সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২

রাজশাহীতে সরকারি রাস্তা দখল করে নির্মিত বহুতল বিপণি বিতান বহাল তবিয়তে রয়েছে

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:২১ পিএম | 98 বার পড়া হয়েছে
রাজশাহীতে সরকারি রাস্তা দখল করে নির্মিত বহুতল বিপণি বিতান বহাল তবিয়তে রয়েছে

রাজশাহীতে নিয়ম ভেঙে সরকারি রাস্তা দখল করে আওয়ামী লীগ নেতা শামসুজ্জামান আওয়ালের নির্মিত বহুতল বিপণি বিতান এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর একাধিক মামলা মাথায় নিয়ে এই নেতা গা ঢাকা দিলেও অবৈধভাবে নির্মিত এই মার্কেট থেকে নিয়মিত আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

​অভিযোগ রয়েছে, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) সঙ্গে যৌথভাবে মার্কেটটি নির্মাণ করা হলেও এর বরাদ্দ ও ভাড়া উত্তোলন এককভাবে আওয়ালই নিয়ন্ত্রণ করছেন।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে পরিচিত মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ শামসুজ্জামান আওয়াল। ২০১২ সালে কোনো দরপত্র ছাড়াই নগরীর সাহেববাজারে ‘বৈশাখী মার্কেট’ নামের এই বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ পান তিনি। ২০১৮ সালে লিটন দ্বিতীয় দফায় মেয়র হওয়ার পর কাজটিতে গতি আসে। তবে শর্ত অনুযায়ী আগের ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা থাকলেও বছরের পর বছর কাজ ঝুলে থাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

​২০১৩ সালে রাজশাহীর সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে দায়ের করা এক মামলায় অভিযোগ করা হয়, তৎকালীন মেয়র লিটন ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাহেববাজার কাঁচাবাজারে প্রবেশের সরকারি রাস্তা দখল করে এই মার্কেট নির্মাণের সুযোগ করে দেন।

​মামলার এজাহার অনুযায়ী, ৫৯৯৬ নম্বর দাগের ওপর মার্কেট নির্মাণের কথা থাকলেও কোনো অধিগ্রহণ ছাড়াই ৫৯৪৩ নম্বর দাগের (সরকারি রাস্তা) ওপর ভবনটি সম্প্রসারণ করা হয়। এমনকি রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) কাছ থেকে কোনো নকশা অনুমোদন বা রাস্তা বন্ধের সরকারি অনুমতিও নেওয়া হয়নি। মামলার বাদি রফিকুল ইসলাম জানান, তৎকালীন মেয়রের প্রভাবে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এই অবৈধ নির্মাণ কাজ চালানো হয়েছে। বর্তমানে নগরবাসীকে বিকল্প ও সংকীর্ণ পথ দিয়ে বাজারে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

​বাদিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সেকেন্দার আলী জানান, মামলাটি এখনও বিচারাধীন এবং আগামী মার্চ মাসে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

​”পুরো মার্কেটটি নির্মাণের জন্য আরডিএ থেকে কোনো নকশা অনুমোদন নেওয়া হয়নি, যা রীতিমতো আইনের লঙ্ঘন।”

মামলার এজাহার থেকে প্রাপ্ত তথ্য:

​৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর শামসুজ্জামান আওয়াল পলাতক থাকলেও তার ব্যবসা থেমে নেই। গত মঙ্গলবার সরেজমিনে মার্কেটটি ঘুরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে আওয়ালের ভাই রুবেল মার্কেটের ভাড়া ও বরাদ্দ সংক্রান্ত সব কাজ দেখাশোনা করছেন।

​ব্যবসায়ীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রুবেল বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তাদের কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি। পুলিশের খাতায় আওয়াল ‘পলাতক’ থাকলেও মাসখানেক আগে রাজশাহীর কয়েকজন ব্যবসায়ী ঢাকায় তার ব্যক্তিগত ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখা করে এসেছেন বলেও জানা গেছে।

​শুধু বৈশাখী মার্কেটই নয়, সিটি কর্পোরেশনের আরও অন্তত চারটি বহুতল মার্কেট নির্মাণে আওয়ালের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী এক দশক আগে দোকান বরাদ্দের টাকা দিলেও এখনও পজিশন বুঝে পাননি। এছাড়া চব্বিশের আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলায় অর্থ জোগান দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

​এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে শামসুজ্জামান আওয়ালের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার ভাই রুবেল সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, “মার্কেটের সব কাজ নিয়ম মেনেই করা হয়েছে।” তিনি বর্তমানে আওয়াল কোথায় আছেন, সে বিষয়েও কিছু জানেন না বলে জানান।

কাঁচামালের সংকটে ২৫ দিন বন্ধ থাকতে পারে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার

এনামুল হক রাশেদীঃ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৯ পিএম
কাঁচামালের সংকটে ২৫ দিন বন্ধ থাকতে পারে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার

বর্তমানে ইআরএলে ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন জ্বালানি উৎপাদন হলেও এখন তা কমে ৩ হাজার ২০০ টনে নেমে এসেছে।

কাঁচামালের সংকটে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বন্ধ থাকায় আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে রিফাইনারিটির মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে। ফলে অন্তত ২৫ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠার ৫৭ বছরের ইতিহাসে কাঁচামালের অভাবে এমন পরিস্থিতি এবারই প্রথম।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ৩৫ দিনে অপরিশোধিত তেলবাহী কোনো জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়নি। বর্তমানে ইআরএলে ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন জ্বালানি উৎপাদন হলেও এখন তা কমে ৩ হাজার ২০০ টনে নেমে এসেছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, চলতি মাসে নতুন কোনো অপরিশোধিত তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসার সম্ভাবনা নেই। পরবর্তী চালানটি আসতে পারে আগামী ১ মে। এক লাখ টন তেলবাহী সেই জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে রিফাইনারিতে তেল আনতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। এ হিসাবে অন্তত ২৫ দিন ইআরএলের উৎপাদন বন্ধ থাকতে পারে।
১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রামের এই রিফাইনারি মাসে প্রায় দেড় লাখ টন তেল পরিশোধন করে। এখান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার টন ডিজেল, ১৫ হাজার টন পেট্রোলসহ মোট ১৪ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদন হয়। দেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদার মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি পরিশোধন করে ইআরএল, যা মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।
বিকল্প ব্যবস্থার কথা বলছে বিপিসি
জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিপিসি। জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ইআরএল সাময়িক বন্ধ হলেও দেশে অকটেন ও পেট্রোলের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট হবে না। বর্তমানে অন্তত তিন মাস চলার মতো অকটেন মজুত রয়েছে।
তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর পর অপরিশোধিত তেল না এলেও ইতোমধ্যে ১০টি জাহাজে ডিজেল দেশে এসেছে। এপ্রিল মাসে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার টন ডিজেল আসা নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের ডিপোগুলোতে মজুত রয়েছে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেল এবং আরও প্রায় ৬০ হাজার টন আমদানির প্রক্রিয়া চলছে।

পেট্রোল-অকটেনের মজুত স্বাভাবিকঃ

দেশে মাসে প্রায় ৩৫ হাজার টন অকটেন ও ৩০ হাজার টনের কিছু বেশি পেট্রোলের চাহিদা রয়েছে। সিলেট গ্যাসফিল্ডের কনডেনসেট ফ্রাকশনেশন প্লান্টসহ কয়েকটি বেসরকারি প্লান্ট থেকে পেট্রোল উৎপাদন হওয়ায় এ খাতে তেমন সংকট নেই। সম্প্রতি ২৫ হাজার টন অকটেন নিয়ে একটি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে এবং আরও একটি জাহাজ আগামী সপ্তাহে আসার কথা রয়েছে।
তবে ইআরএল বন্ধ হয়ে গেলে ন্যাফথা সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ পেট্রোল ও অকটেন মিশ্রণ প্রক্রিয়ায় এই উপাদানটি গুরুত্বপূর্ণ।
মে মাসে আসতে পারে অপরিশোধিত তেল
বিপিসি সূত্র জানায়, সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে ২০ এপ্রিল এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল জাহাজে তোলা হবে। এছাড়া ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের আরেকটি জাহাজে এক লাখ টন তেল হরমুজ প্রণালিতে আটকে রয়েছে। দুটি জাহাজ মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ টন অপরিশোধিত তেল মে মাসের শুরুতে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
তেল খালাস করে রিফাইনারিতে পৌঁছাতে কয়েক দিন সময় লাগবে। এরপর গুণগত মান যাচাই শেষে পুনরায় পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

দেশে জ্বালানির ব্যবহারঃ

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় পরিবহন খাতে। মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই এই খাতে ব্যয় হয়। এছাড়া কৃষিতে ১৫ শতাংশ, বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ১২ শতাংশ, শিল্পে প্রায় ৬ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে বাকি জ্বালানি ব্যবহৃত হয়।
২০২৪–২৫ অর্থবছরে বিপিসি মোট ৬৮ লাখের বেশি টন জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ডিজেল—৪৩ লাখ টনেরও বেশি, যা মোট বিক্রির প্রায় ৬৪ শতাংশ।

নোয়াখালীতে যুবককে পিটিয়ে পুড়িয়ে হত্যা

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের, ব্যুরো চীফ নোয়াখালী: প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৭ পিএম
নোয়াখালীতে যুবককে পিটিয়ে পুড়িয়ে হত্যা

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় মো. খোকন (৩২) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। লাশটি আগুনে পোড়ানো অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, গতকাল রোববার ৫ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে চাটখিল পৌরসভার দৌলতপুর গ্রামের মন্ত্রী পোল সংলগ্ন ঝোঁপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত খোকন ওই এলাকার হোসেন আলী পাটোয়ারী বাড়ির মো. ফারুক হোসেনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, খোকন পেশায় একজন দিনমজুর ছিল। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন পেয়ে খোকন বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৯০) করা হয়।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, দুর্বৃত্তরা অন্যত্র তাকে পিটিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করে লাশ চাটখিল পৌরসভার দৌলতপুর গ্রামের মন্ত্রী পোল সংলগ্ন ঝোঁপের মধ্যে ফেলে যায়। পরে রোববার রাতে স্থানীয়রা ঝোঁপের মধ্যে অর্ধগলিত লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ওসি আব্দুল মোন্নাফ আরও বলেন, লাশটি পোড়ানো মনে হচ্ছে। তবে ফরেনসিক রিপোর্ট না পেলে কিছু বলা যাচ্ছেনা। তবে এটি প্রাথমিক ভাবে হত্যাকান্ড বলে মনে হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঝিনাইদহের মহেশপুরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

মোঃ ফজলুল কবির গামা প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৪ পিএম
ঝিনাইদহের মহেশপুরে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

মহেশপুর ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। রবিবার (৫ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১০টায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে কৃষি কার্যালয় চত্বরে এ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় পাট, তিল, মুগ ও আউশ ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই সহায়তা প্রদান করা হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজ্জাদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা বাহারুল ইসলাম,প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান, প্রেসক্লাব মহেশপুরের সভাপতি সরোয়ার হোসেন, সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সমর কুমার মিত্রসহ কৃষি বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

বিতরণকৃত উপকরণের বিবরণ: উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন পর্যায়ের কৃষকদের মাঝে নিম্নোক্ত হারে বীজ বিতরণ করা হয়েছে:
* আউশ ধান: ১২ হাজার কৃষকের মাঝে ৫ কেজি করে।
* মুগ ডাল: ৭০০ জন কৃষকের মাঝে ৫ কেজি করে।
* পাট: ৬০০ জন কৃষকের মাঝে ১ কেজি করে।
* তিল: ২০০ জন কৃষকের মাঝে ১ কেজি করে।

বীজের পাশাপাশি প্রতিটি কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে ১০ কেজি ডিএপি (DAP) এবং ৫ কেজি এমওপি (MOP) সার প্রদান করা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “বর্তমান সরকারের কৃষি বান্ধব নীতির ফলে কৃষকরা আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সুবিধা পাচ্ছেন। এই প্রণোদনা কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমিয়ে তাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সহায়ক হবে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা জানান, সঠিক সময়ে উন্নত মানের বীজ ও সার ব্যবহারের মাধ্যমে উপজেলায় দানা জাতীয় শস্য ও অর্থকরী ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। কৃষকরা যাতে এসব উপকরণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারেন, সে লক্ষে কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে তদারকি ও পরামর্শ অব্যাহত রেখেছে।

error: Content is protected !!