বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২
বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২

সত্যের পক্ষে আপসহীন এক মানুষ: মোহাম্মদ হানিফের নীরব সংগ্রাম

Master Mohammad Hanif
Master Mohammad Hanif - Feni District Correspondent, Feni District প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১০:৩৪ এএম | 60 বার পড়া হয়েছে
সত্যের পক্ষে আপসহীন এক মানুষ: মোহাম্মদ হানিফের নীরব সংগ্রাম

দিনে তিনি একজন শিক্ষক। শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, সততা ও মানবিকতার পাঠ দেন।
আর শ্রেণিকক্ষের বাইরে—তিনি সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক নির্ভীক কণ্ঠ।
ফেনী জেলার মোহাম্মদ হানিফ—পেশায় শিক্ষক, চেতনায় সমাজসচেতন নাগরিক। তাঁর জীবন যেন দুই অধ্যায়ের এক উপন্যাস: একটিতে পাঠদান, অন্যটিতে প্রতিবাদ।
❝স্যার, আপনি চুপ থাকেন না কেন?❞
কয়েক বছর আগে স্থানীয় একটি অনিয়ম নিয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ার পর এক শুভাকাঙ্ক্ষী তাঁকে সতর্ক করেছিলেন—
“আপনি শিক্ষক মানুষ। এসব ঝামেলায় জড়াবেন না।”
প্রশ্নটি কেবল পরামর্শ ছিল না; ছিল সময়ের বাস্তবতা।

কারণ, তিনি যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছিলেন, সেটি ছিল স্থানীয় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে।
মোহাম্মদ হানিফের উত্তর ছিল সংক্ষিপ্ত—
“আমি যদি শিক্ষার্থীদের সত্যের পাঠ দিই, তবে নিজে মিথ্যার সঙ্গে আপস করব কীভাবে?”
অনুসন্ধানের সূত্রপাত: একটি অভিযোগ থেকে আলোড়ন

📌 ঘটনা–১: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের অভিযোগ (২০১৯)
২০১৯ সালে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে উন্নয়ন তহবিলের অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের কাছ থেকে একাধিক অভিযোগ পান।

তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চান। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরপর সামাজিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়।

ফলস্বরূপ একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।
📌 ঘটনা–২: সামাজিক চাপে নীরব না থাকা (২০২১)
২০২১ সালে স্থানীয় একটি সামাজিক ইস্যু—ভূমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রভাবশালী একটি পক্ষের বিরুদ্ধে তিনি অবস্থান নেন।

যদিও তিনি সরাসরি পক্ষভুক্ত ছিলেন না, কিন্তু ভুক্তভোগী পরিবারের শিক্ষার্থীরা তাঁর ছাত্র ছিল।
ঘটনার পর তাঁকে ‘অপ্রয়োজনীয়ভাবে জড়ানো’ হয়েছে বলে সমালোচনা হয়। সামাজিক মাধ্যমে কটূক্তি, ব্যক্তিগত আক্রমণও সহ্য করতে হয়।
তিনি বলেন—
“আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছি নাগরিক হিসেবে, শিক্ষক হিসেবে নয়। কিন্তু একজন শিক্ষক যদি অন্যায়ের সামনে চুপ থাকে, তাহলে শিক্ষার্থীরা কী শিখবে?”
উদ্ধৃতি বক্স
“পদ বা পেশা নয়—মানুষের বিবেকই আসল পরিচয়।”
— মোহাম্মদ হানিফ
চাপ, প্রলোভন ও প্রস্তাব
ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, কয়েকটি ঘটনায় তাঁকে নীরব থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি ‘সমঝোতার’ ইঙ্গিতও ছিল।

কিন্তু তিনি সেসব প্রস্তাবে সাড়া দেননি।
তাঁর ভাষায়—
“আমি শিক্ষকতা করি জীবিকা হিসেবে, কিন্তু সততা আমার পরিচয়। সেটি হারালে সব হারাব।”

মানবিক দিক: সাদামাটা জীবনের দৃঢ়তা
অর্থনৈতিক দিক থেকে তিনি মধ্যবিত্ত জীবনের বাস্তবতায় অভ্যস্ত। নেই বিলাসবহুল বাড়ি বা গাড়ি। সহকর্মীদের মতে, “তিনি জীবনযাপনে সাধারণ, কিন্তু নীতিতে অসাধারণ।”

শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি কেবল পাঠদানকারী নন; একজন আদর্শ।
এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী বলেন—
“স্যার আমাদের শিখিয়েছেন, নম্বরের চেয়ে মানুষ হওয়া বড়।”

টাইমলাইন: এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ
সাল
ঘটনা
ফলাফল
২০১৯
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তোলা
অভ্যন্তরীণ তদন্ত
২০২০
সামাজিক স্বচ্ছতা নিয়ে স্থানীয় সভায় বক্তব্য
বিতর্ক ও সমালোচনা
২০২১
ভূমি বিরোধ ইস্যুতে নাগরিক অবস্থান
সামাজিক চাপ
২০২৩
শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রম জোরদার
স্থানীয় প্রশংসা
সমাজে প্রভাব: নীরব প্রেরণা
যদিও তাঁর অবস্থান অনেক সময় বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, তবে স্থানীয়ভাবে অনেক তরুণ তাঁর অবস্থানকে সাহসিকতার উদাহরণ হিসেবে দেখেন।

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, গ্রামীণ বা জেলা পর্যায়ে একজন শিক্ষক যখন সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন, তখন সেটি কেবল ব্যক্তিগত সাহস নয়; এটি সামাজিক নৈতিকতার চর্চা।
উপসংহার: শ্রেণিকক্ষের পাঠ, জীবনের প্রয়োগ
মোহাম্মদ হানিফ প্রমাণ করতে চেয়েছেন—নৈতিকতা কেবল বইয়ের অধ্যায় নয়; এটি জীবনের প্রয়োগযোগ্য সত্য।
তিনি হয়তো বিতর্কমুক্ত নন।

কিন্তু তাঁর বিশ্বাস অটল—
“সত্যের পথে থাকলে একদিন না একদিন তার মূল্য পাওয়া যায়।”
ফেনীর এই শিক্ষক তাই কেবল পাঠদাতা নন; তিনি নীরব এক সামাজিক প্রহরী।

তাছলিমা আক্তার মুক্তা

ফুলকে ভালোবাসো

তাছলিমা আক্তার মুক্তা প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১:৫৯ পিএম
ফুলকে ভালোবাসো

ফুলের মতো সুন্দর হয়ে
ফোটলে গাছে গাছে ,
কত্ত পাখি আসতো কাছে
আমায় ভালোবাসে ।

মানুষ গুলোও বাসতো ভালো
আসতো আমার কাছে ,
নানা রঙের সুভাষ ছড়িয়ে
থাকতাম তাদের পাশে ।

পাখির সাথে করতাম খেলা
হাওয়ার তালে তালে ,
ভালোবেসে ছোট্ট শিশুকে
চুমু দিতাম গালে ।

কলি হয়ে ফোটাতাম আমি
সোনালী রোদ্দুরে
ভীষণ খুশি থাকতাম মোরা
এই পৃথিবী জুড়ে ।

ছিরো না কেউ ফুল কখনো
ফুলের বাগান থেকে ,
সারাজীবন ফুলরা তোমাদের
সুভাষ যাবে মেখে ।

মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল:গোদাগাড়ী রাজশাহী

গোদাগাড়ীতে অসহায় প্রতিবন্ধী বিধবার জমি দখলের চেষ্টা ও নির্যাতনের অভিযোগ

মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল:গোদাগাড়ী রাজশাহী প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১:২৭ পিএম
গোদাগাড়ীতে অসহায় প্রতিবন্ধী বিধবার জমি দখলের চেষ্টা ও নির্যাতনের অভিযোগ

রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের মাদারপুর ডিমভাঙ্গা এলাকায় এক অসহায় শারীরিক প্রতিবন্ধী বিধবা নারীর বসতভিটা দখলের চেষ্টা ও অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী মোসা. সাবেরা খাতুন তার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু রক্ষা এবং জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও পৌরসভার দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে।

​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাদারপুর গ্রামের মৃত আলতাব হোসেনের মেয়ে মোসা. সাবেরা খাতুন তার বাবা-মায়ের রেখে যাওয়া রেলওয়ের জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। নিঃসন্তান ও শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ার সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশী প্রভাবশালী মো. শাজাহান আলী ও তার চার ছেলে এসরাইল, ইউসুফ, খালেক ও মোসাহাক ওই জায়গাটি লিখে দেওয়ার জন্য তাকে দীর্ঘকাল ধরে চাপ দিয়ে আসছে।
​জায়গা দিতে অস্বীকার করায় বিবাদীপক্ষ তার ওপর অবর্ণনীয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সাবেরা খাতুন জানান ​তার বাড়ির সামনে মলমূত্র ও গোবর ফেলে পরিবেশ দূষিত করা হচ্ছে।
​ড্রেন বন্ধ করে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করা হয়েছে।
​গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
​সরকারি টিউবওয়েল দখল ও জনভোগান্তি
​স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত শাজাহান আলী ও তার ছেলেরা সরকারিভাবে প্রাপ্ত একটি টিউবওয়েল নিজেদের দখলে নিয়ে ঘিরে রেখেছে। ফলে ওই এলাকার সাধারণ মানুষ খাবার পানি সংগ্রহ করতে পারছেন না। পানি নিতে গেলে স্থানীয়দের সাথেও দুর্ব্যবহার ও হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ তুলেছেন গ্রামবাসী।

​প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ
​ভুক্তভোগী সাবেরা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি একজন প্রতিবন্ধী মানুষ, আমার কেউ নেই। তারা আমার বাড়িতে তালা মেরে আমাকে বের করে দিতে চায়। আমি থানা ও পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি অনেক আগে, কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো সমাধান পাইনি। আমি এখন প্রাণভয়ে দিন কাটাচ্ছি।
​এলাকাবাসীর মতে, একজন সহায়-সম্বলহীন নারীর ওপর এমন আচরণ চরম অমানবিক। দীর্ঘদিন অভিযোগ পড়ে থাকলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

​বর্তমানে সাবেরা খাতুন চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছেন। তিনি তার বসতভিটা রক্ষা এবং নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

এই বিষয়ে অভিযোগ প্রসঙ্গে ইউসুফ আলীর সঙ্গে ফোনে তার কথা বললে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন ।
অভিযোগ প্রসঙ্গে বিস্তারিত জানতে চাইলে প্রশ্নের জবাবে
তিনি সাংবাদিককে বলেন কি ভুলভাল বকছেন, এবং সাংবাদিককে বলে নিউজ করলে দেখে নেব ‌এমন হুমকি প্রদান করে।

হাজী সেলিম

আমি মানুষ, আমি প্রাণ

হাজী সেলিম প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১:২৪ পিএম
আমি মানুষ, আমি প্রাণ

আমি গরীব হতে পারি, অমানুষ নই,
আমি ক্ষুদ্র হতে পারি, কিন্তু ভীত নই।
আমি হাসাতে পারি, কাঁদাতে নয়,
আমি দূরে থাকি, তবু ভুলি নই।
আমি লিখি সত্যের কাহিনী সবার তরে,
আমি বলি কথা ন্যায়ের সবার তরে।
আমি বাঁচতে চাই কাজের তরে,
আমি মাটির সন্তান, মানবতার তরে।
আমি শত্রুকে দেই ন্যায়ের সাজ,
বন্ধুকে করি আমি অন্তরের পাশে নিজস্ব রাজ।
মিথ্যা, গুজব, অপবাদে আমি প্রতিবাদ,
গোপনে করি অনুসন্ধান, সত্যের খোঁজে সদা প্রবাদ।
আমি কাছে, দূরে, সবজায়গায় বিরাজমান,
সত্যের পথে গাইয়া বেড়াই গুণগান।
কৃষকের ছেলে, রাখালের সন্তান,
গরীবের বন্ধু, দুঃস্থের প্রিয় প্রাণ।
আমি অগ্নিঝরা মত চলি,
সত্য, ন্যায়, মুক্তির বার্তা বয়ে চলি।
আমি সবকিছু নিয়ে কথা বলি,
অপরাধী, অসত্য, অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দিই।
আমি অপরাধীর চেনা,
আমি ঋণী তুমি হিনা।
আমিও ভালোবাসি আজো তোমায়,
ও আমার প্রিয় মাতৃভূমি, ও আমার জন্মভূমি।
আমি দেশের নাগরিক, জাতির গান,
আমি সত্যের যোদ্ধা, ন্যায়ের প্রতীক, মহান।
আমার প্রাণ, আমার ভালোবাসা,
সকল মানুষের, সকল জীবের, মহান মাতৃভূমির তরে।

error: Content is protected !!