সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

কাম হতে জ্যোতিতে উত্তরণের মহাসড়ক

নারী ও পুরুষ দেহতত্ত্বের আধ্যাত্মিক রসায়ন☞পর্ব:-১

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:২০ পিএম | 93 বার পড়া হয়েছে
নারী ও পুরুষ দেহতত্ত্বের আধ্যাত্মিক রসায়ন☞পর্ব:-১

সৃষ্টিতত্ত্বের এক অপার রহস্য হলো নারী ও পুরুষ। নারী প্রকৃতির রূপ এবং পুরুষের পরিপূরক। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ এরশাদ করেছেন: “তিনিই তোমাদের এক ব্যক্তি (আদম) থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার সঙ্গিনী (হাওয়া) সৃষ্টি করেছেন, যেন সে তার নিকট প্রশান্তি লাভ করে।” (সূরা আরাফ: ১৮৯)। এই ‘প্রশান্তি’ কেবল শারীরিক নয়, বরং এটি একটি আত্মিক ও দেহতাত্ত্বিক সাধনার স্তর।

**১. পঞ্চরস ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় আধ্যাত্মিকতা:- পুরুষের বীর্য বা রতিকে যে পঞ্চরসের (সোডিয়াম, কার্বোনেট, নাইট্রোজেন, সালফার ও ফসফরাস) কথা বলা হয়েছে, তা দেহতত্ত্বের ভাষায় স্থূল দেহকে সচল রাখার রাসায়নিক উপাদান। সুফি দর্শনে একে বলা হয় ‘মা-এ-তাকভিয়াত’ বা জীবনী শক্তি।
* কোরআনিক প্রেক্ষাপট্:- আল্লাহ বীর্যকে ‘মা-য়িন মাহিন’ বা তুচ্ছ তরল বললেও একে ‘নুতফাতুন আমশাজ’ বা মিশ্রিত বিন্দু হিসেবে অভিহিত করেছেন। সাধকদের মতে, এই মিশ্রণের ভেতরেই লুকিয়ে আছে পরম জ্যোতি।

**২. ভাবনা-র শোধন:- কাম হতে দিব্যভাবনা
পুরুষের রতি উৎপাদনের মূলে থাকে ‘নারী-ভাবনা’। ইসলামি আধ্যাত্মিকতায় (তাসাউফ) একে বলা হয় ‘নাফস’ বা প্রবৃত্তি। যদি এই ভাবনা কেবল জৈবিক চাহিদা মেটানোর হয়, তবে তা ‘কাম’। কিন্তু যখন এই ভাবনায় স্রষ্টার কুদরত বা প্রেমের প্রতিফলন ঘটে, তখন তা হয় ‘দিব্যভাবনা’।
* হাদিসের আলোকে:- রাসুলুল্লাহ (সা:) বলেছেন, “নিশ্চয়ই আমল নির্ভর করে নিয়তের (ভাবনার) ওপর।” যদি একজন সাধক তার সঙ্গিনীকে ‘মহামায়া’ বা আল্লাহর এক নিপুণ সৃষ্টি হিসেবে দেখে তাকে প্রেম নিবেদন করেন, তবে সেই মিলনও ইবাদতে পরিণত হয়।

**৩. রতি সংরক্ষণ ও জীবনী শক্তি:-
আমি আমার পর্যবেক্ষণে এখানে বলতে চাই যে, কাম ভাবনা বিহীন পুরুষের রতি উৎপাদন বন্ধ হয় এবং জীবনী শক্তি হ্রাস পায়। এটি একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম পয়েন্ট। ইসলাম বৈরাগ্যবাদ (رهبانية) সমর্থন করে না। বৈবাহিক জীবন ও সঙ্গিনীর সাহচর্য পুরুষের জীবনী শক্তি ও আত্মিক প্রশান্তিকে ধরে রাখে। রতিকে অপচয় না করে একে ‘সংরক্ষণ’ করাই হলো আসল বীরত্ব। বড় বড় আউলিয়াগণ একেই ‘হাবসে দম’ বা ইন্দ্রিয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ঊর্ধ্বগামী করার প্রক্রিয়া বলেছেন।

**৪. নারীর মায়ারস ও সিদ্দিকা-র রূপ:- নারীর যে রজন বা মায়ারসের কথা আপনি বলেছেন, তা মূলত মাতৃত্ব ও মমত্বের আধার। সুফি দর্শনে নারীকে বলা হয় ‘রাহমান’-এর গুণের বহিঃপ্রকাশ। একজন নারী যখন তার দেহরসকে প্রেমের রসে রূপান্তরিত করেন, তখন তিনি আর কেবল ‘নারী’ থাকেন না, তিনি হয়ে ওঠেন ‘সিদ্দিকা’ বা সত্যের প্রতীক।
* রহস্য:- নারী তার সুপ্ত ইচ্ছা দ্বারা পুরুষকে চালনা করতে পারে। এজন্যই বলা হয়, “একজন সফল পুরুষের পেছনে একজন নারীর হাত থাকে।” এটি কেবল পার্থিব সাফল্য নয়, আধ্যাত্মিক সাধনার পথকেও সুগম করে।

**৫. রতি থেকে মতি এবং জ্যোতি (নূর):- এখানে বর্ণনার সবচেয়ে চমৎকার অংশ হলো রতি থেকে মতির মাধ্যমে জ্যোতিতে পৌঁছানো। একে তাসাউফের ভাষায় বলা হয়:
* নাসুত (স্থূল দেহ/রতি):- কাম ও জৈবিক স্তর।
* মালকুত (মানসিক স্তর/মতি):- যেখানে বুদ্ধি ও বিবেক স্থির হয়।
* লাহুত (জ্যোতি/নূর):- যেখানে সাধক আল্লাহর নূরে বিলীন হয়ে যান (ফানা-ফিলাহ)।
পবিত্র হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন: “বান্দা যখন নফল ইবাদতের (সাধনার) মাধ্যমে আমার নৈকট্য লাভ করে, তখন আমি তার কান হয়ে যাই যা দিয়ে সে শোনে, তার চোখ হয়ে যাই যা দিয়ে সে দেখে, তার হাত হয়ে যাই যা দিয়ে সে ধরে…।” এটাই হলো কাঙ্খিত সাধনার বর্ণিত পরিভাষায় ‘জ্যোতি দেশ’, যেখানে সাধকের চাওয়া আল্লাহর চাওয়া হয়ে যায়।

সর্বপরি, সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে্ আজকের পৃথিবীতে যখন কাম ও নগ্নতার হাতছানি চারদিকে, তখন আমাদের এই দেহতত্ত্বের সাধনা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। পুরুষ যদি নারীকে কেবল ভোগের বস্তু না ভেবে ‘মহামায়া’ বা পবিত্র আত্মার আধার মনে করে এবং নারী যদি পুরুষকে তার সাধনার সঙ্গী মনে করে, তবে সমাজে কোনো বিশৃঙ্খলা থাকবে না। রতির অপচয় রোধ করে তাকে জ্ঞানের আলো বা ‘নূরে’ রূপান্তরিত করা-ই হলো সমসাময়িক দেহতত্ত্বের মূল চ্যালেঞ্জ।

কুড়িগ্রামে জেলা পর্যায়ে বিকেএসপির খেলোয়াড় বাছাই অনুষ্টিত

রুহুল আমিন রুকু, কুড়িগ্রামঃ প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৬ পিএম
কুড়িগ্রামে জেলা পর্যায়ে বিকেএসপির খেলোয়াড় বাছাই অনুষ্টিত

কুড়িগ্রাম জেলায় বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা সংস্থা, (বিকেএসপি) তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ ও নিবিড় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম-২০২৬ অনুযায়ী জেলা পর্যায়ে খেলোয়াড় বাছাই কর্মসূচি ৩০ মার্চ ২০২৬ কুড়িগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম মাঠে আয়োজন করেছে।

মানসন্মত খেলোয়াড় বাছাই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)’র তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ ও নিবিড় প্রশিক্ষণ প্রদান কার্যক্রম ২০২৬’ এর আওতায় প্রতিভাবান খেলোয়াড় বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করেন- সিনিয়র কোচ (সাঁতার) মোশারফ হোসেন, ডিপার্টমেন্ট চিফ কোচ (জুডো) আবু বকর ছিদ্দিক, এ্যাথলেটিক্স কোচ মোবারক হোসেন, সিনিয়র কোচ (ফুটবল) শহিদুল ইসলাম লিটন, হকি কোচ আল মশিউর রহমান, বক্সিং কোচ লিটন মাহমুদ, বাস্কেটবল কোচ মোঃ সোহাগ, তাইকোয়ান্দো কোচ হায়াত-উল-আমিন, আর্চারি কোচ গোলাম সরোয়ার, কারাতে কোচ আরিফুল ইসলাম, ক্রীকেট কোচ গোলামুর রহমান ও ভলিবল কোচ মাহবুব হোসেন প্রমূখ।

খেলোয়াড় নির্বাচন এবং প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এ কার্যক্রমের অধীনে ২১টি ক্রীড়া বিভাগ, যথাক্রমে আর্চারি, এ্যাথলেটিক্স, বাস্কেটবল, ক্রিকেট, ফুটবল, হকি, জুডো, কারাতে, শ্যুটিং, তায়কোয়ানডো, টেবিল টেনিস, ভলিবল, উত্ত, স্কোয়াশ, কাবাডি, ভারোত্তোলন ও ব্যাডমিন্টন খেলায় ১০-১৩ বৎসর এবং বক্সিং, জিমন্যাস্টিক্স, সাঁতার ও টেনিস খেলায় অনূর্ধ্ব ৮-১৪ বৎসর বয়সী ছেলে এবং মেয়ে (বক্সিং ব্যতিত) খেলোয়াড় নির্বাচন করা হবে।

নির্বাচিত খেলোয়াড়দের বিকেএসপি ঢাকা এবং বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সমূহে প্রথমে ১ মাস মেয়াদের ১টি এবং পরবর্তীতে ২ মাস মেয়াদের ১টি প্রশিক্ষণ শিবিরের মাধ্যমে তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

এ ছাড়াও কমিটি খেলোয়াড়দের বয়স যাচাই, শারীরিক যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট খেলার পারদর্শিতার বিষয়ে বাছাই পরীক্ষা সম্পন্ন করবেন। প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষায় নির্বাচিত ১০০০ জন খেলোয়াড়কে বিকেএসপি ঢাকা এবং বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহে ১ মাস মেয়াদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী ১০০০ জন খেলোয়াড়ের মধ্য থেকে ৪০০ জনকে বাছাই করে পুনরায় ২য় পর্যায়ে বিকেএসপিতে (ঢাকা) এবং আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহে নিরবচ্ছিন্নভাবে ২ মাস ব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীদের বিকেএসপি কর্তৃক থাকা-খাওয়া, যাতায়াত ভাড়াসহ প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সাজ-সরঞ্জাম প্রদান করা হবে।প্রশিক্ষণে সকল খেলোয়াড়দের সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।

এ ব্যাপারে গ্রামীন ফুটবল বিপ্লবী জালাল হোসেন লাইজু জানান, বিকেএসপির প্রতিভা অন্বেষণে খেলোয়াড় বাছাই কার্যক্রম খুবই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আমরা আশা করছি এর মাধ্যমে কুড়িগ্রাম জেলায় তৃণমূল থেকে অনেক উন্নত মানের খেলোয়াড় উঠে আসবে।

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ

গোমস্তাপুরে দম্পতিসহ গ্রেফতার ২

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৪ পিএম
গোমস্তাপুরে দম্পতিসহ গ্রেফতার ২

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) এর অভিযানে স্বামী-স্ত্রীসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে ৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে জেলার গোমস্তাপুর থানাধীন বংপুর গ্রামে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— বংপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ তারেক রহমান (৪২) ও তার স্ত্রী মোসাঃ মর্জিনা খাতুন (৩৩)। তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

অভিযান পরিচালনাকারী সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি দল বংপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় আসামীদের কাছ থেকে ৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে তাদের আটক করা হয়।

এ ঘটনায় উপ-পরিদর্শক মামুনুর রশীদ বাদী হয়ে গোমস্তাপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অঞ্জনা চৌধুরী, কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ

কাজিপুর পৌরসভার রাস্তা পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন

অঞ্জনা চৌধুরী, কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৯ পিএম
কাজিপুর পৌরসভার রাস্তা পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তার পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে পৌরসভার আলমপুর এনএম উচ্চ বিদ্যালয় হতে কবিহার পর্যন্ত এক কিলোমিটার আরসিসি রাস্তার নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান। ১ কোটি ২২ লক্ষ ৫৯ হাজার ২২ টাকা ব্যয় বরাদ্দে কাজটি বাস্তবায়ন করছে মেসার্স জিন্না এন্টার প্রাইজ।
উদ্বোধনকালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কাজিপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, পৌরসভার সহকারি প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম লিটন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে পক্ষে সাইফুল ইসলাম।
ইউএনও বলেন, “ গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (বেড-এ-২) এর আওতায় এই রাস্তাটি নির্মিত হলে কয়েক হাজার পৌরবাসীর চলাচলের দুর্ভোগ লাঘব হবে। কাজটি ড্রইং, ডিজাইন ও এস্টিমেট অনুযায়ী হচ্ছে কিনা তা কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে।” (ছবি আছে)

 

error: Content is protected !!