জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর
যশোরের বেনাপোল হবে আন্তর্জাতিক মানের বন্দর
বুড়িমারি, ভোমরা ও বেনাপোল স্থলবন্দরে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দরগুলোর আধুনিকীকরণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্দেশ্যে তিন হাজার ৫০০ কোটি টাকার ‘এক্সেস’ প্রকল্প শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন কাজ হবে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে।
বেনাপোল স্থলবন্দর বর্তমানে দেশের প্রধান স্থলবন্দর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ বন্দর দিয়ে সরকার প্রতি বছর ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্দর এলাকায় ক্রমবর্ধমান ব্যবসা, পণ্যের চাপ এবং সীমিত স্থানের কারণে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। ট্রাকজট সাধারণ ঘটনা হয়ে গেছে এবং পণ্য খালাসে সময় বেশি লাগায় ব্যবসায়ীদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়ছে।
উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বেনাপোল বন্দরে নির্মাণ করা হবে নতুন ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড, বিদ্যুৎ সার্ভিস স্টেশন, বিভিন্ন শেড ও আধুনিক ইয়ার্ড। এছাড়া বন্দর এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, ফায়ার স্টেশন, বড় ট্রাক টার্মিনাল, কনটেইনার টার্মিনাল, হেভি স্টক ইয়ার্ড এবং পানি নিষ্কাশনের উন্নত ব্যবস্থা থাকবে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বন্দরটি আন্তর্জাতিক মানের ‘ইউনিফাইড বন্দর’ হিসেবে গড়ে উঠবে, যা আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পরিবহন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনবে।
বেনাপোল বন্দরের জন্য মূলত ১০২ একর জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা ছিল। তবে বর্তমানে মাত্র ৫০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বন্দরের পূর্ণ উন্নয়নের জন্য ১০২ একর জমি অধিগ্রহণ করা অপরিহার্য। তারা দাবি করেছেন, আধুনিক ওয়্যারহাউস, কনটেইনার টার্মিনাল, হেভি স্টক ইয়ার্ড এবং বড় ট্রাক টার্মিনালসহ সমন্বিত অবকাঠামো নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা প্রয়োজন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সিএন্ডএফ এজেন্টরা জানিয়েছেন, বন্দর এলাকায় বর্তমানে শেড এবং ইয়ার্ডের সীমিত ধারণক্ষমতার কারণে প্রতিদিনই পণ্যজট তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় অনেক পণ্য পানির নিচে পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ট্রাকের ওপর পণ্য রাখার কারণে আমদানিকারকদের অতিরিক্ত ডেমারেজ খরচ গুনতে হচ্ছে। তারা আশা করছেন, নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে এসব সমস্যার সমাধান হবে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) মো. শামীম হোসেন জানিয়েছেন, তিনটি স্থলবন্দরে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার প্রকল্প শুরু হচ্ছে এবং বেনাপোলে এর সর্বাধিক উন্নয়ন হবে। ৫২ একর জমি অধিগ্রহণের কাজ বর্তমানে চলমান। ব্যবসায়ীদের দাবির বিষয়টি সরকারের কাছে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে সরকার যদি আরও জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন, তা বাস্তবায়ন করা হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বন্দর এলাকার অবকাঠামো সম্প্রসারণ ছাড়া বেনাপোল স্থলবন্দর আন্তর্জাতিক মানের বন্দর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে না। জমি সংকট দূর হলে পণ্য খালাসের সময় কমবে, ট্রাকজট কমবে, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি কমবে এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও দ্রুততর ও ঝুঁকিমুক্ত হবে।
এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বেনাপোল বন্দরে আধুনিক অবকাঠামো, দ্রুত সেবা প্রদানের সুবিধা এবং উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের বাণিজ্য পরিবেশে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।














