মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২
মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২

টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন

তারেক রহমান হয়ে উঠেছেন পরিবর্তনের রূপকার

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:২৩ এএম | 136 বার পড়া হয়েছে
তারেক রহমান হয়ে উঠেছেন পরিবর্তনের রূপকার

টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে তারেক রহমানকে এমন একজন নেতা হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছে, যিনি রাজকীয় উত্তরসূরি হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ নির্বাসনে থেকে নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। তিনি এখন কেবল একটি দলের নেতা নন, বরং তিনি হয়ে উঠেছেন পরিবর্তনের রূপকার। ঢাকার দেয়ালে দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতির মতো তিনিও বলছেন, এটি এক ‘নতুন বাংলাদেশ’। যেখানে বিচার বিভাগ হবে স্বাধীন এবং সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক অধিকার থাকবে সুরক্ষিত।

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন এবং রাজনৈতিক অগ্নিরীক্ষার পর স্বদেশের মাটিতে পা রেখেছেন বাংলাদেশের রাজনীতির ‘প্রিন্স’ এবং বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিশ্বখ্যাত সাময়িকী ‘টাইম’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তার আগামীর দর্শন, স্বপ্ন এবং ছাত্র-জনতার বিপ্লব-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা।

‘Exclusive: Bangladesh’s Prodigal Son’ শীর্ষক প্রতিবেদনে তারেক রহমানের দীর্ঘ নির্বাসনের অভিজ্ঞতাও বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে তারেক রহমানের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, গত ২৫ ডিসেম্বর যখন তারেক রহমান ঢাকায় পৌঁছান, তখন লাখ লাখ সমর্থক তাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান। এর মাত্র পাঁচ দিন পর তার মা, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যু তাকে শোকাহত করলেও, তিনি একে দেশ ও জনগণের প্রতি বড় দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকার নিজ বাসভবনে অবস্থান করছেন এবং ১২ ফেব্রুয়ারির আসন্ন নির্বাচনে নিজেকে অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, মা তাকে শিখিয়েছেন দায়িত্ব পালনে কোনো আপস না করতে।

টাইম ম্যাগাজিনের সাংবাদিক চার্লি ক্যাম্পবেলের নেওয়া এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তারেক রহমানকে বেশ পরিমিত এবং অন্তর্মুখী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় লন্ডনের রিচমন্ড পার্কে ঘুরে বেড়ানো বা ইতিহাস বই পড়ে কাটানো এই নেতা এখন অনেক বেশি ‘পলিসি ওঙ্ক’ বা নীতি-নির্ধারণী বিষয়ে সচেতন। তিনি আগের চেয়ে অনেক ধীরস্থিরভাবে কথা বলেন এবং অন্যের কথা শুনতে পছন্দ করেন।

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তারেক রহমান এখন আলোচনার তুঙ্গে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী দুঃশাসনের পতনের পর তিনি নিজেকে দেখছেন এক সেতুবন্ধন হিসেবে—যিনি একই সাথে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী আদর্শের উত্তরাধিকারী এবং তরুণ প্রজন্মের বিপ্লবীদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক সঙ্কট, মুদ্রাস্ফীতি এবং বেকারত্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি একগুচ্ছ বাস্তবধর্মী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন।

তারেক রহমান কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, বরং একজন আধুনিক রূপকল্পের স্থপতি হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছেন। টাইম-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি দেশের সেচ ব্যবস্থা ও পানির স্তর রক্ষায় ১২ হাজার মাইল খাল খনন, প্রতি বছর ৫ কোটি গাছ রোপণ এবং ঢাকার পরিবেশ রক্ষায় ৫০টি নতুন সবুজ এলাকা তৈরির পরিকল্পনা করছেন। পাশাপাশি অভিবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যখাতে বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমূল পরিবর্তনের কথা ভাবছেন তিনি। এছাড়াও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়নের পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।

বিএনপির চেয়ারম্যান আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেছেন, “আমি যা পরিকল্পনা করেছি তার ৩০ শতাংশও যদি বাস্তবায়ন করতে পারি, তবে দেশের মানুষ আমাকে সমর্থন করবে।”

গত দেড় দশকে বিগত সরকারের নির্দেশে তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মিথ্যা মামলা এবং অপপ্রচার চালানো হলেও জনমনে তার জনপ্রিয়তা কমেনি, বরং বেড়েছে। সর্বশেষ জনমত জরিপ অনুযায়ী, বিএনপি’র প্রতি সমর্থন এখন প্রায় ৭০ শতাংশ। তারেক রহমান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে আনা সকল দুর্নীতির অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং কোনোটিরই প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা বিগত দিনের দুর্নীতি ও ‘খাম্বা তারেক’ উপাধির প্রসঙ্গও আনা হয়েছে। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, বিগত সরকার এসব প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে তাকে জেল ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। জেলখানায় নির্যাতনের ফলে তার মেরুদণ্ডের সমস্যা আজও তাকে কষ্ট দেয়, যা তিনি জনগণের জন্য কাজ করার অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখেন।

সাক্ষাৎকারে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের বিষয়েও কথা বলেছেন তিনি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় একযোগে কাজ করবে। অন্যদিকে, ভারতের প্রতি তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, সম্পর্ক হবে সমতার ভিত্তিতে। শেখ হাসিনার সরকারের দমন-পীড়ন এবং পরবর্তী ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে তিনি একটি ‘নতুন বাংলাদেশের’ সূচনা হিসেবে দেখছেন।

আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের জুলুম ও নিপীড়নে ৩৫০০-এর বেশি মানুষ গুম হয়েছে এবং অসংখ্য প্রাণ ঝরেছে। তবে তারেক রহমান ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার বদলে আইনের শাসনে বিশ্বাসী। তিনি বলেন, “যারা অপরাধ করেছে, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের শাস্তি পেতে হবে।” মা বেগম খালেদা জিয়ার জানাজাতেও তিনি রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন, যা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।

সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে তিনি জনপ্রিয় স্পাইডার-ম্যান সিনেমার সংলাপ উদ্ধৃত করে বলেন, “বিরাট ক্ষমতার সাথে বিরাট দায়িত্বও আসে” (With great power comes great responsibility)। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণের রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং জুলাই বিপ্লবে শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করা তার প্রধান দায়িত্ব।

প্রতিবেদনের শেষে বলা হয়েছে, আগামী নির্বাচনই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের এই ‘প্রত্যাগত রাজপুত্র’ দেশের মানুষের প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ করতে পারেন।

 

নুরুল হোসাইন,কক্সবাজার

কক্সবাজারে সাংবাদিক এইচ এম এরশাদ স্মরণে দোয়া, মিলাদ ও স্মৃতিচারণ সভা অনুষ্ঠিত

নুরুল হোসাইন,কক্সবাজার প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ১২:৩৬ এএম
কক্সবাজারে সাংবাদিক এইচ এম এরশাদ স্মরণে দোয়া, মিলাদ ও স্মৃতিচারণ সভা অনুষ্ঠিত

কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক জনকণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার এইচ এম এরশাদের স্মরণে দোয়া, মিলাদ ও স্মৃতিচারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৩০ মার্চ ২০২৬) কক্সবাজারের হোটেল মিশুক রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত এ দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল কাদের চৌধুরী এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম ফরিদুল আলম শাহীন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে হাফেজ আনোয়ার হোসেন পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন এবং মরহুমের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে ফজলুল কাদের চৌধুরী আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, এরশাদকে আমরা হারাবো এটা কখনো ভাবিনি। তিনি ছিলেন একজন পরিশ্রমী, ধর্মপ্রাণ ও দায়িত্বশীল মানুষ। আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি থাকলেও সম্পর্ক ছিল গভীর। তার মৃত্যুতে আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি।

অনুষ্ঠানে মরহুমের সুযোগ্য সন্তান অ্যাডভোকেট আতিকুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

বক্তব্য রাখেন,কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ শামসুল আলম শ্রাবণ, ইমাম খাইর, টেকনাফ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুল হোসাইন, মোহাম্মদ আয়াজ রবি, কবি জসিম উদ্দিন, নাছিমা আক্তার, দিদারুল আলম, ফরিদ আলম রনি, নাজিম উদ্দিন, আমিন উল্লাহ, জাহেদ হোসেন, মোঃ হাসান, আলাউদ্দিন, অ্যাডভোকেট আবু মুছা, আমিনুল ইসলাম, ডা. এরফান প্রমুখ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, এম আলাউদ্দিন, এম জসিম উদ্দিন, আব্দুর রহিম বাবু, হাফেজ আনোয়ার, সোলতান, কামরুল ইসলামসহ অসংখ্য সাংবাদিক।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সাধারণ সম্পাদক এইচ এম ফরিদুল আলম শাহীন বলেন, এরশাদ ভাই ছিলেন সাহসী ও আপসহীন এক কলমযোদ্ধা। সাংবাদিকতার শুরু থেকে তিনি অন্যায়, দুর্নীতি, মাদক ও পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে নির্ভীকভাবে লিখেছেন। বহু হুমকি ও প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত হননি।
তিনি আরও বলেন, মানুষ হিসেবে এরশাদ ভাই ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল, বন্ধুবৎসল ও পরোপকারী। সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন অভিভাবকের মতো। তার শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।

বক্তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। শেষে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।

কাবার গিলাফ কাটার চেষ্টা: তুর্কি নারী আটক

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১১:৫৭ পিএম
কাবার গিলাফ কাটার চেষ্টা: তুর্কি নারী আটক

পবিত্র মসজিদুল হারামে কাবার গিলাফ (কিসওয়া) কাটার চেষ্টার অভিযোগে এক তুর্কি নারীকে আটক করেছে সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহিনী। একটি তুর্কি হজ কাফেলার সঙ্গে আসা ওই নারী কাঁচি দিয়ে গিলাফের একটি অংশ কেটে স্মারক হিসেবে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, ওই নারী যখন কাঁচি দিয়ে কাবার গিলাফ কাটার চেষ্টা করছিলেন, তখন পাশে থাকা অন্য মুসল্লিরা তাঁকে বাধা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উপস্থিত লোকজন তাঁকে ‘হাজি, এটা হারাম (নিষিদ্ধ)’ বলে সতর্ক করছেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ করে মসজিদুল হারামের নিরাপত্তা বাহিনী। ঘটনাস্থল থেকেই তাঁকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রাথমিকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে, ওই নারী মিসরীয় নাগরিক। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় গণমাধ্যম ‘ইসলামিক ইনফরমেশন’-এর প্রতিনিধি ওতাইবি নিশ্চিত করেছেন যে, আটক নারী প্রকৃতপক্ষে তুরস্কের নাগরিক এবং তিনি একটি তুর্কি হজ কাফেলার সদস্য হিসেবে সৌদি আরব ভ্রমণ করছিলেন। ফলে মিসরীয় নাগরিক হওয়ার দাবিটি ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়েছে।

সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী, কাবার গিলাফ বা কিসওয়া অত্যন্ত পবিত্র এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ। এর কোনো অংশ কাটা, ছেঁড়া বা ক্ষতি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং এটি একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত ওই নারীর বর্তমান অবস্থা বা তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।

সূত্র: দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন

 

স্টাফ রিপোর্টার, উজ্জ্বল বাংলাদেশ

ওয়ার্ল্ড মিডিয়া প্রেস ক্লাব

স্টাফ রিপোর্টার, উজ্জ্বল বাংলাদেশ প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪৯ পিএম
ওয়ার্ল্ড মিডিয়া প্রেস ক্লাব

সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়—এটি সত্য, ন্যায় এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার এক মহান অঙ্গীকার। একজন প্রকৃত সাংবাদিক সমাজের দর্পণ, যিনি সত্যকে নির্ভীকভাবে তুলে ধরেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। কিন্তু বাস্তবতায় অনেক সাংবাদিকই নির্যাতন, নিপীড়ন, হয়রানি, মিথ্যা মামলা, এমনকি প্রাণনাশের হুমকির শিকার হচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা সময়ের দাবি।

এই প্ল্যাটফর্মের মূল উদ্দেশ্য হলো—সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার সুরক্ষা, আইনি সহায়তা প্রদান, এবং যেকোনো ধরনের অন্যায়, অবিচার ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে তাদের পাশে দাঁড়ানো। এটি এমন একটি সংগঠন, যেখানে সাংবাদিকরা বৈধভাবে, নিরাপদভাবে এবং নির্ভয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

🌟 মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ:

✔ অধিকার রক্ষা: সাংবাদিকদের মৌলিক ও পেশাগত অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের নিরাপত্তা জোরদার করা।
✔ আইনি সহায়তা: মিথ্যা মামলা, হয়রানি বা নির্যাতনের শিকার সাংবাদিকদের জন্য দ্রুত ও কার্যকর আইনি সহযোগিতা প্রদান।
✔ নিরাপদ কর্মপরিবেশ: মাঠপর্যায়ে কাজ করা সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সাথে সমন্বয়।
✔ হয়রানি প্রতিরোধ: ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক চাপ বা প্রভাবশালী মহলের অন্যায় হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গ্রহণ।
✔ প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন: সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, নৈতিকতা ও পেশাগত মান উন্নয়নে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন।
✔ ঐক্য গঠন: সারাদেশের সাংবাদিকদের এক প্ল্যাটফর্মে এনে ঐক্যবদ্ধ শক্তি গড়ে তোলা।
✔ বৈধ সাংবাদিকতা নিশ্চিতকরণ: ভুয়া বা প্রতারক সাংবাদিকদের প্রতিরোধ করে প্রকৃত ও নিবন্ধিত সাংবাদিকদের সুরক্ষা প্রদান।

📌 প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম:

🔹 নির্যাতিত সাংবাদিকদের অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত
🔹 দ্রুত সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ
🔹 মানবাধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করা
🔹 সাংবাদিকদের জন্য আইডেন্টিটি যাচাই ও বৈধতা নিশ্চিতকরণ
🔹 মিডিয়া নীতিমালা ও আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি
🔹 জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তা ও সাপোর্ট সিস্টেম গড়ে তোলা

🎯 আমাদের অঙ্গীকার:

আমরা বিশ্বাস করি—সাংবাদিকতা একটি পবিত্র দায়িত্ব। তাই এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ:
👉 সত্যের পক্ষে থাকবো
👉 অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবো
👉 সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা করবো
👉 একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক গণমাধ্যম পরিবেশ গড়ে তুলবো

পরিশেষে বলা যায়, এই উদ্যোগটি শুধু সাংবাদিকদের জন্য নয়—এটি একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। কারণ, সাংবাদিক নিরাপদ থাকলে সত্য প্রকাশ পায়, আর সত্য প্রকাশ পেলে সমাজ এগিয়ে যায়।

error: Content is protected !!