বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২
বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২

জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর

যশোরের বেনাপোল হবে আন্তর্জাতিক মানের বন্দর

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০১ পিএম | 130 বার পড়া হয়েছে
যশোরের বেনাপোল হবে আন্তর্জাতিক মানের বন্দর

বুড়িমারি, ভোমরা ও বেনাপোল স্থলবন্দরে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দরগুলোর আধুনিকীকরণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্দেশ্যে তিন হাজার ৫০০ কোটি টাকার ‘এক্সেস’ প্রকল্প শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন কাজ হবে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে।
বেনাপোল স্থলবন্দর বর্তমানে দেশের প্রধান স্থলবন্দর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ বন্দর দিয়ে সরকার প্রতি বছর ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বন্দর এলাকায় ক্রমবর্ধমান ব্যবসা, পণ্যের চাপ এবং সীমিত স্থানের কারণে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। ট্রাকজট সাধারণ ঘটনা হয়ে গেছে এবং পণ্য খালাসে সময় বেশি লাগায় ব্যবসায়ীদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়ছে।
উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বেনাপোল বন্দরে নির্মাণ করা হবে নতুন ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড, বিদ্যুৎ সার্ভিস স্টেশন, বিভিন্ন শেড ও আধুনিক ইয়ার্ড। এছাড়া বন্দর এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, ফায়ার স্টেশন, বড় ট্রাক টার্মিনাল, কনটেইনার টার্মিনাল, হেভি স্টক ইয়ার্ড এবং পানি নিষ্কাশনের উন্নত ব্যবস্থা থাকবে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বন্দরটি আন্তর্জাতিক মানের ‘ইউনিফাইড বন্দর’ হিসেবে গড়ে উঠবে, যা আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পরিবহন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনবে।
বেনাপোল বন্দরের জন্য মূলত ১০২ একর জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা ছিল। তবে বর্তমানে মাত্র ৫০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বন্দরের পূর্ণ উন্নয়নের জন্য ১০২ একর জমি অধিগ্রহণ করা অপরিহার্য। তারা দাবি করেছেন, আধুনিক ওয়্যারহাউস, কনটেইনার টার্মিনাল, হেভি স্টক ইয়ার্ড এবং বড় ট্রাক টার্মিনালসহ সমন্বিত অবকাঠামো নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা প্রয়োজন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সিএন্ডএফ এজেন্টরা জানিয়েছেন, বন্দর এলাকায় বর্তমানে শেড এবং ইয়ার্ডের সীমিত ধারণক্ষমতার কারণে প্রতিদিনই পণ্যজট তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় অনেক পণ্য পানির নিচে পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ট্রাকের ওপর পণ্য রাখার কারণে আমদানিকারকদের অতিরিক্ত ডেমারেজ খরচ গুনতে হচ্ছে। তারা আশা করছেন, নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে এসব সমস্যার সমাধান হবে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) মো. শামীম হোসেন জানিয়েছেন, তিনটি স্থলবন্দরে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার প্রকল্প শুরু হচ্ছে এবং বেনাপোলে এর সর্বাধিক উন্নয়ন হবে। ৫২ একর জমি অধিগ্রহণের কাজ বর্তমানে চলমান। ব্যবসায়ীদের দাবির বিষয়টি সরকারের কাছে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে সরকার যদি আরও জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন, তা বাস্তবায়ন করা হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বন্দর এলাকার অবকাঠামো সম্প্রসারণ ছাড়া বেনাপোল স্থলবন্দর আন্তর্জাতিক মানের বন্দর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে না। জমি সংকট দূর হলে পণ্য খালাসের সময় কমবে, ট্রাকজট কমবে, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি কমবে এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও দ্রুততর ও ঝুঁকিমুক্ত হবে।
এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বেনাপোল বন্দরে আধুনিক অবকাঠামো, দ্রুত সেবা প্রদানের সুবিধা এবং উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের বাণিজ্য পরিবেশে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

জয় ই মামুন

মানিকগঞ্জে অবৈধভাবে ইট উৎপাদনের দায়ে সাতটি ইটভাটাকে জরিমানা

জয় ই মামুন প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৫ পিএম
মানিকগঞ্জে অবৈধভাবে ইট উৎপাদনের দায়ে সাতটি ইটভাটাকে জরিমানা

সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কৃষিজমির উর্বর উপরিভাগের মাটি কেটে ইট তৈরির অভিযোগে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০১৯-এর ৫(১) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ১৫(১) ধারা অনুযায়ী এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অভিযানে যেসব ইটভাটাকে জরিমানা করা হয়েছে সেগুলো হলো- কে এফ সি ব্রিকস (বেরুন্ডি) ৪ লাখ টাকা, মেসার্স সোহানা ব্রিকস (খোলাপাড়া) ৪ লাখ টাকা, মেসার্স এ এ বি অ্যান্ড কোং (গাড়াদিয়া) ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মেসার্স জে বি সি ব্রিকস (গোবিন্দল) ২ লাখ টাকা, মেসার্স কে বি সি ব্রিকস-১ (রামকান্তপুর) ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা,
মেসার্স কে বি সি ব্রিকস-২ (রামকান্তপুর) ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং মেসার্স এম আর এম ব্রিকস (রামকান্তপুর) ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

অভিযানটি পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইংয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজ্জাদ জাহিদ রাতুল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সহকারী পরিচালক মো. মোজাফফর খান।

অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র‍্যাব-৪ ও জেলা পুলিশের সদস্যরা সহায়তা প্রদান করেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালিত হলে পরিবেশ ধ্বংস রোধে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিস্টরা।

সামিনুর ইসলাম নীলফামারী

জলঢাকায় শিক্ষার্থী হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

সামিনুর ইসলাম নীলফামারী প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৩ পিএম
জলঢাকায় শিক্ষার্থী হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বগুলাগাড়ী পৌর (৪নং ওয়ার্ড) ডাঙ্গপাড়া এলাকায় সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় মানববন্ধন করেছে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

নিহত মিমনুর রহমান ভ্যানচালক আলমগীর হোসেন (আল্লীর) প্রথম পুত্র এবং বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন শিক্ষার্থী ছিলেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ মার্চ তিনি ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হয়ে নিহত হন। এ ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উদ্বেগ, শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ মর্মান্তিক ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের উদ্যোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে ব্যানার হাতে নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা ন্যায়বিচারের দাবি জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষিকা মোছা: মনোয়ারা বেগম, সহকারী প্রধান শিক্ষক মহুবর রহমান, শিক্ষক আব্দুল হাই, মিজানুর রহমান, স্বপন কুমার রায়, ভগীরথ চন্দ্র রায় এবং সহকারী শিক্ষিকা সাজেদা সুলতানা ও শিলা রানী রায়সহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন নিরপরাধ শিক্ষার্থীর এমন নির্মম মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা অবিলম্বে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একইসঙ্গে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার করার আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।

এ বিষয়ে জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। খুব শিগগিরই জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

এদিকে, নিহতের পরিবার শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে এবং দ্রুত বিচার প্রত্যাশা করছে। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে, যাতে এমন ঘটনা আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে চারতলা ভবন

আধুনিক হচ্ছে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা

মেহেদী হাসান রিপন প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১১ পিএম
আধুনিক হচ্ছে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা

যশোরবাসীর পুলিশি সেবা আরও বেগবান ও আধুনিক করতে বড় ধরনের সংস্কার উদ্যোগে হাত দিয়েছে সরকার। শহরের জরাজীর্ণ কোতোয়ালি মডেল থানা ভবনটি ভেঙে সেখানে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক চারতলা ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ষাট দশকে নির্মিত বর্তমান থানা ভবনটি দীর্ঘ ব্যবহারের ফলে বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সরকারের দেশব্যাপী ১০৭টি থানা আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় এই সংস্কার কাজ শুরু হচ্ছে। যশোর গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।

যশোর গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই ভবনটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। ২৬ হাজার স্কয়ার ফিটের এই ভবনের মূল কাঠামো বা ফাউন্ডেশন হবে ছয়তলা পর্যন্ত, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে এটি চারতলা হিসেবে নির্মিত হবে। ঝিনাইদহের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন করার দায়িত্ব পেয়েছে। আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সেবাপ্রার্থী এবং পুলিশ সদস্যদের সুবিধার্থে ভবনের প্রতিটি তলা সুনিপুণভাবে সাজানো হয়েছে:
* প্রথম তলা: অভ্যর্থনা কেন্দ্র এবং দাপ্তরিক অফিস।
* দ্বিতীয় তলা: হাজতখানা ও প্রশাসনিক শাখা।
* তৃতীয় তলা: অফিস এবং নারী পুলিশ সদস্যদের জন্য ব্যারাক।
* চতুর্থ তলা: পুরুষ পুলিশ সদস্যদের জন্য আধুনিক ব্যারাক।

অস্থায়ীভাবে কার্যক্রম চলবে চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়িতে

নির্মাণ কাজ চলাকালীন জনসেবা যেন ব্যাহত না হয়, সেজন্য থানার যাবতীয় কার্যক্রম সাময়িকভাবে চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ি থেকে পরিচালিত হবে। আগামী ৫ এপ্রিলের মধ্যে বর্তমান ভবনটি খালি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে জনবল অনুযায়ী চাঁচড়া ফাঁড়িতে পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় পুলিশ সদস্যদের সাময়িকভাবে কিছুটা আবাসন সংকটে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খান বলেন, উন্নত ও আধুনিক পুলিশি সেবার স্বার্থে এই সাময়িক কষ্টটুকু মেনে নিতে হবে। নতুন ভবন নির্মিত হলে যশোরবাসীকে সেবা প্রদানের মান ও পুলিশের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

error: Content is protected !!