সেলিম প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১:২৪ পিএম
আমি মানুষ, আমি প্রাণ

আমি গরীব হতে পারি, অমানুষ নই,
আমি ক্ষুদ্র হতে পারি, কিন্তু ভীত নই।
আমি হাসাতে পারি, কাঁদাতে নয়,
আমি দূরে থাকি, তবু ভুলি নই।
আমি লিখি সত্যের কাহিনী সবার তরে,
আমি বলি কথা ন্যায়ের সবার তরে।
আমি বাঁচতে চাই কাজের তরে,
আমি মাটির সন্তান, মানবতার তরে।
আমি শত্রুকে দেই ন্যায়ের সাজ,
বন্ধুকে করি আমি অন্তরের পাশে নিজস্ব রাজ।
মিথ্যা, গুজব, অপবাদে আমি প্রতিবাদ,
গোপনে করি অনুসন্ধান, সত্যের খোঁজে সদা প্রবাদ।
আমি কাছে, দূরে, সবজায়গায় বিরাজমান,
সত্যের পথে গাইয়া বেড়াই গুণগান।
কৃষকের ছেলে, রাখালের সন্তান,
গরীবের বন্ধু, দুঃস্থের প্রিয় প্রাণ।
আমি অগ্নিঝরা মত চলি,
সত্য, ন্যায়, মুক্তির বার্তা বয়ে চলি।
আমি সবকিছু নিয়ে কথা বলি,
অপরাধী, অসত্য, অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দিই।
আমি অপরাধীর চেনা,
আমি ঋণী তুমি হিনা।
আমিও ভালোবাসি আজো তোমায়,
ও আমার প্রিয় মাতৃভূমি, ও আমার জন্মভূমি।
আমি দেশের নাগরিক, জাতির গান,
আমি সত্যের যোদ্ধা, ন্যায়ের প্রতীক, মহান।
আমার প্রাণ, আমার ভালোবাসা,
সকল মানুষের, সকল জীবের, মহান মাতৃভূমির তরে।

error: Content is protected !!