সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

জিবরাঈল (আ.)-এর আগমন

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৪ পিএম | 45 বার পড়া হয়েছে
জিবরাঈল (আ.)-এর আগমন

সুফি দর্শনের আলোকে জিবরাঈল (আ.)-এর আগমন এবং তৎকালীন আধ্যাত্মিক অবস্থা অত্যন্ত নিগূঢ়। সুফি সাধক ও আরিফগণ (জ্ঞানতাপস) এই মুহূর্তটিকে যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, তার মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. প্রশান্ত আত্মা ও ওহীর আলোকপাত
মেরাজের রাতে নবীজি (সা.) উম্মে হানির ঘরে তন্দ্রাচ্ছন্ন বা ঘুমের ঘোরে ছিলেন। সুফি তত্ত্বে একে বলা হয় ‘আলমে মেছাল’ বা আধ্যাত্মিক জগতের সঙ্গে সংযোগের এক বিশেষ অবস্থা। জিবরাঈল (আ.) যখন সেখানে উপস্থিত হন, তখন পুরো ঘরটি নূরে নূরান্বিত হয়ে যায়। সুফিগণ বলেন, এটি ছিল মূলত নবীজির হৃদয়ের নূর এবং জিবরাঈল (আ.)-এর নূরের এক মহামিলন। উম্মে হানির ঘরটি তখন আর সাধারণ কোনো কক্ষ ছিল না, বরং সেটি ‘আরশে মুয়াল্লার’ একটি প্রতিচ্ছবিতে পরিণত হয়েছিল।
২. ছাদ বিদীর্ণ হওয়ার আধ্যাত্মিক রহস্য
বর্ণিত আছে যে, জিবরাঈল (আ.) ঘরের ছাদ বিদীর্ণ করে প্রবেশ করেছিলেন।
সুফি ব্যাখ্যা: এখানে ‘ছাদ বিদীর্ণ’ হওয়া একটি প্রতীকী তাৎপর্য বহন করে। এটি নির্দেশ করে যে, যখন উচ্চতর আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা (মেরাজ) ঘটে, তখন মানুষের পার্থিব সীমাবদ্ধতা বা ‘জাগতিক ছাদ’ ভেঙে যায়। উম্মে হানির ঘরের সেই মুহূর্তটি ছিল বস্তুজগৎ (আলমে নাসুত) থেকে আধ্যাত্মিক জগতের (আলমে মালাকুত) দ্বার উন্মোচনের ক্ষণ।
৩. বক্ষ বিদারণ (শাক্কুস সদর) এবং পবিত্রতা
উম্মে হানির ঘর থেকে নবীজিকে হাতিমে কাবায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে আবারও তাঁর বক্ষ বিদারণ করা হয়। সুফি দর্শনে এর গভীর অর্থ হলো—মহান আল্লাহর দিদার বা দর্শনের জন্য মানুষের হূদয়কে কেবল সাধারণ পবিত্র নয়, বরং ‘নূরে ইমান’ এবং ‘হেকমত’ (প্রজ্ঞা) দিয়ে পূর্ণ করতে হয়। উম্মে হানির ঘরের সেই আধ্যাত্মিক পরিবেশে নবীজিকে এই চূড়ান্ত ভ্রমণের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল।
৪. উম্মে হানির নীরব সাক্ষী হওয়া
তৎকালীন সেই মহাজাগতিক ও আধ্যাত্মিক আলোড়নের সময় উম্মে হানি (রা.) সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সুফিগণ মনে করেন, যদিও উম্মে হানি শারীরিকভাবে মেরাজে যাননি, কিন্তু সেই নূরের তাজাল্লি (প্রতিফলন) তাঁর আত্মাকেও স্পর্শ করেছিল। এ কারণেই তিনি নবীজির ফিরে আসার পর তৎক্ষণাৎ বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলেন এবং নবীজির প্রতি গভীর মমতা ও আশঙ্কাবোধ করেছিলেন। এটি ছিল ‘বেলায়েত’ বা আধ্যাত্মিক নৈকট্যের এক অনন্য প্রকাশ।
৫. জামালি ও জালালি সিফাতের সংমিশ্রণ
সুফি তত্ত্বে আল্লাহর দুটি বিশেষ গুণ আছে—’জামাল’ (সৌন্দর্য/করুণা) এবং ‘জালাল’ (মহিমা/প্রতাপ)।
উম্মে হানির ঘরটি ছিল ‘জামাল’ বা পরম প্রশান্তির প্রতীক।
আর মেরাজের যাত্রা ছিল আল্লাহর ‘জালাল’ বা মহিমা প্রত্যক্ষ করার সফর। জিবরাঈল (আ.)-এর আগমনের মাধ্যমে সেই রাতে উম্মে হানির ঘরে এই দুই গুণের এক অপূর্ব মিলন ঘটেছিল।
উপসংহার: সুফিবাদের মরমী দৃষ্টিতে, উম্মে হানির ঘরে জিবরাঈল (আ.)-এর আগমন ছিল এমন এক মুহূর্ত যখন পার্থিব সময় থমকে গিয়েছিল। সেটি ছিল সসীম থেকে অসীমের দিকে যাত্রার সন্ধিক্ষণ। উম্মে হানি (রা.) সেই আধ্যাত্মিক রূপান্তরের প্রধান সাক্ষী এবং তাঁর ঘরটি ছিল ‘নবুওয়াতের সূর্য’ উদিত হওয়ার পূর্ব মুহূর্তের পবিত্র আকাশ।

কুড়িগ্রামে জেলা পর্যায়ে বিকেএসপির খেলোয়াড় বাছাই অনুষ্টিত

রুহুল আমিন রুকু, কুড়িগ্রামঃ প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৬ পিএম
কুড়িগ্রামে জেলা পর্যায়ে বিকেএসপির খেলোয়াড় বাছাই অনুষ্টিত

কুড়িগ্রাম জেলায় বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা সংস্থা, (বিকেএসপি) তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ ও নিবিড় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম-২০২৬ অনুযায়ী জেলা পর্যায়ে খেলোয়াড় বাছাই কর্মসূচি ৩০ মার্চ ২০২৬ কুড়িগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম মাঠে আয়োজন করেছে।

মানসন্মত খেলোয়াড় বাছাই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)’র তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ ও নিবিড় প্রশিক্ষণ প্রদান কার্যক্রম ২০২৬’ এর আওতায় প্রতিভাবান খেলোয়াড় বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করেন- সিনিয়র কোচ (সাঁতার) মোশারফ হোসেন, ডিপার্টমেন্ট চিফ কোচ (জুডো) আবু বকর ছিদ্দিক, এ্যাথলেটিক্স কোচ মোবারক হোসেন, সিনিয়র কোচ (ফুটবল) শহিদুল ইসলাম লিটন, হকি কোচ আল মশিউর রহমান, বক্সিং কোচ লিটন মাহমুদ, বাস্কেটবল কোচ মোঃ সোহাগ, তাইকোয়ান্দো কোচ হায়াত-উল-আমিন, আর্চারি কোচ গোলাম সরোয়ার, কারাতে কোচ আরিফুল ইসলাম, ক্রীকেট কোচ গোলামুর রহমান ও ভলিবল কোচ মাহবুব হোসেন প্রমূখ।

খেলোয়াড় নির্বাচন এবং প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এ কার্যক্রমের অধীনে ২১টি ক্রীড়া বিভাগ, যথাক্রমে আর্চারি, এ্যাথলেটিক্স, বাস্কেটবল, ক্রিকেট, ফুটবল, হকি, জুডো, কারাতে, শ্যুটিং, তায়কোয়ানডো, টেবিল টেনিস, ভলিবল, উত্ত, স্কোয়াশ, কাবাডি, ভারোত্তোলন ও ব্যাডমিন্টন খেলায় ১০-১৩ বৎসর এবং বক্সিং, জিমন্যাস্টিক্স, সাঁতার ও টেনিস খেলায় অনূর্ধ্ব ৮-১৪ বৎসর বয়সী ছেলে এবং মেয়ে (বক্সিং ব্যতিত) খেলোয়াড় নির্বাচন করা হবে।

নির্বাচিত খেলোয়াড়দের বিকেএসপি ঢাকা এবং বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সমূহে প্রথমে ১ মাস মেয়াদের ১টি এবং পরবর্তীতে ২ মাস মেয়াদের ১টি প্রশিক্ষণ শিবিরের মাধ্যমে তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

এ ছাড়াও কমিটি খেলোয়াড়দের বয়স যাচাই, শারীরিক যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট খেলার পারদর্শিতার বিষয়ে বাছাই পরীক্ষা সম্পন্ন করবেন। প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষায় নির্বাচিত ১০০০ জন খেলোয়াড়কে বিকেএসপি ঢাকা এবং বিকেএসপির আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহে ১ মাস মেয়াদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী ১০০০ জন খেলোয়াড়ের মধ্য থেকে ৪০০ জনকে বাছাই করে পুনরায় ২য় পর্যায়ে বিকেএসপিতে (ঢাকা) এবং আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহে নিরবচ্ছিন্নভাবে ২ মাস ব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীদের বিকেএসপি কর্তৃক থাকা-খাওয়া, যাতায়াত ভাড়াসহ প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সাজ-সরঞ্জাম প্রদান করা হবে।প্রশিক্ষণে সকল খেলোয়াড়দের সার্টিফিকেট প্রদান করা হবে।

এ ব্যাপারে গ্রামীন ফুটবল বিপ্লবী জালাল হোসেন লাইজু জানান, বিকেএসপির প্রতিভা অন্বেষণে খেলোয়াড় বাছাই কার্যক্রম খুবই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আমরা আশা করছি এর মাধ্যমে কুড়িগ্রাম জেলায় তৃণমূল থেকে অনেক উন্নত মানের খেলোয়াড় উঠে আসবে।

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ

গোমস্তাপুরে দম্পতিসহ গ্রেফতার ২

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৭:১৪ পিএম
গোমস্তাপুরে দম্পতিসহ গ্রেফতার ২

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) এর অভিযানে স্বামী-স্ত্রীসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে ৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে জেলার গোমস্তাপুর থানাধীন বংপুর গ্রামে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— বংপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ তারেক রহমান (৪২) ও তার স্ত্রী মোসাঃ মর্জিনা খাতুন (৩৩)। তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

অভিযান পরিচালনাকারী সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি দল বংপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় আসামীদের কাছ থেকে ৬০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে তাদের আটক করা হয়।

এ ঘটনায় উপ-পরিদর্শক মামুনুর রশীদ বাদী হয়ে গোমস্তাপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অঞ্জনা চৌধুরী, কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ

কাজিপুর পৌরসভার রাস্তা পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন

অঞ্জনা চৌধুরী, কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৯ পিএম
কাজিপুর পৌরসভার রাস্তা পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তার পাকাকরণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে পৌরসভার আলমপুর এনএম উচ্চ বিদ্যালয় হতে কবিহার পর্যন্ত এক কিলোমিটার আরসিসি রাস্তার নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান। ১ কোটি ২২ লক্ষ ৫৯ হাজার ২২ টাকা ব্যয় বরাদ্দে কাজটি বাস্তবায়ন করছে মেসার্স জিন্না এন্টার প্রাইজ।
উদ্বোধনকালে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কাজিপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, পৌরসভার সহকারি প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম লিটন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে পক্ষে সাইফুল ইসলাম।
ইউএনও বলেন, “ গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (বেড-এ-২) এর আওতায় এই রাস্তাটি নির্মিত হলে কয়েক হাজার পৌরবাসীর চলাচলের দুর্ভোগ লাঘব হবে। কাজটি ড্রইং, ডিজাইন ও এস্টিমেট অনুযায়ী হচ্ছে কিনা তা কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে।” (ছবি আছে)

 

error: Content is protected !!